📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওয়ালাজার যুদ্ধ

📄 ওয়ালাজার যুদ্ধ


তৎকালীন পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতি (কিসরা) তৃতীয় আরশিরের কাছে মাযারের যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার আরেক বিখ্যাত সেনাপতি আনদাযগিরকে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রেরণ করেন। আনদাযগিরের নেতৃত্বাধীন পারসিক বাহিনী ওয়ালাজা নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। পারসিক বাহিনীর সেনাসমাবেশ ও ওয়ালাজায় ঘাঁটি স্থাপনের সংবাদ পেয়ে খালিদ রাযি.-ও তার বাহিনী নিয়ে ওয়ালাজায় চলে যান। তিনি মুসলিম বাহিনীর পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ বিন মুকাররিন রাযি.-কে বিজিত অঞ্চলে অবস্থানের নির্দেশ দেন এবং পারসিক বাহিনীর ওপর পেছন দিক ও দুপাশ থেকে হামলা করার জন্য দুটি দলকে গোপনে অন্য পথে প্রেরণ করেন।
মূল মুসলিম বাহিনী ওয়ালাজায় পৌঁছার পর যুদ্ধ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী লড়াই চলতে থাকে। দু-পক্ষই যখন যুদ্ধ করে কিছুটা ক্লান্ত, ঠিক তখনই গোপনে ওত পেতে থাকা মুসলিম বাহিনীর অপর দুটি অংশ পারসিক বাহিনীর পেছন দিক থেকে হামলা করে। সামনের দিক থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদও পূর্ণ উদ্যমে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিশেহারা পারসিক বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং কঠিন ভীতির শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। পারস্য-সেনাপতি আনদাযগির পালিয়ে মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ফেলে এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মারা যায়। পারসিক বাহিনীর বহু সৈন্য নিহত হয়, বন্দিও হয় প্রচুর। কথিত আছে, এ যুদ্ধে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. এমন এক অনারবি ব্যক্তির সঙ্গে মল্লযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে একহাজার ব্যক্তির শক্তি রাখত। তিনি তাকে হত্যা করেন এবং তার লাশে হেলান দিয়ে সেদিনের আহার সারেন। (৬৮)

টিকাঃ
৬৮. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৪৫৪।
উল্লেখ্য, হজরত খালিদ রাযি.-এর এই আচরণ বাহ্যত দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কাফির প্রতিপক্ষের গর্ব ও দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা। শত্রুপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার ও তাদের যুদ্ধস্পৃহা দমন করার জন্য ইসলামে এ ধরনের আচরণের অবকাশ রয়েছে।

তৎকালীন পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতি (কিসরা) তৃতীয় আরশিরের কাছে মাযারের যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার আরেক বিখ্যাত সেনাপতি আনদাযগিরকে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রেরণ করেন। আনদাযগিরের নেতৃত্বাধীন পারসিক বাহিনী ওয়ালাজা নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। পারসিক বাহিনীর সেনাসমাবেশ ও ওয়ালাজায় ঘাঁটি স্থাপনের সংবাদ পেয়ে খালিদ রাযি.-ও তার বাহিনী নিয়ে ওয়ালাজায় চলে যান। তিনি মুসলিম বাহিনীর পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ বিন মুকাররিন রাযি.-কে বিজিত অঞ্চলে অবস্থানের নির্দেশ দেন এবং পারসিক বাহিনীর ওপর পেছন দিক ও দুপাশ থেকে হামলা করার জন্য দুটি দলকে গোপনে অন্য পথে প্রেরণ করেন।
মূল মুসলিম বাহিনী ওয়ালাজায় পৌঁছার পর যুদ্ধ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী লড়াই চলতে থাকে। দু-পক্ষই যখন যুদ্ধ করে কিছুটা ক্লান্ত, ঠিক তখনই গোপনে ওত পেতে থাকা মুসলিম বাহিনীর অপর দুটি অংশ পারসিক বাহিনীর পেছন দিক থেকে হামলা করে। সামনের দিক থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদও পূর্ণ উদ্যমে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিশেহারা পারসিক বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং কঠিন ভীতির শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। পারস্য-সেনাপতি আনদাযগির পালিয়ে মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ফেলে এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মারা যায়। পারসিক বাহিনীর বহু সৈন্য নিহত হয়, বন্দিও হয় প্রচুর। কথিত আছে, এ যুদ্ধে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. এমন এক অনারবি ব্যক্তির সঙ্গে মল্লযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে একহাজার ব্যক্তির শক্তি রাখত। তিনি তাকে হত্যা করেন এবং তার লাশে হেলান দিয়ে সেদিনের আহার সারেন। (৬৮)

