📄 সিফফিনের যুদ্ধ
হজরত মুয়াবিয়া রাযি. খলিফা উমর রাযি.-এর শাসনামল হতেই শামের গভর্নর ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পান যে, একদিকে উসমান-হত্যার বিচারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে না, অপরদিকে বিচারের দাবিদার আন্দোলনকারীগণ বসরায় সমবেত হওয়ার পর উটের যুদ্ধের ন্যায় বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তখন তিনি বায়আতের বিষয়ে আরও বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। অপরদিকে আলি রাযি.-এর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—যেহেতু তিনি এখন ইসলামি রাষ্ট্রের বৈধ খলিফা এবং অন্যান্য অঞ্চলের প্রশাসন ও জনগণ ইতিমধ্যে তার খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেছে, তাই ইসলামি খিলাফতের অধীনস্থ একটি অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে মুয়াবিয়া রাযি.-এর কর্তব্য তার বায়আত গ্রহণ করা।
অবশেষে ৩৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে খলিফা আলি রাযি. শামের গভর্নর-পদ হতে মুয়াবিয়া রাযি.-কে অপসারণ করেন। কিন্তু মুয়াবিয়া রাযি. খলিফার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন। বাধ্য হয়ে খliফা আলি রাযি. তার বাহিনী নিয়ে কুফা থেকে মুয়াবিয়া রাযি.-এর মোকাবিলায় রওনা হন। মুয়াবিয়া রাযি.-ও নিজ বাহিনী নিয়ে শাম থেকে বের হয়ে আসেন। ষড়যন্ত্রকারীদের একটি দলও তার বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।
যুদ্ধের পূর্বে আলি রাযি. নিজ অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তিসমূহ উল্লেখ করে মুয়াবিয়া রাযি.-এর কাছে বার্তাবাহক প্রেরণ করেন। কিন্তু মুয়াবিয়া রাযি. তা মেনে না নেওয়ায় সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সিফফিনের কাছে উভয় বাহিনী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিশিষ্ট সাহাবি আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীর হাতে নিহত হন। নবীজি আম্মার বিন ইয়াসির রাযি.-কে বলেছিলেন—
«تَقْتُلُكَ الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ» তোমাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।
একপর্যায়ে জয়ের পাল্লা আলি রাযি.-এর দিকে হেলে পড়ে এবং মুয়াবিয়া-বাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এ সময় মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীতে থাকা আমর ইবনুল আস রাযি. যুদ্ধ বন্ধ করে সালিশ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দাবি তোলেন। তখন মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীর সৈন্যরা কুরআন উঁচু করে ধরে এবং মধ্যস্থতার দাবি জানায়।
আলি রাযি. বুঝতে পারেন—প্রকৃতপক্ষে এটি পরাজয় এড়ানোর একটি কৌশলমাত্র। কিন্তু আলি রাযি.-এর বাহিনীর অধিকাংশ সাহাবিগণ মধ্যস্থতার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করলে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তা মেনে নিতে বাধ্য হন।
টিকাঃ
১৪৯. উটের যুদ্ধের পর হজরত আলি রাযি. বসরা থেকে কুফায় চলে যান এবং কুফাকেই দারুল খিলাফাহ নির্ধারণ করেন। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো—১. ইসলামি রাষ্ট্র ততদিনে যথেষ্ট বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। তাই ইসলামি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মূল কেন্দ্র এমন কোথাও হওয়া প্রয়োজন ছিল, যেখান থেকে রাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে সহজে পৌঁছা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে কুফাই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র। ২. একমাত্র শাম অঞ্চলই আলি রাযি.-এর খিলাফত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যেহেতু কুফার অবস্থান ছিল শামের সন্নিকটে, তাই খলিফা আলি রাযি. শাম থেকে আগত সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য কুফায় অবস্থান করা শ্রেয়তর মনে করেছিলেন।
