📄 খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর ইন্তেকাল
এভাবেই আল্লাহর দ্বীনকে পৃথিবীজুড়ে বিজয়ী করার অব্যাহত কর্মপ্রচেষ্টায় অতিবাহিত হতে থাকে আবু বকর রাযি.-এর খিলাফতকাল। দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায়, আল্লাহ তাআলা যদি আবু বকর রাযি.-কে মুসলিম উম্মাহর দায়িত্বে নিযুক্ত না করতেন, উম্মাহ ধ্বংস হয়ে যেত। খিলাফতকাল বলুন, বা খিলাফতপূর্বকাল, আবু বকর রাযি. ছিলেন মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর এক মহা অনুগ্রহ-দান।
এই অত্যুচ্চ কীর্তি ও সমুন্নত মর্যাদা সত্ত্বেও হজরত আবু বকর রাযি. নিজেকে খলিফা-পদের উপযুক্ত মনে করতেন না! ইমাম বুখারি রহ. তার ইতিহাসগ্রন্থে সুফিয়ানের মাধ্যমে উবায়দার সূত্রে বর্ণনা করেন-
একবার উয়াইনা বিন হিস্স রাযি. ও আকরা বিন হাবিস রাযি. হজরত আবু বকর রাযি.-এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুলের খলিফা, আমাদের এলাকায় একটি লবণাক্ত জমি আছে, যাতে না ঘাস জন্মায়, না তা অন্য কোনো কাজে আসে। আপনি যদি ভালো মনে করেন, তাহলে জমিটি আমাদেরকে জায়গির হিসেবে দান করুন। আমরা তাতে চাষাবাদের চেষ্টা করব।' হজরত আবু বকর তাদেরকে উক্ত জমি জায়গির হিসেবে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং এ ব্যাপারে লিখিত দলিল প্রস্তুত করে তাতে হজরত উমরকে সাক্ষী রাখার মনস্থ করলেন। হজরত উমর তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আবু বকর রাযি. সাহাবিদ্বয়কে বললেন, 'তোমরা উমরের কাছে গিয়ে তাকে এর সাক্ষী বানিয়ে নাও।'
তারা উভয়ে উমরের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দলিলপত্র নিয়ে তার কাছে গেলেন। বিস্তারিত শোনার পর হজরত উমর তাদের নিকট হতে দলিলপত্র কেড়ে নিলেন এবং থুথু দিয়ে লেখা মুছে ফেললেন। এতে তারা দুজন রাগান্বিত হয়ে হজরত উমরকে ভর্ৎসনা করতে লাগলেন। হজরত উমর বললেন, 'নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মনোরঞ্জন করতেন; কারণ, তখন ইসলাম দুর্বল ছিল। এখন তো আল্লাহ তাআলা ইসলামকে শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল করেছেন। তোমরা চলে যাও আর যা ইচ্ছা করো। তোমরা আল্লাহর নিকট হেফাজত চাইলেও আল্লাহ যেন তোমাদের হেফাজত না করেন।'
এরপর তারা উভয়ে অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় হজরত আবু বকরের কাছে ফিরে এসে বললেন, 'আল্লাহর শপথ! আমরা বুঝতে পারছি না যে, খলিফা কি আপনি, না উমর?' আবু বকর রাযি. বললেন, 'খলিফা তো তিনিই। তিনি যদি চাইতেন, খলিফা হতে পারতেন।'
ইত্যবসরে হজরত উমরও রাগান্বিত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি হজরত আবু বকরকে বললেন, 'আমাকে বলুন, আপনি এদেরকে যে জমি জায়গির হিসেবে প্রদান করতে চাচ্ছেন, তা কি আপনার মালিকানাধীন, না সমস্ত মুসলমানের?' হজরত আবু বকর উত্তর দিলেন, 'না, সমস্ত মুসলমানের।'
হজরত উমর বললেন, 'তাহলে সমস্ত মুসলমানকে বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনকে কীভাবে দিচ্ছেন?' হজরত আবু বকর উত্তর দিলেন, 'আমি উপস্থিত লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তারা সকলে আমাকে এরূপ করার পরামর্শ দিয়েছে।' হজরত উমর বললেন, 'আপনি উপস্থিত লোকদের সঙ্গে তো পরামর্শ করেছেন; কিন্তু সকল মুসলমানের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের সম্মতি কি নিয়েছেন?' হজরত আবু বকর বললেন, 'আমি তো পূর্বেই বলেছিলাম যে, এই খিলাফতের দায়িত্বের জন্য আপনিই আমার চেয়ে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু আপনি আমার ওপর জয়ী হয়েছেন।'
উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম পুরুষ ও ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. নিজেকে এমনই মনে করতেন। সর্বোচ্চ পদ বা সুমহান কর্ম-কীর্তি তাকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনোই আত্মপ্রবঞ্চিত করতে পারেনি।
বর্ণিত আছে, হজরত আবু বকর রাযি. যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত এবং তার শ্বাস ঘন ঘন ওঠানামা করছে, তখন আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. তার কাছে উপস্থিত হলেন। পিতার কষ্ট দেখে আয়েশা রাযি. এই কাব্যপঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলেন-
لَعُمْرُكَ مَا يُغْنِي الثَّرَاءُ عَنِ الْفَتَى * إِذَا حَشْرَجَتْ يَوْمًا وَضَاقَ بِهَا الصَّدْرُ
আপনার প্রাণের শপথ! সম্পদপ্রাচুর্য তখন যুবকেরও কোনো কাজে আসবে না, যখন মৃত্যু-শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হবে এবং বুকে শ্বাস আটকে যাবে।
আয়েশার মুখে কাব্যপঙ্ক্তিটি শুনে হজরত আবু বকর রাগান্বিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, উম্মুল মুমিনিন! এমন নয়; বরং এ তো সেই অবস্থা, যার বিবরণ পবিত্র কুরআনে এভাবে এসেছে-
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ
মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যিই আসবে, (হে মানুষ!) এটাই সে জিনিস, যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে। [সুরা কুফ: ১৯]
এরপর আবু বকর রাযি. বললেন, 'আমি তোমাকে একটি বাগান প্রদান করেছিলাম; কিন্তু আমার অন্তরে এ বিষয়ে দ্বিধা রয়ে গেছে। সুতরাং তুমি তা আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ফেরত দিয়ে দাও।' আয়েশা রাযি. উত্তর দিলেন, 'ঠিক আছে, ফেরত দিয়ে দিলাম।'
এরপর আবু বকর রাযি. বললেন, 'আমি মুসলমানদের খলিফা হওয়ার পর থেকে জনগণের সম্পদ হতে কোনো দিনার-দিরহাম ভোগ করিনি। তবে তাদের সাধারণ খানা অবশ্য খেয়েছি এবং তাদের মোটা ও খসখসে কাপড় পরিধান করেছি। বর্তমানে আমার কাছে মুসলমানদের সম্পদ হতে এই হাবশি ক্রীতদাস, পানিবহনকারী এই উট এবং এই পুরোনো পশমি চাদরটি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। আমার মৃত্যুর পর এই তিনটি জিনিস হজরত উমরের কাছে পাঠিয়ে দেবে এবং এগুলোর দায়িত্ব থেকে আমাকে মুক্ত করে দেবে।'
আম্মাজান আয়েশা রাযি. বলেন, আমি অসিয়ত মোতাবেক জিনিসগুলো উমর রাযি.-এর কাছে পাঠিয়ে দিলাম। বাহক যখন এগুলো নিয়ে হজরত উমরের কাছে উপস্থিত হলো, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলছিলেন, 'আল্লাহ তাআলা আবু বকরের ওপর রহম করুন, তিনি তো পরবর্তীদেরকে মুশকিলে ফেলে দিয়ে গেলেন।' এরপর উমর তার ভৃত্যকে জিনিসগুলো রেখে দিতে বললেন।
হজরত আবদুর রহমান বিন আওফ রাযি. সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, 'সুবহানাল্লাহ! একজন হাবশি গোলাম, পানি বহনকারী একটি উষ্ট্রী আর পুরোনো একটি চাদর, যার মূল্য মাত্র পাঁচ দিরহাম হবে, এই কয়েকটি জিনিসমাত্র, আর তা-ও আপনি আবু বকরের পরিবার-পরিজন হতে ছিনিয়ে নিচ্ছেন?!'
হজরত উমর বললেন, 'তাহলে তুমি কী করতে বলো?'
