📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইরাকে পরিচালিত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর অভিযানসমূহ

📄 ইরাকে পরিচালিত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর অভিযানসমূহ


📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শিকলের যুদ্ধ

📄 শিকলের যুদ্ধ


খলিফার নির্দেশনা মোতাবেক খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার বাহিনী নিয়ে উবুল্লা রওনা হয়ে যান। প্রথমে তিনি ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারস্য সাম্রাজ্যের সীমান্তনগরী উবুল্লার গভর্নর হরমুষের কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, ইসলামগ্রহণ করো, তাহলে নিরাপদ থাকবে। অথবা নিজের ও আপন কওমের জন্য নিরাপত্তাচুক্তি করে নাও এবং জিজিয়া প্রদান করো। দুটির একটিও গ্রহণ না করলে পরিণতির জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দায়ী করতে পারবে না। কারণ, আমি এমন একদল সৈন্য নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে এসেছি, যারা মৃত্যুকে ততটাই ভালোবাসে, যতটা তোমরা ভালোবাসো জীবনকে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন মুসান্না বিন হারিসা রহ.-কে, মধ্যবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন আদি বিন হাতিম তাঈ রাযি.-কে আর শেষ অংশটির নেতৃত্ব রাখেন নিজের হাতে। তিনি নির্দেশ জারি করেন যে, প্রতিটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন পথে সামনে অগ্রসর হবে।
উবুল্লার গভর্নর ও শত্রুবাহিনীর প্রধান হরমুয খালিদের বাহিনীর আগমন-সংবাদ এবং খালিদের বার্তা পেয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় নিজেই অগ্রসর হয়। যুদ্ধ শুরু হলে আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করে। পারস্য-সেনাপতি হরমুয খালিদকে হত্যা করার জন্য শঠতা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলেও মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কা'কা' বিন আমর রাযি. তার কূটকৌশল ধরে ফেলেন এবং খালিদকে উদ্ধার করেন। এরপর হরমুয খালিদের হাতে নিহত হয়।
পারসিক বাহিনী এ যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিল। সৈন্যরা যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যায়, এজন্য তারা পরস্পরকে শিকল দ্বারা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল তাদের কাছেই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। এ কারণেই এ যুদ্ধের নামকরণ করা হয় ‘যাতুস সালাসিল’ বা শিকলের যুদ্ধ। (৬৭)

টিকাঃ
৬৭. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ও যাতুস সালাসিল নামে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে নবীজির প্রেরিত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হজরত আমর ইবনুল আস রাযি।

খলিফার নির্দেশনা মোতাবেক খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার বাহিনী নিয়ে উবুল্লা রওনা হয়ে যান। প্রথমে তিনি ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারস্য সাম্রাজ্যের সীমান্তনগরী উবুল্লার গভর্নর হরমুষের কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, ইসলামগ্রহণ করো, তাহলে নিরাপদ থাকবে। অথবা নিজের ও আপন কওমের জন্য নিরাপত্তাচুক্তি করে নাও এবং জিজিয়া প্রদান করো। দুটির একটিও গ্রহণ না করলে পরিণতির জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দায়ী করতে পারবে না। কারণ, আমি এমন একদল সৈন্য নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে এসেছি, যারা মৃত্যুকে ততটাই ভালোবাসে, যতটা তোমরা ভালোবাসো জীবনকে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন মুসান্না বিন হারিসা রহ.-কে, মধ্যবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন আদি বিন হাতিম তাঈ রাযি.-কে আর শেষ অংশটির নেতৃত্ব রাখেন নিজের হাতে। তিনি নির্দেশ জারি করেন যে, প্রতিটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন পথে সামনে অগ্রসর হবে।
উবুল্লার গভর্নর ও শত্রুবাহিনীর প্রধান হরমুয খালিদের বাহিনীর আগমন-সংবাদ এবং খালিদের বার্তা পেয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় নিজেই অগ্রসর হয়। যুদ্ধ শুরু হলে আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করে। পারস্য-সেনাপতি হরমুয খালিদকে হত্যা করার জন্য শঠতা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলেও মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কা'কা' বিন আমর রাযি. তার কূটকৌশল ধরে ফেলেন এবং খালিদকে উদ্ধার করেন। এরপর হরমুয খালিদের হাতে নিহত হয়।
পারসিক বাহিনী এ যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিল। সৈন্যরা যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যায়, এজন্য তারা পরস্পরকে শিকল দ্বারা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল তাদের কাছেই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। এ কারণেই এ যুদ্ধের নামকরণ করা হয় ‘যাতুস সালাসিল’ বা শিকলের যুদ্ধ। (৬৭)

টিকাঃ
৬৭. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ও যাতুস সালাসিল নামে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে নবীজির প্রেরিত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হজরত আমর ইবনুল আস রাযি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মাযারের যুদ্ধ

