📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আলেকজান্দ্রিয়া-বিজয়

📄 আলেকজান্দ্রিয়া-বিজয়


এরপর আমর ইবনুল আস রাযি. আলেকজান্দ্রিয়া জয়ের জন্য অভিযান পরিচালনার মনস্থ করেন। খলিফাতুল মুসলিমিনের কাছে অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠালে তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন। ব্যাবিলন হতে আলেকজান্দ্রিয়ার পথ কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। পুরো পথজুড়ে স্থানে স্থানে রোমানদের বিভিন্ন দুর্গ ছিল। কিন্তু আমর রাযি. ও তার সঙ্গীগণ সকল বাধা জয় করে এ পথ পাড়ি দেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছে তিন মাস মতান্তরে চৌদ্দ মাস নগরীটি অবরোধ করে রাখেন। সংবাদ জানতে পেরে খলিফা উমর রাযি. অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন এবং আমর রাযি.-এর কাছে কড়া ভাষায় বার্তা পাঠান। পত্রে তিনি লেখেন, নিজেদের কৃত কোনো গুনাহের কারণেই তোমরা বিলম্বের শিকার হয়েছ। সুতরাং নিজেদের অবস্থা নিরীক্ষণ করো।
আলেকজান্দ্রিয়া ছিল রোমান সাম্রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। আর তাই মুসলিম বাহিনীর আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধের কথা জেনে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে ওঠেন, 'আলেকজান্দ্রিয়ার পতন হলে রোমান সাম্রাজ্যের আর কী থাকবে?!' এরপর তিনি বিশাল বাহিনী নিয়ে নিজে আলেকজান্দ্রিয়ায় উপস্থিত হয়ে যুদ্ধ করার মনস্থ করেন। কিন্তু সফরের প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর ফলে আলেকজান্দ্রিয়ায় রোমান সম্রাটের পক্ষ থেকে সামরিক সাহায্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রতিরক্ষাকারীদের প্রতিরোধস্পৃহাও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মুসলমানদের হাতে আলেকজান্দ্রিয়া বিজিত হয়।
আলেকজান্দ্রিয়া বিজয়ের পর সেনাপতি আমর ইবনুল আস রাযি. খলিফার অনুমতি নিয়ে ব্যাবিলনের নিকটে ফুসতাত নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়া অভিযানে ত্যাগ ও কুরবানি এবং কীর্তি ও গৌরবের অনেক ঘটনাই ঘটে। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১. সেনাপতি আমর ইবনুল আস রাযি. তার মুক্ত ক্রীতদাস ওয়ারদানকে যুদ্ধের মূল ঝান্ডা প্রদান করেছিলেন আর নিজ পুত্র আবদুল্লাহ বিন আমর রাযি.-কে বাহিনীর সম্মুখ অংশে রেখেছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে আবদুল্লাহ কঠিনভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। ক্ষত যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন তিনি ওয়ারদানকে বলেন, 'সামান্য পেছনে সরে যেতে পারলে আমি কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারতাম।' ওয়ারদান তখন সামনে অগ্রসর হয়ে বলেন, 'বিশ্রাম খুঁজছ? বিশ্রাম তো পেছনে নয়, তোমার সামনে!'
