📄 দুমাতুল জানদালের অভিযান
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইয়ায বিন গুনম রাযি.-এর নেতৃত্বে ইরাকের উদ্দেশে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি ইয়াযের বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ওয়ালিদ বিন উকবাকে প্রেরণ করেন। ইয়ায তখন তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল (৭১) অবরোধ করেছিলেন। ওয়ালিদ উপস্থিত হয়ে দেখতে পান যে, ইয়ায ইরাকের একপ্রান্তে এক গোত্রকে অবরোধ করে রেখেছেন আর তারাও ইয়াযের বাহিনীর পথ আগলে রেখেছে। অর্থাৎ ইয়াযও যেন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন! ওয়ালিদকে পেয়ে ইয়ায বলেন, অনেক সময় একটি সুপরামর্শ এক বিরাট বাহিনীর চেয়েও বেশি উপকার করে! বলুন তো, আমরা এ পরিস্থিতিতে কী করতে পারি?
ওয়ালিদ উত্তর দেন, আপনি খালিদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে তার বাহিনী নিয়ে আপনার সহায়তায় চলে আসতে বলুন। ওয়ালিদের পরামর্শে ইয়ায খালিদের কাছে সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। আইনুত তামারের অভিযান শেষ হতেই খালিদের কাছে ইয়াযের বার্তা এসে পৌঁছায়। উত্তরে খালিদ লিখে পাঠান—
খালিদের পক্ষ হতে ইয়াযের প্রতি। আমি তো আপনার কাছেই আসছি। لَبَّتْ قَلِيلًا تَأْتِكَ الْخَلَائِبُ * يَحْمِلْنَ آسَادًا عَلَيْهَا الْقَاشِبُ كَتَائِبُ تَتْبَعُهَا كَتَائِبُ
সামান্য ধৈর্য ধরুন, বাহনগুলো তো আপনার কাছেই চলে আসছে। বহন করে নিয়ে আসছে বিষধারী সিংহদেরকে। তারা আসছে দলে দলে, একের পর এক।
খালিদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল অভিমুখে রওনা হন। এদিকে খালিদের আগমন-সংবাদ জানামাত্র দুমাতুল জানদালের অধিবাসীদের মনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তাদের মিত্র বাহরা, কাল্ব, গাসসান ও তানুখ গোত্রের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। দুমাতুল জানদালের অন্যতম সর্দার উকায়দার পালিয়ে যাওয়ার পথে খালিদ-বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। উকায়দার ইতিপূর্বে নবীজির জীবদ্দশায় তাবুক অভিযানের সময় খালিদের কাছে আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে প্রতারণা করায় খালিদ ধৃত উকায়দারকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
উকায়দারের মৃত্যুর পর দুমাতুল জানদালের অধিবাসীরা জুদি বিন রাবিআ, ইবনুল হাদারজান ও ইবনুল আবহামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। খালিদ ও ইয়াযের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী তাদেরকে পরাভূত করে এবং প্রতিপক্ষের বহু সৈন্য নিহত হয়। আর দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মুসলিম বাহিনীর হাতে।
কৌশলগত দিক থেকে দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দুমাতুল জানদালে এসে মিলিত হয়েছিল—
• দক্ষিণ দিক থেকে আরব উপদ্বীপ।
• উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে ইরাক।
• উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শাম অঞ্চল।
এ কারণেই খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে এই নগরীর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। দুমাতুল জানদাল মুসলমানদের অধিকারে না এলে ইরাকে তাদের অবস্থান নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়ত।
টিকাঃ
৭১. দুমাতুল জানদাল: আধুনিক সউদি আরবের আল-জাওফ প্রদেশের একটি নগরী।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইয়ায বিন গুনম রাযি.-এর নেতৃত্বে ইরাকের উদ্দেশে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি ইয়াযের বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ওয়ালিদ বিন উকবাকে প্রেরণ করেন। ইয়ায তখন তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল (৭১) অবরোধ করেছিলেন। ওয়ালিদ উপস্থিত হয়ে দেখতে পান যে, ইয়ায ইরাকের একপ্রান্তে এক গোত্রকে অবরোধ করে রেখেছেন আর তারাও ইয়াযের বাহিনীর পথ আগলে রেখেছে। অর্থাৎ ইয়াযও যেন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন! ওয়ালিদকে পেয়ে ইয়ায বলেন, অনেক সময় একটি সুপরামর্শ এক বিরাট বাহিনীর চেয়েও বেশি উপকার করে! বলুন তো, আমরা এ পরিস্থিতিতে কী করতে পারি?
