📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিফা হিসেবে আলি রাযি.-এর দায়িত্বগ্রহণ

📄 খলিফা হিসেবে আলি রাযি.-এর দায়িত্বগ্রহণ


উসমান রাযি. নিহত হওয়ার পর মদিনা খিলাফতশূন্য হয়ে পড়ে। বিদ্রোহিদের মিশরীয় নেতা গাফিকি বিন হারব-ই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিল। মদিনাবাসী এ সময় কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল। বিদ্রোহীরা যদিও খলিফা উসমান রাযি.-কে হত্যার প্রশ্নে একজোট ছিল; কিন্তু নতুন খলিফা নির্বাচনের বিষয়ে তারা মতবিভক্ত ছিল। মিশরীয় বিদ্রোহীদের আগ্রহ ছিল আলি রাযি.-এর প্রতি, বসরার বিদ্রোহীদের আগ্রহ ছিল তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাযি.-এর প্রতি আর কুফার বিদ্রোহীদের আগ্রহ ছিল যুবায়র ইবনুল আওয়াম রাযি.-এর প্রতি। কিন্তু তারা তিনজনই বিদ্রোহীদের প্রত্যাখ্যান করায় বিদ্রোহীরা এরপর সাদ বিন আবু ওয়াককাস রাযি.-কে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি আরও কঠোর ভাষায় বিদ্রোহীদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খলিফার সহায়তায় আগত বাহিনীগুলো মদিনার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে বিদ্রোহীরা মদিনাবাসীকে হুমকি প্রদান করে এবং দুদিন সময় দিয়ে বলে যে, এরমধ্যে মদিনাবাসী নতুন খলিফা নির্বাচিত করতে না পারলে তারা আলি ও যুবায়র রাযি.-সহ অনেককে হত্যা করবে।

এরপর মদিনায় উপস্থিত বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম সর্বদিক বিবেচনা করে হজরত আলি রাযি.-কেই সবচেয়ে উপযুক্ত বিবেচনা করে তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। আলি রাযি. তা প্রত্যাখ্যান করলেও সকলে তাকে উম্মাহর এই চরম দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে বারবার অনুরোধ জানাতে থাকে। অবশেষে ২৫ জিলহজ সকলে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করে। তার বায়আতের সংবাদ সমকালীন ইসলামি বিশ্বের সকল প্রান্তে বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলে শামের গভর্নর মুয়াবিয়া রাযি. ব্যতীত সকলে তার প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে মুয়াবিয়া রাযি.-এর সঙ্গে তার যে বিরোধ সংঘটিত হয়, তার বিবরণ সামনে আসছে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ফিতনা ও ষড়যন্ত্র এবার নতুন রূপে

📄 ফিতনা ও ষড়যন্ত্র এবার নতুন রূপে


দায়িত্ব গ্রহণের পর হজরত আলি রাযি. প্রথমেই ইসলামি রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মনোযোগী হন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন গভর্নর প্রেরণ করেন এবং তাদের মাধ্যমে সকল স্থান থেকে তার খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন। আলি রাযি. শামের গভর্নর মুয়াবিয়া রাযি.-এর কাছে বায়আতের আহ্বান জানিয়ে বার্তা পাঠালে মুয়াবিয়া রাযি. উত্তর দিতে বিলম্ব করেন। মুয়াবিয়া রাযি. পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এবং বিদ্রোহীরা সামনে কী পদক্ষেপ নেয়, তার অপেক্ষা করছিলেন।

এদিকে খলিফা উসমান রাযি.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীরা তার হত্যাকাণ্ডের পরপরই নিজেদের রূপ বদলে ফেলে। এবার তারা উসমান-হত্যার প্রতিশোধের দাবি তোলে। মদিনার আকাশে-বাতাসে তখন একটাই আওয়াজ— দ্রুত উসমান-হত্যার প্রতিশোধ চাই। দুই বিশিষ্ট সাহাবি তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাযি. ও যুবায়র বিন আওয়াম রাযি. নিষ্ঠাপূর্ণ আবেগের ভিত্তিতে মদিনাবাসীকে উসমান হত্যাকারীদের ওপর কিসাস প্রয়োগের দাবি তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন। এই দুই মহান ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারেননি যে, ষড়যন্ত্রকারীদের দাবির আড়ালে প্রকৃতপক্ষে মুসলিম উম্মাহকে এক দীর্ঘমেয়াদি ফিতনায় জড়িয়ে ফেলার দুরভিসন্ধি লুকিয়ে আছে। দুই মহান সাহাবির আহ্বানে মক্কা-মদিনায় শত শত মানুষ আন্দোলনে প্রস্তুত হয়ে যায়। যেহেতু তখনও মদিনার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি, তাই উসমান-হত্যার প্রতিশোধ ও বিদ্রোহীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বসরায় সমবেত হয়। আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাযি.- ও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

