📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

📄 যুদ্ধের প্রেক্ষাপট


বদর যুদ্ধের পর যেসব কুরাইশ নেতা জীবিত ছিল, তারা বদর যুদ্ধে নিহতদের প্রতিশোধ গ্রহণের এবং বদরে মুসলিম বাহিনীর হাতে হৃত খ্যাতি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের সংকল্প করে। যেহেতু আবু সুফিয়ানের বণিক-কাফেলাকে রক্ষা করার জন্যই কুরাইশ বাহিনী বদরে প্রেরিত হয়েছিল, তাই আবু সুফিয়ান, আবু জাহলের পুত্র ইকরিমা ও উমাইয়ার পুত্র সাফওয়ান মক্কার বিভিন্ন গোত্রের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানায়—আবু সুফিয়ানের বাণিজ্যকাফেলা হতে প্রাপ্ত সমুদয় সম্পদ যেন সকলে পরবর্তী যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য প্রদান করে। সকলে এ প্রস্তাবে সোৎসাহে সম্মতি জানায়।
প্রধান সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের মুশরিক বাহিনী মদিনার উদ্দেশে রওনা হয়। কুরাইশ বাহিনীর ডান বাহুর নেতৃত্ব ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে, অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্বও তাকে প্রদান করা হয়। বাম বাহুর নেতৃত্ব প্রদান করা হয় ইকরিমা বিন আবু জাহলকে আর পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া হয় সাফওয়ান বিন উমাইয়াকে। বাহিনীর মূল ঝান্ডা বহনের দায়িত্ব ছিল তালহা আল-আবদারির। কুরাইশ বাহিনীর যুদ্ধসামগ্রীর মধ্যে ছিল দুইশ ঘোড়া ও সাতশ বর্ম। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবার নেতৃত্বে পনেরোজন নারীর একটি দলও কুরাইশ বাহিনীর সঙ্গে ছিল, যাদের কাজ ছিল দফ বাজিয়ে মূল বাহিনীর যুদ্ধস্পৃহা বৃদ্ধি করা।
কুরাইশ বাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের রওনা হওয়ার সংবাদ জানিয়ে নবীজির চাচা আব্বাস নবীজির কাছে একটি বার্তা পাঠান। সংবাদ পেয়ে নবীজি সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শে বসেন। মুশরিক বাহিনীর মোকাবিলায় মুসলমানরা মদিনা হতে বের হয়ে অগ্রসর হবে, নাকি মদিনাতেই অবস্থান করে মদিনার নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে—এ বিষয়ে নবীজি সাহাবায়ে কেরামের মতামত জানতে চান। স্বয়ং নবীজির ও বিশিষ্ট সাহাবিদের মত ছিল মদিনাতেই অবস্থান করা; কিন্তু অধিকাংশ সাহাবি বিশেষত বদর যুদ্ধে যেসব তরুণ সাহাবি অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা মদিনা হতে অগ্রসর হওয়ার মত প্রকাশ করে। তাদের আগ্রহ-উদ্দীপনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে নবীজি মদিনা হতে বের হয়ে কুরাইশ বাহিনীর মোকাবিলা করার ফয়সালা করেন।
হিজরতের বত্রিশ মাস পর তৃতীয় হিজরি সনের ৭ শাওয়াল (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে) শুক্রবার নবীজি এক হাজার সাহাবায়ে কেরামের এক বাহিনী নিয়ে মদিনা হতে রওনা হন। উহুদে পৌঁছার পূর্বে পথিমধ্যে মুনাফিক সর্দার ইবনে সালুল মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ সৈন্য নিয়ে মদিনায় ফিরে যায়। সে অজুহাত পেশ করে বলে, 'মুহাম্মাদ আমার পরামর্শ উপেক্ষা করে যেসব ছেলের সিদ্ধান্তযোগ্যতা নেই, তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছে। আমরা বুঝতেই পারছি না যে, কী উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দেবো!'
যারা ইবনে সালুলের সঙ্গে মদিনায় ফিরে গিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ছিল ইবনে সালুলের মতো নিফাক ও কপটতায় আক্রান্ত।
মুসলিম বাহিনী যখন উহুদের পথে 'শায়খায়ন' নামক স্থানে পৌঁছায়, তখন নবীজি শোরগোলরত একদল সৈন্যকে সেখানে দেখতে পান। নবীজি জিজ্ঞেস করেন, 'এরা কারা?' উত্তরে সাহাবিগণ জানায়, 'এরা ইবনে সালুলের ইহুদি মিত্র (আমাদের পক্ষে যুদ্ধ করতে এসেছে)।' নবীজি বলেন, 'মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুশরিকদের সহায়তা নিয়ো না।'
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ের কাছে ছাউনি স্থাপন করেন এবং পাহাড়কে পেছনে রেখে পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। নবীজি আবদুল্লাহ বিন জুবায়র রাযি। (৩০)-এর নেতৃত্বে পঞ্চাশজনের একটি তিরন্দাজ বাহিনীকে পাহাড়ের ওপর মোতায়েন করেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দেন—তোমরা এখানেই অবস্থান করবে এবং আমাদের পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা রক্ষা করবে। যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করি বা নিহত হই, কোনো অবস্থাতেই তোমরা এ স্থান ত্যাগ করবে না এবং আমাদের সঙ্গে শরিক হতে বা আমাদের সাহায্য করতে অগ্রসর হবে না।
নবীজি মুসলিম বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন।
১. মুহাজিরদের দল। এ দলের পতাকা ছিল মুসআব বিন উমায়র রাযি.-এর হাতে।
২. আওস গোত্রের দল। পতাকা ছিল উসায়দ বিন খুযায়র রাযি.-এর হাতে।
৩. খাযরাজ গোত্রের দল। পতাকা ছিল হুবাব ইবনুল মুনযির রাযি.-এর হাতে।
নবীজি মিকদাদ বিন আমর রাযি. ও মুসলিম বাহিনীর একমাত্র অশ্বারোহী সৈনিক যুবায়র ইবনুল আওয়াম রাযি.-কে মুশরিক বাহিনীর খালিদ ও ইকরিমার নেতৃত্বাধীন অশ্বারোহী অংশের প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রদান করেন।