টিকাঃ
৬৮. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৪৫৪।
উল্লেখ্য, হজরত খালিদ রাযি.-এর এই আচরণ বাহ্যত দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কাফির প্রতিপক্ষের গর্ব ও দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা। শত্রুপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার ও তাদের যুদ্ধস্পৃহা দমন করার জন্য ইসলামে এ ধরনের আচরণের অবকাশ রয়েছে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উল্লায়স (বা আমগিশায়া)-এর যুদ্ধ

📄 উল্লায়স (বা আমগিশায়া)-এর যুদ্ধ


ওয়ালাজার যুদ্ধে পারসিকদের পক্ষে আরব সীমান্তে বসবাসকারী বিভিন্ন আরব-খ্রিষ্টান গোত্রও অংশ নিয়েছিল। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল জনৈক গোত্রপ্রধান আবদুল আসওয়াদ আজালি। যুদ্ধশেষে খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে সংবাদ পৌঁছায়—যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া আরব-খ্রিষ্টানরা পুনরায় পারসিকদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং সম্রাট তৃতীয় আরদশিরের প্রেরিত আরেকটি বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে। নতুন এই বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন পারস্য-সেনাপতি জাবান। আরব-পারসিক সম্মিলিত বাহিনী আবদুল আসওয়াদ ও জাবানের নেতৃত্বে তৎকালীন ইরাকের অন্যতম বিখ্যাত নগরী আমগিশায়ার প্রবেশদ্বার উল্লায়স নামক এলাকায় অবস্থান করছিল।
সংবাদ পেয়েই খালিদ তার বাহিনী নিয়ে উল্লায়সে উপস্থিত হন। মুসলিম বাহিনীকে দেখতে পেয়ে সেনাপতি জাবান তার সৈন্যদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। কিন্তু সৈন্যরা মুসলিম বাহিনীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে আহারের প্রস্তুতি নিতে থাকে। যেন মুসলিম বাহিনী কোনো বিষয়ই নয়! মুসলিম সেনাপতি খালিদ কালবিলম্ব না করে পারসিক বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় দু-বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ।
শুরুর দিকে পারসিক বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে। তাদের আশা ছিল, শীঘ্রই রাজধানী মাদায়েন থেকে বিখ্যাত সেনাপতি বাহমানের নেতৃত্বে বিরাট সহায়ক বাহিনী পৌঁছে যাবে। মুসলিম বাহিনী প্রবল বিক্রম ও ধৈর্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যায়। সেনাপতি খালিদ রাযি. আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, হে আল্লাহ, আমাদের সাহায্য করা আপনার ইখতিয়ার। আপনি যদি শত্রুবাহিনীকে আমাদের কর্তৃত্বে এনে দেন, তাহলে তাদের সকলকে নিশ্চিহ্ন করব; এমনকি তাদের রক্তে নদী প্রবাহিত করব।
আল্লাহ পাক মুসলিম বাহিনীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং মুসলিম বাহিনী পারসিক বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। সেনাপতি খালিদের নির্দেশে যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোষণা করা হয়-শত্রুদেরকে হত্যা করো না, জীবিত আটক করো। কেবল তাকেই হত্যা করো, যে বাধা প্রদান করে। সেনাপতির নির্দেশে মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনী পারসিক সৈন্যদের বন্দি করতে থাকে। এরপর খালিদ তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এ যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর সত্তর হাজার সৈন্য নিহত হয়।
সেনাপতি খালিদ রাযি. বিজয়ের সুসংবাদ ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশসহ বনু আজাল গোত্রের জুনদুল নামক জনৈক ব্যক্তিকে খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর নিকট প্রেরণ করেন। বার্তাবাহকের কাছ থেকে বিস্তারিত অবগত হয়ে আবু বকর রাযি. উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
'হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমাদের সিংহ আরেক সিংহের ওপর জয়ী হয়েছে এবং তাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। হায়! আজকের নারীরা তো খালিদের ন্যায় সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়েছে!'