ওয়ালিদ উত্তর দেন, আপনি খালিদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে তার বাহিনী নিয়ে আপনার সহায়তায় চলে আসতে বলুন। ওয়ালিদের পরামর্শে ইয়ায খালিদের কাছে সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। আইনুত তামারের অভিযান শেষ হতেই খালিদের কাছে ইয়াযের বার্তা এসে পৌঁছায়। উত্তরে খালিদ লিখে পাঠান—
খালিদের পক্ষ হতে ইয়াযের প্রতি। আমি তো আপনার কাছেই আসছি। لَبَّتْ قَلِيلًا تَأْتِكَ الْخَلَائِبُ * يَحْمِلْنَ آسَادًا عَلَيْهَا الْقَاشِبُ كَتَائِبُ تَتْبَعُهَا كَتَائِبُ
সামান্য ধৈর্য ধরুন, বাহনগুলো তো আপনার কাছেই চলে আসছে। বহন করে নিয়ে আসছে বিষধারী সিংহদেরকে। তারা আসছে দলে দলে, একের পর এক।
খালিদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল অভিমুখে রওনা হন। এদিকে খালিদের আগমন-সংবাদ জানামাত্র দুমাতুল জানদালের অধিবাসীদের মনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তাদের মিত্র বাহরা, কাল্ব, গাসসান ও তানুখ গোত্রের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। দুমাতুল জানদালের অন্যতম সর্দার উকায়দার পালিয়ে যাওয়ার পথে খালিদ-বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। উকায়দার ইতিপূর্বে নবীজির জীবদ্দশায় তাবুক অভিযানের সময় খালিদের কাছে আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে প্রতারণা করায় খালিদ ধৃত উকায়দারকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
উকায়দারের মৃত্যুর পর দুমাতুল জানদালের অধিবাসীরা জুদি বিন রাবিআ, ইবনুল হাদারজান ও ইবনুল আবহামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। খালিদ ও ইয়াযের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী তাদেরকে পরাভূত করে এবং প্রতিপক্ষের বহু সৈন্য নিহত হয়। আর দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মুসলিম বাহিনীর হাতে।
কৌশলগত দিক থেকে দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দুমাতুল জানদালে এসে মিলিত হয়েছিল—
• দক্ষিণ দিক থেকে আরব উপদ্বীপ।
• উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে ইরাক।
• উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শাম অঞ্চল।
এ কারণেই খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে এই নগরীর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। দুমাতুল জানদাল মুসলমানদের অধিকারে না এলে ইরাকে তাদের অবস্থান নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়ত।
টিকাঃ
৭১. দুমাতুল জানদাল: আধুনিক সউদি আরবের আল-জাওফ প্রদেশের একটি নগরী।
📄 হুসায়দের যুদ্ধ
আরবের খ্রিষ্টান গোত্রগুলো তাদের নিহত নেতা আক্কার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারসিকদের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। তখন জারমেহের ও রোজবেহ নামক দুজন পারসিক সেনাপতি আনবারের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল হজরত খালিদ রাযি. কর্তৃক আনবারে নিযুক্ত মুসলিম প্রশাসক যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে হত্যা করে আনবার পুনরুদ্ধার করা। সংবাদ পেয়ে মুসলিম বাহিনীও রওনা হয়ে যায়। পথিমধ্যে হুসায়দে উভয় বাহিনীর সাক্ষাৎ হলে মুসলিম বাহিনী পারসিক-খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং শত্রুপক্ষের প্রধান জারমেহের ও রোজবেহসহ প্রচুর সৈন্যকে হত্যা করে। এখানেও মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করে। এ যুদ্ধকে খানাফিসের যুদ্ধও বলা হয়।
আরবের খ্রিষ্টান গোত্রগুলো তাদের নিহত নেতা আক্কার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারসিকদের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। তখন জারমেহের ও রোজবেহ নামক দুজন পারসিক সেনাপতি আনবারের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল হজরত খালিদ রাযি. কর্তৃক আনবারে নিযুক্ত মুসলিম প্রশাসক যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে হত্যা করে আনবার পুনরুদ্ধার করা। সংবাদ পেয়ে মুসলিম বাহিনীও রওনা হয়ে যায়। পথিমধ্যে হুসায়দে উভয় বাহিনীর সাক্ষাৎ হলে মুসলিম বাহিনী পারসিক-খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং শত্রুপক্ষের প্রধান জারমেহের ও রোজবেহসহ প্রচুর সৈন্যকে হত্যা করে। এখানেও মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করে। এ যুদ্ধকে খানাফিসের যুদ্ধও বলা হয়।