টিকাঃ
৩০. তিনি বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি. নন। আলোচ্য আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি. ছিলেন মদিনার আওস গোত্রের একজন আনসারি সাহাবি। তিনি দ্বিতীয় বায়আতে আকাবায় অংশগ্রহণ করেন। মহান এই বদরি সাহাবি উহুদ যুদ্ধে শহিদ হন। অপরদিকে বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ বিন যুবায়র ছিলেন নবীজির ফুফাতো ভাই যুবায়র রাযি.-এর পুত্র। তিনি উহুদ যুদ্ধের দু-বছর পূর্বে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ৬৪ হিজরি সনে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ৭৩ হিজরি সনে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বাহিনীর হাতে শহিদ হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের সূচনা

📄 যুদ্ধের সূচনা


আবু আমির ফাসিকের নেতৃত্বে মুশরিক বাহিনীর ডানবাহুর আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। মুসলিম বাহিনীর বামবাহুর ওপর পরিচালিত এ আক্রমণে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বাধীন অশ্বারোহী বাহিনীও তাদেরকে সহায়তা করছিল। কিন্তু মুসলিম বাহিনীর তিরন্দাজ সৈনিকরা প্রতিপক্ষের এ অংশটিকে পরাভূত করে এবং পিছু হটতে বাধ্য করে। তিরন্দাজদের অব্যর্থ নিশানায় নিক্ষিপ্ত তিরে মুশরিকদের অশ্বগুলো আহত হতে থাকে। এবার মুসলিম বাহিনী মুশরিকদের পতাকাবাহীদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং ঝান্ডাধারী বনু আবদুদ দারের দশজনের সকলকে একে একে হত্যা করে। মুশরিক বাহিনীর ঝান্ডা মাটিতে পড়ে যায় এবং পদদলিত হতে থাকে।
এরপর মুসলিম বাহিনী একযোগে মুশরিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামজা রাযি. ও আবু দুজানা রাযি. ময়দান থেকে পলায়নরত মুশরিকদের কচুকাটা করতে থাকেন। বদরের ন্যায় উহুদেও মুসলিম বাহিনীর বিজয় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 রণাঙ্গনের পট পরিবর্তন, নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে রূপান্তর