আবদুর রহমান বললেন, 'এগুলো আপনি তার পরিবারকে ফিরিয়ে দিন।'
হজরত উমর বললেন, 'না, আল্লাহর শপথ! আমার খিলাফতকালে এরূপ কক্ষনো হবে না। আবু বকর মৃত্যুর সময় নিজেকে এসব জিনিস হতে মুক্ত করে গেছেন, আর আমি তা তার পরিবারকে ফেরত দেবো?! এ কাজ অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়তর।'
উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম পুরুষ ও ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর রাযি. ত্রয়োদশ হিজরির ২২ জুমাদাল উখরা (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট) তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার খিলাফতকাল ছিল দু-বছর তিন মাস দশ দিন।
এভাবেই আল্লাহর দ্বীনকে পৃথিবীজুড়ে বিজয়ী করার অব্যাহত কর্মপ্রচেষ্টায় অতিবাহিত হতে থাকে আবু বকর রাযি.-এর খিলাফতকাল। দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায়, আল্লাহ তাআলা যদি আবু বকর রাযি.-কে মুসলিম উম্মাহর দায়িত্বে নিযুক্ত না করতেন, উম্মাহ ধ্বংস হয়ে যেত। খিলাফতকাল বলুন, বা খিলাফতপূর্বকাল, আবু বকর রাযি. ছিলেন মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর এক মহা অনুগ্রহ-দান।
এই অত্যুচ্চ কীর্তি ও সমুন্নত মর্যাদা সত্ত্বেও হজরত আবু বকর রাযি. নিজেকে খলিফা-পদের উপযুক্ত মনে করতেন না! ইমাম বুখারি রহ. তার ইতিহাসগ্রন্থে সুফিয়ানের মাধ্যমে উবায়দার সূত্রে বর্ণনা করেন-
একবার উয়াইনা বিন হিস্স রাযি. ও আকরা বিন হাবিস রাযি. হজরত আবু বকর রাযি.-এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুলের খলিফা, আমাদের এলাকায় একটি লবণাক্ত জমি আছে, যাতে না ঘাস জন্মায়, না তা অন্য কোনো কাজে আসে। আপনি যদি ভালো মনে করেন, তাহলে জমিটি আমাদেরকে জায়গির হিসেবে দান করুন। আমরা তাতে চাষাবাদের চেষ্টা করব।' হজরত আবু বকর তাদেরকে উক্ত জমি জায়গির হিসেবে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং এ ব্যাপারে লিখিত দলিল প্রস্তুত করে তাতে হজরত উমরকে সাক্ষী রাখার মনস্থ করলেন। হজরত উমর তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আবু বকর রাযি. সাহাবিদ্বয়কে বললেন, 'তোমরা উমরের কাছে গিয়ে তাকে এর সাক্ষী বানিয়ে নাও।'
তারা উভয়ে উমরের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দলিলপত্র নিয়ে তার কাছে গেলেন। বিস্তারিত শোনার পর হজরত উমর তাদের নিকট হতে দলিলপত্র কেড়ে নিলেন এবং থুথু দিয়ে লেখা মুছে ফেললেন। এতে তারা দুজন রাগান্বিত হয়ে হজরত উমরকে ভর্ৎসনা করতে লাগলেন। হজরত উমর বললেন, 'নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মনোরঞ্জন করতেন; কারণ, তখন ইসলাম দুর্বল ছিল। এখন তো আল্লাহ তাআলা ইসলামকে শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল করেছেন। তোমরা চলে যাও আর যা ইচ্ছা করো। তোমরা আল্লাহর নিকট হেফাজত চাইলেও আল্লাহ যেন তোমাদের হেফাজত না করেন।'
এরপর তারা উভয়ে অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় হজরত আবু বকরের কাছে ফিরে এসে বললেন, 'আল্লাহর শপথ! আমরা বুঝতে পারছি না যে, খলিফা কি আপনি, না উমর?' আবু বকর রাযি. বললেন, 'খলিফা তো তিনিই। তিনি যদি চাইতেন, খলিফা হতে পারতেন।'
ইত্যবসরে হজরত উমরও রাগান্বিত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি হজরত আবু বকরকে বললেন, 'আমাকে বলুন, আপনি এদেরকে যে জমি জায়গির হিসেবে প্রদান করতে চাচ্ছেন, তা কি আপনার মালিকানাধীন, না সমস্ত মুসলমানের?' হজরত আবু বকর উত্তর দিলেন, 'না, সমস্ত মুসলমানের।'
হজরত উমর বললেন, 'তাহলে সমস্ত মুসলমানকে বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনকে কীভাবে দিচ্ছেন?' হজরত আবু বকর উত্তর দিলেন, 'আমি উপস্থিত লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তারা সকলে আমাকে এরূপ করার পরামর্শ দিয়েছে।' হজরত উমর বললেন, 'আপনি উপস্থিত লোকদের সঙ্গে তো পরামর্শ করেছেন; কিন্তু সকল মুসলমানের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের সম্মতি কি নিয়েছেন?' হজরত আবু বকর বললেন, 'আমি তো পূর্বেই বলেছিলাম যে, এই খিলাফতের দায়িত্বের জন্য আপনিই আমার চেয়ে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু আপনি আমার ওপর জয়ী হয়েছেন।'
উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম পুরুষ ও ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. নিজেকে এমনই মনে করতেন। সর্বোচ্চ পদ বা সুমহান কর্ম-কীর্তি তাকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনোই আত্মপ্রবঞ্চিত করতে পারেনি।
বর্ণিত আছে, হজরত আবু বকর রাযি. যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত এবং তার শ্বাস ঘন ঘন ওঠানামা করছে, তখন আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. তার কাছে উপস্থিত হলেন। পিতার কষ্ট দেখে আয়েশা রাযি. এই কাব্যপঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলেন-
لَعُمْرُكَ مَا يُغْنِي الثَّرَاءُ عَنِ الْفَتَى * إِذَا حَشْرَجَتْ يَوْمًا وَضَاقَ بِهَا الصَّدْرُ
আপনার প্রাণের শপথ! সম্পদপ্রাচুর্য তখন যুবকেরও কোনো কাজে আসবে না, যখন মৃত্যু-শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হবে এবং বুকে শ্বাস আটকে যাবে।
আয়েশার মুখে কাব্যপঙ্ক্তিটি শুনে হজরত আবু বকর রাগান্বিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, উম্মুল মুমিনিন! এমন নয়; বরং এ তো সেই অবস্থা, যার বিবরণ পবিত্র কুরআনে এভাবে এসেছে-
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ
মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যিই আসবে, (হে মানুষ!) এটাই সে জিনিস, যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে। [সুরা কুফ: ১৯]
এরপর আবু বকর রাযি. বললেন, 'আমি তোমাকে একটি বাগান প্রদান করেছিলাম; কিন্তু আমার অন্তরে এ বিষয়ে দ্বিধা রয়ে গেছে। সুতরাং তুমি তা আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ফেরত দিয়ে দাও।' আয়েশা রাযি. উত্তর দিলেন, 'ঠিক আছে, ফেরত দিয়ে দিলাম।'
এরপর আবু বকর রাযি. বললেন, 'আমি মুসলমানদের খলিফা হওয়ার পর থেকে জনগণের সম্পদ হতে কোনো দিনার-দিরহাম ভোগ করিনি। তবে তাদের সাধারণ খানা অবশ্য খেয়েছি এবং তাদের মোটা ও খসখসে কাপড় পরিধান করেছি। বর্তমানে আমার কাছে মুসলমানদের সম্পদ হতে এই হাবশি ক্রীতদাস, পানিবহনকারী এই উট এবং এই পুরোনো পশমি চাদরটি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। আমার মৃত্যুর পর এই তিনটি জিনিস হজরত উমরের কাছে পাঠিয়ে দেবে এবং এগুলোর দায়িত্ব থেকে আমাকে মুক্ত করে দেবে।'
আম্মাজান আয়েশা রাযি. বলেন, আমি অসিয়ত মোতাবেক জিনিসগুলো উমর রাযি.-এর কাছে পাঠিয়ে দিলাম। বাহক যখন এগুলো নিয়ে হজরত উমরের কাছে উপস্থিত হলো, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলছিলেন, 'আল্লাহ তাআলা আবু বকরের ওপর রহম করুন, তিনি তো পরবর্তীদেরকে মুশকিলে ফেলে দিয়ে গেলেন।' এরপর উমর তার ভৃত্যকে জিনিসগুলো রেখে দিতে বললেন।
হজরত আবদুর রহমান বিন আওফ রাযি. সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, 'সুবহানাল্লাহ! একজন হাবশি গোলাম, পানি বহনকারী একটি উষ্ট্রী আর পুরোনো একটি চাদর, যার মূল্য মাত্র পাঁচ দিরহাম হবে, এই কয়েকটি জিনিসমাত্র, আর তা-ও আপনি আবু বকরের পরিবার-পরিজন হতে ছিনিয়ে নিচ্ছেন?!'
হজরত উমর বললেন, 'তাহলে তুমি কী করতে বলো?'
আবদুর রহমান বললেন, 'এগুলো আপনি তার পরিবারকে ফিরিয়ে দিন।'
হজরত উমর বললেন, 'না, আল্লাহর শপথ! আমার খিলাফতকালে এরূপ কক্ষনো হবে না। আবু বকর মৃত্যুর সময় নিজেকে এসব জিনিস হতে মুক্ত করে গেছেন, আর আমি তা তার পরিবারকে ফেরত দেবো?! এ কাজ অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়তর।'
উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম পুরুষ ও ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর রাযি. ত্রয়োদশ হিজরির ২২ জুমাদাল উখরা (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট) তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার খিলাফতকাল ছিল দু-বছর তিন মাস দশ দিন।