১৫০. সিফফিন: রোমান আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রাচীন একটি জনপদ। আধুনিক সিরিয়ার রাক্কা নগরীতে ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে ছোট্ট এই জনপদটির অবস্থান।
১৫১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৮০০।
📄 সালিশ ও মধ্যস্থতা
ইতিহাসের এই অংশটি অত্যন্ত জটিল। সালিশ ও সালিশের ফলাফল নিয়ে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। যেমন—আমর ইবনুল আস রাযি. আবু মুসা আশআরি রাযি.-কে ধোঁকা দিয়েছিলেন, তিনি আমিরুল মুমিনিন হজরত আলি রাযি.-এর বরখাস্তের ঘোষণা দিতে আবু মুসা আশআরিকে বাধ্য করেন, এরপর নিজে দাঁড়িয়ে আবু মুসার ঘোষণাকে সমর্থন করেন এবং উভয়ের সিদ্ধান্তের বিপরীতে মুয়াবিয়া রাযি.-এর নামে খিলাফতের ঘোষণা দেন ইত্যাদি।
প্রকৃতপক্ষে এগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট বর্ণনা, যার একটিও প্রমাণিত নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো—প্রাচীন ও আধুনিক যেসব লেখক এসব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তারা সকলেই কিন্তু সুস্পষ্ট ভাষায় এ কথা স্বীকার করেন যে, মুয়াবিয়া রাযি. কখনোই আলি রাযি.-এর খিলাফত নিয়ে আপত্তি বা বিতর্ক করেননি এবং নিজে খলিফা হওয়ার দাবিও করেননি; তিনি কেবল উসমান-হত্যাকারীদের কিসাসের দাবি জানিয়েছেন। তার যুক্তি ছিল, নিহত ব্যক্তির শরয়ি অভিভাবক হিসেবে রক্তপণ দাবি করার অধিকার তার আছে। এটি ভিন্ন প্রসঙ্গ যে, তৎক্ষণাৎ কিসাস প্রয়োগের দাবির ক্ষেত্রে তিনি ইজতিহাদি ভুল করেছিলেন। কারণ, সকলেই এ কথা স্বীকার করে যে, আলি রাযি. কখনোই কিসাস কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানাননি, শিথিলতা বা অবহেলাও প্রদর্শন করেননি। আলি রাযি.-এর যুক্তি ছিল—
সমস্যা তো এখন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। খোদ ইসলামি রাষ্ট্রের রাজধানী মদিনাই এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণেই আমিরুল মুমিনিন আলি রাযি. তালহা রাযি. ও যুবায়র রাযি.-কে বলেছিলেন, 'আমরা এমন একদল লোকের বিরুদ্ধে কীভাবে (এখনই) পদক্ষেপ গ্রহণ করব, যারা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে; অথচ তাদের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই?' এরপর তিনি বলেন, 'এভাবে খুনের বদলার দাবিতে আন্দোলন করা একটি জাহিলি রীতি। আপনারা শান্ত হোন; ধীরে ধীরে সকলে শান্ত হয়ে যাবে এবং সবার হৃদয়-অবস্থান স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন হত্যার কিসাস গ্রহণ করা হবে।'
মূল বর্ণনায় ফিরে আসি। হজরত আমর ইবনুল আস রাযি. ও আবু মুসা আশআরি রাযি.-কে মধ্যস্থতাকারী নির্ণয় করা হয়। উভয়ে সিদ্ধান্ত জানান—আলি রাযি.-কে খিলাফতের দায়িত্ব হতে বরখাস্ত করে বিষয়টি মুসলিম উম্মাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক; তারা যাকে ইচ্ছা, নিজেদের খলিফা নির্বাচন করবে। বাকি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক-ব্যবস্থাপনা পূর্বের ন্যায় উভয় নেতার হাতেই থাকবে। আলি রাযি. তার অধীনস্থ অঞ্চলের দেখাশোনা করবেন আর শামের দায়িত্ব থাকবে মুয়াবিয়া রাযি.-এর হাতে।
আলি রাযি. সালিশের ফয়সালা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এ ফয়সালাকে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদ্বয়ের অনধিকার চর্চা হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, বিরোধ তো খলিফা নির্বাচন নিয়ে ছিল না; বিরোধ ছিল উসমান রাযি.-এর হত্যাকারীদের বিচার কার্যকর করা নিয়ে।
