📄 বিজয়াভিযানের সূচনা
ধর্মত্যাগ-ফিতনা দমনে পরিচালিত অভিযানসমূহের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিতনা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়। আরব ভূখণ্ড আবারও ফিরে আসে সরল-সঠিক দ্বীনের পথে। এবার খliফা আবু বকর রাযি. ইসলামি বিজয়াভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বাদশ হিজরি সনের শুরুতে তিনি প্রথমে ইরাক অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং এ উদ্দেশ্যে দুটি বাহিনী প্রস্তুত করেন।
প্রথম বাহিনীর সেনাপতি নির্ধারণ করা হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে। খালিদ রাযি. তখন ইয়ামামায় ছিলেন। খলিফা বার্তা পাঠিয়ে তাকে ইরাকের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন এবং উবুল্লা থেকে শুরু করে ইরাকের নিম্নভূমি হয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে বলেন।
দ্বিতীয় বাহিনীর সেনাপতি নির্ধারণ করা হয় ইয়ায বিন গুনম রাযি.-কে। তিনি তখন মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী নিবাজ নামক এলাকায় ছিলেন। খলিফা তাকে ইরাকের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং বার্তায় উল্লেখ করেন—মুছাইয়াখ পৌঁছে সেখান থেকে অভিযান শুরু করবে। এরপর ইরাকের উচ্চভূমি দিয়ে ইরাকে প্রবেশ করে খালিদের সঙ্গে মিলিত হবে। বাহিনীর কেউ যদি ফিরে আসতে চায়, তাকে ফিরে আসার অনুমতি দেবে। যার ইচ্ছা, অভিযানে শরিক হবে; যার ইচ্ছা, চলে আসবে। অনাগ্রহী ব্যক্তিদের নিয়ে বিজয়াভিযান শুরু করবে না।
খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. উভয় সেনাপতিকে দ্রুত ইরাকের হিরা অঞ্চলে পৌঁছতে চেষ্টা করার নির্দেশ দেন এবং জানিয়ে দেন যে, যিনি প্রথমে হিরা পৌঁছবেন, তিনি অপরজনের আমির বিবেচিত হবেন। তিনি আরও নির্দেশ দেন—তোমরা উভয়ে যখন আপন আপন দিক থেকে পেছনের পারসিক ঘাঁটিসমূহের পতন ঘটিয়ে হিরায় পৌঁছবে এবং পেছনের দিক থেকে মুসলিম বাহিনীর নিরাপত্তা সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চিত হবে, তখন একজন হিরায় থেকে মুসলিম বাহিনী ও হিরা অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান করবে, অপরজন আল্লাহ ও মুসলমানদের দুশমন পারসিকদের গৌরবের প্রতীক (রাজধানী) মাদায়েন নগরীতে অভিযান পরিচালনা করতে অগ্রসর হবে।
খলিফা উভয়কে প্রত্যেক অঞ্চলের জনসাধারণের সঙ্গে কোমল আচরণ করার এবং তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত প্রদানের নির্দেশ দেন। খলিফা বার্তায় উল্লেখ করেন—তারা যদি তোমাদের দাওয়াত কবুল করে নেয়, তাহলে তো ভালো। অন্যথায় তাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করবে। যারা জিজিয়া প্রদানেও রাজি হবে না, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে।
পাশাপাশি খলিফা ইতিপূর্বে যারা একবার ইসলামগ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে, তারা নতুন করে ইসলামে দীক্ষিত হলেও অভিযানে তাদের সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেন।
খলিফা আবু বকর রাযি. এই দুই মহান সেনাপতিকে ইরাকে প্রেরণ করার আগে থেকেই খলিফার নির্দেশনায় শায়বান গোত্রের বিশিষ্ট সর্দার বিখ্যাত তাবেয়ি সেনাপতি মুসান্না বিন হারিসা রহ. তার সঙ্গীদের নিয়ে ইরাকে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। খliফা এবার তাকে তার সৈন্যদের নিয়ে খালিদের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ দেন। খলিফা তার কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, আমি খালিদ বিন ওয়ালিদকে তোমার কাছে ইরাক-ভূমিতে পাঠালাম। তোমার কওমের সঙ্গীদেরকে নিয়ে তাকে স্বাগত জানাবে। এরপর তাকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহায়তা করবে, কোনো বিষয়ে কিছুতেই তার অবাধ্যতা করবে না এবং তার মতের বিরোধিতা করবে না। মনে রাখবে, খালিদ সেসব মহান ব্যক্তির একজন, যাদের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ তার মহাগ্রন্থে বলেছেন—'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। তার সঙ্গে যারা