📄 রণাঙ্গনের পট পরিবর্তন, নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে রূপান্তর


মুসলিম বাহিনীর আসন্ন বিজয় উপলব্ধি করে পাহাড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনরত তিরন্দাজ বাহিনীর অনেকে গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) কুড়াতে পাহাড় থেকে নেমে আসে। বাহিনীর প্রধান আবদুল্লাহ বিন জুবায়র রাযি. বারবার তাদেরকে সতর্ক করতে থাকেন এবং নবীজির নির্দেশ অমান্য করে পাহাড় হতে অবতরণ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে মনে করে দশজন বাদে বাকি সকলে তার নির্দেশ অমান্য করে।
মুশরিক বাহিনীর অশ্বারোহী অংশের প্রধান খালিদ বিন ওয়ালিদ পাহাড়ে দায়িত্বপালনরত তিরন্দাজদের অবতরণ করতে দেখে দ্রুত দুইশ অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হতে সটকে পড়েন এবং পেছন দিক থেকে পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়ে অবস্থানরত অবশিষ্ট মুসলিম সৈনিকগণ আবদুল্লাহ বিন জুবায়রের নেতৃত্বে প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুললেও একপর্যায়ে খালিদ-বাহিনীর হাতে শহিদ হয়ে যায়। এরপর খালিদের বাহিনী পেছন দিক থেকে মুসলিম বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
পেছন থেকে হঠাৎ আক্রমণে মুসলিম বাহিনী বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। এ সময় মুসলিম বাহিনীর সদস্যগণ লক্ষ্যহীনভাবে লড়াই করতে থাকে। একের পর এক মুসলিম শহিদের লাশ ভূপাতিত হতে থাকে। মুসআব বিন উমায়র, হামজা বিন আবদুল মুত্তালিব, আনাস বিন নাযার, সাদ বিন রাবি'সহ অনেক সাহাবি শহিদ হয়ে যান।
মুসআব বিন উমায়র রাযি. দৈহিক গড়নে অনেকটা নবীজির সদৃশ ছিলেন। ইবনে কুমআ নামক জনৈক দুরাচার তাকে শহিদ করার পর মনে করেছিল যে, সে—নাউজুবিল্লাহ—নবীজিকেই হত্যা করেছে। সে চিৎকার করে বলতে থাকে, আমি মুহাম্মাদকে হত্যা করেছি। এ কথা শুনে মুসলিম বাহিনীর অনেকেই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে, আবার অনেকে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নবীজি তৎক্ষণাৎ আওয়াজ দিয়ে সকলকে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। নবীজির মোবারক আওয়াজ শুনে সাহাবিদের হৃদয়-মন প্রশান্ত হয় এবং মানসিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত হয়। এবার জীবিত সকলে নবীজির পাশে সমবেত হয়। মুশরিক বাহিনীর লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে নবীজিকে হত্যা করা। তাই নবীজির চারপাশে তীব্র লড়াই চলতে থাকে। সাহাবায়ে কেরাম নবীজির চারপাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে লড়াই অব্যাহত রাখেন। নবীজিকে রক্ষার জন্য বীর যোদ্ধাদের একটি দল নবীজির চারপাশে প্রাচীর তৈরি করে কাফিরদের হামলা প্রতিরোধ করে যাচ্ছিল।
এরপর নবীজি অবশিষ্ট মুসলিম বাহিনীকে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে আসেন এবং উহুদের একটি গিরিপথে আশ্রয় নিয়ে মুসলমানদের পুনঃবিন্যস্ত করেন। মুসলিম বাহিনীর অনবরত তির নিক্ষেপের কারণে মুশরিক বাহিনী নিরাশ হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধ শেষ করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আত্মপ্রবঞ্চিত কুরাইশরা এতটুকু সাফল্যকেই নিজেদের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছিল।
উহুদ যুদ্ধে মুশরিক বাহিনীর বাইশজন সৈন্য নিহত হয়। অপরদিকে মুসলিম বাহিনীর সত্তরজন সাহাবি শহিদ হয়। মুশরিকরা নবীজির চাচা হামজা বিন আবদুল মুত্তালিবসহ অনেক শহিদের লাশ বিকৃত করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হামরাউল আসাদের অভিযান