ওয়ারদানের উত্তরে আবদুল্লাহ রাযি.-এর দেহ-মন আন্দোলিত হয়ে ওঠে। তিনি নবোদ্যমে শত্রুপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এদিকে সেনাপতি আমর ইবনুল আস পুত্রের আহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে তার জখমের অবস্থা জানতে জনৈক সৈন্যকে পাঠান। উক্ত সৈনিক আবদুল্লাহর কাছে পৌঁছলে তিনি তাকে নিম্নের পঙ্ক্তিটি শুনিয়ে দেন— أَقُوْلُ لَهَا إِذَا جَشَأَتْ وَجَاشَتْ * رُوَيْدَكِ تُحْمَدِي أَوْ تَسْتَرِيحِي তার অস্থিরতায়-উদ্বেলতায় বেবাক আমি; বলি, একটুখানি থামবে তুমি! তনু-মনে স্বস্তি নিয়ে প্রশংসিত হবে তুমি।
বার্তাবাহক ফিরে এসে আমর রাযি.-কে পুত্রের উত্তর শোনালে তিনি আনন্দিত হয়ে বলেন, 'হ্যাঁ, প্রকৃতই সে আমার ছেলে।'
২. মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে আলেকজান্দ্রিয়া বিজয় সমাপ্ত হওয়ার পর সেনাপতি আমর ইবনুল আস রাযি. খলিফার কাছে বিজয়বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তাবাহক মুয়াবিয়া বিন খুদায়জ রাযি. এ সম্পর্কিত ঘটনার বিবরণীতে বলেন— দ্বিপ্রহরের সময় আমি মদিনায় পৌঁছলাম। মসজিদে নববির দরজার সঙ্গে বাহনজন্তু বেঁধে আমি মসজিদে বসলাম। এরইমধ্যে খলিফার ঘর থেকে একজন দাসী বেরিয়ে এলো। আমাকে সফরের ধূলিমলিন পোশাকে দেখে সে কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কে?' আমি বললাম, 'আমি আমর ইবনুল আসের বার্তাবাহক মুয়াবিয়া বিন খুদায়জ।' আমার উত্তর শুনে সে ভেতরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর সে দ্রুতপদে আবার ফিরে এলো। আমি তার পায়ের সঙ্গে কাপড়ের ঘর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমার কাছে এসে সে বলল, 'উঠুন, আমিরুল মুমিনিন আপনাকে ডেকেছেন; তার আহ্বানে সাড়া দিন।' আমি তার পেছন পেছন চলতে লাগলাম। ভেতরে প্রবেশ করে আমি দেখলাম, উমর এক হাতে তার চাদর ধরে আছেন, অপর হাতে পরিধেয় লুঙ্গি ঠিক করছেন। তিনি আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, 'কী সংবাদ নিয়ে এসেছ?' আমি উত্তর দিলাম, 'আমিরুল মুমিনিন! সুসংবাদ নিয়ে এসেছি। আল্লাহ তাআলা আলেকজান্দ্রিয়ার বিজয় দান করেছেন।'
তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হলেন। এরপর মুয়াজ্জিনকে বললেন, 'নামাজের সময় ঘনিয়ে এসেছে, আজান দাও।' আজান শুনে সকলে সমবেত হলো। এরপর তিনি আমাকে বললেন, 'দাঁড়াও, সকলকে সংবাদ শোনাও।' আমি দাঁড়িয়ে সকলকে আলেকজান্দ্রিয়া বিজয়ের সংবাদ শোনালাম। নামাজ শেষে খলিফা আমাকে নিয়ে তার গৃহে গেলেন। এরপর কেবলামুখী হয়ে অনেকক্ষণ দোয়া করলেন। তারপর বসে দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কোনো খাবার আছে কি?' দাসী রুটি ও জায়তুন নিয়ে এলো। খলিফা আমাকে বললেন, 'নাও, খেয়ে নাও।' আমি কিছুটা লজ্জার সঙ্গে আহার করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, 'মুয়াবিয়া, মসজিদে আসার পর তুমি কী বলেছিলে?'
'আমি বলেছিলাম, আমিরুল মুমিনিন এখন দিবানিদ্রায় (দুপুরের আহারের পর ঘুমে) আছেন।' আমি উত্তর দিলাম।
'বড় মন্দ কথা বলেছ হে! আমি যদি দিনে ঘুমাই, তাহলে প্রজাদের হক নষ্ট করব আর যদি রাতে ঘুমাই, তাহলে নিজের হক নষ্ট করব। বলো, মুয়াবিয়া, প্রজাদের ও নিজের হকের কথা চিন্তা করে কীভাবে আমার ঘুম আসে?!'
৩. মুসলিম শাসন-কর্তৃত্বে আসার পর মিশরের কিবতি জাতি যে অপার স্বাধীনতা লাভ করেছিল, তার প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিকগণের উল্লেখিত নিম্নের ঘটনাটি প্রণিধানযোগ্য।
হজরত আনাস রাযি. বর্ণনা করেন, আমরা খলিফা উমর রাযি.-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে মিশর থেকে জনৈক ব্যক্তি আগমন করল। দরবারে উপস্থিত হয়ে সে বলল, 'আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনার আশ্রয়প্রার্থী।' খলিফা বললেন, 'বলো, কী হয়েছে?'