আছে, তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র।' সে যতদিন তোমার সঙ্গে থাকবে, ততদিন সে-ই আমির। যদি সে কখনো চলে আসে, তখন তুমি পূর্বের ন্যায় আপন দায়িত্বে থাকবে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে একাদশ হিজরির রজব মাসে মতান্তরে দ্বাদশ হিজরির মুহাররম মাসে (৬৩২/৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইরাকে প্রেরণ করা হয়। তার বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল আঠারো হাজার। তিনি ইরাক অভিযানে এগারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহে প্রতিটি যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
ধর্মত্যাগ-ফিতনা দমনে পরিচালিত অভিযানসমূহের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিতনা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়। আরব ভূখণ্ড আবারও ফিরে আসে সরল-সঠিক দ্বীনের পথে। এবার খলিফা আবু বকর রাযি. ইসলামি বিজয়াভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বাদশ হিজরি সনের শুরুতে তিনি প্রথমে ইরাক অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং এ উদ্দেশ্যে দুটি বাহিনী প্রস্তুত করেন।
প্রথম বাহিনীর সেনাপতি নির্ধারণ করা হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে। খালিদ রাযি. তখন ইয়ামামায় ছিলেন। খলিফা বার্তা পাঠিয়ে তাকে ইরাকের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন এবং উবুল্লা থেকে শুরু করে ইরাকের নিম্নভূমি হয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে বলেন।
দ্বিতীয় বাহিনীর সেনাপতি নির্ধারণ করা হয় ইয়ায বিন গুনম রাযি.-কে। তিনি তখন মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী নিবাজ নামক এলাকায় ছিলেন। খলিফা তাকে ইরাকের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং বার্তায় উল্লেখ করেন—মুছাইয়াখ পৌঁছে সেখান থেকে অভিযান শুরু করবে। এরপর ইরাকের উচ্চভূমি দিয়ে ইরাকে প্রবেশ করে খালিদের সঙ্গে মিলিত হবে। বাহিনীর কেউ যদি ফিরে আসতে চায়, তাকে ফিরে আসার অনুমতি দেবে। যার ইচ্ছা, অভিযানে শরিক হবে; যার ইচ্ছা, চলে আসবে। অনাগ্রহী ব্যক্তিদের নিয়ে বিজয়াভিযান শুরু করবে না।
খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. উভয় সেনাপতিকে দ্রুত ইরাকের হিরা অঞ্চলে পৌঁছতে চেষ্টা করার নির্দেশ দেন এবং জানিয়ে দেন যে, যিনি প্রথমে হিরা পৌঁছবেন, তিনি অপরজনের আমির বিবেচিত হবেন। তিনি আরও নির্দেশ দেন—তোমরা উভয়ে যখন আপন আপন দিক থেকে পেছনের পারসিক ঘাঁটিসমূহের পতন ঘটিয়ে হিরায় পৌঁছবে এবং পেছনের দিক থেকে মুসলিম বাহিনীর নিরাপত্তা সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চিত হবে, তখন একজন হিরায় থেকে মুসলিম বাহিনী ও হিরা অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান করবে, অপরজন আল্লাহ ও মুসলমানদের দুশমন পারসিকদের গৌরবের প্রতীক (রাজধানী) মাদায়েন নগরীতে অভিযান পরিচালনা করতে অগ্রসর হবে।
খলিফা উভয়কে প্রত্যেক অঞ্চলের জনসাধারণের সঙ্গে কোমল আচরণ করার এবং তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত প্রদানের নির্দেশ দেন। খলিফা বার্তায় উল্লেখ করেন—তারা যদি তোমাদের দাওয়াত কবুল করে নেয়, তাহলে তো ভালো। অন্যথায় তাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করবে। যারা জিজিয়া প্রদানেও রাজি হবে না, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে।
পাশাপাশি খliফা ইতিপূর্বে যারা একবার ইসলামগ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে, তারা নতুন করে ইসলামে দীক্ষিত হলেও অভিযানে তাদের সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেন।
