📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সেনাপতি সাদ রাযি.-এর বিরুদ্ধে কুফাবাসীর অভিযোগ

📄 সেনাপতি সাদ রাযি.-এর বিরুদ্ধে কুফাবাসীর অভিযোগ


ঐতিহাসিকগণ এর বিবরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন- সেনাপতি সাদ রাযি. কুফার ব্যস্ত এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িটি বাজারের মধ্যে হওয়ায় বাজারের হট্টগোলে তার কথা বলতে সমস্যা হতো। এ কারণে তিনি সাধারণত বাড়ির দরজা বন্ধ রাখতেন। উমর রাযি. বিষয়টি জানতে পারলেন। তিনি আরও জানতে পারলেন যে, জনগণ বাড়িটিকে 'গভর্নর সাদের প্রাসাদ' বলে। তিনি বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং মনঃক্ষুণ্ণ হলেন। এরপর তিনি সাহাবি মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাযি.-কে তলব করে তাকে কুফায় প্রেরণ করলেন। তিনি তাকে বলে দিলেন, কুফার পৌঁছে সাদের প্রাসাদের দরজাটি জ্বালিয়ে দেবে। এরপর কালবিলম্ব না করে ফিরে আসবে।
মুহাম্মাদ বিন মাসলামা মদিনা থেকে রওনা হয়ে কুফায় পৌঁছলেন এবং সাদ রাযি.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই বাজার থেকে লাকড়ি কিনলেন। এরপর সাদের বাড়ির কাছে গিয়ে দরজায় আগুন লাগিয়ে দিলেন। সাদ রাযি.-কে জানানো হলো যে, খলিফার পক্ষ থেকে একজন দূত এ উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছেন এবং তিনিই এ কাজ করেছেন। সাদ রাযি. দূতের পরিচয় জানার জন্য লোক পাঠালেন। তারা জানাল যে, তিনি মুহাম্মাদ বিন মাসলামা। এবার সাদ তার কাছে লোক পাঠিয়ে তাকে বাড়িতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেন; কিন্তু মুহাম্মাদ তাতে অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর সাদ রাযি. নিজে বেরিয়ে এলেন এবং দূত মুহাম্মাদকে বিশ্রাম গ্রহণের অনুরোধ জানালেন। মুহাম্মাদ এবারও অস্বীকৃতি জানালেন। সাদ রাযি. তাকে রাহাখরচ প্রদান করলে তিনি তা-ও গ্রহণ করলেন না। এরপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাযি. সাদ রাযি.-কে খলিফার পত্র প্রদান করলেন। পত্রে লেখা ছিল—
আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছ এবং তাকে দুর্গের ন্যায় (দুর্ভেদ্য) করে রেখেছ। প্রাসাদটিকে সাদের প্রাসাদ বলা হয়। আবার তুমি তোমার ও জনসাধারণের মাঝে বাধা হিসেবে একটি দরজাও তাতে স্থাপন করেছ। প্রকৃতপক্ষে এটি তোমার প্রাসাদ নয়; বরং ফাসাদের প্রাসাদ। তুমি এটি ত্যাগ করে বায়তুল মালের কাছাকাছি কোনো জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করো এবং এই প্রাসাদটি বন্ধ করে দাও। আর তোমার বাসস্থানে এমন কোনো দরজা রেখো না, যার কারণে জনসাধারণের আগমন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং তুমিও তাদের অধিকার আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত হও। (মানুষের প্রবেশাধিকার অবারিত রাখবে) যেন তারা তোমার মজলিসে শরিক হতে পারে এবং তুমি যখন ঘর হতে বের হও, তখন তোমার সঙ্গে মিলিত হতে পারে।
সাদ তখন শপথ করে বললেন যে, মানুষ যা রটিয়েছে, তা সঠিক নয়। এরপর মুহাম্মাদ বিন মাসলামা তৎক্ষণাৎ মদিনা অভিমুখে রওনা হলেন। পথিমধ্যেই তার পাথেয় শেষ হয়ে গেলে তিনি বাধ্য হয়ে গাছের ছাল গলাধঃকরণ করলেন। মদিনায় পৌঁছে তিনি যখন খলিফার দরবারে উপস্থিত হলেন, তখন গাছের ছাল খাওয়ার কারণে তার কষ্ট হচ্ছিল। উমর রাযি. তার কাছ থেকে সবকিছু শোনার পর খুশি হয়ে বললেন, সে-ই অধিক জ্ঞানী, যে আপন সঙ্গীর পক্ষ থেকে কোনো অঙ্গীকার (এর বাধ্যবাধকতা) না থাকা অবস্থায় দূরদর্শিতার সঙ্গে কথা ও কাজ সম্পাদন করে। মুহাম্মাদ বিন মাসলামা খলিফাকে সাদের শপথের কথাও জানালেন। তখন উমর রাযি. সাদ রাযি.-কে সত্যায়ন করে বললেন, যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এবং যারা আমাকে তা জানিয়েছে, তাদের তুলনায় সাদ অধিক সত্যবাদী। উল্লেখ্য, কুফাবাসীই সাদের বিরুদ্ধে খলিফা উমর রাযি.-এর কাছে অভিযোগ করেছিল।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কুফার গভর্নর-পদ হতে সাদ রাযি.-কে অব্যাহতিদান

