📄 বিজয়াভিযানের সূচনা
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে—খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার ইরাক অভিযানে শেষ যুদ্ধটি করেছিলেন দ্বাদশ হিজরির জিলকদ মাসে। এর অল্প কিছুদিন পূর্বে খলিফা আবু বকর রাযি. রোমান সাম্রাজ্যভুক্ত শাম অঞ্চলে ইসলামি বিজয়াভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। নিঃসন্দেহে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাযি.-এর গৃহীত এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ। এর মাধ্যমে পারসিক-রোমান উভয় পক্ষের অন্তরে সৃষ্টি হয়েছিল প্রচণ্ড প্রভাব-ভীতি। আর প্রতিপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার মুসলমানদের যুদ্ধজয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক একটি কার্যকারণ। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
أُعْطِيْتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي : نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيْرَةً شَهْرٍ "
আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে অন্য কাউকে প্রদান করা হয়নি। এক. আমাকে এমন প্রভাব-ভীতি দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যা এক মাসের দূরত্বেও প্রতিফলিত হয়। (৭৯)
খলিফা আবু বকর রাযি. দ্বাদশ হিজরি সনের রজব মাসে শাম অভিমুখে পৃথক চারটি বাহিনী প্রেরণ করেন।
১. ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী দামেশকের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
২. শুরাহবিল বিন হাসানা রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী জর্ডানের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
৩. আবু উবায়দা ইবনুল জারাহ রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী হিমসের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
৪. আমর ইবনুল আস রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী ফিলিস্তিনের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
টিকাঃ
৭৯. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৩৫।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে—খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার ইরাক অভিযানে শেষ যুদ্ধটি করেছিলেন দ্বাদশ হিজরির জিলকদ মাসে। এর অল্প কিছুদিন পূর্বে খলিফা আবু বকর রাযি. রোমান সাম্রাজ্যভুক্ত শাম অঞ্চলে ইসলামি বিজয়াভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। নিঃসন্দেহে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাযি.-এর গৃহীত এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ। এর মাধ্যমে পারসিক-রোমান উভয় পক্ষের অন্তরে সৃষ্টি হয়েছিল প্রচণ্ড প্রভাব-ভীতি। আর প্রতিপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার মুসলমানদের যুদ্ধজয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক একটি কার্যকারণ। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
أُعْطِيْتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي : نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيْرَةً شَهْرٍ "
আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে অন্য কাউকে প্রদান করা হয়নি। এক. আমাকে এমন প্রভাব-ভীতি দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যা এক মাসের দূরত্বেও প্রতিফলিত হয়। (৭৯)
খলিফা আবু বকর রাযি. দ্বাদশ হিজরি সনের রজব মাসে শাম অভিমুখে পৃথক চারটি বাহিনী প্রেরণ করেন।
১. ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী দামেশকের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
২. শুরাহবিল বিন হাসানা রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী জর্ডানের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
৩. আবু উবায়দা ইবনুল জারাহ রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী হিমসের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
