📄 বিদায় হজ
দশম হিজরি সনে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) নবীজি ঘোষণা করেন—তিনি এ বছর হজে গমন করবেন। ফলে মদিনায় এক লক্ষের অধিক মুসলমানের সমাবেশ ঘটে। সকলেই চাচ্ছিলেন নবীজির অধীনে হজ করে নবীজির হজকর্ম অনুসরণ করতে। নবীজি ২৫ জিলকদ মদিনা হতে রওনা হন এবং যুলহুলায়ফা হতে হজ ও উমরার ইহরাম করেন।
“বড় চিত্তাকর্ষক ও গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং মর্মস্পর্শী ও আবেগপূর্ণ এক দৃশ্য! হৃদয় যেন খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়, নয়নযুগল অশ্রুতে সিক্ত হয়! ইতিহাস যেন থমকে দাঁড়ায়, শ্রদ্ধায় ও মর্যাদায় অবনত হয়ে যায়! তিনিই তো সেই ব্যক্তি, যিনি তার দাওয়াতের মিশন শুরু করেছিলেন সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ-একা কী, পুরো আরব দাঁড়িয়েছিল তার বিরুদ্ধে। সবাই তার বিরুদ্ধে লড়েছে সামর্থ্য ও শক্তির সবটুকু দিয়ে। আজ তারাই সকলে তার পেছনে সমবেত হয়েছে এবং তার অনুসরণ করছে! আর সেদিনের সেই নিঃসঙ্গ ‘তিনি’ আজ আপন রবের সামনে বিনয়ে অবনত হয়ে, দয়া ও প্রীতির বন্ধনে সকলকে আবদ্ধ করে চলছেন সকলকে নেতৃত্ব দিয়ে।”
ইহরাম শেষে নবীজি পুনরায় পথ চলা শুরু করেন। তিনি সকলকে হজের বিধিবিধান, সুন্নাহ ও করণীয় শিখিয়ে দেন। নবীজি আরাফার দিন সমবেত মুসলমানদের উদ্দেশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুসমৃদ্ধ এক ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে তিনি ইসলামের ভিত্তি ও বিধানসমূহ বর্ণনা করেন, শিরক ও জাহিলিয়াতের ভিত্তি ও প্রথাসমূহ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং অন্যের জানমাল, ইজ্জত-আবরুসহ যেসব বিষয়ের মর্যাদারক্ষার বিধান সকল আসমানি ধর্মে ছিল, সেগুলোর মর্যাদা সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেন।
নবীজি জাহিলি যুগের সকল কুপ্রথার মূলোৎপাটন করেন, নারীদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দেন এবং বিভিন্ন ফিতনা সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করেন। সবশেষে নবীজি সকল মুসলমানকে কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানান। কেননা, এ দুটিই হলো ভ্রষ্টতা ও বিপথগামিতা থেকে উম্মাহর নিষ্কৃতির প্রকৃত অবলম্বন।