📄 কুফার গভর্নর-পদ হতে সাদ রাযি.-কে অব্যাহতিদান


কিন্তু খলিফা উমর রাযি. আপন নীতি অনুসারে হজরত সাদ রাযি.-কে কুফার গভর্নর-পদ হতে অব্যাহতিদান এবং তাকে মদিনায় নিজের কাছে উপদেষ্টা হিসেবে রাখাকেই শ্রেয় মনে করেন। খলিফা তার পরিবর্তে আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন ইতবান রাযি.-কে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করেন।
কিছুদিন পর গভর্নর ইবনে ইতবান রাযি. খলিফার কাছে বার্তা পাঠিয়ে নিহাবন্দে অভিযান পরিচালনার অনুমতি প্রার্থনা করেন। নিহাবন্দে পারস্য- কিসরার তত্ত্বাবধানে বিরাট সৈন্যসমাবেশ ঘটেছিল। ইবনে ইতবান বার্তায় লেখেন, সেখানে দেড় লক্ষ পারসিক যোদ্ধা সমবেত হয়েছে। আমাদের পূর্বে তারাই যদি অভিযানে অগ্রসর হয়, তাহলে তাদের সাহস ও মনোবল বেড়ে যাবে। বিপরীতে আমরা যদি দ্রুত অগ্রসর হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারি, তাহলে আমরাই সাহস ও মনোবলে এগিয়ে থাকব।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 নিহাবন্দের যুদ্ধ