খলিফা আবু বকর রাযি. এই দুই মহান সেনাপতিকে ইরাকে প্রেরণ করার আগে থেকেই খলিফার নির্দেশনায় শায়বান গোত্রের বিশিষ্ট সর্দার বিখ্যাত তাবেয়ি সেনাপতি মুসান্না বিন হারিসা রহ. তার সঙ্গীদের নিয়ে ইরাকে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। খলিফা এবার তাকে তার সৈন্যদের নিয়ে খালিদের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ দেন। খলিফা তার কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, আমি খালিদ বিন ওয়ালিদকে তোমার কাছে ইরাক-ভূমিতে পাঠালাম। তোমার কওমের সঙ্গীদেরকে নিয়ে তাকে স্বাগত জানাবে। এরপর তাকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহায়তা করবে, কোনো বিষয়ে কিছুতেই তার অবাধ্যতা করবে না এবং তার মতের বিরোধিতা করবে না। মনে রাখবে, খালিদ সেসব মহান ব্যক্তির একজন, যাদের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ তার মহাগ্রন্থে বলেছেন—'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। তার সঙ্গে যারা আছে, তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র।' সে যতদিন তোমার সঙ্গে থাকবে, ততদিন সে-ই আমির। যদি সে কখনো চলে আসে, তখন তুমি পূর্বের ন্যায় আপন দায়িত্বে থাকবে।
খaliদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-কে একাদশ হিজরির রজব মাসে মতান্তরে দ্বাদশ হিজরির মুহাররম মাসে (৬৩২/৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইরাকে প্রেরণ করা হয়। তার বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল আঠারো হাজার। তিনি ইরাক অভিযানে এগারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহে প্রতিটি যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
📄 ইরাকে পরিচালিত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর অভিযানসমূহ
📄 শিকলের যুদ্ধ
খলিফার নির্দেশনা মোতাবেক খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার বাহিনী নিয়ে উবুল্লা রওনা হয়ে যান। প্রথমে তিনি ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারস্য সাম্রাজ্যের সীমান্তনগরী উবুল্লার গভর্নর হরমুষের কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, ইসলামগ্রহণ করো, তাহলে নিরাপদ থাকবে। অথবা নিজের ও আপন কওমের জন্য নিরাপত্তাচুক্তি করে নাও এবং জিজিয়া প্রদান করো। দুটির একটিও গ্রহণ না করলে পরিণতির জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দায়ী করতে পারবে না। কারণ, আমি এমন একদল সৈন্য নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে এসেছি, যারা মৃত্যুকে ততটাই ভালোবাসে, যতটা তোমরা ভালোবাসো জীবনকে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন মুসান্না বিন হারিসা রহ.-কে, মধ্যবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন আদি বিন হাতিম তাঈ রাযি.-কে আর শেষ অংশটির নেতৃত্ব রাখেন নিজের হাতে। তিনি নির্দেশ জারি করেন যে, প্রতিটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন পথে সামনে অগ্রসর হবে।
উবুল্লার গভর্নর ও শত্রুবাহিনীর প্রধান হরমুয খালিদের বাহিনীর আগমন-সংবাদ এবং খালিদের বার্তা পেয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় নিজেই অগ্রসর হয়। যুদ্ধ শুরু হলে আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করে। পারস্য-সেনাপতি হরমুয খালিদকে হত্যা করার জন্য শঠতা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলেও মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কা'কা' বিন আমর রাযি. তার কূটকৌশল ধরে ফেলেন এবং খালিদকে উদ্ধার করেন। এরপর হরমুয খালিদের হাতে নিহত হয়।
পারসিক বাহিনী এ যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিল। সৈন্যরা যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যায়, এজন্য তারা পরস্পরকে শিকল দ্বারা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল তাদের কাছেই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। এ কারণেই এ যুদ্ধের নামকরণ করা হয় ‘যাতুস সালাসিল’ বা শিকলের যুদ্ধ। (৬৭)
টিকাঃ
৬৭. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ও যাতুস সালাসিল নামে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে নবীজির প্রেরিত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হজরত আমর ইবনুল আস রাযি।
খলিফার নির্দেশনা মোতাবেক খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি. তার বাহিনী নিয়ে উবুল্লা রওনা হয়ে যান। প্রথমে তিনি ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারস্য সাম্রাজ্যের সীমান্তনগরী উবুল্লার গভর্নর হরমুষের কাছে নিম্নোক্ত বার্তা প্রেরণ করেন—
