📄 বিশ্বাসঘাতকদের বিষয়ে সাদ বিন মুআয রাযি.-এর ফয়সালা
খন্দকের যুদ্ধে হাতের বাহুতে তিরবিদ্ধ হওয়ায় আহত সাদ বিন মুআয তখন মদিনাতেই অবস্থান করছিলেন। নবীজির নির্দেশে তাকে বাহনে চড়িয়ে বনু কুরায়যার জনপদে নিয়ে আসা হয়। সাদ রাযি. নিম্নোক্ত ফয়সালা করেন—
• যুদ্ধ করতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির শিরশ্ছেদ করা হবে।
• নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্রীতদাসে পরিণত করা হবে।
• তাদের সকল সম্পদ (মুসলমানদের মাঝে) বণ্টন করে দেওয়া হবে।
সাদ বিন মুআয রাযি.-এর ফয়সালা শুনে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্তব্য করেন, সপ্তাকাশের ঊর্ধ্বে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাদের বিষয়ে যে ফয়সালা করেছেন, তুমিও সে ফয়সালাই করেছ।
মদিনার বাজারে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হয়। আর যাবতীয় সম্পদ এবং নারী ও শিশুদেরকে মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হয়।
প্রকৃতপক্ষে এটিই ছিল বিশ্বাসঘাতকদের জন্য উপযুক্ত ও ন্যায়ানুগ শাস্তি। শাস্তি তো অপরাধের সমশ্রেণিরই হয়ে থাকে। বনু কুরায়যার ইহুদিরা মুসলমানদের সঙ্গে মিত্রতা ভঙ্গ করে শঠতার আশ্রয় নিয়েছিল। তারা মুসলমান পুরুষদের হত্যা করতে, নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের দাসে পরিণত করতে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করতে চেষ্টা করেছিল। তাই এ শাস্তি ছিল সম্পূর্ণই যথোচিত শাস্তি।
বনু কুরায়যাকে সমূলে নিপাত করার মাধ্যমে মদিনা পুরোপুরি ইহুদিমুক্ত হয় এবং নির্ভেজাল ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অংশ পবিত্র হয় এমন এক দুষ্ট ও অনিষ্টকর জাতি-উপাদান হতে, যা যেকোনো মুহূর্তে ষড়যন্ত্র, শঠতা ও প্রতারণা করার ক্ষমতা রাখত।