আমর ইবনুল আস মিশরে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। আমি সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করি। মানুষ যখন তা দেখতে পায়, তখন আমর ইবনুল আসের পুত্র মুহাম্মাদ দাঁড়িয়ে বলে ওঠেন, 'কাবার রবের শপথ! আমার ঘোড়া প্রথম হয়েছে।' তিনি আমার পিঠে চাবুক মারতে শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, 'আমি ইবনুল আযরাম (অভিজাত)!'
উমর বললেন, 'আল্লাহর শপথ! তুমি যদি আমরকে প্রহার করতে, তাহলে যতক্ষণ না তুমি নিজে তাকে ছেড়ে দিতে, ততক্ষণ আমরা তোমাদের মাঝে অন্তরায় হতাম না।'
'আরে আমর! যাদেরকে তাদের মায়েরা স্বাধীন জন্ম দিয়েছেন, কবে থেকে তাদেরকে দাস বানানো শুরু করলে?!'
হজরত আমর ইবনুল আস বললেন, 'আমিরুল মুমিনিন, আমি বিষয়টি জানতাম না, আর সে আমার কাছে আসেওনি।' (১১০)
এরপর খলিফা উমর রাযি. মিশরীয় লোকটির দিকে ফিরে বললেন, 'তুমি নিশ্চিন্তে ফিরে যাও। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সমস্যা বোধ করলে আমাকে লিখে জানাবে।' (১১১)
ভেবে দেখুন, কীসের ভিত্তিতে মিশরীয় এই ব্যক্তিটি মিশর থেকে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় এসে নিজের অধিকারের দাবি জানাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কদিন পূর্বেও তো সে ও তার স্বজাতি রোমানদের হাতে চরমভাবে নিগৃহীত হচ্ছিল; কিন্তু লাঞ্ছনা ভুলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছিল না। নিঃসন্দেহে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—খলিফা তার প্রতি ন্যায়বিচার করবেন এবং স্বাধীনতাই হলো মানবতা ও মানবজাতির প্রতি ইসলামের অনুপম দান।
ড. আবদুস সবুর শাহিন (১১২) রোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ মিশরের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন—
মিশর রোমান সাম্রাজ্যের একটি করদরাজ্যে পরিণত হওয়ার পরবর্তী সময়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই— মিশরবাসী সে সময় কেবল জুলুম ও নিপীড়ন এবং দুর্ভাগ্য ও কষ্ট ভোগ করে গেছে। রোমান সম্রাটের কাছে মিশর ছিল একটি সম্পদ-ভান্ডারমাত্র, যা দিয়ে সে তার ফল-ফসলের চাহিদা পূরণ করত।
ড. হাসান ইবরাহিম (১১০) লিখেছেন—
এর (রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার) মাধ্যমেই মিশরে (আবহমান কাল থেকে চলে আসা) জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় পতন ঘটে, মিশরবাসীর সামনে সুউচ্চ মর্যাদা ও পদমর্যাদার দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়। রোমান আমলেই ট্যাক্স ও করের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। এমনকি কেউ মারা গেলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের কর পরিশোধ করার পূর্বে মৃতদেহ সমাধিস্থ করার অনুমতি দেওয়া হতো না।
'হাজারাতুল আরব' গ্রন্থের লেখক প্রখ্যাত পশ্চিমা ঐতিহাসিক গোস্তাভ লি বোন (১১৪) মিশরীয় জনগণের ওপর মুসলিম অভিযাত্রীদের প্রভাবে মুগ্ধতা ও বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন,
ঐতিহাসিক যুগ-পরিস্থিতি অধ্যয়ন করতে গিয়ে আমরা যতই দূরে যাব, দেখতে পাব যে, মিশরীয়রা ছিল সুসমৃদ্ধ ঐতিহাসিক সভ্যতার অধিকারী। এ ধরনের সমৃদ্ধ সভ্যতা লালনকারী জাতির ওপর প্রভাব সৃষ্টি করা বিজেতা জাতির জন্য সহজ ছিল না। অতীতকাল থেকেই বিভিন্ন জাতি মিশরে আগ্রাসন চালালেও মিশর তা মোকাবিলা করে টিকে ছিল। পরবর্তীকালে গ্রিক ও রোমানরা মিশরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেও মিশরীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মিশরে টলেমি ও রোমান শাসকগণ কর্তৃক প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে নির্মিত ভবন, প্রাসাদ ও দুর্গসমূহ কয়েক শতাব্দীর পরিক্রমায়ও প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার স্বমহিমায় টিকে থাকার দলিল হিসেবে যথেষ্ট।
