📄 আনবার বিজয় (চোখের যুদ্ধ)
যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে আনবার এলাকার দায়িত্ব দিয়ে সেনাপতি খালিদ সামনে অগ্রসর হন। আইনুত তামারে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, সেখানে পারসিক সৈন্যরা সমবেত হয়েছে এবং নিজেদের দুর্গের চারপাশে পরিখা খনন করে সুরক্ষিত অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুসলিম বাহিনীকে দেখতে পেয়ে পারসিক সৈন্যরা দুর্গ-প্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে তামাশা দেখতে থাকে। মুসলিম বাহিনী আনবারের দুর্গ অবরোধ করে এবং খালিদের নির্দেশে প্রাচীরের ওপরে অবস্থানরত আনবারবাসীর চোখ লক্ষ্য করে তির ছুড়তে থাকে। প্রথমবারের নিক্ষেপেই প্রায় একহাজার সৈন্য চোখে আক্রান্ত হয়। এ কারণে এ যুদ্ধের নাম হয় 'চোখের যুদ্ধ'। আক্রান্ত পারসিক বাহিনী শর্তসাপেক্ষে সন্ধির আবেদন জানালে মুসলিম বাহিনীর নেতৃবৃন্দ শর্তযুক্ত সন্ধিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর খালিদ তার বাহিনী নিয়ে পরিখা পাড়ি দিয়ে দুর্গে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি বাহিনীর সঙ্গে থাকা দুর্বল ও বয়স্ক উটগুলো জবাই করেন এবং সেগুলোর মৃতদেহ ফেলে পরিখার তুলনামূলক সংকীর্ণ স্থানটি পূর্ণ করে ফেলেন। এরপর মুসলিম বাহিনী পরিখা পাড়ি দিয়ে দুর্গের কাছে চলে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে পারসিক সৈন্যরা দুর্গের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পারসিক বাহিনীর প্রধান শিরযাদ খালিদের প্রদত্ত শর্তেই সন্ধি করতে সম্মত হন। সিদ্ধান্ত হয়—শিরযাদ তার অশ্বারোহী সৈন্যদের প্রহরায় দুর্গ ছেড়ে চলে যাবেন; তবে কোনো সম্পদ বা আসবাবপত্র সঙ্গে নিতে পারবেন না।
যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে আনবার এলাকার দায়িত্ব দিয়ে সেনাপতি খালিদ সামনে অগ্রসর হন। আইনুত তামারে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, সেখানে পারসিক সৈন্যরা সমবেত হয়েছে এবং নিজেদের দুর্গের চারপাশে পরিখা খনন করে সুরক্ষিত অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুসলিম বাহিনীকে দেখতে পেয়ে পারসিক সৈন্যরা দুর্গ-প্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে তামাশা দেখতে থাকে। মুসলিম বাহিনী আনবারের দুর্গ অবরোধ করে এবং খালিদের নির্দেশে প্রাচীরের ওপরে অবস্থানরত আনবারবাসীর চোখ লক্ষ্য করে তির ছুড়তে থাকে। প্রথমবারের নিক্ষেপেই প্রায় একহাজার সৈন্য চোখে আক্রান্ত হয়। এ কারণে এ যুদ্ধের নাম হয় 'চোখের যুদ্ধ'। আক্রান্ত পারসিক বাহিনী শর্তসাপেক্ষে সন্ধির আবেদন জানালে মুসলিম বাহিনীর নেতৃবৃন্দ শর্তযুক্ত সন্ধিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর খালিদ তার বাহিনী নিয়ে পরিখা পাড়ি দিয়ে দুর্গে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি বাহিনীর সঙ্গে থাকা দুর্বল ও বয়স্ক উটগুলো জবাই করেন এবং সেগুলোর মৃতদেহ ফেলে পরিখার তুলনামূলক সংকীর্ণ স্থানটি পূর্ণ করে ফেলেন। এরপর মুসলিম বাহিনী পরিখা পাড়ি দিয়ে দুর্গের কাছে চলে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে পারসিক সৈন্যরা দুর্গের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পারসিক বাহিনীর প্রধান শিরযাদ খালিদের প্রদত্ত শর্তেই সন্ধি করতে সম্মত হন। সিদ্ধান্ত হয়—শিরযাদ তার অশ্বারোহী সৈন্যদের প্রহরায় দুর্গ ছেড়ে চলে যাবেন; তবে কোনো সম্পদ বা আসবাবপত্র সঙ্গে নিতে পারবেন না।
📄 আইনুত তামারের অভিযান
যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে আনবার এলাকার দায়িত্ব দিয়ে সেনাপতি খালিদ সামনে অগ্রসর হন। আইনুত তামারে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, সেখানে তামার, তাগলিব, ইয়াদ প্রভৃতি আরব-খ্রিষ্টান গোত্র তাদের মিত্রদের নিয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য বিশাল সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে আক্কা বিন আবু আক্কা। আরব-খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মেহরানের নেতৃত্বে একদল পারসিক সৈন্যও ছিল। আক্কা মেহরানের কাছে দাবি জানায় যে, খালিদ-বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য আরব-খ্রিষ্টান বাহিনীই যথেষ্ট, পারসিকদের কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। সে মেহরানকে বলে, আরবদের সঙ্গে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, তা আরবরাই ভালো জানে। সুতরাং খালিদের দফারফার দায়িত্ব আমাদের হাতেই ছেড়ে দিন। মেহরান এ প্রস্তাবকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে সম্মতি জানিয়ে বলে, ঠিক আছে, যাও, তোমরাই খেলা শেষ করে এসো। মেহরান তার সঙ্গীদের নিয়ে দুর্গের অভ্যন্তরেই অবস্থান করে যুদ্ধপরিস্থিতির সংবাদ নিতে থাকে।
খালিদ তার বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে আক্কার বাহিনীর মুখোমুখি হন। শত্রু বাহিনীকে অগ্রসর হতে দেখে খালিদ তার সৈন্যদের বলেন, তোমরা আপন আপন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকো। আমিই অগ্রসর হচ্ছি। তিনি তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের তার পেছনে থাকতে বলেন। খালিদ চাচ্ছিলেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দীর্ঘ পন্থাকে এড়িয়ে অল্প সময়ে যুদ্ধ শেষ করে দিতে। খালিদ কী করলেন?!
তিনি ধীর পদে আক্কার দিকে এগিয়ে গেলেন। আক্কা তখন তার সৈন্যদের সারিবিন্যাসে ব্যস্ত। খালিদ আক্কাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বন্দি করে ফেললেন।
এভাবে বিনাযুদ্ধেই আক্কার বাহিনী পরাজিত হয়। অনেকেই বন্দি হয়, বাকিরা পালিয়ে ছোটে আইনুত তামারের দুর্গের দিকে। দুর্গে পৌঁছে তারা দেখতে পায়, আক্কা-বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে মেহরান পারসিক সৈন্যদের নিয়ে দুর্গ ছেড়ে পালিয়েছে। শূন্য দুর্গে আক্কার অবশিষ্ট সৈনিকরা আশ্রয় নিয়ে দুর্গের দ্বার বন্ধ করে দেয়।
খালিদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুর্গ অবরোধ করেন। একসময় দুর্গে আশ্রয়গ্রহণকারীরা নতি স্বীকার করে এবং খালিদের নির্দেশে দুর্গ ছেড়ে নেমে আসে। খালিদ দুর্গের সামনেই আক্কা ও তার বন্দি সৈনিকদের শিরশ্ছেদের নির্দেশ দেন। দুর্গে গচ্ছিত সকল সম্পদ মুসলিম বাহিনী যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে লাভ করে। খালিদ দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত গির্জার একটি কক্ষ হতে চল্লিশটি কিশোরকে উদ্ধার করেন। রুদ্ধদ্বার কক্ষটিতে এসব কিশোরকে ইঞ্জিলের পাঠদান করা হতো। খালিদ তাদেরকে মুসলিম বাহিনীর সম্ভ্রান্ত আমিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন। এসব কিশোরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হজরত উসমান রাযি.-এর আজাদকৃত দাস হামরান, বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ বিন সিরিন রহ.-এর পিতা সিরিন প্রমুখ।
যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে আনবার এলাকার দায়িত্ব দিয়ে সেনাপতি খালিদ সামনে অগ্রসর হন। আইনুত তামারে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, সেখানে তামার, তাগলিব, ইয়াদ প্রভৃতি আরব-খ্রিষ্টান গোত্র তাদের মিত্রদের নিয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য বিশাল সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে আক্কা বিন আবু আক্কা। আরব-খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মেহরানের নেতৃত্বে একদল পারসিক সৈন্যও ছিল। আক্কা মেহরানের কাছে দাবি জানায় যে, খালিদ-বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য আরব-খ্রিষ্টান বাহিনীই যথেষ্ট, পারসিকদের কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। সে মেহরানকে বলে, আরবদের সঙ্গে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, তা আরবরাই ভালো জানে। সুতরাং খালিদের দফারফার দায়িত্ব আমাদের হাতেই ছেড়ে দিন। মেহরান এ প্রস্তাবকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে সম্মতি জানিয়ে বলে, ঠিক আছে, যাও, তোমরাই খেলা শেষ করে এসো। মেহরান তার সঙ্গীদের নিয়ে দুর্গের অভ্যন্তরেই অবস্থান করে যুদ্ধপরিস্থিতির সংবাদ নিতে থাকে।
খালিদ তার বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে আক্কার বাহিনীর মুখোমুখি হন। শত্রু বাহিনীকে অগ্রসর হতে দেখে খালিদ তার সৈন্যদের বলেন, তোমরা আপন আপন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকো। আমিই অগ্রসর হচ্ছি। তিনি তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের তার পেছনে থাকতে বলেন। খালিদ চাচ্ছিলেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দীর্ঘ পন্থাকে এড়িয়ে অল্প সময়ে যুদ্ধ শেষ করে দিতে। খালিদ কী করলেন?!
তিনি ধীর পদে আক্কার দিকে এগিয়ে গেলেন। আক্কা তখন তার সৈন্যদের সারিবিন্যাসে ব্যস্ত। খালিদ আক্কাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বন্দি করে ফেললেন।
এভাবে বিনাযুদ্ধেই আক্কার বাহিনী পরাজিত হয়। অনেকেই বন্দি হয়, বাকিরা পালিয়ে ছোটে আইনুত তামারের দুর্গের দিকে। দুর্গে পৌঁছে তারা দেখতে পায়, আক্কা-বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে মেহরান পারসিক সৈন্যদের নিয়ে দুর্গ ছেড়ে পালিয়েছে। শূন্য দুর্গে আক্কার অবশিষ্ট সৈনিকরা আশ্রয় নিয়ে দুর্গের দ্বার বন্ধ করে দেয়।
খaliদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুর্গ অবরোধ করেন। একসময় দুর্গে আশ্রয়গ্রহণকারীরা নতি স্বীকার করে এবং খালিদের নির্দেশে দুর্গ ছেড়ে নেমে আসে। খালিদ দুর্গের সামনেই আক্কা ও তার বন্দি সৈনিকদের শিরশ্ছেদের নির্দেশ দেন। দুর্গে গচ্ছিত সকল সম্পদ মুসলিম বাহিনী যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে লাভ করে। খালিদ দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত গির্জার একটি কক্ষ হতে চল্লিশটি কিশোরকে উদ্ধার করেন। রুদ্ধদ্বার কক্ষটিতে এসব কিশোরকে ইঞ্জিলের পাঠদান করা হতো। খালিদ তাদেরকে মুসলিম বাহিনীর সম্ভ্রান্ত আমিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন। এসব কিশোরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হজরত উসমান রাযি.-এর আজাদকৃত দাস হামরান, বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ বিন সিরিন রহ.-এর পিতা সিরিন প্রমুখ।
📄 দুমাতুল জানদালের অভিযান
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইয়ায বিন গুনম রাযি.-এর নেতৃত্বে ইরাকের উদ্দেশে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি ইয়াযের বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ওয়ালিদ বিন উকবাকে প্রেরণ করেন। ইয়ায তখন তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল (৭১) অবরোধ করেছিলেন। ওয়ালিদ উপস্থিত হয়ে দেখতে পান যে, ইয়ায ইরাকের একপ্রান্তে এক গোত্রকে অবরোধ করে রেখেছেন আর তারাও ইয়াযের বাহিনীর পথ আগলে রেখেছে। অর্থাৎ ইয়াযও যেন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন! ওয়ালিদকে পেয়ে ইয়ায বলেন, অনেক সময় একটি সুপরামর্শ এক বিরাট বাহিনীর চেয়েও বেশি উপকার করে! বলুন তো, আমরা এ পরিস্থিতিতে কী করতে পারি?