৪. আমর ইবনুল আস রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী ফিলিস্তিনের উদ্দেশে প্রেরিত হয়।
টিকাঃ
৭৯. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৩৫।
📄 দ্রষ্টব্য: সাহাবায়ে কেরামের সৈনিকসুলভ মনোভাব
বিশিষ্ট সাহাবি আমর ইবনুল আস রাযি. এ সময় বনু কুযাআর জনপদে সদকা উসুলের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। খলিফা আবু বকর রাযি. তাকে শাম-অভিযানে প্রেরণের মনস্থ করে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
আল্লাহর রাসুল আপনাকে যে দায়িত্ব (অর্থাৎ সদকা উসুলের দায়িত্ব) প্রদান করতে চেয়েছিলেন এবং আপন ইচ্ছার কথা পুনরাবৃত্তিও করেছিলেন, আমি আপনাকে সে দায়িত্বই প্রদান করেছি। তবে (হে আবু আবদুল্লাহ,) এখন আমি আপনাকে এমন একটি কাজে নিয়োজিত করতে চাচ্ছি, যা আপনার জন্য উভয় জগতে অধিক কল্যাণকর হবে। অবশ্য আপনি এখন যে দায়িত্বে আছেন, তা আপনার কাছে বেশি ভালো মনে হলে সেখানেও থাকতে পারেন।
উত্তরে আমর ইবনুল আস রাযি. লিখে পাঠান—
আমি ইসলামের একটি তির আর আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসলামের তিরসমূহ নিক্ষেপ ও সংগ্রহের দায়িত্বশীল। সুতরাং আপনার দৃষ্টিতে যেখানে তির নিক্ষেপ করা বেশি জরুরি ও বেশি কল্যাণকর এবং পরিস্থিতি যেখানে বেশি নাজুক ও গুরুতর, আপনি ‘আমি তির’কে সেখানেই নিক্ষেপ করুন।
বিশিষ্ট সাহাবি আমর ইবনুল আস রাযি. এ সময় বনু কুযাআর জনপদে সদকা উসুলের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। খলিফা আবু বকর রাযি. তাকে শাম-অভিযানে প্রেরণের মনস্থ করে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
আল্লাহর রাসুল আপনাকে যে দায়িত্ব (অর্থাৎ সদকা উসুলের দায়িত্ব) প্রদান করতে চেয়েছিলেন এবং আপন ইচ্ছার কথা পুনরাবৃত্তিও করেছিলেন, আমি আপনাকে সে দায়িত্বই প্রদান করেছি। তবে (হে আবু আবদুল্লাহ,) এখন আমি আপনাকে এমন একটি কাজে নিয়োজিত করতে চাচ্ছি, যা আপনার জন্য উভয় জগতে অধিক কল্যাণকর হবে। অবশ্য আপনি এখন যে দায়িত্বে আছেন, তা আপনার কাছে বেশি ভালো মনে হলে সেখানেও থাকতে পারেন।
উত্তরে আমর ইবনুল আস রাযি. লিখে পাঠান—
আমি ইসলামের একটি তির আর আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসলামের তিরসমূহ নিক্ষেপ ও সংগ্রহের দায়িত্বশীল। সুতরাং আপনার দৃষ্টিতে যেখানে তির নিক্ষেপ করা বেশি জরুরি ও বেশি কল্যাণকর এবং পরিস্থিতি যেখানে বেশি নাজুক ও গুরুতর, আপনি ‘আমি তির’কে সেখানেই নিক্ষেপ করুন।
📄 শামে প্রাথমিক অভিযান
মুসলিম বাহিনী প্রথমে ফিলিস্তিন অঞ্চলের 'আরাবা' নামক এলাকায় ছয়জন রোমান সেনাপতির নেতৃত্বাধীন তিন হাজার সদস্যবিশিষ্ট একটি বাহিনীর মুখোমুখি হয়। মুসলমানরা তাদেরকে পরাজিত করে এবং একজন সেনাপতিকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। পরাজিত রোমান সৈন্যরা দাছিনা নামক স্থানে পুনরায় সমবেত হলে মুসলিম বাহিনী সেখানেও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।
পরপর দুটি যুদ্ধে রোমান বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং মুসলিম বাহিনীর দফারফার জন্য ব্যাপক সৈন্যসমাবেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখন খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি. খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. ও তার বাহিনীর একটি অংশকে ইরাকফ্রন্ট থেকে সরিয়ে শাম অঞ্চলে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি বলেন, 'আল্লাহর শপথ! খালিদের মাধ্যমে আমি রোমানদেরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ভুলিয়ে দেবো।'
এটি ত্রয়োদশ হিজরি সনের সফর মাসের (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের) ঘটনা।
খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর নির্দেশ পাওয়ামাত্র খালিদ রাযি. নয় হাজার সৈন্য নিয়ে শাম অভিমুখে রওনা হয়ে যান। দ্রুততম সময়ে শামে পৌঁছার জন্য তিনি সামাওয়া মরুভূমি নামে পরিচিত শামের মরু অঞ্চল পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথের দুর্গমতা ও পানিস্বল্পতার কারণে খালিদের বাহিনীর পূর্বে কোনো বাহিনী এই পথ পাড়ি দেয়নি। কিন্তু শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শামে গমনের জন্য খালিদ এই দুর্গম পথটিই বেছে নেন। তিনি চাচ্ছিলেন দ্রুততম সময়ে শত্রুপক্ষের কাছে উপস্থিত হয়ে পেছন থেকে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করতে।
