📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্বিতীয় দিন: আগওয়াছ দিবস

📄 দ্বিতীয় দিন: আগওয়াছ দিবস


শাম থেকে সহায়ক বাহিনীর আগমন
এ দিন শাম থেকে রওনা হওয়া সহায়ক বাহিনীর অগ্রবর্তী অংশ কাদিসিয়ায় পৌঁছে যায়। অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্বে ছিলেন হজরত কা'কা' বিন আমর রাযি.। তার সঙ্গে ছিল এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য। আগওয়াছ দিবসের সূর্যোদয়ের সময় তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছায়।
প্রতিপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চারের জন্য কা'কা' এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। তিনি তার সঙ্গী এক হাজার সৈন্যকে দশ-দশজন করে একশটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক অংশকে বলে দেন, যখন তারা মুসলিম শিবিরের দৃষ্টিপথে পৌঁছে যাবে, তখন একটি অংশ শিবিরে প্রবেশ করবে। প্রথম দশজন নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করার পর পরবর্তী দল তাদের অনুগামী হবে। এভাবে একের পর এক দলের আগমনে যে ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হবে, তাতে সূর্যের আলো ঢেকে যাবে এবং শত্রুপক্ষের চোখে আগত মুসলিম বাহিনীকে অনেক বড় মনে হবে।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে কা'কা' রাযি. সারি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিপক্ষকে দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানান। পারসিক বাহিনীর সারি থেকে সেতু-যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বাহমান দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য অগ্রসর হয়। কা'কা' রাযি. প্রথমে তাকে চিনতে না পেরে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। একটু পরেই তাকে চিনতে পেরে তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, 'আবু উবায়দের ঘাতক, এখনই প্রতিশোধ নিচ্ছি!' এ কথা বলেই তিনি এক আঘাতে বাহমানকে শেষ করে দেন। এভাবে দ্বিতীয় দিনের সূচনা হয় মুসলিম বাহিনীর সফলতার মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে এদিন মুসলিম বাহিনীর মাঝে তিনটি নতুন বৈশিষ্ট্য দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল।
• বাহিনীতে বিশিষ্ট সাহাবি কা'কা' রাযি.-এর উপস্থিতি। খলিফা উমর রাযি. তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'যে বাহিনীতে কা'কা' রয়েছে, সে বাহিনী পরাজিত হবে না।' তিনি আরও বলেছেন, 'যুদ্ধক্ষেত্রে কা'কা'র কণ্ঠস্বর এক হাজার অশ্বারোহী সৈনিকের কাজ দেয়।'
প্রথম দিন মুসলিম বাহিনী কর্তৃক হস্তিবাহিনীর বাক্সগুলো ধ্বংস করে ফেলায় যুদ্ধক্ষেত্রে হাতির অনুপস্থিতি। এ দিন পারসিকরা বাক্সগুলো মেরামত করছিল।
কা'কা' রাযি.-এর গৃহীত একটি কৌশল। তিনি ও তার জ্ঞাতি ভাইয়েরা এদিন মুসলিম বাহিনীর উটগুলোকে বোরকার মতো করে চাদর পরিয়ে দেন। ফলে উটগুলোকে দেখতে ভয়ানক লাগছিল।
ঐতিহাসিক তাবারি রহ. লিখেছেন-
উটগুলো শত্রুপক্ষের ছোট-বড় যে অংশের দিকেই অগ্রসর হতো, তাদের ঘোড়াগুলো ভয়ে পালাতে শুরু করত। মুসলিম বাহিনীর অন্যান্য অংশের সৈন্যগণ এ দৃশ্য দেখে একই পদ্ধতি অবলম্বন করল। ফলাফল এই দাঁড়াল যে, আরমাছ দিবসে প্রতিপক্ষের হাতির কারণে মুসলিম বাহিনী যে পরিমাণ ক্ষতির শিকার হয়েছিল, আগওয়াছ দিবসে পারসিক বাহিনী ঘোমটা পরিহিত উটের কারণে তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (১২৩)
এদিন পারসিক বাহিনীর দশ হাজার সৈন্য নিহত হয়। মুসলিম বাহিনী হারায় দু-হাজার সৈন্য, যাদের মধ্যে খানাসার চার-পুত্রও ছিলেন। পুত্রদের শহিদ হওয়ার সংবাদ পেয়ে খানাসা রাযি. বলেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে তাদের শহিদি মৃত্যু দ্বারা মর্যাদাশীল করেছেন। আমি আমার রবের কাছে আশা করি যে, তিনি তাদেরকে আপন রহমতের ছায়াতলে স্থান দেবেন।'

টিকাঃ
১২০. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর-রুসুলি ওয়াল-মুলুক, ৩/৫৪৫।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শাম থেকে সহায়ক বাহিনীর আগমন