ওয়ালাজার যুদ্ধে পারসিকদের পক্ষে আরব সীমান্তে বসবাসকারী বিভিন্ন আরব-খ্রিষ্টান গোত্রও অংশ নিয়েছিল। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল জনৈক গোত্রপ্রধান আবদুল আসওয়াদ আজালি। যুদ্ধশেষে খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে সংবাদ পৌঁছায়—যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া আরব-খ্রিষ্টানরা পুনরায় পারসিকদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং সম্রাট তৃতীয় আরদশিরের প্রেরিত আরেকটি বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে। নতুন এই বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন পারস্য-সেনাপতি জাবান। আরব-পারসিক সম্মিলিত বাহিনী আবদুল আসওয়াদ ও জাবানের নেতৃত্বে তৎকালীন ইরাকের অন্যতম বিখ্যাত নগরী আমগিশায়ার প্রবেশদ্বার উল্লায়স নামক এলাকায় অবস্থান করছিল।
সংবাদ পেয়েই খালিদ তার বাহিনী নিয়ে উল্লায়সে উপস্থিত হন। মুসলিম বাহিনীকে দেখতে পেয়ে সেনাপতি জাবান তার সৈন্যদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। কিন্তু সৈন্যরা মুসলিম বাহিনীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে আহারের প্রস্তুতি নিতে থাকে। যেন মুসলিম বাহিনী কোনো বিষয়ই নয়! মুসলিম সেনাপতি খালিদ কালবিলম্ব না করে পারসিক বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় দু-বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ।
শুরুর দিকে পারসিক বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে। তাদের আশা ছিল, শীঘ্রই রাজধানী মাদায়েন থেকে বিখ্যাত সেনাপতি বাহমানের নেতৃত্বে বিরাট সহায়ক বাহিনী পৌঁছে যাবে। মুসলিম বাহিনী প্রবল বিক্রম ও ধৈর্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যায়। সেনাপতি খালিদ রাযি. আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, হে আল্লাহ, আমাদের সাহায্য করা আপনার ইখতিয়ার। আপনি যদি শত্রুবাহিনীকে আমাদের কর্তৃত্বে এনে দেন, তাহলে তাদের সকলকে নিশ্চিহ্ন করব; এমনকি তাদের রক্তে নদী প্রবাহিত করব।
আল্লাহ পাক মুসলিম বাহিনীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং মুসলিম বাহিনী পারসিক বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। সেনাপতি খালিদের নির্দেশে যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোষণা করা হয়-শত্রুদেরকে হত্যা করো না, জীবিত আটক করো। কেবল তাকেই হত্যা করো, যে বাধা প্রদান করে। সেনাপতির নির্দেশে মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনী পারসিক সৈন্যদের বন্দি করতে থাকে। এরপর খালিদ তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এ যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর সত্তর হাজার সৈন্য নিহত হয়।
সেনাপতি খালিদ রাযি. বিজয়ের সুসংবাদ ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশসহ বনু আজাল গোত্রের জুনদুল নামক জনৈক ব্যক্তিকে খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর নিকট প্রেরণ করেন। বার্তাবাহকের কাছ থেকে বিস্তারিত অবগত হয়ে আবু বকর রাযি. উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
'হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমাদের সিংহ আরেক সিংহের ওপর জয়ী হয়েছে এবং তাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। হায়! আজকের নারীরা তো খালিদের ন্যায় সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়েছে!'