ওয়ালিদ উত্তর দেন, আপনি খালিদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে তার বাহিনী নিয়ে আপনার সহায়তায় চলে আসতে বলুন। ওয়ালিদের পরামর্শে ইয়ায খালিদের কাছে সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। আইনুত তামারের অভিযান শেষ হতেই খালিদের কাছে ইয়াযের বার্তা এসে পৌঁছায়। উত্তরে খালিদ লিখে পাঠান—
খালিদের পক্ষ হতে ইয়াযের প্রতি। আমি তো আপনার কাছেই আসছি। لَبَّتْ قَلِيلًا تَأْتِكَ الْخَلَائِبُ * يَحْمِلْنَ آسَادًا عَلَيْهَا الْقَاشِبُ كَتَائِبُ تَتْبَعُهَا كَتَائِبُ
সামান্য ধৈর্য ধরুন, বাহনগুলো তো আপনার কাছেই চলে আসছে। বহন করে নিয়ে আসছে বিষধারী সিংহদেরকে। তারা আসছে দলে দলে, একের পর এক।
খালিদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল অভিমুখে রওনা হন। এদিকে খালিদের আগমন-সংবাদ জানামাত্র দুমাতুল জানদালের অধিবাসীদের মনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তাদের মিত্র বাহরা, কাল্ব, গাসসান ও তানুখ গোত্রের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। দুমাতুল জানদালের অন্যতম সর্দার উকায়দার পালিয়ে যাওয়ার পথে খালিদ-বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। উকায়দার ইতিপূর্বে নবীজির জীবদ্দশায় তাবুক অভিযানের সময় খালিদের কাছে আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে প্রতারণা করায় খালিদ ধৃত উকায়দারকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
উকায়দারের মৃত্যুর পর দুমাতুল জানদালের অধিবাসীরা জুদি বিন রাবিআ, ইবনুল হাদারজান ও ইবনুল আবহামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। খালিদ ও ইয়াযের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী তাদেরকে পরাভূত করে এবং প্রতিপক্ষের বহু সৈন্য নিহত হয়। আর দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মুসলিম বাহিনীর হাতে।
কৌশলগত দিক থেকে দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দুমাতুল জানদালে এসে মিলিত হয়েছিল—
• দক্ষিণ দিক থেকে আরব উপদ্বীপ।
• উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে ইরাক।
• উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শাম অঞ্চল।
এ কারণেই খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে এই নগরীর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। দুমাতুল জানদাল মুসলমানদের অধিকারে না এলে ইরাকে তাদের অবস্থান নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়ত।
টিকাঃ
৭১. দুমাতুল জানদাল: আধুনিক সউদি আরবের আল-জাওফ প্রদেশের একটি নগরী।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইয়ায বিন গুনম রাযি.-এর নেতৃত্বে ইরাকের উদ্দেশে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি ইয়াযের বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ওয়ালিদ বিন উকবাকে প্রেরণ করেন। ইয়ায তখন তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল (৭১) অবরোধ করেছিলেন। ওয়ালিদ উপস্থিত হয়ে দেখতে পান যে, ইয়ায ইরাকের একপ্রান্তে এক গোত্রকে অবরোধ করে রেখেছেন আর তারাও ইয়াযের বাহিনীর পথ আগলে রেখেছে। অর্থাৎ ইয়াযও যেন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন! ওয়ালিদকে পেয়ে ইয়ায বলেন, অনেক সময় একটি সুপরামর্শ এক বিরাট বাহিনীর চেয়েও বেশি উপকার করে! বলুন তো, আমরা এ পরিস্থিতিতে কী করতে পারি?