📄 শাম থেকে সহায়ক বাহিনীর আগমন


এ দিন শাম থেকে রওনা হওয়া সহায়ক বাহিনীর অগ্রবর্তী অংশ কাদিসিয়ায় পৌঁছে যায়। অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্বে ছিলেন হজরত কা'কা' বিন আমর রাযি.। তার সঙ্গে ছিল এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য। আগওয়াছ দিবসের সূর্যোদয়ের সময় তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছায়।
প্রতিপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চারের জন্য কা'কা' এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। তিনি তার সঙ্গী এক হাজার সৈন্যকে দশ-দশজন করে একশটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক অংশকে বলে দেন, যখন তারা মুসলিম শিবিরের দৃষ্টিপথে পৌঁছে যাবে, তখন একটি অংশ শিবিরে প্রবেশ করবে। প্রথম দশজন নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করার পর পরবর্তী দল তাদের অনুগামী হবে। এভাবে একের পর এক দলের আগমনে যে ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হবে, তাতে সূর্যের আলো ঢেকে যাবে এবং শত্রুপক্ষের চোখে আগত মুসলিম বাহিনীকে অনেক বড় মনে হবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তৃতীয় দিন : আম্মাস দিবস

📄 তৃতীয় দিন : আম্মাস দিবস


কা'কা' রাযি.-এর সঙ্গে শাম থেকে রওনা হওয়া সহায়ক বাহিনীর বাকি সদস্যগণ তখনও যুদ্ধক্ষেত্রে এসে পৌঁছায়নি। এদিকে সারাদিনের প্রচণ্ড যুদ্ধের পরও বীর যোদ্ধা কা'কা'র চোখে ঘুম নেই। তিনি সেনাপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করে মুসলিম বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি ও শত্রুপক্ষের মাঝে ভীতি সঞ্চারের জন্য নতুন আরেকটি কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। কা'কা' তার এক হাজার অশ্বারোহী সৈনিককে নির্দেশ দেন, তারা যেন অন্ধকারের মধ্যেই সবার অগোচরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে পড়ে এবং যেদিক থেকে সাহায্য আসার কথা, সেদিকে লুকিয়ে থাকে। তিনি এক হাজার সৈন্যকে একশজন করে দশটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং নির্দেশ দেন যে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা একদল একদল করে ময়দানে উপস্থিত হবে। প্রত্যুষে অশ্বারোহী সৈন্যগণ নির্দেশনা মোতাবেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে। এরইমধ্যে হাশিম বিন উতবা বিন আবু ওয়াককাসের নেতৃত্বে শামের অবশিষ্ট সহায়ক বাহিনীও পৌঁছে যায়। হাশিম কা'কা'র কৌশলের কথা জানতে পেরে তার সঙ্গীদের নিয়ে একই কৌশল অবলম্বন করেন। পারসিক বাহিনীর সৈন্যদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টিতে এ কৌশল বিরাট ভূমিকা রাখে।
এদিন পারসিক বাহিনীর হাতিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসে। হাতিগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য তারা প্রতিটি হাতির পাশে একদল পদাতিক সৈন্য মোতায়েন করেছিল। হস্তিবাহিনীর প্রত্যাবর্তনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সাদ রাযি. নওমুসলিম কয়েকজন পারসিককে তলব করে জিজ্ঞেস করেন, হাতির শরীরে কি এমন কোনো স্থান আছে, যেখানে আঘাত করলে হাতিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বের করে দেওয়া সম্ভব হবে?
তারা জানায়, হ্যাঁ, চোয়াল ও চোখে আঘাত করতে পারলে হাতিগুলো আর যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো কাজে লাগবে না। সাদ রাযি. তৎক্ষণাৎ কা'কা' ও তার ভাই আছিমকে বার্তা পাঠান, 'তোমরা দুজন হস্তি-বাহিনীর মূল কর্তা শ্বেত হস্তিটিকে শেষ করবে।' আর পদাতিক বাহিনীর প্রধান হামমাল বিন মালিক ও রাবিল বিন আমরকে বার্তা পাঠান, 'তোমরা উভয়ে হস্তিবাহিনীর আরেক প্রধান উট পাঁচড়াবিশিষ্ট উটটিকে শেষ করবে।'
নির্দেশ অনুযায়ী উভয় দল বর্শা নিক্ষেপ করে হাতিদুটির চোখ নষ্ট করতে এবং শুঁড় কেটে ফেলতে সক্ষম হন। ফলে হাতিদুটি বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং আরোহী সৈন্যদের ফেলে দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। এই হাতিদুটি অন্যান্য হাতিগুলোকে পরিচালনা করত। ফলে সেগুলোও হতবুদ্ধি হয়ে নেতাদ্বয়ের অনুসরণ করে।
আম্মাছ দিবসে দিনরাত একটানা চব্বিশ ঘণ্টা যুদ্ধ চলে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 চতুর্থ দিন: কাদিসিয়া দিবস

