📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিফা কর্তৃক জনসাধারণকে পারস্য অভিযানে যোগ দিতে আহ্বান

📄 খলিফা কর্তৃক জনসাধারণকে পারস্য অভিযানে যোগ দিতে আহ্বান


প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর ইন্তেকালের এক দিন পূর্বে মুসান্না মদিনায় পৌঁছান। হজরত উমর রাযি. পরবর্তী খলিফা নির্বাচিত হলে মুসান্না তার কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন হজরত উমর রাযি. মুসলিম জনসাধারণকে ইরাকভূমিতে বিজয়াভিযানে অংশ নিতে আহ্বান জানান। কিন্তু প্রথমদিকে কেউই তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছিল না। সকলের কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হচ্ছিল। এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তাবারি রহ. লিখেছেন-
আরবদের কাছে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছিল অতি-অপ্রিয় বিষয়গুলোর একটি। এর কারণ হলো— আরবরা পারসিকদের জেদ ও একগুঁয়েমি, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বিস্ময়কর অটলতা ও অবিচলতা, পারসিকদের রণকুশলতা ও লড়াই-দক্ষতা, তাদের কর্তৃপক্ষের কঠোরতা, শক্তির দাপট ও প্রভাব এবং অপরাপর জাতির প্রতি তাদের বলপ্রয়োগ ও নিপীড়ন সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল। (১১৫)
মুসান্না সকলের সামনে দাঁড়িয়ে পারসিকদের শক্তি ও দক্ষতাকে তুচ্ছ হিসেবে উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখলেও কোনো কাজ হয়নি। এভাবে চারদিন কেটে যায়; কিন্তু মুসলমানদের মাঝে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। এরপর খলিফা উমর রাযি. দাঁড়িয়ে মর্মস্পর্শী ভাষায় নসিহত শুরু করেন। তার শেষ কথা ছিল— সুতরাং কোথায় আল্লাহর নেক বান্দারা?
তখন আবু উবায়দ বিন মাসউদ সাকাফি নামক জনৈক সাধারণ সাহাবি দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এ অভিযানে যেতে প্রস্তুত আছি। তাকে দাঁড়াতে দেখে আরও অনেকে উদ্বুদ্ধ হয় এবং একে একে অভিযানে যেতে নাম পেশ করে। এভাবে মোট এক হাজার ব্যক্তি ইরাক অভিযানে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাহ্যত যদিও খিলাফতে রাশেদার সেই সোনালি যুগে বিজয়াভিযানে গমনে এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর মনে হয়; কিন্তু বাস্তবতা পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে দুটি বিষয় বের হয়ে আসে—
• মুসলমানদের নেতৃস্থানীয় ও শ্রেষ্ঠতম অংশ তখন শাম ও ইরাকে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধরত ছিল, যাদের সংখ্যা মোটেও হেলাতুল্য নয়; বরং পঞ্চাশ হাজারের মতো ছিল।
• যারা ইতিপূর্বে ধর্মত্যাগ করেছিল, তারা পুনরায় ইসলামে দীক্ষিত হলেও খলিফা আবু বকর রাযি. তাদের বিজয়াভিযানের কাফেলায় যোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। উমর রাযি.-ও প্রথমদিকে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিলেন। এ ধরনের মুসলমানগণ, যারা সংখ্যায় অনেক ছিলেন, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ছিলেন এবং সবসময় কামনা করতেন, যদি তাদেরকেও নিজেদের তাওবার একনিষ্ঠতা প্রমাণ করার এবং জিহাদে শরিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তারাও বিজয়াভিযানে যোগ দিতেন।
মূল আলোচনায় ফিরে আসি। উমর রাযি. সিদ্ধান্ত নেন, আবু উবায়দ বিন মাসউদ সাকাফিই হবেন ইরাকে মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। প্রবীণ সাহাবিদের কেউ কেউ এই বলে আপত্তি জানায় যে, যুদ্ধপরিকল্পনা ও সামরিক বিষয়াদিতে তার বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু উমর রাযি.-এর যুক্তি ছিল, যখন কেউ এ অভিযানে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেনি, তখন আবু উবায়দ-ই সবার আগে স্বেচ্ছায় অগ্রসর হয়েছেন। সুতরাং তিনিই নেতৃত্বের অধিক হকদার। এরপর খliফা আবু উবায়দকে উপদেশ দেন, তোমার বাহিনীতে নবীজির অনেক সাহাবি আছেন। সুতরাং সর্বক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ নেবে। কোনো বিষয় সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি হওয়ার পূর্বে কর্মতৎপরতায় তাড়াহুড়া করবে না।
পাশাপাশি উমর রাযি. ইতিপূর্বে যারা মুরতাদ হওয়ার পর পুনরায় তাওবা করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে, তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ফলে তাদের অনেকেই পারস্য অভিযানে গমনরত মুসলিম বাহিনীতে যোগ দিতে ছুটে আসে।