📄 মাযারের যুদ্ধ


দ্বাদশ হিজরির সফর মাসে (৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট হলো—যাতুস সালালিলের যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই সেনাপতি হরমুয পারস্য-সম্রাটের নিকট দূত পাঠিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের বার্তা সম্পর্কে অবগত করে এবং অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণের আবেদন জানায়। তখন পারস্য সম্রাট তার বিখ্যাত সেনাপতি কারিনের নেতৃত্বে সহায়ক বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু কারিন পৌঁছার পূর্বেই হরমুয তার মূল বাহিনী নিয়ে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
পরাজিত বাহিনীর বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা পালিয়ে কারিনের সঙ্গে মিলিত হয়। কারিন মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য মাযার নামক এলাকায় শিবির স্থাপন করে।
শিকলের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর মুসলিম সেনাপতি খালিদ রাযি. মুসান্না বিন হারিসা ও তার ভাই মুআন্নার নেতৃত্বে একদল মুসলিম সৈন্যকে শত্রুবাহিনীর পলায়নরত অংশের পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয় এবং মাযার এলাকায় পারস্য বাহিনীর সৈন্যসমাবেশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করে। মুসান্নার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয়ে মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ খলিফাতুল মুসলিমিনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তার বাহিনী নিয়ে মাযারে পৌঁছান। খালিদ যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলেন।
উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পারসিক বাহিনীর সেনাপতি কারিন খালিদকে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানালে খালিদ অগ্রসর হন। কিন্তু তার পূর্বেই মা'কাল ইবনুল আ'শা ইবনুন নাব্বাশ অগ্রসর হয়ে কারিনকে হত্যা করেন। কারিনের বাহিনীর ডানবাহুর নেতৃত্বে ছিল কুবায আর বামবাহুর নেতৃত্বে ছিল আনুশজান। তারা উভয়ে শিকলের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। এবার মুসলিম বাহিনী তাদের দুজনকেও হত্যা করে। আসিম বিন আমর তামিমি আনুশজানকে এবং আদি বিন হাতিম কুবাযকে হত্যা করেন। অবশেষে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে পারসিক বাহিনী পরাজিত হয়; নিহত হয় প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য, আর পালিয়ে যাওয়ার সময় সলিল সমাধি ঘটে আরও অনেক সৈন্যের। বাকিরা নৌযানে চড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সৈন্য মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দিও হয়, যাদের মধ্যে বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরির পিতা হাবিবও ছিলেন। তিনি তখন খ্রিষ্টান ছিলেন।

দ্বাদশ হিজরির সফর মাসে (৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট হলো—যাতুস সালালিলের যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই সেনাপতি হরমুয পারস্য-সম্রাটের নিকট দূত পাঠিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের বার্তা সম্পর্কে অবগত করে এবং অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণের আবেদন জানায়। তখন পারস্য সম্রাট তার বিখ্যাত সেনাপতি কারিনের নেতৃত্বে সহায়ক বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু কারিন পৌঁছার পূর্বেই হরমুয তার মূল বাহিনী নিয়ে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
পরাজিত বাহিনীর বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা পালিয়ে কারিনের সঙ্গে মিলিত হয়। কারিন মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য মাযার নামক এলাকায় শিবির স্থাপন করে।
শিকলের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর মুসলিম সেনাপতি খালিদ রাযি. মুসান্না বিন হারিসা ও তার ভাই মুআন্নার নেতৃত্বে একদল মুসলিম সৈন্যকে শত্রুবাহিনীর পলায়নরত অংশের পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয় এবং মাযার এলাকায় পারস্য বাহিনীর সৈন্যসমাবেশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করে। মুসান্নার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয়ে মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ খলিফাতুল মুসলিমিনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তার বাহিনী নিয়ে মাযারে পৌঁছান। খালিদ যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলেন।
উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পারসিক বাহিনীর সেনাপতি কারিন খালিদকে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানালে খালিদ অগ্রসর হন। কিন্তু তার পূর্বেই মা'কাল ইবনুল আ'শা ইবনুন নাব্বাশ অগ্রসর হয়ে কারিনকে হত্যা করেন। কারিনের বাহিনীর ডানবাহুর নেতৃত্বে ছিল কুবায আর বামবাহুর নেতৃত্বে ছিল আনুশজান। তারা উভয়ে শিকলের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। এবার মুসলিম বাহিনী তাদের দুজনকেও হত্যা করে। আসিম বিন আমর তামিমি আনুশজানকে এবং আদি বিন হাতিম কুবাযকে হত্যা করেন। অবশেষে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে পারসিক বাহিনী পরাজিত হয়; নিহত হয় প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য, আর পালিয়ে যাওয়ার সময় সলিল সমাধি ঘটে আরও অনেক সৈন্যের। বাকিরা নৌযানে চড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সৈন্য মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দিও হয়, যাদের মধ্যে বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরির পিতা হাবিবও ছিলেন। তিনি তখন খ্রিষ্টান ছিলেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওয়ালাজার যুদ্ধ

