📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ফিতনার প্রাথমিক আত্মপ্রকাশ

📄 ফিতনার প্রাথমিক আত্মপ্রকাশ


এই ফিতনার আগুন প্রথমে প্রজ্বলিত করে সানআ অঞ্চলের আবদুল্লাহ বিন সাবা নামক জনৈক ইহুদি। ইতিহাসে সে 'ইবনুস সাওদা' নামেও প্রসিদ্ধ। উসমান রাযি.-এর খিলাফত আমলে নিজেকে সে মুসলমান দাবি করে এবং একজন জ্ঞানী-আলিম হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রথমদিকে সে গ্রাম ও মরু-অঞ্চলের অধিবাসীসহ শহরাঞ্চলের যেসব মানুষ নতুন ইসলামগ্রহণ করেছে, তাদের মাঝে বিদ্রোহ সৃষ্টিতে সচেষ্ট হয়।

সে মানুষকে প্রশ্ন করত—'এটা কি প্রমাণিত নয় যে, ঈসা বিন মরিয়ম এই পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করবেন?' উত্তরে স্বাভাবিকভাবেই 'হ্যাঁ' বলা হলে সে পুনরায় প্রশ্ন করত, 'রাসুলুল্লাহ তো তার চেয়েও মর্যাদাশীল। তাহলে তার এ পৃথিবীতে পুনরাগমনের বিষয়কে তুমি কীভাবে অস্বীকার করতে পার?!' এরপর সে বলত, 'নবীজি আলি বিন আবু তালিবকে অসিয়ত করেছেন। মুহাম্মাদ হলেন আখেরি নবী আর আলি হলেন আখেরি অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সুতরাং উসমানের তুলনায় আলিই খিলাফতের দায়িত্বলাভের অধিক হকদার।'

এরপর আবদুল্লাহ বিন সাবা মিশরে চলে যায় এবং সেখানকার অধিবাসীদের অনেককেই তার আন্দোলনের প্রতি অনুরাগী করে তুলতে সক্ষম হয়। তার অনুসারীরা কুফা ও বসরার জনসাধারণের কাছে পত্র পাঠিয়ে তাদেরকেও খিলাফতের বিরুদ্ধে খ্যাপিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। তারাও পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে আন্দোলনে যুক্ত হয়। এসব অঞ্চলে যেসব লোক নিজেদের বিভিন্ন স্বার্থহানির কারণে খলিফা-কর্তৃক নিযুক্ত গভর্নরদের প্রতি বিক্ষুব্ধ ছিল, তারাও ইবনে সাবার পক্ষে যোগ দেয়।

ইবনে সাবা খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন শুরু করে। নিকটাত্মীয়দের গভর্নর-পদে নিয়োগদান, কুরআন পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশদানসহ এমন আরও অনেক জঘন্য অভিযোগ সে উত্থাপন করে, যার অসারতা সম্পর্কে জ্ঞানী ও বিবেকবান ব্যক্তিমাত্রই অবগত আছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ ইমাম বুখারি রহ. বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

ইমাম বুখারি রহ. উসমান বিন মাওহিব-এর সূত্রে বর্ণনা করেন-
মিশরীয় জনৈক ব্যক্তি মক্কায় এসে হজ সম্পাদন করল। এরপর সে কয়েকজন ব্যক্তিকে বসা দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করল, এরা কারা? তাকে জানানো হলো, এরা কুরাইশ গোত্রের লোক। সে জিজ্ঞেস করল, তাদের মাঝে উপবিষ্ট ওই শায়খ কে? লোকেরা বলল, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি.। এরপর সে ইবনে উমর রাযি.-এর কাছে গিয়ে বলল, ইবনে উমর, আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনি আমাকে উত্তর দিন। আপনি কি জানেন যে, উসমান উহুদ যুদ্ধের দিন পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিলেন? ইবনে উমর উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। সে প্রশ্ন করল, আপনি কি জানেন যে, তিনি বদর-যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন, অংশগ্রহণ করেননি? ইবনে উমর উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। লোকটি এরপর প্রশ্ন করল, আপনি কি জানেন যে, তিনি বায়আতে রিজওয়ানেও অনুপস্থিত ছিলেন, অংশগ্রহণ করেননি? ইবনে উমর এবারও উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল, আল্লাহু আকবার!