টিকাঃ
১১৫. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৪৪৪।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্রষ্টব্য: দ্বীনি খেদমতের অঙ্গনে পদ কখনোই মুখ্য নয়

📄 দ্রষ্টব্য: দ্বীনি খেদমতের অঙ্গনে পদ কখনোই মুখ্য নয়


দেখুন, যে মুসান্না দুদিন পূর্বেও ছিলেন পারস্যে মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, এখন তিনি পরিণত হলেন আবু উবায়দের অধীনস্থ সৈন্যে। কিন্তু মুখলিছ ও নিষ্ঠাবান মুসলমানের কাছে এ ধরনের বিষয় কোনো সমস্যাই নয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 নামারিকের যুদ্ধ

📄 নামারিকের যুদ্ধ


আবু উবায়দের নেতৃত্বাধীন দশ হাজার সৈন্যবিশিষ্ট মুসলিম বাহিনী ইরাক অভিমুখে রওনা হয়। ত্রয়োদশ হিজরির ৮ শাবান মুসলিম বাহিনী ইরাকের নামারিক নামক স্থানে এক লক্ষ সৈন্যবিশিষ্ট পারসিক বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। আবু উবায়দ পারসিক বাহিনীর পলায়নরত সৈন্যদের তাড়া করেন।
এরপর কাসকার অঞ্চলের সাকাতিয়্যা নামক এলাকায় আবারও মুসলিম বাহিনী পারসিক বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে পরাজিত করে। এরপর বারুসমার যুদ্ধেও মুসলিম বাহিনী তাদেরকে পরাজিত করে। উভয় যুদ্ধই ত্রয়োদশ হিজরিতে সংঘটিত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সেতুর যুদ্ধ: উহুদের পর মুসলমানদের প্রথম পরাজয়