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হিরা বিজয়

📄 হিরা বিজয়


আমগিশায়ায় খালিদ-বাহিনীর নিরঙ্কুশ বিজয়ের সংবাদ হিরা নগরীর পারসিক মারযাবান (প্রশাসক) (৬৯) আযাযবেহর কাছে পৌঁছে যায়। তিনি নিশ্চিত উপলব্ধি করেন যে, খালিদের হিরা-অভিযান অত্যাসন্ন। আযাযবেহ জানতেন—খালিদ নদীপথে হিরায় আগমন করবেন। মুসলিম বাহিনীর নৌপথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে তিনি তার পুত্রের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে ফুরাত নদীর স্রোতধারা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি নিজে মূল বাহিনী নিয়ে হিরা নগরীর বাইরের অংশে এসে শিবির স্থাপন করেন এবং খালিদের অপেক্ষা করতে থাকেন।
এদিকে খালিদ তার বাহিনী নিয়ে নৌপথে উত্তরে হিরা-অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু নদীতে বাঁধ দেওয়ায় পানিস্বল্পতার কারণে নৌযানগুলো নদীর তলদেশে আটকে যায়। ক্রুদ্ধ খালিদ শত্রুপক্ষের খোঁজ করতেই আযাযবেহর পুত্রকে পেয়ে যান এবং তাকে হত্যা করেন। এরপর তিনি দ্রুত নদী থেকে উঠে এসে তীরে অবস্থানরত বাহিনীর মুখোমুখি হন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সকলকে হত্যা করেন। খালিদ আযাযবেহর অবগতির পূর্বেই দ্রুত হিরায় পৌঁছতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বাঁধ কেটে দেন। ফলে নদীর প্রবাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যায়। খালিদ তার বাহিনী নিয়ে হিরা-অভিমুখে অগ্রসর হন। এদিকে আযাযবেহ পুত্রের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভীত হয়ে পড়েন এবং লড়াইয়ের পরিবর্তে ফুরাত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে চলে যান। খালিদ নজফ হয়ে হিরায় পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। তিনি জানতে পারেন—হিরাবাসী সকলে দুর্গে আশ্রয় নিয়েছে। হিরা নগরীতে মোট চারটি দুর্গ ছিল। খালিদ তৎক্ষণাৎ দুর্গগুলো অবরোধ করার জন্য প্রতিটি দুর্গের জন্য একজন করে সেনাপতিকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
শ্বেতপ্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন আযওয়ার রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আরব-খ্রিষ্টান সরদার ইয়াস বিন কুবায়ছা তাঈ।
আদাসিন প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন খাত্তাব রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আদি বিন আদি আবাদি।
বনু মাযিনের প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন মুকাররিন রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল হিরি বিন আক্কাল।
ইবনে বুকায়লার প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় মুসান্না বিন হারিছা রহ.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আমর বিন আবদুল মাছিহ।
খালিদ রাযি. প্রত্যেক সেনাপতিকে নির্দেশ দেন-অবরুদ্ধদের প্রথমে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করতে হবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে, তাহলে তা সানন্দে গৃহীত হবে। আর যদি তারা অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে চিন্তাভাবনা করার জন্য এক দিনের অবকাশ দেওয়া হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
অবরুদ্ধ হিরাবাসী ইসলামগ্রহণ বা আত্মসমর্পণের পরিবর্তে যুদ্ধকেই বেছে নেয়। তারা অবরোধকারী মুসলিম বাহিনীর ওপর প্রাচীরের ভেতর থেকে পাথর ছুড়তে থাকে। মুসলিম বাহিনী তির ছুড়ে পাল্টা জবাব প্রদান করে। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ হিরাবাসী নতি স্বীকার করে এবং মুসলিম বাহিনীর প্রধান সেনাপতি খালিদের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানায়। খালিদের সম্মতিতে প্রত্যেক প্রাসাদের অধিবাসীরা পৃথকভাবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য ভর্ৎসনা করেন। এরপর হিরাবাসী বার্ষিক এক লক্ষ নব্বই হাজার দিরহাম জিজিয়া প্রদানের শর্তে সন্ধিচুক্তি করে (৭০) এবং প্রচুর উপঢৌকন প্রদান করে। খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. বিজয়ের সুসংবাদ জানাতে জনৈক বার্তাবাহককে উপঢৌকনসহ খলিফার দরবারে পাঠিয়ে দেন।