এবার ইবনে উমর বললেন, এসো, আমি তোমাকে বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলছি। উহুদ যুদ্ধের দিন তার পৃষ্ঠপ্রদর্শনের বিষয়ে কথা হলো-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা তাকে মার্জনা ও ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর বদর যুদ্ধে তার অনুপস্থিতির কারণ হলো, নবীকন্যা (রুকাইয়া) তার স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি অসুস্থ ছিলেন। তখন নবীজি তাকে বলেছিলেন, বদর-যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করছে, তুমি তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করবে। আর বায়আতে রিজওয়ানে তার অনুপস্থিতি সম্পর্কে কথা হলো—যদি উসমানের চেয়ে সম্ভ্রান্ত কেউ মক্কার বুকে থাকত, তাহলে নবীজি উসমানের পরিবর্তে তাকেই প্রেরণ করতেন। তাই নবীজি উসমানকেই মক্কায় পাঠান আর বায়আতে রিজওয়ান উসমান মক্কায় যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়। তখন নবীজি তার ডান হাতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এটি উসমানের হাত। এরপর সে হাতটি অপর হাতে রেখে বলেন, এটি উসমানের বায়আত। এরপর ইবনে উমর মিশরীয় লোকটিকে বলেন, এখন এই উত্তরগুলো তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও।

ধীরে ধীরে ইবনুস সাওদার পক্ষে বড় একটি অনুসারী-দল তৈরি হয়ে যায়। বিষয়টি খলিফা উসমান রাযি.-এর কর্ণগোচর হলে তিনি ৩৪ হিজরি সনের হজের মৌসুমে (৬৫৫ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে) বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নরদের সমবেত করেন এবং এ ফিতনার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে তাদের পরামর্শ জানতে চান। অধিকাংশ গভর্নরের পরামর্শ ছিল— বিদ্রোহীদের উপকূলীয় এলাকায় নির্বাসিত করা হোক এবং তাদের রাষ্ট্রীয় ভাতা বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু খলিফা তাদের সঙ্গে কোমল আচরণের এবং তাদের মনস্তুষ্টির মত প্রদান করেন। অবশেষে সকলে তাতে সম্মতি জানায়। কিন্তু এর দ্বারা কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং বিদ্রোহীরা ফিতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় অটল থাকে।

ফিতনার আহ্বায়কদের একটি দল ৩৫ হিজরিতে উমরাকারী সেজে মিশর থেকে হিজাযে আগমন করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। খলিফার সঙ্গে তারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। খলিফা তাদের প্রতিটি অভিযোগের সুস্পষ্ট উত্তর প্রদান করে তাদেরকে নিরুত্তর করে দেন। ফলে তারা ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে যায়।

চিন্তাভাবনা ও যাচাইবাছাই ছাড়াই তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়ে খলিফা উসমান রাযি.-কে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ-অভিযোগ প্রচার হতে থাকে।

খলিফার দয়াসুলভ আচরণ ও স্বভাব-কোমলতাই মূলত যথাযথ মর্যাদাদানের পরিবর্তে খলিফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে এসব বিদ্রোহীদেরকে দুঃসাহস জোগাচ্ছিল। উসমান রাযি.-এর যেসব কর্মতৎপরতাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ আনা হচ্ছিল, দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রাযি. যদি সেসব কাজ করতেন (বরং বাস্তব সত্য হলো— খলিফা উমর আরও বড় বড় কাজও করেছেন), তখন কেউ উমরের বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ উত্থাপনের দুঃসাহস দেখাত না। আমাদের এই মন্তব্যের যথার্থতা উপলব্ধি করতে ইমাম বুখারি বর্ণিত নিম্নোক্ত রেওয়ায়েতটি পাঠ করুন।