এরপর খলিফা আলি রাযি. তার অনুসারীদের নতুন করে মুয়াবিয়া রাযি.-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা তার আহ্বানে সাড়া দেওয়া দূরে থাক; এর পরিবর্তে ঘটে এক বিস্ময়কর বিভক্তি।
টিকাঃ
১৫২. সালিশ ও মধ্যস্থতার বিষয়সহ উসমান রাযি. ও আলি রাযি.-এর খিলাফত আমলের ফিতনা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার জন্য দেখুন: মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ড. রাগিব সারজানির 'ফিতনার ইতিহাস'।
📄 খারিজি সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশ
আলি রাযি.-এর বাহিনীর বারো হাজার সৈন্যের একটি দল মধ্যস্থতার মূল প্রক্রিয়াকেই প্রত্যাখ্যান করে বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অথচ ইতিপূর্বে তারাই আলি রাযি.-কে মধ্যস্থতার প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করেছিল। তারা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই ক্ষান্ত না হয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় হজরত আলিকে কাফির সাব্যস্ত করে।
বিচ্ছিন্ন বাহিনী কুফায় পৌঁছে হারুরা নামক গ্রামে অবতরণ করে। এ কারণে বিচ্ছিন্নতাবাদী এ দলটিকে হারুরিয়া নামে অভিহিত করা হয়। তবে তাদের প্রসিদ্ধ নাম হলো খারিজি সম্প্রদায়।
হজরত আলি রাযি. ও অন্যান্য ফকিহ সাহাবিগণ তাদেরকে এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু তারা ছিল চরম নির্বোধ প্রকৃতির বেদুইন গোষ্ঠী। নিজেদের মাথায় যা ধরত, তারা কেবল তা-ই বুঝত; কোনো যুক্তিতর্ক মানার মনোভাব তাদের মধ্যে ছিল না। তারা মানুষকে সালিশের বিষয়ে জিজ্ঞেস করত; যে এর পক্ষে বলত, তাকেই তারা মুরতাদ ও কাফির গণ্য করে হত্যা করত।
দলিলপ্রমাণ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খারিজি সম্প্রদায়কে সুপথে আনার প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ প্রমাণিত হয়, তখন বাধ্য হয়ে হজরত আলি রাযি. ৩৮ হিজরি সনে তাদের দমনে যুদ্ধ শুরু করেন। বহু খারিজি নিহত হয়, অনেকে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীকালে খারিজিরা বিভক্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন বিশটি উপদলে পরিণত হয়।
৩৯ হিজরি সনে আলি রাযি. ও মুয়াবিয়া রাযি. পরস্পর যুদ্ধবিরতির সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হন। উভয়ের ঐকমত্যে সিদ্ধান্ত হয়, মুয়াবিয়া রাযি.-ই শামের গভর্নর থাকবেন, আমিরুল মুমিনিন শামে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না।
৪০ হিজরিতে খারিজিরা আমিরুল মুমিনিন আলি রাযি., শামের গভর্নর মুয়াবিয়া রাযি. ও (তাদের দৃষ্টিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অপরাধী) আমর ইবনুল আস রাযি.-কে হত্যা করে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা উল্লিখিত তিন মহান সাহাবিকে হত্যা করার জন্য তিনজন গুপ্তঘাতককে দায়িত্ব দেয়। আলি রাযি.-কে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় আবদুর রহমান বিন মুলজিমকে, মুয়াবিয়া রাযি.-কে হত্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় বুরাক বিন আবদুল্লাহকে আর আমর ইবনুল আস রাযি.-কে হত্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় আমর বিন বকর তামিমিকে। সিদ্ধান্ত হয়, তিন গুপ্তঘাতক ১৭ রমজান ফজর নামাজের সময় তাদেরকে হত্যা করবে। কিন্তু তিন গুপ্তঘাতকের মধ্যে কেবল একজনই তার দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়।
৪০ হিজরি সনের ১৭ রমজান (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি)। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো খলিফা আলি রাযি. ফজরের পূর্বে সকলকে জাগ্রত করতে ঘর থেকে বের হন। কুফার মসজিদের দরজায় ওত পেতে ছিল খারিজি গুপ্তঘাতক। আলি রাযি. মসজিদের কাছে পৌঁছতেই গুপ্তঘাতক তার ওপর হামলা চালায়। আহত খলিফা চিৎকার করে বলে ওঠেন, 'কাবার রবের শপথ! আমি তো সফলকাম!'
লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ঘাতককে ধরে ফেলে। খলিফার তখন অন্তিম মুহূর্ত সন্নিকটে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ঘাতককে কী করা হবে? আলি রাযি. উত্তর দেন, 'যদি আমি বেঁচে থাকি, তাহলে করণীয় আমিই নির্ধারণ করব। আর যদি আমি মারা যাই, তাহলে করণীয় নির্ণয়ের অধিকার তোমাদের। তোমরা যদি কিসাস গ্রহণেরই সিদ্ধান্ত নাও, তাহলে এক আঘাতের পরিবর্তে এক আঘাতই করবে; আর যদি তাকে ক্ষমা করে দাও, তাহলে তা-ই তাকওয়ার নিকটতর দাবি।'
একই সময় শামে বুরাক বিন আবদুল্লাহ মুয়াবিয়া রাযি.-এর ওপর আক্রমণ চালায়। তার লক্ষ্যভ্রষ্ট আঘাতে মুয়াবিয়া রাযি. আহত হলেও পরে সুস্থ হয়ে যান। অপরদিকে আমর ইবনুল আস রাযি.-কে হত্যা করার জন্য ঘাতক আমর বিন বকর ওত পেতে থাকলেও তিনি সেদিন অসুস্থতার কারণে নিজে মসজিদে না গিয়ে খারিজা বিন হুযাফা রাযি.-কে ইমামতি করার জন্য পাঠান। ঘাতক তাকেই আমর মনে করে হত্যা করে।
ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলি রাযি. তেষট্টি বছর বয়সে ৪০ হিজরির ২১ রমজান (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি) কুফায় ইন্তেকাল করেন।
৪০ হিজরির শাওয়াল মাসে (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে) মদিনাবাসী হজরত হাসান বিন আলি রাযি.-এর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করে।
এর মাত্র ছয় মাস পর ৪১ হিজরি সনের ২৫ রবিউল আউয়াল (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুলাই) হজরত হাসান রাযি. উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতির বৃহত্তর স্বার্থে হজরত মুয়াবিয়া রাযি.-এর হাতে খিলাফতের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এ কারণেই ৪১ হিজরি সনকে ঐক্য ও সম্প্রীতির বছর বলে নামকরণ করা হয়। হাসান রাযি.-এর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয় তার সম্পর্কে সত্যনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কৃত এই ভবিষ্যদ্বাণী—
«إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدُ ، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ عَظِيمَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ»
আমার এই দৌহিত্র একজন সর্দার। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে মুসলিম জাতির বড় দুটি দলের মাঝে মীমাংসা করবেন।
টিকাঃ
১৫৩. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২৭০৪।
📄 দ্রষ্টব্য : সাহাবা-অন্তর্বিরোধ সম্পর্কে বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি
ইমাম কুরতুবি রহ. তার তাফসির গ্রন্থে সুরা হুজুরাত-এর ৯নং আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবায়ে কেরামের অন্তর্বিরোধ সম্পর্কে বড় মনোজ্ঞ আলোচনা করেছেন। আমরা তা এখানে তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি।
ইমাম কুরতুবি রহ. লিখেছেন-
ইবনুল আরাবি রহ. বলেন, এই আয়াতটি মুসলমানদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ক্ষেত্রে এক কুরআনি মূলনীতি এবং শরিয়তের কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যাগত ভুলের শিকার দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে মূল নির্ভরনীতি। (সাহাবা অন্তর্বিরোধের ক্ষেত্রে) সাহাবায়ে কেরাম এ আয়াতের ওপরই নির্ভর করেছেন, মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গ এ আয়াতেরই আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বাণীদ্বয়েও যেন উক্ত আয়াতের মর্মবাণী ফুটে উঠেছে।