📄 সেতুর যুদ্ধ: উহুদের পর মুসলমানদের প্রথম পরাজয়


বারুসমার যুদ্ধে জয়লাভ করার পর মুসলিম বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে। ইতিমধ্যে পরাজিত পারসিক বাহিনী পুনরায় সংগঠিত হয়। বাহমান নামক জনৈক ধূর্ত ও সুদক্ষ সেনাপতিকে এবার পারসিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। বিশাল সেনাবাহিনী ও হাতির বহর নিয়ে পারসিক বাহিনী ফুরাত নদীর পূর্ব পার্শ্বে শিবির স্থাপন করে। মুসলিম বাহিনী শিবির স্থাপন করে নদীর পশ্চিম তীরে। পেছনে ছিল মরুভূমির বিস্তীর্ণ প্রান্তর, যেদিক দিয়ে আরব উপদ্বীপ হতে সহজেই যেকোনো ধরনের সামরিক সহায়তা পৌঁছা সম্ভব ছিল।
পারসিক সেনাপতি বাহমান মুসলিম সেনাপতি আবু উবায়দের কাছে বার্তা পাঠিয়ে প্রস্তাব দেয় যে, আপনারা নদী পার হয়ে এপারে চলে আসুন। সে ক্ষেত্রে আমরা আপনাদের নদী পাড়ি দেওয়ার সুযোগ দেবো এবং এপারে জায়গা খালি করে দেবো। অন্যথায় আমরা নদী পার হয়ে আপনাদের কাছে চলে আসি। আপনারা আমাদের পার হওয়ার সুযোগ দিন।
সেনাপতি আবু উবায়দ তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করেন। সকলেই নদী পার না হওয়ার পরামর্শ দেন। তারা এ-ও বলেন যে, ‘আমরা তো এমন স্থানে শিবির স্থাপন করেছি, যেখানে কৌশলে পিছু হটা, নিরাপদ আশ্রয়গ্রহণ বা পশ্চাদপসরণ—সব সুযোগই আছে।’ কিন্তু সেনাপতি আবু উবায়দ এই বলে নদী পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন যে, ‘তারা আমাদের চেয়ে মৃত্যুর ব্যাপারে অধিক নির্ভীক নয়। সুতরাং আমরাই পার হয়ে ওপারে যাব।’
এরপর আবু উবায়দ তার বাহিনীকে পার করাতে সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। মুসলিম বাহিনী নদী পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাহমান খুশি হয়। সে তো এমনটিই চেয়েছিল। এতটুকু কৌশলেই তুষ্ট না থেকে বাহমান এরপর যে স্থানটিতে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে চাচ্ছিল, তাও নির্দিষ্ট করে নেয় এবং নদীর পূর্ব তীরের অতি সংকীর্ণ একটি জায়গা খালি করে দেয়। ফুরাত নদীর বড় দুটি শাখা সংকীর্ণ জায়গাটিকে ইংরেজি ইউ (U) আকৃতির ন্যায় ঘিরে রেখেছিল। ফলে মুসলিম বাহিনী নদী পার হয়ে এমন এক স্থানে অবতরণ করে, যা তিনদিক থেকে পানিবেষ্টিত।
ত্রয়োদশ হিজরির ২৩ শাবান সেতুর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসলিম বাহিনীর নদী পাড়ি দেওয়া শেষ হতেই পারসিক বাহিনী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পারসিক বাহিনীর সঙ্গে থাকা হাতির পাল দেখে মুসলিম বাহিনীর অশ্বগুলো ভীত হয়ে পড়ে এবং অবাধ্য আচরণ শুরু করে। ফলে মুসলিম বাহিনীর অশ্বারোহী অংশ কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অশ্বারোহী সৈনিকরা ঘোড়া হতে নেমে পায়ে হেঁটে যুদ্ধ শুরু করে।
মুসলিম সেনাপতি আবু উবায়দ যেকোনো মূল্যে শত্রুপক্ষের হাতিগুলোকে অকার্যকর করে ফেলতে চাচ্ছিলেন। তিনি মুসলিম সৈনিকদের হাতিগুলোকে ঘিরে ফেলার এবং হাতির পিঠে বেঁধে রাখা বাক্সগুলোর ফিতা কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তিনি নিজে হাতির পালের মূল হাতিটিকে হত্যা করার জন্য অগ্রসর হন। কিন্তু হাতিটি তাকে পিষে ফেলে এবং তিনি শহিদ হন। পূর্বেই আবু উবায়দ রাযি. নিজ গোত্র বনু ছাকিফের সাতজন ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছিলেন। একে একে তারা প্রত্যেকেই বড় হাতিটিকে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে সকলেই নিহত হয়। অবশেষে মুসলিম বাহিনীর ঝান্ডা গ্রহণ করেন মুসান্না বিন হারিসা।
প্রতিকূল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মুসান্না সকলকে সেতু পাড়ি দিয়ে পশ্চাদপসরণের নির্দেশ দেন। কেননা, মুসলিম বাহিনী ততক্ষণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং সর্ববিচারেই পুনঃআক্রমণ ক্ষতির কারণ বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু ছাকিফ গোত্রের আবদুল্লাহ বিন মুরছাদ নামক জনৈক যোদ্ধার এ সিদ্ধান্ত পছন্দ হচ্ছিল না। আত্মমর্যাদা ও যুদ্ধস্পৃহায় উদ্দীপ্ত হয়ে সে সেতু কেটে দেয় এবং চিৎকার করে বলতে থাকে, মুসলিম সৈন্যরা!