📄 নিহাবন্দের যুদ্ধ


সর্বদিক বিবেচনা করে খলিফা উমর রাযি. নিহাবন্দে অভিযানের অনুমতি প্রদান করেন। তবে অভিযানের জন্য তিনি নতুন একজন সেনাপতি নির্বাচনের মনস্থ করেন এবং এ বিষয়ে বিশিষ্ট সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরামর্শে নিহাবন্দ অভিযানে নেতৃত্বদানের জন্য বিশিষ্ট সাহাবি নুমান বিন মুকাররিন মুযানি রাযি.-এর নাম গৃহীত হয়। তাকে নির্বাচনের সময় খলিফা মন্তব্য করেন, আল্লাহর শপথ! আমি এ বাহিনীর নেতৃত্ব এমন এক ব্যক্তিকে প্রদান করব, আগামীর শত্রুমোকাবিলায় যিনি প্রথম বর্শাধারণকারী হবেন। তিনি হলেন যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যে পৌঁছতে অটল- অবিচল ও ধীরস্থির নুমান বিন মুকাররিন।
দায়িত্ব লাভের পর সেনাপতি নুমান রাযি. পারসিক বাহিনীর বর্তমান অবস্থান সম্বন্ধে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন— প্রতিরক্ষার জন্য পারসিকরা নতুন এক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। নিহাবন্দ নগরী তো পূর্ব থেকেই পরিখা ও সুদৃঢ় নগরপ্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। এর পাশাপাশি মুসলিম বাহিনীর অভিযানের সংবাদ পেয়ে পারসিকরা নিহাবন্দ নগরীর চারপাশে (মাইনের ন্যায়) প্রচুর পরিমাণ লোহার কাঁটা (পেরেক) ছড়িয়ে রেখেছে। ছড়ানো পেরেকের মাঝ দিয়ে চলাচলের জন্য কিছু পথ ছিল, যা কেবল তাদেরই জানা ছিল। ফলে মুসলিম বাহিনীর জন্য নগরীতে প্রবেশ করা শুধু কঠিনই নয়; অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এমতাবস্থায় সেনাপতি নুমান রাযি. বাহিনীর প্রবীণ ও অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের সঙ্গে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ করেন। পরামর্শে জনৈক সদস্য (১২৯) পারসিক বাহিনীকে কৌশলে পরাভূত করার জন্য নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ পেশ করেন—
• মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ পারসিক বাহিনীকে উত্তেজিত করতে এবং তাদেরকে যুদ্ধে প্ররোচিত করতে দ্রুত আঘাত করেই পালানোর কৌশল (Hit-and-Run) প্রয়োগ করবে।
• যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সেই অংশটি পারসিক বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে পরাজয়ের ভান করে পিছু হটবে।
• পারসিক বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য মুসলিম বাহিনীর মূল অংশও পিছু হটতে শুরু করবে এবং বিভিন্ন স্থানে ওত পেতে থাকবে।
• ক্ষুদ্র অংশটি পিছু হটতে হটতে এমন স্থানে পৌঁছে যাবে, যেখানে পারসিক বাহিনীকে টেনে নিতে পারলে মুসলিম বাহিনী তাদের ওপর একযোগে হামলা চালাতে পারবে।
বাস্তবেও এ পরিকল্পনা সফল হয়। পারসিক বাহিনী যখন দেখতে পায় যে, তাদের প্রতি-আক্রমণে প্রতিপক্ষের আক্রমণরত অংশটি পিছু হটছে, এরপর পিছু হটছে মূল মুসলিম বাহিনীও, তখন তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, এই তো মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়ে পালাচ্ছে। তারা দ্রুত মুসলিম বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবন করে এবং বিছিয়ে রাখা পেরেকগুলো সরিয়ে ফেলে। পারসিক বাহিনী মুসলিম বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতে দুর্গ ও পরিখার বাইরে চলে আসে। তখন ছিল দিবসের প্রথমভাগ। সেনাপতি নুমান রাযি.। মূল বাহিনীর সৈন্যদেরকে আপন আপন স্থানে স্থির থাকার নির্দেশ দেন এবং তিনি অনুমতি দেওয়ার পূর্বে যুদ্ধ শুরু করতে নিষেধ করেন। মুসলিম বাহিনী সেনাপতির নির্দেশনা মোতাবেক নিজেদের স্থানে অবস্থান করে ঢাল ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত তির হতে আত্মরক্ষা করতে থাকে। পারসিকরা আরও অগ্রসর হয়ে মুসলিম বাহিনীর ওপর তিরবর্ষণ অব্যাহত রাখে; ফলে অনেক মুসলিম সৈন্য আহত হয়। তারা সেনাপতি নুমানকে বলে, আপনি দেখছেন না, আমরা কী পরিস্থিতিতে আছি?! এখনো কীসের অপেক্ষা করছেন? উত্তরে নুমান রাযি. বলেন, ধীরে! এখনো সময় হয়নি!