বসরার গভর্নর উসমান বিন হানিফ আন্দোলনকারীদের বাধা প্রদানে অগ্রসর হলে আন্দোলনকারীরা তাকে অবরুদ্ধ ও বন্দি করে। বসরায় তালহা রাযি., যুবায়র রাযি. ও আম্মাজান আয়েশা রাযি.-এর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

খলিফা আলি রাযি. বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্দেশ্যে তার সমর্থকদের নিয়ে বসরায় গমন করেন। খলিফা কা'কা' বিন আমর রাযি.-কে আম্মাজান আয়েশা রাযি. ও সাহাবিদ্বয়ের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রেরণ করলে তার নিষ্ঠাপূর্ণ প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও পরিশুদ্ধির বাতাস বইতে শুরু করে। এ সময় আলি রাযি. যুবায়র রাযি.-কে নবীজির ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করিয়ে দেন- «لَتُقَاتِلَنَّهُ ؛ وَأَنْتَ ظَالِمُ لَه»
অচিরেই এমন এক সময় আসবে, যখন তুমি আলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে, আর সেদিন তুমিই থাকবে অন্যায়ের ওপর।

আলি রাযি.-এর কথা শুনে যুবায়র রাযি. বলেন, আমার মনে পড়েছে। যদি আপনি আমাকে (আগেই) স্মরণ করিয়ে দিতেন, তাহলে আমি (আন্দোলনে) বের হতাম না। এরপর তিনি আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মনস্থ করেন এবং প্রত্যাবর্তনের জন্য মদিনার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে তাকে শহিদ করে দেওয়া হয়।

ষড়যন্ত্রকারীরা যখন দেখতে পায় যে, তাদের সাজানো পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে এবং বিবাদমান উভয় পক্ষ সন্ধি ও সমঝোতার প্রতি অগ্রসর হচ্ছে, তখন তারা নতুন এক কৌশল অবলম্বন করে। ইবনে সাবার পরামর্শে তারা উভয় পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে সমঝোতা হওয়ার পূর্বেই উভয় পক্ষকে উত্তেজিত করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

টিকাঃ
১৪৮. আবু আবদুল্লাহ হাকিম, আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস নং ৫৫৭৫।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উটের যুদ্ধ

📄 উটের যুদ্ধ


অবশেষে ইসলামের শত্রু সাবায়ি চক্রের ষড়যন্ত্র সফল হয়। তারা দুদিক থেকে তির ছুড়তে থাকায় উভয় পক্ষই মনে করছিল যে, অপর পক্ষ সমঝোতার পরিবর্তে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। শুরু হয় উত্তেজিত দুপক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই। আম্মাজান আয়েশা রাযি.-এর হাওদা বহনকারী উটের সামনে প্রচণ্ড লড়াই চলতে থাকে। সাবায়ি চক্র যেকোনো মূল্যে আম্মাজানকে বহনকারী উটটিকে হত্যা করার চেষ্টা করছিল। তাদের আক্রমণে সেখানেই নিহত হয় সত্তরজন ব্যক্তি, যারা প্রত্যেকে উটের রাশ (নাসিকা বন্ধনী) ধরে ছিল।

হজরত আলি রাযি. বিষয়টি অবগত হয়ে উটের পায়ে আঘাত করেন এবং আম্মাজান বিপদমুক্ত হন। তিনি তার সঙ্গীদেরকে আয়েশা রাযি.-কে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে আম্মাজান নিরাপদে মদিনায় ফিরে যান। এভাবে দুষ্ট সাবায়ি চক্রের ষড়যন্ত্রে সংঘটিত এ যুদ্ধে বসরায় গমনকারী বাহিনীর দশ হাজার এবং আলি রাযি.-এর বাহিনীর পাঁচ হাজার সৈন্য নিহত হয়।

যুদ্ধ শুরু হলে হজরত তালহা রাযি. চিৎকার করে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে তিনি তিরবিদ্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। তালহা ও যুবায়র রাযি. ছিলেন আশারায়ে মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত দুই মহান সাহাবি। তারা দুজন খলিফা উমর রাযি.-এর নির্বাচিত শুরারও সদস্য ছিলেন। ইসলামের একেবারে সূচনালগ্ন থেকে নবীজির সঙ্গী হয়ে তারা দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য অনন্যসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। হজরত আলি রাযি.-এর সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না; বরং তালহা রাযি.-ই প্রথম আলি রাযি.-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। আলি রাযি. যেমন সমঝোতা ও শান্তি কামনা করছিলেন, তারা দুজনও তেমনই শান্তি ও সমঝোতার জন্যই চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুষ্ট সাবায়ি চক্রের ষড়যন্ত্রে উসমান রাযি.-এর পর এই দুই মহান সাহাবিও নিহত হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সিফফিনের যুদ্ধ

