📄 দাপ্তরিক কার্যক্রম আরবিকরণ
ইসলামি রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব-কর্মকাণ্ড ও অর্থ লেনদেন-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ এবং এসব দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের দপ্তরকে ‘দিওয়ান’ বলা হতো। ইসলামি রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর ছিল দিওয়ানে খারাজ বা খারাজসংক্রান্ত দপ্তর। ইসলামের আবির্ভাবপূর্ব সাবেক সাম্রাজ্যগুলোর মতো ইসলামি রাষ্ট্রের দিওয়ানে খারাজেও তখন পর্যন্ত বিভিন্ন অনারবি ভাষা ব্যবহৃত হতো। কোনো নগরীর দপ্তরে ফার্সি ভাষা, কোথাও গ্রিক ভাষা, আবার কোথাও কিবতি ভাষা প্রচলিত ছিল। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রাযি. ইসলামি রাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো দিওয়ানব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে খলিফা আবদুল মালিকের শাসনামল পর্যন্ত এ অবস্থাই বিরাজমান ছিল। এ কারণে একদিকে যেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনারব ও অমুসলিম কর্মকর্তা ইসলামি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করছিল,
অপরদিকে এসব অনারবি ভাষা সরকারি ভাষার মর্যাদায় ইসলামি রাষ্ট্রে প্রচলিত ও ব্যবহৃত হচ্ছিল। দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে সাধারণ জনগণও এ ভাষাগুলো শিক্ষা ও এসবে ব্যুৎপত্তি অর্জনে মনোনিবেশ করত। সবদিক বিবেচনায় খলিফা আবদুল মালিক সকল দপ্তরকে আরবিকরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
উদাহরণস্বরূপ দামেশকের দিওয়ানে খারাজের প্রধান ছিলেন রোমান নাগরিক সারজুন বিন মানসুর রুমি। তিনি মুয়াবিয়া রাযি.-এর আমল থেকেই একটানা এই দায়িত্ব পালন করছিলেন। আবদুল মালিক এবার সুলায়মান বিন সাদ আল-খুশানি (আবু ছাবিত) নামক জনৈক আরব ব্যক্তিকে সমস্ত নথিপত্র রোমান ভাষা হতে আরবিতে রূপান্তরিত করার নির্দেশ দেন। এটি ৮১ হিজরি সনের (৭০০ খ্রিষ্টাব্দের) ঘটনা। এরপর সারজুনকে তার দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ইরাকের দিওয়ানের প্রধান ছিলেন পারস্যের নাগরিক যাযান ফররুখ। ইয়াযিদের আমল থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছিলেন। (পূর্বে বর্ণিত) আশআছের বিদ্রোহের সময় তিনি নিহত হন। তখন খলিফা আবদুল মালিক তার পরিবর্তে সালিহ বিন আবদুর রহমানকে এ দায়িত্বে নিযুক্ত করেন এবং তাকে ইরাকি দপ্তরের সকল নথিপত্র ফার্সি থেকে আরবিতে রূপান্তরিত করার নির্দেশ দেন।
এভাবে ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান নগরীর দিওয়ানের নথিপত্র আরবিতে রূপান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ইসলামি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সকল অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের আরবিকরণের পথ সুগম হয়। ইসলামি বিশ্বে আরবি ভাষার প্রচার-প্রসারে খলিফা আবদুল মালিকের গৃহীত এই পদক্ষেপের অনস্বীকার্য ভূমিকা আছে।