টিকাঃ
৬৯. মারযাবান কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম নয়; বরং তৎকালীন পারস্যের বিভিন্ন নগরীর গভর্নর, সেনাপতি ও বীরযোদ্ধাদের আরবরা 'মারযাবান' অভিহিত করত।
৭০. আমর বিন আবদুল মাছিহ এই সন্ধিচুক্তি সম্পাদনে মূল ভূমিকা রেখেছিল। সে খালিদ রাযি.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় একটি থলে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। খালিদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'থলের মধ্যে কী আছে?' উত্তরে সে জানায় যে, থলের মধ্যে বিষ রাখা আছে। খালিদ তাকে সঙ্গে বিষ রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়, 'আমার কওম যদি কোনো দুরবস্থার শিকার হয়, তাহলে আমি এটা খেয়ে ফেলব। কারণ, কওমের দুরবস্থা দেখার চেয়ে মৃত্যুই আমার জন্য শ্রেয়। তখন খালিদ বিষটুকু হাতে নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে খেয়ে ফেলেন এবং বলেন, 'কোনো মানুষ আল্লাহ-নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কখনো মারা যায় না।' আমর বিন আবদুল মাছিহ এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যায় এবং মন্তব্য করে, 'এমন একজন লোকও যদি আরবদের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা যেকোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।' এরপর আমর অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করে।

আমগিশায়ায় খালিদ-বাহিনীর নিরঙ্কুশ বিজয়ের সংবাদ হিরা নগরীর পারসিক মারযাবান (প্রশাসক) (৬৯) আযাযবেহর কাছে পৌঁছে যায়। তিনি নিশ্চিত উপলব্ধি করেন যে, খালিদের হিরা-অভিযান অত্যাসন্ন। আযাযবেহ জানতেন—খালিদ নদীপথে হিরায় আগমন করবেন। মুসলিম বাহিনীর নৌপথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে তিনি তার পুত্রের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে ফুরাত নদীর স্রোতধারা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি নিজে মূল বাহিনী নিয়ে হিরা নগরীর বাইরের অংশে এসে শিবির স্থাপন করেন এবং খালিদের অপেক্ষা করতে থাকেন।
এদিকে খালিদ তার বাহিনী নিয়ে নৌপথে উত্তরে হিরা-অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু নদীতে বাঁধ দেওয়ায় পানিস্বল্পতার কারণে নৌযানগুলো নদীর তলদেশে আটকে যায়। ক্রুদ্ধ খালিদ শত্রুপক্ষের খোঁজ করতেই আযাযবেহর পুত্রকে পেয়ে যান এবং তাকে হত্যা করেন। এরপর তিনি দ্রুত নদী থেকে উঠে এসে তীরে অবস্থানরত বাহিনীর মুখোমুখি হন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সকলকে হত্যা করেন। খালিদ আযাযবেহর অবগতির পূর্বেই দ্রুত হিরায় পৌঁছতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বাঁধ কেটে দেন। ফলে নদীর প্রবাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যায়। খালিদ তার বাহিনী নিয়ে হিরা-অভিমুখে অগ্রসর হন। এদিকে আযাযবেহ পুত্রের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভীত হয়ে পড়েন এবং লড়াইয়ের পরিবর্তে ফুরাত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে চলে যান। খালিদ নজফ হয়ে হিরায় পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। তিনি জানতে পারেন—হিরাবাসী সকলে দুর্গে আশ্রয় নিয়েছে। হিরা নগরীতে মোট চারটি দুর্গ ছিল। খালিদ তৎক্ষণাৎ দুর্গগুলো অবরোধ করার জন্য প্রতিটি দুর্গের জন্য একজন করে সেনাপতিকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
শ্বেতপ্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন আযওয়ার রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আরব-খ্রিষ্টান সরদার ইয়াস বিন কুবায়ছা তাঈ।
আদাসিন প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন খাত্তাব রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আদি বিন আদি আবাদি।
বনু মাযিনের প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় যিরার বিন মুকাররিন রাযি.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল হিরি বিন আক্কাল।
ইবনে বুকায়লার প্রাসাদ অবরোধের দায়িত্ব প্রদান করা হয় মুসান্না বিন হারিছা রহ.-কে। এ প্রাসাদে আশ্রয়গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে ছিল আমর বিন আবদুল মাছিহ।
খালিদ রাযি. প্রত্যেক সেনাপতিকে নির্দেশ দেন-অবরুদ্ধদের প্রথমে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করতে হবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে, তাহলে তা সানন্দে গৃহীত হবে। আর যদি তারা অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে চিন্তাভাবনা করার জন্য এক দিনের অবকাশ দেওয়া হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
অবরুদ্ধ হিরাবাসী ইসলামগ্রহণ বা আত্মসমর্পণের পরিবর্তে যুদ্ধকেই বেছে নেয়। তারা অবরোধকারী মুসলিম বাহিনীর ওপর প্রাচীরের ভেতর থেকে পাথর ছুড়তে থাকে। মুসলিম বাহিনী তির ছুড়ে পাল্টা জবাব প্রদান করে। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ হিরাবাসী নতি স্বীকার করে এবং মুসলিম বাহিনীর প্রধান সেনাপতি খালিদের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানায়। খালিদের সম্মতিতে প্রত্যেক প্রাসাদের অধিবাসীরা পৃথকভাবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য ভর্ৎসনা করেন। এরপর হিরাবাসী বার্ষিক এক লক্ষ নব্বই হাজার দিরহাম জিজিয়া প্রদানের শর্তে সন্ধিচুক্তি করে (৭০) এবং প্রচুর উপঢৌকন প্রদান করে। খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. বিজয়ের সুসংবাদ জানাতে জনৈক বার্তাবাহককে উপঢৌকনসহ খলিফার দরবারে পাঠিয়ে দেন।