📄 ওয়ালাজার যুদ্ধ


তৎকালীন পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতি (কিসরা) তৃতীয় আরশিরের কাছে মাযারের যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার আরেক বিখ্যাত সেনাপতি আনদাযগিরকে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রেরণ করেন। আনদাযগিরের নেতৃত্বাধীন পারসিক বাহিনী ওয়ালাজা নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। পারসিক বাহিনীর সেনাসমাবেশ ও ওয়ালাজায় ঘাঁটি স্থাপনের সংবাদ পেয়ে খালিদ রাযি.-ও তার বাহিনী নিয়ে ওয়ালাজায় চলে যান। তিনি মুসলিম বাহিনীর পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ বিন মুকাররিন রাযি.-কে বিজিত অঞ্চলে অবস্থানের নির্দেশ দেন এবং পারসিক বাহিনীর ওপর পেছন দিক ও দুপাশ থেকে হামলা করার জন্য দুটি দলকে গোপনে অন্য পথে প্রেরণ করেন।
মূল মুসলিম বাহিনী ওয়ালাজায় পৌঁছার পর যুদ্ধ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী লড়াই চলতে থাকে। দু-পক্ষই যখন যুদ্ধ করে কিছুটা ক্লান্ত, ঠিক তখনই গোপনে ওত পেতে থাকা মুসলিম বাহিনীর অপর দুটি অংশ পারসিক বাহিনীর পেছন দিক থেকে হামলা করে। সামনের দিক থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদও পূর্ণ উদ্যমে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিশেহারা পারসিক বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং কঠিন ভীতির শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। পারস্য-সেনাপতি আনদাযগির পালিয়ে মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ফেলে এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মারা যায়। পারসিক বাহিনীর বহু সৈন্য নিহত হয়, বন্দিও হয় প্রচুর। কথিত আছে, এ যুদ্ধে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. এমন এক অনারবি ব্যক্তির সঙ্গে মল্লযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে একহাজার ব্যক্তির শক্তি রাখত। তিনি তাকে হত্যা করেন এবং তার লাশে হেলান দিয়ে সেদিনের আহার সারেন। (৬৮)

টিকাঃ
৬৮. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৪৫৪।
উল্লেখ্য, হজরত খালিদ রাযি.-এর এই আচরণ বাহ্যত দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কাফির প্রতিপক্ষের গর্ব ও দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা। শত্রুপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার ও তাদের যুদ্ধস্পৃহা দমন করার জন্য ইসলামে এ ধরনের আচরণের অবকাশ রয়েছে।

তৎকালীন পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতি (কিসরা) তৃতীয় আরশিরের কাছে মাযারের যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার আরেক বিখ্যাত সেনাপতি আনদাযগিরকে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রেরণ করেন। আনদাযগিরের নেতৃত্বাধীন পারসিক বাহিনী ওয়ালাজা নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। পারসিক বাহিনীর সেনাসমাবেশ ও ওয়ালাজায় ঘাঁটি স্থাপনের সংবাদ পেয়ে খালিদ রাযি.-ও তার বাহিনী নিয়ে ওয়ালাজায় চলে যান। তিনি মুসলিম বাহিনীর পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ বিন মুকাররিন রাযি.-কে বিজিত অঞ্চলে অবস্থানের নির্দেশ দেন এবং পারসিক বাহিনীর ওপর পেছন দিক ও দুপাশ থেকে হামলা করার জন্য দুটি দলকে গোপনে অন্য পথে প্রেরণ করেন।
মূল মুসলিম বাহিনী ওয়ালাজায় পৌঁছার পর যুদ্ধ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী লড়াই চলতে থাকে। দু-পক্ষই যখন যুদ্ধ করে কিছুটা ক্লান্ত, ঠিক তখনই গোপনে ওত পেতে থাকা মুসলিম বাহিনীর অপর দুটি অংশ পারসিক বাহিনীর পেছন দিক থেকে হামলা করে। সামনের দিক থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদও পূর্ণ উদ্যমে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিশেহারা পারসিক বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং কঠিন ভীতির শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। পারস্য-সেনাপতি আনদাযগির পালিয়ে মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ফেলে এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মারা যায়। পারসিক বাহিনীর বহু সৈন্য নিহত হয়, বন্দিও হয় প্রচুর। কথিত আছে, এ যুদ্ধে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. এমন এক অনারবি ব্যক্তির সঙ্গে মল্লযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে একহাজার ব্যক্তির শক্তি রাখত। তিনি তাকে হত্যা করেন এবং তার লাশে হেলান দিয়ে সেদিনের আহার সারেন। (৬৮)

টিকাঃ
৬৮. ইবনে জারির তাবারি, তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ৩/৪৫৪।
উল্লেখ্য, হজরত খালিদ রাযি.-এর এই আচরণ বাহ্যত দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কাফির প্রতিপক্ষের গর্ব ও দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা। শত্রুপক্ষের অন্তরে ভীতি সঞ্চার ও তাদের যুদ্ধস্পৃহা দমন করার জন্য ইসলামে এ ধরনের আচরণের অবকাশ রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00