ওয়ালিদ উত্তর দেন, আপনি খালিদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে তার বাহিনী নিয়ে আপনার সহায়তায় চলে আসতে বলুন। ওয়ালিদের পরামর্শে ইয়ায খালিদের কাছে সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান। আইনুত তামারের অভিযান শেষ হতেই খালিদের কাছে ইয়াযের বার্তা এসে পৌঁছায়। উত্তরে খালিদ লিখে পাঠান—
খালিদের পক্ষ হতে ইয়াযের প্রতি। আমি তো আপনার কাছেই আসছি। لَبَّتْ قَلِيلًا تَأْتِكَ الْخَلَائِبُ * يَحْمِلْنَ آسَادًا عَلَيْهَا الْقَاشِبُ كَتَائِبُ تَتْبَعُهَا كَتَائِبُ
সামান্য ধৈর্য ধরুন, বাহনগুলো তো আপনার কাছেই চলে আসছে। বহন করে নিয়ে আসছে বিষধারী সিংহদেরকে। তারা আসছে দলে দলে, একের পর এক।
খালিদ এবার তার বাহিনী নিয়ে দুমাতুল জানদাল অভিমুখে রওনা হন। এদিকে খালিদের আগমন-সংবাদ জানামাত্র দুমাতুল জানদালের অধিবাসীদের মনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তাদের মিত্র বাহরা, কাল্ব, গাসসান ও তানুখ গোত্রের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। দুমাতুল জানদালের অন্যতম সর্দার উকায়দার পালিয়ে যাওয়ার পথে খালিদ-বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। উকায়দার ইতিপূর্বে নবীজির জীবদ্দশায় তাবুক অভিযানের সময় খালিদের কাছে আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে প্রতারণা করায় খালিদ ধৃত উকায়দারকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
উকায়দারের মৃত্যুর পর দুমাতুল জানদালের অধিবাসীরা জুদি বিন রাবিআ, ইবনুল হাদারজান ও ইবনুল আবহামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। খালিদ ও ইয়াযের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী তাদেরকে পরাভূত করে এবং প্রতিপক্ষের বহু সৈন্য নিহত হয়। আর দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে মুসলিম বাহিনীর হাতে।
কৌশলগত দিক থেকে দুমাতুল জানদালের নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দুমাতুল জানদালে এসে মিলিত হয়েছিল—
• দক্ষিণ দিক থেকে আরব উপদ্বীপ।
• উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে ইরাক।
• উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শাম অঞ্চল।
এ কারণেই খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে এই নগরীর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। দুমাতুল জানদাল মুসলমানদের অধিকারে না এলে ইরাকে তাদের অবস্থান নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়ত।
টিকাঃ
৭১. দুমাতুল জানদাল: আধুনিক সউদি আরবের আল-জাওফ প্রদেশের একটি নগরী।
📄 হুসায়দের যুদ্ধ
আরবের খ্রিষ্টান গোত্রগুলো তাদের নিহত নেতা আক্কার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারসিকদের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। তখন জারমেহের ও রোজবেহ নামক দুজন পারসিক সেনাপতি আনবারের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল হজরত খালিদ রাযি. কর্তৃক আনবারে নিযুক্ত মুসলিম প্রশাসক যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে হত্যা করে আনবার পুনরুদ্ধার করা। সংবাদ পেয়ে মুসলিম বাহিনীও রওনা হয়ে যায়। পথিমধ্যে হুসায়দে উভয় বাহিনীর সাক্ষাৎ হলে মুসলিম বাহিনী পারসিক-খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং শত্রুপক্ষের প্রধান জারমেহের ও রোজবেহসহ প্রচুর সৈন্যকে হত্যা করে। এখানেও মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করে। এ যুদ্ধকে খানাফিসের যুদ্ধও বলা হয়।
আরবের খ্রিষ্টান গোত্রগুলো তাদের নিহত নেতা আক্কার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারসিকদের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে। তখন জারমেহের ও রোজবেহ নামক দুজন পারসিক সেনাপতি আনবারের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল হজরত খালিদ রাযি. কর্তৃক আনবারে নিযুক্ত মুসলিম প্রশাসক যিক্সিকান বিন বদর রাযি.-কে হত্যা করে আনবার পুনরুদ্ধার করা। সংবাদ পেয়ে মুসলিম বাহিনীও রওনা হয়ে যায়। পথিমধ্যে হুসায়দে উভয় বাহিনীর সাক্ষাৎ হলে মুসলিম বাহিনী পারসিক-খ্রিষ্টান সম্মিলিত বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং শত্রুপক্ষের প্রধান জারমেহের ও রোজবেহসহ প্রচুর সৈন্যকে হত্যা করে। এখানেও মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করে। এ যুদ্ধকে খানাফিসের যুদ্ধও বলা হয়।