সুদীর্ঘ ও সুকঠিন পথ পাড়ি দিয়ে খালিদ শামে পৌঁছান এবং ইতিপূর্বে খলিফা আবু বকর রাযি. কর্তৃক প্রেরিত চারটি বাহিনীর সেনাপতিদের সঙ্গে মিলিত হন। এ সময় খালিদ অনুভব করেন যে, সবগুলো বাহিনীকে এক নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে এসে একটি বৃহৎ একক বাহিনী গঠন করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সম্মিলিত বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নির্ধারণে সম্ভাব্য-সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে তিনি আশঙ্কা বোধ করছিলেন। অবশেষে খালিদ এমন চমৎকার একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার ফলে পূর্বে প্রেরিত চার বাহিনীর সেনাপতিগণসহ সকলে সন্তুষ্টচিত্তে একজন সর্বাধিনায়ককে মেনে নেয়। তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আসুন, আমরা বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব পালাক্রমে গ্রহণ করি। আজ একজনের দায়িত্ব থাকবে, আগামীকাল আরেকজনের, আগামী পরশু তৃতীয়জনের। এভাবে সকলেই এক-একদিন নেতৃত্বদান করবে। আর আজ আমাকেই দায়িত্ব দিন।
সকলে সেদিনের জন্য খালিদকেই সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নেয়। এরপর সকলেই উপলব্ধি করে যে, এই বিরাট বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন, নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ আর খালিদই এই দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তখন সকলে খালিদকেই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নেয়। (৮০) খালিদ পুরো বাহিনীকে এক হাজার সৈন্যবিশিষ্ট অনেকগুলো অংশে বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি অংশের প্রধান হিসেবে মুসলিম বাহিনীর শ্রেষ্ঠতম বীর-বাহাদুরদের নির্ধারণ করেন। এই নতুন বিন্যাসের ফলে মুসলিম বাহিনীকে তার স্বাভাবিক আকৃতির চেয়ে যথেষ্ট বড় মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
৮০. অবশ্য কোনো কোনো বর্ণনামতে স্বয়ং খliফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-ই খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে শামের মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নির্বাচিত করেছিলেন। দেখুন-ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/৬।
মুসলিম বাহিনী প্রথমে ফিলিস্তিন অঞ্চলের 'আরাবা' নামক এলাকায় ছয়জন রোমান সেনাপতির নেতৃত্বাধীন তিন হাজার সদস্যবিশিষ্ট একটি বাহিনীর মুখোমুখি হয়। মুসলমানরা তাদেরকে পরাজিত করে এবং একজন সেনাপতিকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। পরাজিত রোমান সৈন্যরা দাছিনা নামক স্থানে পুনরায় সমবেত হলে মুসলিম বাহিনী সেখানেও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।
পরপর দুটি যুদ্ধে রোমান বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং মুসলিম বাহিনীর দফারফার জন্য ব্যাপক সৈন্যসমাবেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখন খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি. খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. ও তার বাহিনীর একটি অংশকে ইরাকফ্রন্ট থেকে সরিয়ে শাম অঞ্চলে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি বলেন, 'আল্লাহর শপথ! খালিদের মাধ্যমে আমি রোমানদেরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ভুলিয়ে দেবো।'
এটি ত্রয়োদশ হিজরি সনের সফর মাসের (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের) ঘটনা।
খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর নির্দেশ পাওয়ামাত্র খালিদ রাযি. নয় হাজার সৈন্য নিয়ে শাম অভিমুখে রওনা হয়ে যান। দ্রুততম সময়ে শামে পৌঁছার জন্য তিনি সামাওয়া মরুভূমি নামে পরিচিত শামের মরু অঞ্চল পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথের দুর্গমতা ও পানিস্বল্পতার কারণে খালিদের বাহিনীর পূর্বে কোনো বাহিনী এই পথ পাড়ি দেয়নি। কিন্তু শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শামে গমনের জন্য খালিদ এই দুর্গম পথটিই বেছে নেন। তিনি চাচ্ছিলেন দ্রুততম সময়ে শত্রুপক্ষের কাছে উপস্থিত হয়ে পেছন থেকে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করতে।
সুদীর্ঘ ও সুকঠিন পথ পাড়ি দিয়ে খালিদ শামে পৌঁছান এবং ইতিপূর্বে খলিফা আবু বকর রাযি. কর্তৃক প্রেরিত চারটি বাহিনীর সেনাপতিদের সঙ্গে মিলিত হন। এ সময় খালিদ অনুভব করেন যে, সবগুলো বাহিনীকে এক নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে এসে একটি বৃহৎ একক বাহিনী গঠন করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সম্মিলিত বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নির্ধারণে সম্ভাব্য-সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে তিনি আশঙ্কা বোধ করছিলেন। অবশেষে খালিদ এমন চমৎকার একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার ফলে পূর্বে প্রেরিত চার বাহিনীর সেনাপতিগণসহ সকলে সন্তুষ্টচিত্তে একজন সর্বাধিনায়ককে মেনে নেয়। তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আসুন, আমরা বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব পালাক্রমে গ্রহণ করি। আজ একজনের দায়িত্ব থাকবে, আগামীকাল আরেকজনের, আগামী পরশু তৃতীয়জনের। এভাবে সকলেই এক-একদিন নেতৃত্বদান করবে। আর আজ আমাকেই দায়িত্ব দিন।
সকলে সেদিনের জন্য খালিদকেই সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নেয়। এরপর সকলেই উপলব্ধি করে যে, এই বিরাট বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন, নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ আর খালিদই এই দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তখন সকলে খালিদকেই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেনে নেয়। (৮০) খালিদ পুরো বাহিনীকে এক হাজার সৈন্যবিশিষ্ট অনেকগুলো অংশে বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি অংশের প্রধান হিসেবে মুসলিম বাহিনীর শ্রেষ্ঠতম বীর-বাহাদুরদের নির্ধারণ করেন। এই নতুন বিন্যাসের ফলে মুসলিম বাহিনীকে তার স্বাভাবিক আকৃতির চেয়ে যথেষ্ট বড় মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
৮০. অবশ্য কোনো কোনো বর্ণনামতে স্বয়ং খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-ই খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে শামের মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নির্বাচিত করেছিলেন। দেখুন-ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/৬।
📄 বুছরা বিজয়
এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. মুসলিম বাহিনীর একটি অংশ নিয়ে তৎকালীন শামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী বুছরা অবরোধ করেন। কঠিন অবরোধের একপর্যায়ে বুছরাবাসী নতি স্বীকার করে এবং জিজিয়ার বিনিময়ে সন্ধিচুক্তির প্রস্তাব দেয়। হজরত খালিদ রাযি. তাদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করেন।
ত্রয়োদশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) বুছরা বিজিত হয়। বুছরা ছিল শাম অঞ্চলে সন্ধির মাধ্যমে বিজিত প্রথম নগরী।
এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. মুসলিম বাহিনীর একটি অংশ নিয়ে তৎকালীন শামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী বুছরা অবরোধ করেন। কঠিন অবরোধের একপর্যায়ে বুছরাবাসী নতি স্বীকার করে এবং জিজিয়ার বিনিময়ে সন্ধিচুক্তির প্রস্তাব দেয়। হজরত খালিদ রাযি. তাদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করেন।
ত্রয়োদশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) বুছরা বিজিত হয়। বুছরা ছিল শাম অঞ্চলে সন্ধির মাধ্যমে বিজিত প্রথম নগরী।