📄 দ্রষ্টব্য : বদরি সাহাবিগণের অত্যুচ্চ মর্যাদা-বৈশিষ্ট্য
সাহাবি হাতিব বিন আবু বালতাআ রাযি. জানতেন যে, নবীজি মক্কায় অভিযান পরিচালনার সংকল্প করেছেন। তিনি নবীজির সংকল্পের সংবাদ জানিয়ে মক্কাবাসীর উদ্দেশে একটি পত্র লেখেন এবং মুযায়না গোত্রের এক নারীর মাধ্যমে তা মক্কায় প্রেরণ করেন। মহিলাটি চুলের গোছার মধ্যে পত্রটি লুকিয়ে মক্কায় রওনা হয়। নবীজি ওহির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে হজরত আলি রাযি. ও হজরত যুবায়র রাযি.-কে পত্রটি উদ্ধারের জন্য প্রেরণ করেন। সাহাবিদ্বয় নবীজির নির্দেশনা মোতাবেক নির্ধারিত স্থানে গিয়ে মহিলার কাছ থেকে পত্রটি উদ্ধার করে নবীজির দরবারে ফিরে আসেন। এরপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিবকে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, 'আল্লাহর রাসুল, অনুগ্রহ করে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন না। আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসী। আমি মুরতাদও হইনি, আমার ঈমানে কোনো পরিবর্তনও আসেনি। বিষয় হলো—আমি মক্কায় বসবাস করলেও কুরাইশ বংশীয় নই (তিনি ইয়ামেনি বংশোদ্ভূত ছিলেন)। আমার পরিবার বর্তমানে মক্কায় আছে; কিন্তু সেখানে আমার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, যারা আমার পরিবারের দেখাশোনা করবে। আপনার সঙ্গে অন্য যারা আছে, তাদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য তো তাদের আত্মীয়স্বজন মক্কায় আছে। আমি চেয়েছিলাম, এই উপকারটুকুর বিনিময়ে আমি কুরাইশদের আস্থা লাভ করব এবং তারা আমার পরিবার-সন্তানদের দেখাশোনা করবে।'
এ সময় দরবারে উপস্থিত হজরত উমর রাযি. আরজ করেন, 'আল্লাহর রাসুল, আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর শিরশ্ছেদ করি। এ তো আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে! এ তো মুনাফিক হয়ে গেছে!' তখন নবীজি উমরকে উত্তর দেন, 'উমর, হাতিব বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জানো, আল্লাহ তাআলা বদরিদের অন্তরের নিষ্ঠার বিষয়ে অবগত হয়েই তাদেরকে বলেছেন, 'যা ইচ্ছা করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।'
নবীজির কথা শুনে উমরের দু-চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে। তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সর্বজ্ঞ।