হামদ ও সালাতের পর, ইসলামগ্রহণ করো, তাহলে নিরাপদ থাকবে। অথবা নিজের ও আপন কওমের জন্য নিরাপত্তাচুক্তি করে নাও এবং জিজিয়া প্রদান করো। দুটির একটিও গ্রহণ না করলে পরিণতির জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দায়ী করতে পারবে না। কারণ, আমি এমন একদল সৈন্য নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে এসেছি, যারা মৃত্যুকে ততটাই ভালোবাসে, যতটা তোমরা ভালোবাসো জীবনকে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি অগ্রবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন মুসান্না বিন হারিসা রহ.-কে, মধ্যবর্তী অংশের নেতৃত্ব প্রদান করেন আদি বিন হাতিম তাঈ রাযি.-কে আর শেষ অংশটির নেতৃত্ব রাখেন নিজের হাতে। তিনি নির্দেশ জারি করেন যে, প্রতিটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন পথে সামনে অগ্রসর হবে।
উবুল্লার গভর্নর ও শত্রুবাহিনীর প্রধান হরমুয খালিদের বাহিনীর আগমন-সংবাদ এবং খালিদের বার্তা পেয়ে মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় নিজেই অগ্রসর হয়। যুদ্ধ শুরু হলে আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করে। পারস্য-সেনাপতি হরমুয খালিদকে হত্যা করার জন্য শঠতা ও প্রতারণার আশ্রয় নিলেও মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কা'কা' বিন আমর রাযি. তার কূটকৌশল ধরে ফেলেন এবং খালিদকে উদ্ধার করেন। এরপর হরমুয খালিদের হাতে নিহত হয়।
পারসিক বাহিনী এ যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিল। সৈন্যরা যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যায়, এজন্য তারা পরস্পরকে শিকল দ্বারা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল তাদের কাছেই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। এ কারণেই এ যুদ্ধের নামকরণ করা হয় ‘যাতুস সালাসিল’ বা শিকলের যুদ্ধ। (৬৭)
টিকাঃ
৬৭. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ও যাতুস সালাসিল নামে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে নবীজির প্রেরিত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হজরত আমর ইবনুল আস রাযি।
📄 মাযারের যুদ্ধ
দ্বাদশ হিজরির সফর মাসে (৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট হলো—যাতুস সালালিলের যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই সেনাপতি হরমুয পারস্য-সম্রাটের নিকট দূত পাঠিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের বার্তা সম্পর্কে অবগত করে এবং অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণের আবেদন জানায়। তখন পারস্য সম্রাট তার বিখ্যাত সেনাপতি কারিনের নেতৃত্বে সহায়ক বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু কারিন পৌঁছার পূর্বেই হরমুয তার মূল বাহিনী নিয়ে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
পরাজিত বাহিনীর বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা পালিয়ে কারিনের সঙ্গে মিলিত হয়। কারিন মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য মাযার নামক এলাকায় শিবির স্থাপন করে।
শিকলের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর মুসলিম সেনাপতি খালিদ রাযি. মুসান্না বিন হারিসা ও তার ভাই মুআন্নার নেতৃত্বে একদল মুসলিম সৈন্যকে শত্রুবাহিনীর পলায়নরত অংশের পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয় এবং মাযার এলাকায় পারস্য বাহিনীর সৈন্যসমাবেশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করে। মুসান্নার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয়ে মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ খলিফাতুল মুসলিমিনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তার বাহিনী নিয়ে মাযারে পৌঁছান। খালিদ যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলেন।
উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পারসিক বাহিনীর সেনাপতি কারিন খালিদকে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানালে খালিদ অগ্রসর হন। কিন্তু তার পূর্বেই মা'কাল ইবনুল আ'শা ইবনুন নাব্বাশ অগ্রসর হয়ে কারিনকে হত্যা করেন। কারিনের বাহিনীর ডানবাহুর নেতৃত্বে ছিল কুবায আর বামবাহুর নেতৃত্বে ছিল আনুশজান। তারা উভয়ে শিকলের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। এবার মুসলিম বাহিনী তাদের দুজনকেও হত্যা করে। আসিম বিন আমর তামিমি আনুশজানকে এবং আদি বিন হাতিম কুবাযকে হত্যা করেন। অবশেষে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে পারসিক বাহিনী পরাজিত হয়; নিহত হয় প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য, আর পালিয়ে যাওয়ার সময় সলিল সমাধি ঘটে আরও অনেক সৈন্যের। বাকিরা নৌযানে চড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সৈন্য মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দিও হয়, যাদের মধ্যে বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরির পিতা হাবিবও ছিলেন। তিনি তখন খ্রিষ্টান ছিলেন।
দ্বাদশ হিজরির সফর মাসে (৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে) এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট হলো—যাতুস সালালিলের যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই সেনাপতি হরমুয পারস্য-সম্রাটের নিকট দূত পাঠিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের বার্তা সম্পর্কে অবগত করে এবং অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণের আবেদন জানায়। তখন পারস্য সম্রাট তার বিখ্যাত সেনাপতি কারিনের নেতৃত্বে সহায়ক বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু কারিন পৌঁছার পূর্বেই হরমুয তার মূল বাহিনী নিয়ে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
পরাজিত বাহিনীর বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা পালিয়ে কারিনের সঙ্গে মিলিত হয়। কারিন মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য মাযার নামক এলাকায় শিবির স্থাপন করে।
শিকলের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর মুসলিম সেনাপতি খালিদ রাযি. মুসান্না বিন হারিসা ও তার ভাই মুআন্নার নেতৃত্বে একদল মুসলিম সৈন্যকে শত্রুবাহিনীর পলায়নরত অংশের পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বেশ কয়েকটি দুর্গ জয় করতে সক্ষম হয় এবং মাযার এলাকায় পারস্য বাহিনীর সৈন্যসমাবেশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করে। মুসান্নার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয়ে মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ খলিফাতুল মুসলিমিনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তার বাহিনী নিয়ে মাযারে পৌঁছান। খালিদ যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলেন।
উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পারসিক বাহিনীর সেনাপতি কারিন খালিদকে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানালে খালিদ অগ্রসর হন। কিন্তু তার পূর্বেই মা'কাল ইবনুল আ'শা ইবনুন নাব্বাশ অগ্রসর হয়ে কারিনকে হত্যা করেন। কারিনের বাহিনীর ডানবাহুর নেতৃত্বে ছিল কুবায আর বামবাহুর নেতৃত্বে ছিল আনুশজান। তারা উভয়ে শিকলের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। এবার মুসলিম বাহিনী তাদের দুজনকেও হত্যা করে। আসিম বিন আমর তামিমি আনুশজানকে এবং আদি বিন হাতিম কুবাযকে হত্যা করেন। অবশেষে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহে পারসিক বাহিনী পরাজিত হয়; নিহত হয় প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্য, আর পালিয়ে যাওয়ার সময় সলিল সমাধি ঘটে আরও অনেক সৈন্যের। বাকিরা নৌযানে চড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সৈন্য মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দিও হয়, যাদের মধ্যে বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরির পিতা হাবিবও ছিলেন। তিনি তখন খ্রিষ্টান ছিলেন।