📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মসজিদ নির্মাণ

📄 মসজিদ নির্মাণ


মদিনায় পৌঁছেই নবীজি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে সশরীরে নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেন। নবীজির অংশগ্রহণে ইসলামের ইতিহাসে মসজিদে নববি এক অনন্য বৈশিষ্ট্য-মর্যাদা লাভ করে। মসজিদে নববি কেবল নামাজ আদায়ের স্থানই নয়; বরং এমন এক স্বতন্ত্র শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়, যেখান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে ইসলামের পতাকাবাহী কাফেলার প্রথম প্রজন্ম। পরবর্তীকালে মসজিদে নববিতেই মুসলিম জাহানের খলিফা নির্বাচন করা হতো এবং এখানেই মুসলিম জনগণ খলিফার হাতে বায়আত গ্রহণ করত। মসজিদে নববিতেই ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। এখান থেকেই দেশ-দেশান্তরে বিজয়াভিযান প্রেরিত হতো এবং এখানেই নবীজি বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদল, রাজন্যবর্গ ও রাজ-দূতদের স্বাগত জানাতেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাজির-আনসার ভ্রাতৃত্বস্থাপন

📄 মুহাজির-আনসার ভ্রাতৃত্বস্থাপন


এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের বিনির্মাণে নবীজির গৃহীত দ্বিতীয় মূল ভিত্তি। তিনি মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের এমন অভূতপূর্ব সম্পর্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হন, মানবতা তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে যার কোনো দৃষ্টান্ত লাভ করেনি।
নবীজির নির্দেশে আনসারি সাহাবিরা সাদরে, উদারচিত্তে ও সন্তুষ্টমনে তাদের মুহাজির ভাইদের জন্য নিজেদের হৃদয়দ্বার ও গৃহদরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। কোনো মুহাজির সাহাবি তার আনসারি ভাইয়ের কাছে উপস্থিত হলেই আনসারি সাহাবি দ্রুত তার সম্পদ ও বাড়ি দু-ভাগ করে এক ভাগ তার মুহাজির ভাইকে সোপর্দ করতেন। এভাবেই নবীজি সকল মুসলমানের মাঝে হৃদয়ের বন্ধন সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ফলে রক্ত-বংশসহ মানবিক সম্পর্কের সকল কার্যকারণের ওপরে উন্নীত হয়েছিল ঈমানি বন্ধন। আর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক ও বন্ধন লাভ করেছিল সকল বন্ধনের ওপর অগ্রাধিকার।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুসলিম-ইহুদি মৈত্রীচুক্তি

📄 মুসলিম-ইহুদি মৈত্রীচুক্তি


মদিনায় মুসলমানদের অবস্থান স্থিতিশীল হওয়ার পর এবং মদিনার অধিকাংশ অধিবাসী ইসলামগ্রহণ করার পর নবীজি মদিনায় বসবাসরত ইহুদিদের সঙ্গে চুক্তি করেন। (১৮) চুক্তিতে ইহুদিদের নিজ ধর্ম ও সম্পদের অধিকার প্রদান করা হয় এবং তাদের অধিকার ও দায়িত্ব এবং প্রাপ্য ও করণীয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

টিকাঃ
১৮. মদিনায় ইহুদিদের প্রথম পদার্পণ কীভাবে হয়েছিল-এ বিষয়ে ঐতিহাসিকগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। একদল ঐতিহাসিকের মতে আল্লাহর নবী মুসা আ.-এর সঙ্গে হজ করতে আসা কিছু ইহুদি ফেরার পথে মদিনায় থেকে গিয়েছিল এবং বসতি স্থাপন করেছিল। অন্য আরেক দলের মতে শামে রোমানদের আগ্রাসনের কারণে আত্মরক্ষা করতে কিছু ইহুদি মদিনায় এসে বসতি স্থাপন করেছিল। তৃতীয় আরেকটি মত হলো, বুখতে নাসার-এর সাম্রাজ্য থেকে পালিয়ে কিছু ইহুদি মদিনায় বসতি স্থাপন করেছিল। পরবর্তীকালে কিছু আরব জনগোষ্ঠী তাদের সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। কালের পরিক্রমায় এসব ইহুদিদের বংশধরই নবীজির হিজরতের সময় মদিনায় বসবাস করছিল। হিজরতের সময় বনু নজির, বনু কুরায়যা ও বনু কায়নুকাসহ ছোট-বড় প্রায় পঁচিশটি ইহুদি গোত্র মদিনায় বসবাস করত।
ইহুদিদের মদিনায় বসতি স্থাপনের প্রায় সমসাময়িক কালেই ইয়ামেনের মা'দিকারিব অঞ্চলে পবিত্র কুরআনে (সুরা সাবায়) উল্লেখিত ঐতিহাসিক প্লাবন সংঘটিত হয়। তখন সেখানে বসবাসকারী কিছু লোক গোত্রের প্রবীণ নেতা আমর বিন ছা'লাবার পরামর্শে নতুন বাসস্থানের সন্ধানে আরবের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তাদেরই একটি অংশ বনু কালার প্রধান-পুরুষ হারিসা বিন যায়দ বিন সাওয়াদ বিন আসলাম জ্ঞানী ও বিদ্বান ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানতে পারেন-আসমানি গ্রন্থসমূহে শেষনবীর আবাসস্থলের যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ আছে, তা ইয়াসরিব এলাকায় বিদ্যমান আছে। তখন তিনি ইয়াসরিবে বসতি স্থাপন করেন। হারিসার দুই পুত্রের নাম ছিল আওস ও খাযরাজ। তাদের বংশধররাই হিজরতের পর মদিনায় নবীজিকে বরণ করে নিয়েছিল এবং 'আনসার' উপাধি লাভ করেছিল। হিজরতের সময় মদিনায় আওস ও খাযরাজ গোত্রের শাখাগোত্রের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে তেরো ও ছত্রিশটি।
মক্কা থেকে নবীজি ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরামের হিজরতের সময় মদিনায় মূলত এই দুই শ্রেণির মানুষই বসবাস করত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00