নবীজি ইরশাদ করেছেন- তَقْتُلُ عَمَّارًا الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ» আম্মারকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।
খারিজিদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন- يَخْرُجُوْنَ عَلَى خَيْرٍ فِرْقَةٍ» তারা উম্মাহর শ্রেষ্ঠ অংশের বিরুদ্ধাচরণ করবে।
অথবা নবীজি বলেছেন- يَخْرُجُوْنَ عَلَى حِيْنِ فُرْقَةٍ»
তারা লোকদের মধ্যে বিরোধকালে আত্মপ্রকাশ করবে।
প্রথম বর্ণনাটি তুলনামূলক অধিক বিশুদ্ধ। কারণ, অন্য এক হাদিসে নবীজি ইরশাদ করেছেন—
«يَقْتُلُهُمْ أَدْنَى الطَّائِفَتَيْنِ إِلَى الْحَقِّ»
তাদেরকে হত্যা করবে দু-দলের মধ্যে হকের অধিক নিকটবর্তী দলটি।
খারিজিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন হজরত আলি রাযি. ও তার সঙ্গীরা। আর তাই শরয়ি দলিলের আলোকে উম্মাহর উলামায়ে কেরামের নিকট এ বিষয়টি স্বীকৃত ও সুপ্রমাণিত যে, হজরত আলি রাযি.-ই ছিলেন (সাহাবা অন্তর্বিরোধের সময়) মুসলিম উম্মাহর ইমাম আর যারা তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা সকলে ছিল ইসলামি খিলাফতের বিরুদ্ধাচরণকারী। আর শরিয়তের বিধান হলো, বিদ্রোহীদের সঙ্গে ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না তারা সত্যের পথে ফিরে আসে এবং মীমাংসা মেনে নেয়।
উসমান রাযি.-এর হত্যাকাণ্ডে সাহাবায়ে কেরাম সকলে পূর্ণ দায়মুক্ত ছিলেন। কারণ, স্বয়ং খলিফা উসমান রাযি. বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিষেধ করে বলেছিলেন, (হত্যার ক্ষেত্রে) আমিই উম্মাহর মধ্যে নবীজির নির্দেশনা অমান্যকারী প্রথম ব্যক্তি হতে চাই না। এ কারণেই এই মজলুম সাহাবি দুর্যোগে সবর করেছেন, কষ্টকে বরণ করে নিয়েছেন এবং উম্মাহর কল্যাণে আত্মত্যাগের এক বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজের জান কুরবানি করেছেন। কিন্তু এরপর জাতিকে নেতৃত্বহীন রাখাও তো সম্ভব নয়। তাই ইতিপূর্বে উমর রাযি. খলিফা নির্বাচনের জন্য যাদের নাম ঘোষণা করেছিলেন, তাদের অবশিষ্টদেরকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নিঃস্বার্থ এই জামাতের প্রত্যেকে নিজে পদ গ্রহণ না করে অন্যকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। হজরত আলি রাযি. ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক উপযুক্ত। ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার কারণে উম্মাহর মাঝে রক্তপাত ও ভয়াবহ দুর্যোগ সংঘটিত হবে এবং জাতি এক অনিঃশেষ বিভক্তির শিকার হবে—এই আশঙ্কায় সতর্কতার দাবিতে তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কারণ, খিলাফতশূন্যতার পরিণতি তো আরও ভয়াবহ। খিলাফত না থাকলে দ্বীনের মধ্যেই পরিবর্তন ও ইসলামের ভিত্তিমূলেই ভাঙনসৃষ্টির ভয় থাকে।
কিন্তু যখন তার নামে বায়আত গ্রহণ শুরু হলো, তখন শামবাসী বায়আত গ্রহণের জন্য উসমান-হত্যাকারীদের পাকড়াও করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কিসাস-শান্তি কার্যকর করার শর্তারোপ করল। আলি রাযি. তাদেরকে বললেন, 'তোমরা প্রথমে বায়আত গ্রহণ করো, তারপর হক দাবি করো; তাহলেই তা লাভ করবে।' উত্তরে তারা বলল, 'উসমানের হত্যাকারীরা আপনার সঙ্গেই আছে, সকাল-সন্ধ্যা আপনি তাদেরকে দেখেন, এ অবস্থায় তো আপনি বায়আতের উপযুক্ত নন।' এ ক্ষেত্রে আলি রাযি. তুলনামূলক সঠিক কথা বলেছেন এবং সঠিকতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। কারণ, হজরত আলি রাযি. যদি (সেই চরম সঙ্গিন মুহূর্তে) অপরাধীদের দণ্ড কার্যকর করতেন, তাহলে বিভিন্ন গোত্র তার বিরুদ্ধাচরণ করত এবং