📄 হামরাউল আসাদের অভিযান


উহুদ প্রান্তর থেকে নবীজি শনিবার সন্ধ্যায় মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। নবীজি ও সাহাবিগণ মদিনাতেই রাত্রিযাপন করেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও শুশ্রূষায় অতিবাহিত করেন। পরদিন রবিবার ফজর নামাজের পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত বিলাল রাযি.-কে এই ঘোষণা প্রদানের নির্দেশ দেন যে, আল্লাহর রাসুল তোমাদেরকে শত্রু বাহিনীর অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে শুধু তারাই বের হবে, যারা গতকাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।
এরপর নবীজির নির্দেশে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধপতাকা নিয়ে আসা হয়। নবীজি হজরত আলি রাযি.-কে পতাকা প্রদান করেন। এরপর আহত ও ক্লান্ত-শ্রান্ত মুসলিম বাহিনী বেরিয়ে পড়ে এবং হামরাউল আসাদে(৩৪) শিবির স্থাপন করে। মুসলমানরা সেখানে বিশাল আগুন প্রজ্বলিত করে। বহু দূর থেকে আগুন দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল, প্রচুর সৈন্যের সমাবেশ ঘটেছে।
মক্কার মুশরিকরা তখন উহুদেই অবস্থান করে অর্জিত বিজয় উদ্যাপন করছিল এবং আনন্দে কোরাস গাইছিল। এ সময় তারা মুসলমানদের সমূলে শেষ করতে মদিনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। অবশ্য সাফওয়ান বিন উমাইয়া এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তাদেরকে নিষেধ করছিল।
খুযাআ গোত্রের সর্দার মা'বাদ আল-খুযায়ি তখনও মুসলমান হননি। তিনি সে পথেই কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনি মুসলিম বাহিনীর শিবিরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করে মুশরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছান। মা'বাদ আল-খুযায়িকে দেখতে পেয়ে কুরাইশ বাহিনীর প্রধান আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করেন, 'মা'বাদ, পেছনে কী অবস্থা দেখে এলে?' মা'বাদ উত্তর দেন, 'ধিক তোমাকে! মুহাম্মাদ তো তোমাদের খোঁজে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। এত বিশাল বাহিনী আমি জীবনেও দেখিনি। মুসলমানরা তোমাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে টগবগ করছে। এমন ক্রোধ ও ক্ষোভ আমি কখনো দেখিনি।'
মা'বাদের কথা শুনে মুশরিক বাহিনী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত পলায়ন করে এবং মক্কার পথ ধরে।
নবীজি রবি হতে বুধবার চারদিন হামরাউল আসাদে অবস্থান করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। উল্লেখ্য, সুরা আলে ইমরানে এই যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আলোচিত হয়েছে।

টিকাঃ
৩৪. হামরাউল আসাদ: মদিনা হতে প্রায় বারো কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহরতলির নাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00