দ্বিপ্রহরের (জোহর নামাজের নির্ধারিত) সময় ঘনিয়ে এলে নুমান রাযি. তার ঘোড়ায় চড়ে আপন সৈন্যদের মাঝে ঘুরে ঘুরে বলতে থাকেন, আমি নবীজির একটি আমল স্বচক্ষে দেখেছি বলেই তোমাদেরকে এতক্ষণ যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অভিযানে গেলে দিবসের প্রথম প্রহরে যুদ্ধ করতেন না। যতক্ষণ না (জোহরের) নামাজের সময় হতো, বাতাস প্রবাহিত হতো এবং যুদ্ধ-উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতো, ততক্ষণ তিনি তাড়াহুড়া করতেন না। মূলত এ কারণেই আমি তোমাদেরকে আক্রমণের অনুমতি দিইনি।
এরপর তিনি বলেন, নামাজ শেষ করেই তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাবে। নামাজের পর আমি তিনটি তাকবির বলব। প্রথম তাকবিরের সঙ্গে সঙ্গে যারা অপ্রস্তুত থাকবে, তারা যেন প্রস্তুত হয়ে যায়; জুতার ফিতা বেঁধে নেয় এবং যুদ্ধাস্ত্র ঠিক করে নেয়। দ্বিতীয় তাকবিরের সঙ্গে সঙ্গে সবাই যেন পরিধেয় বস্ত্র মজবুত করে বেঁধে নেয়, হামলার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যায়। এরপর তৃতীয় তাকবির বলেই ইনশাআল্লাহ আমি হামলা করব, তোমরাও সঙ্গে সঙ্গে হামলা করবে। যুদ্ধে যদি আমি নিহত হই, তাহলে আমার অবর্তমানে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে হুযায়ফা। সেও নিহত হলে অমুক, সেও নিহত হলে ...। এভাবে তিনি একে একে সাতজনের নাম ঘোষণা করেন, যাদের মধ্যে শেষজন হলেন মুগিরা বিন শুবা রাযি.।
সেনাপতি নুমান রাযি. সকলকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। এরপর একে একে দুই তাকবির বলেন। দ্বিতীয় তাকবিরের পর তিনি দোয়া করেন, হে আল্লাহ, তোমার দ্বীনকে মর্যাদাশীল করো, তোমার বান্দাদের সাহায্য করো আর তোমার দ্বীনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এবং তোমার বান্দাদের সহায়তা প্রতিষ্ঠায় নুমানকে আজকের প্রথম শহিদ হিসেবে কবুল করো। হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি—আজ এমন এক বিজয় দ্বারা আমার চক্ষুযুগলকে শীতল করো, যার মধ্যে ইসলামের মর্যাদা ও সম্মান নিহিত আছে।
দোয়া শেষ করে তৃতীয় তাকবির বলতেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই। মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি নুমান রাযি. আহত হয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তার ভাই নুআইম বিন মুকাররিন রাযি. ঝান্ডা তুলে নেন এবং হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযি.-এর হাতে তুলে দেন। দিন শেষ হওয়ার পূর্বেই মুসলিম বাহিনী নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।
যুদ্ধশেষে হজরত মা'কাল বিন ইয়াসার রাযি. সেনাপতি নুমান রাযি.-এর কাছে যান। নুমান রাযি.-এর ঘোড়া যুদ্ধক্ষেত্রের রক্তে পিছলে যাওয়ায় তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তার তিরাধার তার পাশেই পড়ে ছিল। মা'কাল রাযি. নুমান রাযি.-এর মুখমণ্ডল থেকে ধুলাবালি মুছে দিতে শুরু করেন। নুমান রাযি. অপলক নেত্রে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কে?'
'মা'কাল বিন ইয়াসার।'
'বাহিনীর কী অবস্থা?' নুমান রাযি. ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন।
'আল্লাহ আমাদের বিজয় দান করেছেন।'
'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। বিজয়ের বার্তা খলিফাতুল মুসলিমিনের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।'
এতটুকু বলতেই সেনাপতি নুমান রাযি.-এর প্রাণবায়ু উড়ে যায় আপন গন্তব্যপানে। রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আনহুম আজমাঈন।