নতুন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত। তাই তিনি পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার এবং বায়আত সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন। তার ইচ্ছা ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে নিহত খলিফার নিকটাত্মীয়দের পক্ষ থেকে বিচার মজলিসে অভিযোগ উত্থাপিত হবে এবং তখন তিনি ন্যায়ানুগ বিচার কার্যকর করবেন। আর এটি উম্মাহর একটি সর্বসম্মত নীতি যে, ফিতনা বা বিভক্তির আশঙ্কা থাকলে শাসকের জন্য কিসাস কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করার বৈধতা আছে।
একই কথা প্রযোজ্য তালহা রাযি. ও যুবায়র রাযি.-এর ক্ষেত্রেও। কারণ, তারা হজরত আলি রাযি.-কে খলিফাপদ হতে অপসারণের দাবিও করেননি, তার ধার্মিকতা নিয়ে কোনো অভিযোগও করেননি। তাদের মত ছিল, প্রথমে উসমান-হত্যাকারীদের ওপর কিসাস কার্যকর করাই শ্রেয়তর।
(ইমাম কুরতুবি রহ. ইবনুল আরাবির উদ্ধৃতি শেষ করার পর বলেন,) আমার কথা হলো—এ তো গেল তাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে আলোচনা। উলামায়ে কেরামের বড় এক অংশের মত হলো, বসরায় সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তা মূলত তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের দৃঢ় ইচ্ছা ব্যতিরেকে আকস্মিক ঘটে গেছে। কারণ, যুদ্ধের পূর্বেই তাদের মধ্যে সমঝোতা ও মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে উসমান-হত্যাকারীরা ভয় পেয়ে যায় যে, এবার হয়তো তাদেরকে পাকড়াও করে শাস্তি প্রদান করা হবে। তাই তারা একত্র হয়ে পরামর্শ করে। প্রথমে তাদের মাঝে বাদানুবাদ হলেও শেষ পর্যন্ত তারা একমত হয় যে, তারা দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে দু-পক্ষের সঙ্গে মিশে যাবে এবং উভয় দলের সৈন্যদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য নিজেরাই যুদ্ধের সূচনা করে পরস্পর তির ছুড়তে থাকবে। তখন আলি রাযি.-এর বাহিনীর সঙ্গে মিশে যাওয়া অংশ চিৎকার করে বলতে থাকবে, তালহা ও যুবায়র প্রতারণা করেছেন আর তালহা ও যুবায়রের বাহিনীর সঙ্গে মিশে যাওয়া অংশ চিৎকার করে বলতে থাকবে, আলি প্রতারণা করেছেন। তাদের এই কূটকৌশল সফল হয় এবং উভয় পক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক পক্ষই ছিল নিজেদের দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষের ধোঁকা-প্রতিরোধকারী এবং প্রতিপক্ষের হত্যাপ্রচেষ্টায় বাধাপ্রদানকারী; ভিন্নভাবে বললে, উভয় পক্ষই আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিল। এ বিবেচনায় উভয় পক্ষের নীতিই ছিল সঠিক এবং আল্লাহর আনুগত্যই ছিল উভয় পক্ষের লক্ষ্য। উভয় পক্ষের যুদ্ধ-চেষ্টা ও প্রতিরোধ-প্রচেষ্টার সূচনা মূলত এভাবেই হয়েছিল। এটিই হলো উক্ত নাজুক ও সংবেদনশীল ঘটনার বিশুদ্ধ-সুপ্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এরপর ইমাম কুরতুবি রহ. বলেন—
সাহাবায়ে কেরামের মহান জামাতের কোনো সদস্য সম্পর্কে 'নিশ্চিত ভুল করেছেন' বলা বৈধ নয়। কারণ, তারা যা কিছু করেছেন, ইজতিহাদের আলোকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করেছেন। তারা সকলে আমাদের মাননীয় ও অনুসরণীয়। আমাদের প্রতি শরিয়তের নিদের্শনা হলো, তাদের অন্তর্বিরোধ বিষয়ে কলম ও কালামকে সংযত রাখা এবং কেবল তাদের সদ্গুণসমূহ নিয়ে আলোচনা করা। কারণ, তারা নবীসংস্পর্শের অত্যুচ্চ মর্যাদার অধিকারী। নবীজি তাদের নিন্দা করতে নিষেধ করেছেন আর আল্লাহ তাআলা তাদের যাবতীয় ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাদের প্রতি আপন সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন। অধিকন্তু নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত আছে যে, তালহা হলো ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী একজন শহিদ। সুতরাং তিনি যদি যুদ্ধে অবাধ্য অবস্থায় বের হতেন, তাহলে নিহত হওয়ার কারণে তিনি কিছুতেই শহিদ হতেন না। তদ্রূপ তিনি যদি ব্যাখ্যায় ভুল করে এবং আপন ওয়াজিব দায়িত্বে অবহেলা করে যুদ্ধে বের হতেন, তাহলেও তিনি শহিদ হতেন না। কারণ, শহিদ কেবল তাকেই গণ্য করা হয়, যে ন্যায়ের পথে নিহত হয়। সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের এই অন্তর্বিরোধকে উল্লিখিত ব্যাখ্যায়ই প্রয়োগ করা উচিত।
আর এই যখন ঘটনার প্রকৃত বিশ্লেষণ, সুতরাং অন্তর্বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাহাবায়ে কেরামকে অভিসম্পাত করা, নিজেদেরকে সাহাবায়ে কেরাম হতে দায়মুক্ত ঘোষণা করা, তাদের ফাসেক ও অপরাধী গণ্য করা, তাদের কীর্তি ও অবদান এবং দ্বীনের জন্য তাদের ত্যাগ ও কুরবানিকে অস্বীকার করা কিছুতেই বৈধ হতে পারে না।
জনৈক প্রাজ্ঞ মনীষীকে সাহাবায়ে কেরামের অন্তর্বিরোধকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি শুধু এ আয়াত পড়ে শোনান-
তারা ছিল একটি সম্প্রদায়, যা গত হয়েছে। তারা যা কিছু অর্জন করেছে, তা তাদেরই আর তোমরা যা কিছু অর্জন করেছ, তা তোমাদেরই। তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না যে, তারা কী কাজ করত।
একই প্রশ্নের জবাবে অন্য এক আলিম অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর প্রদান করেন। তিনি বলেন,
'আল্লাহ তাআলা আমার হাতকে সেই রক্ত হতে পবিত্র রেখেছেন। সুতরাং আমি তা দ্বারা আমার জবানকে রঞ্জিত করতে চাই না।'
বক্তার উদ্দেশ্য হলো—এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে হয়তো ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে; কারও প্রতি তিনি যা করেননি, তা আরোপ করা হতে পারে।
বিশিষ্ট তাবেয়ি হাসান বসরি রহ.-কে সাহাবায়ে কেরামের পারস্পরিক বিরোধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন—
'সেটি এমন একটি লড়াই, যাতে সাহাবায়ে কেরাম অংশ নিয়েছেন আর আমরা ছিলাম অনুপস্থিত। পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবগতি ছিল, অথচ আমাদের তা নেই। সুতরাং তারা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, আমরা তার অনুসরণ করব, আর যে বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করব।'
ইমাম মুহাসিবি রহ. বলেন,
'হাসান যা বলেছেন, আমরাও তাই বলি। কেননা, এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তারা যে বিষয়ে বিরোধ করেছেন, তা সম্পর্কে আমাদের চেয়ে তারাই অধিক জ্ঞাত ছিলেন। সুতরাং তাদের সর্বসম্মত বিষয়ে অনুসরণ এবং দ্বিধাবিভক্ত বিষয়ে নীরবতা অবলম্বনই হলো আমাদের অবশ্য কর্তব্য। নিজেদের পক্ষ থেকে আমরা কোনো ব্যাখ্যা সৃষ্টি করব না। আমাদের নিষ্কম্প বিশ্বাস এই যে, তারা যা করেছেন, ইজতিহাদের ভিত্তিতে করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় করেছেন। কারণ, দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।'
টিকাঃ
১৫৪. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৯১৬।
১৫৫. সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং-৮৫০৭।
১৫৬. সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৩৬১০।
১৫৭. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-১০৬৪।
১৫৮. শামসুদ্দিন কুরতুবি, আল-জামে লি আহকামিল কুরআন (তাফসিরে কুরতুবি), সুরা হুজুরাত, আয়াত নং ০৯।