তোমাদের সেনাপতিগণ যে লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে শহিদ হয়ে গেছেন, তোমরাও সে লক্ষ্যে শাহাদাতের মৃত্যু বরণ করে নাও অথবা সফলতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হও। সেতু কেটে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে যে কেউ বলবে, কিছুক্ষণের মধ্যেই মুসলিম বাহিনী নিশ্চিত ধ্বংসের শিকার হতে যাচ্ছে। মুসলিম বাহিনীর অনেকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে; ডুবে মারা যায় প্রায় দু-হাজার সৈন্য। এদিকে সেনাপতি মুসান্না ও একদল সাহাবি মিলে সেতুটি মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার-উপযোগী করতে সচেষ্ট হন।
মুসলিম বাহিনী যেন সেতু মেরামত করতে না পারে, এ উদ্দেশ্যে পারসিক বাহিনী বিশেষ করে সেতুর কাছে সমবেত হয়েছিল। তাই মুসলিম বাহিনীর একদল সৈন্য সেতু মেরামত করছিল, অন্যরা পারসিক বাহিনীকে বাধা দিয়ে রাখছিল, যেন প্রথম দল নিরাপদে সেতু মেরামত করতে পারে। পুনরায় সেতু নির্মাণে মুসলিম বাহিনী সফল হওয়ার পর সেনাপতি মুসান্না একদল সৈন্য নিয়ে সেতুর কাছে প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে যান এবং অবশিষ্ট সৈন্যদের নিরাপদে নদী পার হওয়ার পথ করে দেন। সবাই পার হওয়ার পর বাকি থাকেন কেবল মুসান্না বিন হারিসা। ততক্ষণে তিনি শত্রুপক্ষের আঘাতে আঘাতে মৃতপ্রায় অবস্থায় উপনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও নিরাপদে সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম হন এবং অন্যদের সঙ্গে মিলিত হন। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর শহিদানের সংখ্যা ছিল চার হাজার। অপরদিকে পারসিক বাহিনীর নিহত সৈন্যের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার। এটি ছিল পারসিক বাহিনীর কাছে মুসলিম বাহিনীর প্রথম ও শেষ পরাজয়।
পরাজিত মুসলিম বাহিনীর একটি অংশ মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শরীরে তারা মদিনায় ফিরে আসে। মুসান্নার সঙ্গে রয়ে যায় মাত্র তিন হাজার সৈন্য; পরাজয় যাদেরকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তারা এবার প্রতিশোধ গ্রহণের সংকল্প করে।
প্রত্যাবর্তনকারী সৈন্যরা মদিনায় পৌঁছলে মদিনাবাসী তাদেরকে পলাতক বলে ধিক্কার দিতে থাকে। কিন্তু খলিফা উমর রাযি. সকলকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আল্লাহর বান্দারা, অস্থির ও ধৈর্যহারা হয়ো না। হে আল্লাহ, প্রত্যেক মুসলমান আমার পক্ষ থেকে দায়মুক্ত। আমি প্রত্যেক মুসলমানের সহযোগী। শত্রুর মোকাবিলা করতে গিয়ে যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, আমি তাদের সহযোগী।'
এরপর তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা আবু উবায়দের প্রতি রহম করুন। যদি সে নদী পাড়ি না দিয়ে এপারেই অবস্থান করত কিংবা (শক্তিবৃদ্ধির জন্য) আমাদের কাছে চলে আসত, তাহলে তো আমরা তাকে সহযোগিতা করতে পারতাম।'
এটি আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহ যে, সেতুর যুদ্ধে জয়লাভ করার পর পারসিক বাহিনী মুসলিম বাহিনীকে সমূলে শেষ করার জন্য পশ্চাদ্ধাবনে আগ্রহী হয়নি। অথচ লক্ষণীয় মাত্রায় সৈন্যসংখ্যার পাল্লা ভারী হওয়ায় তাদের পক্ষে তা একেবারেই সহজ ছিল। মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিজয়ের আনন্দেই তারা তুষ্ট ছিল। সম্ভবত তাদের কেবল এমন একটি বিজয় প্রয়োজন ছিল, যার মাধ্যমে নিজেদের নুয়ে পড়া মানসিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়। (১১৬)

টিকাঃ
১১৬. অবশ্য ঐতিহাসিক ইবনুল আছিরের বর্ণনামতে পারসিক বাহিনীর প্রধান বাহমান পলায়নরত মুসলিম বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবনের মনস্থ করেছিল। কিন্তু এরইমধ্যে তার কাছে সংবাদ পৌঁছায় যে, মাদায়েনে পারস্য সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে সে মাদায়েনে ফিরে যায়। দেখুন—আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারিখ, ২/২৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00