টিকাঃ
৬৯. মারযাবান কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম নয়; বরং তৎকালীন পারস্যের বিভিন্ন নগরীর গভর্নর, সেনাপতি ও বীরযোদ্ধাদের আরবরা 'মারযাবান' অভিহিত করত।
৭০. আমর বিন আবদুল মাছিহ এই সন্ধিচুক্তি সম্পাদনে মূল ভূমিকা রেখেছিল। সে খালিদ রাযি.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় একটি থলে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। খালিদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'থলের মধ্যে কী আছে?' উত্তরে সে জানায় যে, থলের মধ্যে বিষ রাখা আছে। খালিদ তাকে সঙ্গে বিষ রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়, 'আমার কওম যদি কোনো দুরবস্থার শিকার হয়, তাহলে আমি এটা খেয়ে ফেলব। কারণ, কওমের দুরবস্থা দেখার চেয়ে মৃত্যুই আমার জন্য শ্রেয়। তখন খালিদ বিষটুকু হাতে নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে খেয়ে ফেলেন এবং বলেন, 'কোনো মানুষ আল্লাহ-নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কখনো মারা যায় না।' আমর বিন আবদুল মাছিহ এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যায় এবং মন্তব্য করে, 'এমন একজন লোকও যদি আরবদের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা যেকোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।' এরপর আমর অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্রষ্টব্য : মুসলমানদের চারিত্রিক মহত্ত্ব, উদারতা ও সম্পদ-বিরাগ