টিকাঃ
১২৯. পরামর্শটি প্রদান করেছিলেন তুলায়হা বিন খুওয়াইলিদ। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধর্মত্যাগ ফিতনার সময় তিনি মুরতাদ হয়ে যান এবং পরবর্তীকালে পুনরায় ইসলামগ্রহণ করেন। দ্বিতীয়বার ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর তিনি ইরাক অভিযানে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং কাদিসিয়া ও নিহাবন্দের যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি নিহাবন্দের যুদ্ধেই শহিদ হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন!

📄 আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন!


যুদ্ধ চলাকালে বিশিষ্ট যোদ্ধা সাহাবি কা'কা' বিন আমর রাযি. পারসিক সেনাপতি ফিরযানের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পান যে, ফিরযান পালাতে চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ও নুআইম বিন মুকাররিন রাযি. ফিরযানের পিছু নেন এবং হামদান উপত্যকার এক সংকীর্ণ গিরিপথে তার নাগাল পেয়ে যান। গিরিপথটি ধরে অপরদিক থেকে তখন পারস্য-সম্রাট ইয়াযদিগারদের জন্য মধুবোঝাই খচ্চর ও গাধার এক বিরাট কাফেলা আসছিল। খচ্চর ও গাধার কাফেলার কারণে ফিরযানের পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। কা'কা' রাযি. তাকে ধরে ফেলেন এবং হত্যা করেন। এখান থেকেই এই ঐতিহাসিক উক্তি প্রসিদ্ধি লাভ করে— 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার মধুবাহী সৈন্যদলও আছে!' মুসলিম বীরদ্বয় মধুবোঝাই পশুগুলোকে হাঁকিয়ে মুসলিম সৈন্যদলের কাছে নিয়ে আসেন। হামদান উপত্যকার নাম হয় 'মধু-উপত্যকা'!
সমরবিশারদ জনৈক ইতিহাসবিদ লিখেছেন,
নিহাবন্দ যুদ্ধে তুলায়হা বিন খুওয়াইলিদের উদ্ভাবিত এই পরিকল্পনাটি পরবর্তী সময়ে সামরিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে গৃহীত হয়। এরপর অনেক সেনাপতিই পদ্ধতিটি কাজে লাগিয়েছে। এটিই ছিল পুরো এশিয়া মহাদেশজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী মঙ্গোল-তাতার সেনাপতি চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। তিনি প্রথমে শত্রুর ওপর প্রবল আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে সচেষ্ট হতেন। এতে লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হলে তিনি পরাজয়ের ভান করে কৌশলে পিছু হটতেন এবং প্রতিপক্ষকে পূর্বপ্রস্তুতকৃত গোপন ফাঁদের দিকে টেনে আনতেন। প্রতিপক্ষ ধীরে ধীরে এমন স্থানে চলে আসত, যেখানে তিনি হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে পর্যুদস্ত করে ফেলতেন এবং কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতেন। আইনে জালুতের প্রান্তরে তাতারদের ত্রাস সাইফুদ্দিন কুতুজ রহ.-ও এই একই পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছিলেন। তাতারদের পদ্ধতি তাতারদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করে তিনি তাদের প্রথমবারের মতো পরাজয় উপহার দিয়েছিলেন। তাতাররা কল্পনাও করতে পারেনি যে, অন্য কেউ তাদের বিরুদ্ধে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে। সামরিক শাস্ত্রে এ পদ্ধতিটি অ্যামবুশ (Ambush) নামে পরিচিত।
ইসলামি ইতিহাসে নিহাবন্দের যুদ্ধ একটি মীমাংসাকর যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আছে। এ যুদ্ধের মাধ্যমেই পারস্য সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন ঘটে। বরং এর পরপরই খলিফা উমর

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00