এরপর তিনি লিখেছেন—
বিশেষ করে এ বিষয়টি উল্লেখ না করলেই নয় যে, প্রাচীন মিশরের সন্তানেরা দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রিক ও রোমান আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে। এরপর তারাই আরবদের দ্বীন ও ধর্ম, ভাষা ও উচ্চারণ এবং বিজেতা আরব জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে এবং নির্ভেজাল আরব জাতিতে পরিণত হয়েছে। ইরান ও ভারতবর্ষে তো আরব সভ্যতা সেখানকার প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে গেছে। অপরদিকে মিশরে মুহাম্মাদের নতুন অনুসারীদের সভ্যতার সামনে প্রাচীন ফারাও সভ্যতা এবং গ্রিক ও রোমান সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
এভাবেই কোনোপ্রকার জবরদস্তি ও চাপপ্রয়োগ ব্যতিরেকে মিশর নির্ভেজাল ইসলামি অঞ্চলে পরিণত হয়। বিজেতা জাতির উদারতা ও মুসলিম প্রশাসকদের চারিত্রিক কুশলতা প্রত্যক্ষ করে মিশরের জনসাধারণ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। নিঃসন্দেহে অনুগ্রহ ও দয়া আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।

টিকাঃ
১১০. আলাউদ্দিন আল-মুত্তাকি আল-হিন্দি, কানজুল উম্মাল, ১২/৬৬০-৬৬১, বর্ণনা নং ৩৬০১০।
১১১. গবেষক ঐতিহাসিকগণ আলোচ্য ঘটনাটির সত্যতা সম্পর্কে-সনদ 'ও'বর্ণনাধারা উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তি করেছেন। ঘটনাটি ইবনে ইসহাক 'জনৈক ব্যক্তি'-সূত্রে বর্ণনা করেছেন আর গবেষকদের মতে ইবনে ইসহাকের অখ্যাত ব্যক্তি হতে বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য। 'ফুতুহু মিসর' গ্রন্থে ঘটনাটি যে সূত্রে বর্ণিত আছে, তাতেও সুস্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা আছে। অধিকন্তু সাহাবি-শানবিরোধী হওয়ায় ঘটনাটি (الانقطاع الباطن) মর্মগত বিচ্ছিন্নতার দোষেও দুষ্ট। সম্ভবত এ কারণেই তাবারি, ইবনে কাছির, ইবনে খালদুন প্রমুখ সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিকগণ কেউই ঘটনাটি উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখা যেতে পারে- https://bit.ly/2XoBQCx I
১১২. ড. আবদুস সবুর শাহিন (১৯২৯-২০১০ খ্রিষ্টাব্দ) মিশরের প্রখ্যাত আলিম, ইসলামি চিন্তাবিদ, দাঈ এবং মিশরের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ মসজিদে আমর ইবনুল আস-এর খতিব ছিলেন।
১১০. ড. হাসান ইবরাহিম হাসান (১৮৯২-১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) মিশরের প্রসিদ্ধ ইতিহাস-গবেষক, ইতিহাস-লেখক। ইতিহাস বিষয়ে তার দশের অধিক গ্রন্থ রয়েছে।
১১৪. গোস্তাভ লি বোন (Gustave Le Bon) (১৮৪১-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দ) ফরাসি ঐতিহাসিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বহুবিদ্যাবিশারদ। কলম ধরেছেন নৃতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, প্রত্নবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে। প্রাচ্য সভ্যতা ছিল তার অন্যতম গবেষণার বিষয়। তার বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ হলো La Civilisation des Arabes (আরব সভ্যতা), Les Civilisations de l'Inde (ভারতীয় সভ্যতা), Psychologie du Socialisme (সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব) ইত্যাদি। তিনি সেই সব হাতেগোনা পশ্চিমা দার্শনিকদের একজন, যারা দ্বিধাহীন চিত্তে আরব জাতি ও ইসলামি সভ্যতার প্রশংসা করেছেন। তিনি পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতি ইসলামের অপার অনুগ্রহের কথা অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করতেন। গোস্তাভ লি বোন রচিত La Civilisation des Arabes নামক ফরাসি ভাষায় লিখিত গ্রন্থটিকে (حضارة العرب) (আরব সভ্যতা) নামে আরবিতে রূপান্তর করেছেন ফিলিস্তিনি লেখক আদিল যুআয়তির।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00