📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাজিরদের মক্কায় প্রত্যাবর্তন

📄 মুহাজিরদের মক্কায় প্রত্যাবর্তন


মাসতিনেক পরই হাবশায় হিজরতকারী মুহাজির-কাফেলার কাছে এই ভুল সংবাদ পৌঁছায় যে, মক্কার কুরাইশরা সকলে ইসলামগ্রহণ করেছে। এ সংবাদ পেয়ে একই বছরের শাওয়াল মাসে মুহাজির-কাফেলা মক্কায় ফিরে আসে। মক্কায় প্রবেশ করার পূর্বেই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগতি লাভ করায় অনেকেই পুনরায় হাবশায় ফিরে যায় আর কয়েকজন সাহাবি অতি সঙ্গোপনে বা নেতৃস্থানীয় কোনো কুরাইশ ব্যক্তির নিরাপত্তা-আশ্রয় গ্রহণ করে মক্কায় প্রবেশ করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হাবশায় দ্বিতীয় হিজরত

📄 হাবশায় দ্বিতীয় হিজরত


প্রথমবারের হিজরতের পর যারা মক্কায় ফিরে এসেছিল, তাদের প্রতি কুরাইশদের নির্যাতন ও নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি পায়। গোত্রের লোকেরা তীব্র ক্রোধ নিয়ে নব উদ্যমে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদেরকে দ্বিতীয়বার হাবশায় হিজরতের অনুমতি প্রদান করেন। দ্বিতীয়বারের এই হিজরত ছিল প্রথমবারের চেয়েও কষ্টসাধ্য। এবার হিজরত করে তিরাশিজন পুরুষ ও আঠারোজন নারী সাহাবি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাজিরদের ফিরিয়ে আনতে মক্কার মুশরিকদের ষড়যন্ত্র

📄 মুহাজিরদের ফিরিয়ে আনতে মক্কার মুশরিকদের ষড়যন্ত্র


সাহাবায়ে কেরামের দ্বিতীয়বার হাবশায় হিজরতের পর মক্কার কুরাইশরা মুহাজির-কাফেলাকে মক্কায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালায়। এ উদ্দেশ্যে তারা আমর ইবনুল আস ও আবদুল্লাহ বিন আবু রাবিয়াকে হাবশায় প্রেরণ করে। পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম গ্রহণকারী মুহাজিরদের ফিরিয়ে দিতে হাবশা-অধিপতি নাজাশিকে(১৫) রাজি করানোর জন্য তারা দুজন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। রাজদরবারে নাজাশি ও হাবশায় আশ্রয়গ্রহণকারী মুহাজির-কাফেলার প্রতিনিধি জাফর বিন আবু তালিব রাযি.-এর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। জাফর রাযি. কুরাইশ প্রতিনিধিদলের সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ খণ্ডন করে নাজাশির সামনে নিজেদের নিষ্ঠা ও সততা প্রমাণ করতে সক্ষম হন। হাবশা-রাজ নাজাশি মুহাজির কাফেলাকে মক্কায় ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে নিজেই গোপনে ইসলামগ্রহণ করেন এবং সপ্তম হিজরিতে (৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে) খায়বার যুদ্ধ চলাকালে মুহাজির-কাফেলার মদিনায় গমনের পূর্ব পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করেন।

টিকাঃ
১৫. নাজাশি কোনো বিশেষ ব্যক্তির নাম নয়; বরং তৎকালীন আবিসিনিনিয়া সাম্রাজ্যের প্রত্যেক অধিপতিকেই সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে নাজাশি বলা হতো। তদ্রূপ রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতিকে কায়সার, পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতিকে কিসরা, মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার শাসককে মুকাওকিস এবং তুর্কি সাম্রাজ্যের অধিপতিকে খাকান বলা হতো। আলোচ্য নাজাশি বা হাবশা-রাজের নাম ছিল আসহামা বিন আবজার। তিনি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, যার জন্য নবীজি গায়েবি জানাযা আদায় করেছিলেন। তিনি মক্কা বিজয়ের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 প্রথমে হামজা ও তারপর উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলামগ্রহণ

📄 প্রথমে হামজা ও তারপর উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলামগ্রহণ


নবুওয়তের ষষ্ঠ বছরের শেষদিকে মহান আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের প্রভাব মজবুত ও সুদৃঢ় করার এবং কাফির ও মুশরিকদের লাঞ্ছিত ও হীনবল করার ইচ্ছা করেন। এ সময় প্রথমে ইসলামগ্রহণ করেন নবীজির পিতৃব্য ও কুরাইশ গোত্রের সম্ভ্রান্ত ও শক্তিশালী যুবক হামজা রাযি.। এর তিনদিন পরই ইসলামগ্রহণ করেন আরেক তেজস্বী যুবক উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.। উমরের ইসলামগ্রহণ মক্কার মুশরিকসমাজে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মুশরিকরা নিজেদেরকে লাঞ্ছিত-অপমানিত ভাবতে শুরু করে। বিপরীতে মুসলমানরা লাভ করে গৌরব ও আনন্দ-অনুভূতি।
বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলতেন, 'উমর ইসলামগ্রহণ করার পূর্বে আমরা কাবার কাছে নামাজ আদায় করতে পারিনি।'
সুহায়ব বিন সিনান রাযি. বলেন, 'উমরের ইসলামগ্রহণের পরই ইসলাম পূর্ণরূপে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত প্রদানের পথ সুগম হয়। আমরা কাবাগৃহের পাশে উপবেশন ও তাওয়াফ করার সুযোগ পাই। এতদিন যারা আমাদের সঙ্গে নির্দয় আচরণ করত, এবার আমরা তাদের প্রতিবাদ করার এবং মন্দ আচরণের কিছু অংশ তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাই।'
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. আরও বলেন, 'উমরের ইসলামগ্রহণের পর থেকে আমরা সর্বদা মর্যাদাসম্পন্ন ছিলাম।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00