📄 হামরাউল আসাদের অভিযান
উহুদ প্রান্তর থেকে নবীজি শনিবার সন্ধ্যায় মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। নবীজি ও সাহাবিগণ মদিনাতেই রাত্রিযাপন করেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও শুশ্রূষায় অতিবাহিত করেন। পরদিন রবিবার ফজর নামাজের পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত বিলাল রাযি.-কে এই ঘোষণা প্রদানের নির্দেশ দেন যে, আল্লাহর রাসুল তোমাদেরকে শত্রু বাহিনীর অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে শুধু তারাই বের হবে, যারা গতকাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।
এরপর নবীজির নির্দেশে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধপতাকা নিয়ে আসা হয়। নবীজি হজরত আলি রাযি.-কে পতাকা প্রদান করেন। এরপর আহত ও ক্লান্ত-শ্রান্ত মুসলিম বাহিনী বেরিয়ে পড়ে এবং হামরাউল আসাদে(৩৪) শিবির স্থাপন করে। মুসলমানরা সেখানে বিশাল আগুন প্রজ্বলিত করে। বহু দূর থেকে আগুন দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল, প্রচুর সৈন্যের সমাবেশ ঘটেছে।
মক্কার মুশরিকরা তখন উহুদেই অবস্থান করে অর্জিত বিজয় উদ্যাপন করছিল এবং আনন্দে কোরাস গাইছিল। এ সময় তারা মুসলমানদের সমূলে শেষ করতে মদিনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। অবশ্য সাফওয়ান বিন উমাইয়া এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তাদেরকে নিষেধ করছিল।
খুযাআ গোত্রের সর্দার মা'বাদ আল-খুযায়ি তখনও মুসলমান হননি। তিনি সে পথেই কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনি মুসলিম বাহিনীর শিবিরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করে মুশরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছান। মা'বাদ আল-খুযায়িকে দেখতে পেয়ে কুরাইশ বাহিনীর প্রধান আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করেন, 'মা'বাদ, পেছনে কী অবস্থা দেখে এলে?' মা'বাদ উত্তর দেন, 'ধিক তোমাকে! মুহাম্মাদ তো তোমাদের খোঁজে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। এত বিশাল বাহিনী আমি জীবনেও দেখিনি। মুসলমানরা তোমাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে টগবগ করছে। এমন ক্রোধ ও ক্ষোভ আমি কখনো দেখিনি।'
মা'বাদের কথা শুনে মুশরিক বাহিনী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত পলায়ন করে এবং মক্কার পথ ধরে।
নবীজি রবি হতে বুধবার চারদিন হামরাউল আসাদে অবস্থান করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। উল্লেখ্য, সুরা আলে ইমরানে এই যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আলোচিত হয়েছে।
টিকাঃ
৩৪. হামরাউল আসাদ: মদিনা হতে প্রায় বারো কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহরতলির নাম।