📄 সিফফিনের যুদ্ধ


হজরত মুয়াবিয়া রাযি. খলিফা উমর রাযি.-এর শাসনামল হতেই শামের গভর্নর ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পান যে, একদিকে উসমান-হত্যার বিচারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে না, অপরদিকে বিচারের দাবিদার আন্দোলনকারীগণ বসরায় সমবেত হওয়ার পর উটের যুদ্ধের ন্যায় বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তখন তিনি বায়আতের বিষয়ে আরও বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। অপরদিকে আলি রাযি.-এর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—যেহেতু তিনি এখন ইসলামি রাষ্ট্রের বৈধ খলিফা এবং অন্যান্য অঞ্চলের প্রশাসন ও জনগণ ইতিমধ্যে তার খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেছে, তাই ইসলামি খিলাফতের অধীনস্থ একটি অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে মুয়াবিয়া রাযি.-এর কর্তব্য তার বায়আত গ্রহণ করা।

অবশেষে ৩৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে খলিফা আলি রাযি. শামের গভর্নর-পদ হতে মুয়াবিয়া রাযি.-কে অপসারণ করেন। কিন্তু মুয়াবিয়া রাযি. খলিফার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন। বাধ্য হয়ে খliফা আলি রাযি. তার বাহিনী নিয়ে কুফা থেকে মুয়াবিয়া রাযি.-এর মোকাবিলায় রওনা হন। মুয়াবিয়া রাযি.-ও নিজ বাহিনী নিয়ে শাম থেকে বের হয়ে আসেন। ষড়যন্ত্রকারীদের একটি দলও তার বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।

যুদ্ধের পূর্বে আলি রাযি. নিজ অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তিসমূহ উল্লেখ করে মুয়াবিয়া রাযি.-এর কাছে বার্তাবাহক প্রেরণ করেন। কিন্তু মুয়াবিয়া রাযি. তা মেনে না নেওয়ায় সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সিফফিনের কাছে উভয় বাহিনী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিশিষ্ট সাহাবি আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীর হাতে নিহত হন। নবীজি আম্মার বিন ইয়াসির রাযি.-কে বলেছিলেন—
«تَقْتُلُكَ الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ» তোমাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।

একপর্যায়ে জয়ের পাল্লা আলি রাযি.-এর দিকে হেলে পড়ে এবং মুয়াবিয়া-বাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এ সময় মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীতে থাকা আমর ইবনুল আস রাযি. যুদ্ধ বন্ধ করে সালিশ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দাবি তোলেন। তখন মুয়াবিয়া রাযি.-এর বাহিনীর সৈন্যরা কুরআন উঁচু করে ধরে এবং মধ্যস্থতার দাবি জানায়।

আলি রাযি. বুঝতে পারেন—প্রকৃতপক্ষে এটি পরাজয় এড়ানোর একটি কৌশলমাত্র। কিন্তু আলি রাযি.-এর বাহিনীর অধিকাংশ সাহাবিগণ মধ্যস্থতার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করলে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তা মেনে নিতে বাধ্য হন।

টিকাঃ
১৪৯. উটের যুদ্ধের পর হজরত আলি রাযি. বসরা থেকে কুফায় চলে যান এবং কুফাকেই দারুল খিলাফাহ নির্ধারণ করেন। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো—১. ইসলামি রাষ্ট্র ততদিনে যথেষ্ট বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। তাই ইসলামি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মূল কেন্দ্র এমন কোথাও হওয়া প্রয়োজন ছিল, যেখান থেকে রাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে সহজে পৌঁছা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে কুফাই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র। ২. একমাত্র শাম অঞ্চলই আলি রাযি.-এর খিলাফত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যেহেতু কুফার অবস্থান ছিল শামের সন্নিকটে, তাই খলিফা আলি রাযি. শাম থেকে আগত সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য কুফায় অবস্থান করা শ্রেয়তর মনে করেছিলেন।
১৫০. সিফফিন: রোমান আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রাচীন একটি জনপদ। আধুনিক সিরিয়ার রাক্কা নগরীতে ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে ছোট্ট এই জনপদটির অবস্থান।
১৫১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৮০০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00