📄 দ্রষ্টব্য : মুসলমানদের চারিত্রিক মহত্ত্ব, উদারতা ও সম্পদ-বিরাগ


খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে হিরাবাসীর প্রেরিত উপহার-উপঢৌকন পৌঁছলে তিনি তা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি একে উপহার গণ্য না করে হিরাবাসীর জিজিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য করেন। খলিফার উদ্দেশ্য ছিল একদিকে শরীয়তনিষিদ্ধ লেনদেন থেকে আত্মরক্ষা করা, অপরদিকে জনগণের সম্পদ হাদিয়া-উপঢৌকনের নামে আত্মসাৎ করার অনারবি কুপ্রথার মূলোৎপাটন করা।
সেনাপতি খালিদ রাযি. হিরাবাসীকে প্রদত্ত সন্ধিচুক্তিতে লেখেন-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
এটি খালিদ বিন ওয়ালিদের পক্ষ থেকে আদিপুত্র আমর ও আদি, আমর বিন আবদুল মাছিহ, ইয়াছ বিন কুবায়ছা ও হিরি বিন আক্কালের সঙ্গে কৃত চুক্তিনামা। তারা প্রত্যেকে হিরাবাসীর প্রতিনিধি। হিরাবাসী এ চুক্তিতে রাজি আছে এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচিত করেছে। খালিদ তাদের সঙ্গে বার্ষিক এক লক্ষ নব্বই হাজার দিরহামের বিনিময়ে সন্ধিচুক্তি করছে। এই জিজিয়া তাদের সাধু-পুরোহিতসহ সকলের দুনিয়াপ্রীতির শাস্তি এবং তাদের নিরাপত্তাপ্রদানের বিনিময়। অবশ্য যারা দুনিয়াবিমুখ ও দুনিয়া পরিত্যাগকারী, তাদের কথা ভিন্ন। মুসলিম বাহিনী যদি হিরাবাসীকে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে আর তাদের জিজিয়া প্রদান করতে হবে না। আর যদি তারা কথা-কাজে কোনো প্রকার প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাহলে তাদের প্রদত্ত নিরাপত্তা বহাল থাকবে না।
পারস্যের মূল কেন্দ্রস্থল ও রাজধানী মাদায়েনে আক্রমণ করার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ইরাকজয়ের যে স্বপ্ন খলিফা আবু বকর রাযি.-এর ছিল, হিরা বিজয়ের মাধ্যমে তার একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করেন এবং বিস্ময়কর স্বল্পতম সময়ে হিরায় পৌঁছতে সক্ষম হন। তিনি ইরাক অভিযান শুরু করেন দ্বাদশ হিজরির মুহাররম মাসে আর একই বছরের রবিউল আউয়াল মাসে হিরা বিজয় করেন। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে খালিদের এই অভিযান পূর্ণতায় পৌঁছায়।

খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর রাযি.-এর কাছে হিরাবাসীর প্রেরিত উপহার-উপঢৌকন পৌঁছলে তিনি তা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি একে উপহার গণ্য না করে হিরাবাসীর জিজিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য করেন। খলিফার উদ্দেশ্য ছিল একদিকে শরীয়তনিষিদ্ধ লেনদেন থেকে আত্মরক্ষা করা, অপরদিকে জনগণের সম্পদ হাদিয়া-উপঢৌকনের নামে আত্মসাৎ করার অনারবি কুপ্রথার মূলোৎপাটন করা।
সেনাপতি খালিদ রাযি. হিরাবাসীকে প্রদত্ত সন্ধিচুক্তিতে লেখেন-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
এটি খালিদ বিন ওয়ালিদের পক্ষ থেকে আদিপুত্র আমর ও আদি, আমর বিন আবদুল মাছিহ, ইয়াছ বিন কুবায়ছা ও হিরি বিন আক্কালের সঙ্গে কৃত চুক্তিনামা। তারা প্রত্যেকে হিরাবাসীর প্রতিনিধি। হিরাবাসী এ চুক্তিতে রাজি আছে এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচিত করেছে। খালিদ তাদের সঙ্গে বার্ষিক এক লক্ষ নব্বই হাজার দিরহামের বিনিময়ে সন্ধিচুক্তি করছে। এই জিজিয়া তাদের সাধু-পুরোহিতসহ সকলের দুনিয়াপ্রীতির শাস্তি এবং তাদের নিরাপত্তাপ্রদানের বিনিময়। অবশ্য যারা দুনিয়াবিমুখ ও দুনিয়া পরিত্যাগকারী, তাদের কথা ভিন্ন। মুসলিম বাহিনী যদি হিরাবাসীকে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে আর তাদের জিজিয়া প্রদান করতে হবে না। আর যদি তারা কথা-কাজে কোনো প্রকার প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাহলে তাদের প্রদত্ত নিরাপত্তা বহাল থাকবে না।
পারস্যের মূল কেন্দ্রস্থল ও রাজধানী মাদায়েনে আক্রমণ করার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ইরাকজয়ের যে স্বপ্ন খলিফা আবু বকর রাযি.-এর ছিল, হিরা বিজয়ের মাধ্যমে তার একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করেন এবং বিস্ময়কর স্বল্পতম সময়ে হিরায় পৌঁছতে সক্ষম হন। তিনি ইরাক অভিযান শুরু করেন দ্বাদশ হিজরির মুহাররম মাসে আর একই বছরের রবিউল আউয়াল মাসে হিরা বিজয় করেন। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে খালিদের এই অভিযান পূর্ণতায় পৌঁছায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00