📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

📄 যুদ্ধের প্রেক্ষাপট


হুদায়বিয়ার সন্ধির দু-মাসেরও কম সময় পর সপ্তম হিজরির মুহাররম মাসে (৬২৮ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) খায়বার অভিযান সংঘটিত হয়। প্রকৃতপক্ষে খায়বার বিজয় ছিল হুদায়বিয়ার বরকতপূর্ণ চুক্তিরই ফসল।
খায়বারে বসবাসরত ইহুদিদের প্রতিনিধিদলই আরবের বিভিন্ন গোত্রকে খন্দক যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত ও উত্তেজিত করেছিল। সুতরাং ইহুদিদের এই দুর্ভেদ্য ঘাঁটিটি ধ্বংস করা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য ছিল। নবীজি খায়বার অভিযানে বের হওয়ার পূর্বে ঘোষণা করেন-যারা জিহাদে আগ্রহী, একমাত্র তারাই যেন নবীজির সঙ্গী হয়। ফলে নবীজির সঙ্গে বায়আতে রিজওয়ানে শরিক হওয়া চৌদ্দশ সাহাবিই রওনা হয়। অপরদিকে খায়বারের দুর্গসমূহের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী ইহুদি যোদ্ধা- পুরুষের সংখ্যা ছিল দশ হাজার। এদের সঙ্গে ছিল বনু গাতফানের আরও এক হাজার যোদ্ধা। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের সৈন্যসংখ্যা ছিল এগারো হাজার। মুসলিম বাহিনী রাতে খায়বারের উপকণ্ঠে পৌঁছায় এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করে। সকালে যখন খায়বারের ইহুদি কৃষকরা চাষাবাদের কাজে দুর্গের বাইরে বের হয়, তখন মুসলিম বাহিনীকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং দ্রুত দুর্গের ভেতরে ঢুকে চিৎকার করতে থাকে, 'ওই যে মুহাম্মাদ! ওই যে মুহাম্মাদ-বাহিনী!'
তখন নবীজি বলেন, ‘আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হোক! আমরা যখন কোনো সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি, তখন ওই সতর্ককৃতদের প্রভাত হয় কতই-না অশুভ!’
মুসলমানরা একের পর এক খায়বারের দুর্গসমূহ জয় করতে থাকে। শেষ পর্যায়ে ইহুদিরা আত্মসমর্পণ করে এবং নবীজির সঙ্গে নিম্নোক্ত শর্তাবলিতে সন্ধিচুক্তি করতে সম্মত হয়—
• ইহুদিরা তাদের সকল দুর্গ ছেড়ে দেবে।
• নিজেদের অস্ত্রশস্ত্রসহ দুর্গের অভ্যন্তরের সবকিছু তারা মুসলমানদের হাতে সোপর্দ করবে।
• তারা খায়বার ছেড়ে শামে চলে যাবে। যাওয়ার সময় তারা বাহনে যা নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে যাবে।
• তাদের গচ্ছিত ও গুপ্ত সম্পদ কোথায় রাখা আছে, তা মুসলমানদের অবহিত করবে।
• তাদের নারী ও শিশুদের দাসে পরিণত করা হবে না।
অবশ্য পরে নবীজি উৎপাদিত ফল-ফসলের অর্ধেক প্রদানের বিনিময়ে ক্ষেতে কাজ করার জন্য তাদেরকে খায়বারে থাকার অনুমতি প্রদান করেন। মুসলমানদের এ অধিকার রাখা হয় যে, যেকোনো সময় চাইলে তারা তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিতে পারবে। এই অধিকারের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রাযি.-এর খিলাফতকালে খায়বার থেকে ইহুদিদেরকে পুরোপুরি বিতাড়িত করা হয়।
খায়বার অভিযানে ষোলোজন সাহাবি শহিদ হন। অপরদিকে ইহুদিদের তিরানব্বইজন নিহত হয়। অভিযান যখন শেষ পর্যায়ে, তখন হজরত জাফর বিন আবু তালিব রাযি. হাবশার মুহাজিরদের সঙ্গে নিয়ে খায়বারে পৌঁছান। জাফরকে দেখে নবীজি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মন্তব্য করেন, ‘বুঝতে পারছি না কোনটিতে বেশি আনন্দিত হব—খায়বার বিজয়ে, নাকি জাফরের আগমনে?!’

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00