📄 কাবা পুনর্নির্মাণ এবং এ সংক্রান্ত বিরোধ নিরসন
নবীজির বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর, তখন কুরাইশ গোত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় কাবাঘরের প্রাচীরগুলো দুর্বল ও ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়েছিল। কুরাইশগণ প্রথমে কাবাঘরের প্রাচীরগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর তারা পুরো ঘরটিকে কয়েক অংশে বিভক্ত করে এবং প্রত্যেক শাখা-গোত্রকে একেকটি অংশ নির্মাণের দায়িত্ব প্রদান করে। হাজরে আসওয়াদ সংস্থাপনের স্থান পর্যন্ত গাঁথুনি সমাপ্ত হওয়ার পর গোত্রগুলো হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপনের অধিকার নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। কোনো গোত্রই এই সৌভাগ্য হাতছাড়া করতে রাজি ছিল না। বিবাদ যখন অনিবার্য যুদ্ধে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন প্রবীণ কুরাইশ নেতা আবু উমাইয়া ইবনুল মুগিরা মাখযুমি সকলের কাছে প্রস্তাব রাখেন—‘আগামীকাল প্রত্যুষে মসজিদের দরজা দিয়ে সবার আগে যিনি প্রবেশ করবেন, তাকেই আমরা আমাদের সমস্যার মীমাংসাকারী হিসেবে মেনে নেব।’
আল্লাহর কী কুদরত! পরদিন প্রত্যুষে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবীজিকে দেখে সকলে সমস্বরে বলে ওঠে, ‘এ তো আল-আমিন (বিশ্বস্ত)! আমরা তার প্রতি সন্তুষ্ট।’
বিবাদ নিরসনের উদ্দেশ্যে নবীজি একটি চাদর বিছিয়ে হাজরে আসওয়াদ তার মধ্যে রাখেন এবং প্রত্যেক গোত্রপতিকে আহ্বান করেন। নবীজির নির্দেশে তারা সকলে মিলে চাদরটির বিভিন্ন প্রান্ত ধরে পাথরটি উত্তোলন করে। যথাস্থানে ওঠানো হলে নবীজি আপন মোবারক হস্তে পাথরটি স্থাপন করেন।