📄 চতুর্থ দিন: কাদিসিয়া দিবস


মুসলিম বাহিনীর নেতৃবৃন্দ এ সময় একটানা যুদ্ধ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। কারণ, ইতিমধ্যে পারসিক-শক্তির মধ্যে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। কা'কা' রাযি.-ও পূর্বের ন্যায় মুসলিম বাহিনীর উদ্যম বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট ছিলেন। এদিন কা'কা' ও তার সঙ্গীগণ পারসিক সেনাপতি রুস্তমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন এবং সফল হন। রুস্তম নিহত হওয়ায় পারস্য-বাহিনীর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক তাবারি রহ. আবাসি গোত্রের জনৈক ব্যক্তির বরাতে লিখেছেন-
কাদিসিয়ার দিন পরাজিত হওয়ার পর পারসিক বাহিনী এমন বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল, যা ইতিপূর্বে কোনো জাতি হয়নি। তারা নির্বিচারে নিহত হতে থাকে। এমনকি যখন কোনো মুসলিম' সৈন্য কোনো পারসিক সৈন্যকে আহ্বান করত, সে মুসলিম সৈন্যের সামনে দাঁড়িয়ে যেত এবং মুসলিম সৈন্য তাকে সহজেই হত্যা করত। এমনও হয়েছে যে, মুসলিম সৈন্য পারসিক সৈন্যের অস্ত্র নিয়ে তার অস্ত্র দিয়েই তাকে হত্যা করেছে। আবার এমনও হয়েছে যে, দুজন পারসিক সৈন্যকে আদেশ করা হয়েছে, তোমরা একে অপরকে হত্যা কর। তারা নির্দ্বিধায় নির্দেশ পালন করেছে। কয়েকজনকে একসঙ্গে একই নির্দেশ প্রদান করা হলে তারাও তা পালন করেছে। (১২৪)
কাদিসিয়া দিবসের আছরের সময় হওয়ার পূর্বেই বিজয় মুসলিম বাহিনীর পদচুম্বন করে। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সাড়ে আট হাজার সৈন্য শহিদ হয়। অপরদিকে পারসিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা ছিল গণনাতীত।
প্রধান সেনাপতি সাদ রাযি. বিজয়ের বিস্তারিত বিবরণসহ খলিফাতুল মুসলিমিন উমর রাযি.-এর কাছে বার্তা প্রেরণ করেন। তিনি লেখেন-
হামদ ও সালাতের পর, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পারসিকদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন এবং দীর্ঘ যুদ্ধ ও প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির পর তাদেরকে সেই পরিণতির মুখোমুখিই করেছেন, যার মুখোমুখি ইতিপূর্বে তাদের স্বধর্মীয়রা হয়েছিল।
তারা এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় এত বিশাল সৈন্যসমাবেশ ঘটিয়েছিল যে, ইতিপূর্বে কেউ তা দেখেনি। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। বরং তাদের সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র আল্লাহ তাআলা তাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মুসলমানদের দান করেছেন। যুদ্ধশেষে মুসলিম বাহিনী তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে বিভিন্ন নদীনালা, বন-প্রান্তর ও ঘাঁটিতে গিয়েছে। মুসলিম বাহিনীর সাঈদ বিন উবায়দ আল-কারি ও অমুক অমুক শাহাদাত বরণ করেছেন। এ ছাড়াও এমন অনেক মুসলিম মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেছেন, যাদের নাম-পরিচয় আমরা জানি না; কিন্তু আল্লাহ তাদের সকলের পরিচয় জানেন। রাতের আঁধারে তারা মধুমক্ষিকার গুঞ্জরনের ন্যায় গুনগুন করে কুরআন তেলাওয়াত করত। তারা ছিল মুসলিম বাহিনীর সিংহ। বনের সিংহও সাহস ও বীরত্বে তাদের সঙ্গে তুল্য নয়। মুসলিম বাহিনীর যারা শহিদ হয়েছে এবং যারা জীবিত রয়েছে, উভয় দলের মাঝে শাহাদাতের ফজিলত ব্যতীত কোনো স্তর-পার্থক্য নেই। একদলের ভাগ্যে (কাদিসিয়ার রণক্ষেত্রে) শাহাদাতের গৌরব লেখা ছিল, অপরদলের ভাগ্যে ছিল না।
যুদ্ধশেষে মুসলিম বাহিনীর সদস্যদের মাঝে গনিমত-সম্পদ বণ্টন করা হয়। প্রত্যেকেই প্রচুর সম্পদ লাভ করে।
এরপর খলিফার নির্দেশে মুসলিম বাহিনী উত্তর দিকে মাদায়েনের পথে অগ্রসর হয়। উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হওয়া ব্যতিরেকেই তারা কুফা নগরী জয় করে। অভিযান অব্যাহত রেখে একপর্যায়ে মুসলিম বাহিনী পৌঁছায় বাহুরাসীর নগরীতে। মাদায়েনের আগে এটিই ছিল শেষ দুর্গ এবং অতি সুরক্ষিত একটি নগরী। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস মুসলিম বাহিনী নগরীটি অবরোধ করে রাখে। এখানেই মুসলিম বাহিনী কাদিসিয়া যুদ্ধে লব্ধ পারসিকদের অস্ত্রশস্ত্র প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে এবং দুর্গপ্রাচীর ধ্বংস করতে মিনজানিক ব্যবহার করে।

টিকাঃ
১২৪. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৫৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00