📄 মুছাইয়াখের যুদ্ধ
এরপর খালিদ সংবাদ পান যে, হুসায়দে পরাজিত সৈন্যরাসহ পারসিক বাহিনী এবার মুছাইয়াখে সমবেত হয়েছে। এবার তিনি এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম বাহিনীকে তিনভাগে বিভক্ত করে তিনটি ভিন্ন পথে এক রাতের মধ্যে শত্রুপক্ষের অবস্থানস্থলে পৌঁছার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে যায়। মুসলিম বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে শত্রুপক্ষ বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এরপর খালিদ জানতে পারেন যে, দিয়ারে বকরের মুছনা ও যুমায়ল অঞ্চলে কিছু আরব-খ্রিস্টান গোত্র পুনঃসংগঠিত হয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদ পেয়ে তিনি পূর্বের ন্যায় তিন দিক থেকে মুছনায় হঠাৎ আক্রমণ চালান এবং শত্রুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এরপর তিনি একই কায়দায় ঘুমায়লে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেখানেও শত্রুপক্ষের প্রভূত ক্ষতিসাধন করেন।
এরপর খালিদ সংবাদ পান যে, হুসায়দে পরাজিত সৈন্যরাসহ পারসিক বাহিনী এবার মুছাইয়াখে সমবেত হয়েছে। এবার তিনি এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম বাহিনীকে তিনভাগে বিভক্ত করে তিনটি ভিন্ন পথে এক রাতের মধ্যে শত্রুপক্ষের অবস্থানস্থলে পৌঁছার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে যায়। মুসলিম বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে শত্রুপক্ষ বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এরপর খালিদ জানতে পারেন যে, দিয়ারে বকরের মুছনা ও যুমায়ল অঞ্চলে কিছু আরব-খ্রিস্টান গোত্র পুনঃসংগঠিত হয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদ পেয়ে তিনি পূর্বের ন্যায় তিন দিক থেকে মুছনায় হঠাৎ আক্রমণ চালান এবং শত্রুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এরপর তিনি একই কায়দায় ঘুমায়লে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেখানেও শত্রুপক্ষের প্রভূত ক্ষতিসাধন করেন।
📄 ফিরাযের যুদ্ধ
দ্বাদশ হিজরির জিলহজ মাসের মধ্যভাগে (ফেব্রুয়ারি, ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) ফিরাযের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো তৎকালীন বিশ্বের প্রাচ্যের সর্ববৃহৎ শক্তি পারস্য সাম্রাজ্য ও প্রতীচ্যের সর্ববৃহৎ শক্তি রোমান সাম্রাজ্যের সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয়। পারস্য ও রোমান বাহিনীর সঙ্গে তাদের আরব মিত্র তাগলিব, ইয়াদ ও নামির গোত্রও যোগ দিয়েছিল। (৭২)
ফুরাতের দুই তীরে উভয় পক্ষের সৈন্যরা সমবেত হয়। দক্ষিণ তীরে মুসলিম বাহিনী আর উত্তর তীরে রোমান-পারসিক-আরব খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনী। শত্রুপক্ষ মুসলিম বাহিনীকে জিজ্ঞেস করে, তোমরা এপারে আসবে, নাকি আমরাই ওপারে গিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব? খালিদ উত্তর দেন, তোমরাই এপারে চলে এসো। তখন সম্মিলিত বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়—তাহলে তোমরা নদীর তীর হতে দূরে সরে আমাদের পার হওয়ার জায়গা করে দাও। খালিদ উত্তর দেন, না, তোমরা বরং কিছুটা দূরে সরে গিয়ে নদী পার হও। আমরা এখান থেকে সরছি না।
খালিদের উত্তর শুনে সম্মিলিত বাহিনীর নেতৃবৃন্দ চিন্তায় পড়ে যায়। নদী পাড়ি দেওয়া নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। একদল লোক বলে, 'আমাদের জন্য এই পারে নিজেদের এলাকায় অবস্থান করাই কল্যাণকর হবে। কারণ, এই লোক আপন দ্বীনের মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করছে আর সে যথেষ্ট প্রজ্ঞা ও রণকুশলতার অধিকারী। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই সে বিজয়ী হবে আর আমরা পরাজিত হয়ে অপদস্থ হব।'
অবশ্য শেষ পর্যন্ত নদী পাড়ি দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় এবং সম্মিলিত বাহিনী কিছুটা দূরে সরে গিয়ে তারপর নদী পার হয়। নদী পাড়ি দেওয়া শেষ হলে রোমান বাহিনীর নেতৃবৃন্দ অন্যদেরকে বলে, আমরা রোমান, পারসিক ও আরব গোত্রগুলো পরস্পর পৃথক হয়ে যুদ্ধ করব। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যেক দলের ভূমিকা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে এবং অপ্রীতিকর ফলাফল হলে বোঝা যাবে, কারা এর জন্য দায়ী।
উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর আল্লাহ তা'আলা মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। শত্রুপক্ষের হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয়। যুদ্ধশেষে সেনাপতি খালিদ দশদিন তার বাহিনী নিয়ে ফিরাযে অবস্থান করেন। এরপর তিনি সকলকে হিরায় প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন।
ফিরাযের যুদ্ধ ছিল ইরাকে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর নেতৃত্বে একাদশ যুদ্ধ। আর এই অভিযানের মাধ্যমেই ইরাকে তার অভিযান সমাপ্ত হয়।
টিকাঃ
৭২. ফুরাত নদীর তীরে অবস্থিত ফিরায নগরী পারস্য ও বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছিল। আর তাই ফিরাযে উভয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির একটি করে দুর্গ ছিল। পূর্বে কয়েক দশক ধরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত যুদ্ধ করলেও এ সময় তারা মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য জোটবদ্ধ হয়।
দ্বাদশ হিজরির জিলহজ মাসের মধ্যভাগে (ফেব্রুয়ারি, ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) ফিরাযের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো তৎকালীন বিশ্বের প্রাচ্যের সর্ববৃহৎ শক্তি পারস্য সাম্রাজ্য ও প্রতীচ্যের সর্ববৃহৎ শক্তি রোমান সাম্রাজ্যের সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয়। পারস্য ও রোমান বাহিনীর সঙ্গে তাদের আরব মিত্র তাগলিব, ইয়াদ ও নামির গোত্রও যোগ দিয়েছিল। (৭২)
ফুরাতের দুই তীরে উভয় পক্ষের সৈন্যরা সমবেত হয়। দক্ষিণ তীরে মুসলিম বাহিনী আর উত্তর তীরে রোমান-পারসিক-আরব খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনী। শত্রুপক্ষ মুসলিম বাহিনীকে জিজ্ঞেস করে, তোমরা এপারে আসবে, নাকি আমরাই ওপারে গিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব? খালিদ উত্তর দেন, তোমরাই এপারে চলে এসো। তখন সম্মিলিত বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়—তাহলে তোমরা নদীর তীর হতে দূরে সরে আমাদের পার হওয়ার জায়গা করে দাও। খালিদ উত্তর দেন, না, তোমরা বরং কিছুটা দূরে সরে গিয়ে নদী পার হও। আমরা এখান থেকে সরছি না।
খালিদের উত্তর শুনে সম্মিলিত বাহিনীর নেতৃবৃন্দ চিন্তায় পড়ে যায়। নদী পাড়ি দেওয়া নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। একদল লোক বলে, 'আমাদের জন্য এই পারে নিজেদের এলাকায় অবস্থান করাই কল্যাণকর হবে। কারণ, এই লোক আপন দ্বীনের মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করছে আর সে যথেষ্ট প্রজ্ঞা ও রণকুশলতার অধিকারী। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই সে বিজয়ী হবে আর আমরা পরাজিত হয়ে অপদস্থ হব।'
অবশ্য শেষ পর্যন্ত নদী পাড়ি দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় এবং সম্মিলিত বাহিনী কিছুটা দূরে সরে গিয়ে তারপর নদী পার হয়। নদী পাড়ি দেওয়া শেষ হলে রোমান বাহিনীর নেতৃবৃন্দ অন্যদেরকে বলে, আমরা রোমান, পারসিক ও আরব গোত্রগুলো পরস্পর পৃথক হয়ে যুদ্ধ করব। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যেক দলের ভূমিকা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে এবং অপ্রীতিকর ফলাফল হলে বোঝা যাবে, কারা এর জন্য দায়ী।
উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর আল্লাহ তা'আলা মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। শত্রুপক্ষের হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয়। যুদ্ধশেষে সেনাপতি খালিদ দশদিন তার বাহিনী নিয়ে ফিরাযে অবস্থান করেন। এরপর তিনি সকলকে হিরায় প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন।
ফিরাযের যুদ্ধ ছিল ইরাকে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর নেতৃত্বে একাদশ যুদ্ধ। আর এই অভিযানের মাধ্যমেই ইরাকে তার অভিযান সমাপ্ত হয়।
টিকাঃ
৭২. ফুরাত নদীর তীরে অবস্থিত ফিরায নগরী পারস্য ও বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছিল। আর তাই ফিরাযে উভয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির একটি করে দুর্গ ছিল। পূর্বে কয়েক দশক ধরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত যুদ্ধ করলেও এ সময় তারা মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য জোটবদ্ধ হয়।