ইমাম বুখারি রহ. আপন সনদে উবায়দুল্লাহ বিন আদি বিন খিয়ার হতে বর্ণনা করেন—
মিসওয়ার বিন মিখরামা ও আবদুর রহমান বিন আসওয়াদ বিন ইয়াগুছ আমাকে বললেন, 'আপনি উসমানের সঙ্গে তার ভাই ওয়ালিদের বিষয়ে কথা বলছেন না কেন? মানুষ তো এ বিষয়ে প্রচুর সমালোচনা করছে।'

উবায়দুল্লাহ বলেন, তখন আমি খলিফার কাছে গমনের মনস্থ করলাম। তিনি যখন নামাজের উদ্দেশে বের হলেন, আমি কাছে গিয়ে বললাম, 'আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে আর তা আপনার জন্য কল্যাণকর।' উসমান বললেন, 'আমি আল্লাহর কাছে তোমার থেকে পানাহ চাচ্ছি।' আমি সেখান থেকে তাদের দুজনের কাছে ফিরে এলাম। একটু পরই উসমান রাযি.-এর জনৈক দূত এসে আমাকে আহ্বান করল। আমি পুনরায় খলিফার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, 'বলো, তোমার নসিহত (উপদেশ) কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন এবং তার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আপনি তাদের একজন, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ধন্য হয়েছে। আপনি উভয় হিজরতেও অংশ নিয়েছেন। নবীজির সোহবত লাভ করেছেন, তার নির্দেশনা অবলোকন করেছেন। এখন মানুষ ওয়ালিদ-এর বিষয়ে প্রচুর সমালোচনা করছে (খলিফা মদপানের আনিত অভিযোগে ওয়ালিদের ওপর হদ প্রয়োগে বিলম্ব করছিলেন)।'

উসমান বললেন, 'তুমি কি নবীজির সাক্ষাৎ লাভ করেছ?' আমি বললাম, 'না; তবে পর্দানশিন কুমারী নারীর কাছে যখন তার ইলম পৌঁছেছে, আমার কাছেও নিশ্চয়ই পৌঁছেছে।'

তখন উসমান বললেন, 'হামদ ও সালাতের পর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজিকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। আর আমি তাদের একজন ছিলাম, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের আহ্বানে

টিকাঃ
১৪১. আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৫৪ নং আয়াতে উহুদ যুদ্ধে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারীদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাষায় ক্ষমার কথা ঘোষণা করেছেন।
১৪২. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৬৯৮।
১৪৩. তারা দুজন ও বর্ণনাকারী উবায়দুল্লাহ বিন আদি বিন খিয়ার—তিনজনই ছিলেন সে যুগের শ্রেষ্ঠতম আলিম ও ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত।
১৪৪. ওয়ালিদ বিন উকবা রাযি. ছিলেন উসমান রাযি.-এর বৈপিত্রেয় ভাই। পূর্বতন খলিফা উমর রাযি.-এর অসিয়ত অনুযায়ী উসমান রাযি. তাকে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করেন। ওয়ালিদ বিন উকবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুজাহিদ সাহাবি। প্রথম খলিফা আবু বকর রাযি. তাকে বিভিন্ন অভিযানে প্রেরণ করেছেন, দ্বিতীয় খলিফা উমর রাযি. তাকে গভর্নর নিযুক্ত করেছেন। কিন্তু বিদ্রোহীরা খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগও তোলে যে, তিনি আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ওয়ালিদকে গভর্নর বানিয়েছেন! বিদ্রোহীরা ওয়ালিদের বিরুদ্ধে মদপানের বানোয়াট অভিযোগ আনে। ওয়ালিদের প্রতি বিদ্বেষী দুজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মদপানের সাক্ষ্যও প্রদান করে। বিষয়টি খলিফা উসমানকে জানানো হলে এবং ওয়ালিদ রাযি.-কে কুফা থেকে নিয়ে আসা হলে তিনি খলিফার সামনে শপথ করে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরেন। তখন উসমান রাযি. বলেন, 'আমরা (মদপানের) শান্তি প্রয়োগ করব আর মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী জাহান্নামে তার শাস্তি ভোগ করবে।' প্রসঙ্গত এ বিষয়টি উল্লেখযোগ্য যে, নিকটাত্মীয় যদি দায়িত্বের উপযুক্ত ও নিষ্ঠাবান হয়, তাহলে তাকে দায়িত্বপ্রদান কোনো অপরাধ নয় এবং এর সমালোচনারও সুযোগ নেই। স্বয়ং নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচাতো ভাই আলি রাযি.-কে ইয়ামেনে বিচারকার্যের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও বনু উমাইয়ার এমন অনেক সাহাবিকে নবীজি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন, যারা ছিলেন সম্পর্কে নবীজির নিকটাত্মীয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্রষ্টব্য: একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর

📄 দ্রষ্টব্য: একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর


কারও মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে যে, মদিনায় সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপক উপস্থিতি সত্ত্বেও কীভাবে এই বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হলো? এর উত্তর হচ্ছে—

মদিনায় উপস্থিত অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম ধারণা করতে পারেননি যে, বিষয়টি খলিফা-হত্যা পর্যন্ত গড়াবে।
সাহাবায়ে কেরাম খলিফার প্রতিরক্ষায় দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু যখন বিদ্রোহীদের চাপ কঠিন আকার ধারণ করে, তখন খলিফা সকলকে শপথ দিয়ে নিবৃত্ত হতে এবং তরবারি কোষবদ্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। ফলে সবাই বাধ্য হয়ে খলিফার নির্দেশ মান্য করে।
বিদ্রোহীরা হজের মৌসুমে অনেক সাহাবির (হজ আদায় করতে যাওয়ায়) অনুপস্থিতির বিষয়টিকেও কাজে লাগিয়েছিল। তারা জানত, খলিফার সহায়তায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বাহিনী নিকটে চলে এসেছে। তাই তারা বিলম্ব না করে খলিফাকে হত্যা করে।
বিদ্রোহী অবরোধকারীদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কাছাকাছি। এমনও হতে পারে যে, মদিনায় এ পরিমাণ যোদ্ধা- পুরুষের উপস্থিতিও ছিল না। কারণ, যোদ্ধাপুরুষগণ অধিকাংশই বিভিন্ন ভূখণ্ডে ও সীমান্ত অঞ্চলে যুদ্ধাভিযানে শরিক ছিলেন।
সাহাবায়ে কেরামের অনেকে এই বিদ্রোহ-ফিতনার সময় ফিতনা হতে দূরে থেকে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আর যারা মসজিদে উপস্থিত হতেন, তারাও তরবারি সঙ্গে নিয়ে যেতেন।
খলিফা উসমান রাযি.-এর শাহাদাত-ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল বিরুদ্ধবাদী এই অপপ্রচার চালায় যে, সাহাবা-জামাতের কেউ কেউ এই বিদ্রোহের পক্ষে ছিলেন এবং তারা খলিফার হত্যাকাণ্ডে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এটি সম্পূর্ণই মিথ্যা ও বানোয়াট একটি অভিযোগ। সাহাবায়ে কেরামের মহান কাফেলার কোনো সদস্যের এই বিদ্রোহে সামান্য সমর্থনও ছিল না এবং তারা কেউই এই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টও ছিলেন না। বরং সাহাবায়ে কেরাম সকলেই এর বিরোধী ছিলেন। তারা বিদ্রোহীদের ঘৃণা করতেন এবং যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর নিন্দা করতেন। হ্যাঁ, আম্মার বিন ইয়াসির, মুহাম্মাদ বিন আবু বকরসহ কতক সাহাবি মনে করতেন যে, (ফিতনা নিরসনে) উসমান রাযি. যদি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ত্যাগ করতেন, তাহলে ভালো হতো।

সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো—সাহাবায়ে কেরামের মহান জামাতের চরিত্র বিকৃত করার উদ্দেশ্যে উসমান-হত্যাকে কেন্দ্র করে যেসব জাল-মিথ্যা ও বানোয়াট বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে, আমরা সেগুলোকে পরিহার করব এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রতি স্বচ্ছ-সঠিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ধারণা পোষণ করব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00