📄 নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরম্পরা
পিতার দিক থেকে নবীজির বংশপরম্পরা নিম্নরূপ— মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররা বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নযর বিন কিনানা বিন খুযায়মা বিন মুদরিকা বিন ইলয়াস বিন মুযার বিন নিযার বিন মাআদ বিন আদনান।
আদনান পর্যন্ত নবীজির উল্লিখিত বংশধারা ইতিহাসবিশারদ, সিরাত রচয়িতা ও কুলজিবিশারদ—সকলের নিকট সর্বস্বীকৃত। ঠিক তেমনই আদনান যে হজরত ইসমাইল আ.-এর বংশোদ্ভূত ও অধস্তন পুরুষ, এ বিষয়েও কারও দ্বিমত নেই।
আদনান হতে ওপরের দিকের বংশপরম্পরা বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে বিধায় এখানে উল্লেখ করা হলো না। (৭)
টিকাঃ
৭. আদনান হতে হজরত ইসমাইল আ. পর্যন্ত বংশপরম্পরার বর্ণনায় ঐতিহাসিকগণের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়। এর কারণ হলো, ঐতিহাসিকগণের কেউ কেউ আদনান হতে ইসমাইল পর্যন্ত সকল ঊর্ধ্বতন পুরুষের নাম উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ কেবল বিখ্যাত ও খ্যাতিমান পুরুষদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তুলনামূলক অখ্যাত পুরুষদের নাম বাদ দিয়েছেন। বংশবর্ণনা শাস্ত্রে এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। বিস্তারিত জানতে দেখা যেতে পারে—ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, সীরাত বিশ্বকোষ, ৪/১৪৯-১৫৪।
📄 নবীজির শুভজন্ম
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'হস্তিবছর'-এর রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ(৮) রোজ সোমবার ভূপৃষ্ঠে আগমন করেন। সে বছরই ইয়ামেনের বাদশা আবরাহা মক্কায় আক্রমণ ও কাবাঘর ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন এবং তার বাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করেন। এ ঘটনা ছিল মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। পবিত্র কুরআনের সুরা ফিল-এ আবরাহার হস্তিবাহিনী ধ্বংসের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। কতক ঐতিহাসিকের মতে খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুসারে প্রিয় নবীজির শুভাগমন ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে হয়েছিল।
নবীজি মক্কার বনু হাশিম উপত্যকায় আবু তালিবের গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম থেকেই নবীজি ছিলেন এতিম ও পিতাহারা। মাতৃগর্ভে নবীজির বয়স যখন দু-মাস, তখন নবীজির পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। এতিম নবীজির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার পিতামহ আবদুল মুত্তালিব। তিনি নবীজির দুধ-মা হিসেবে সাদ বিন বকর গোত্রের হালিমা সাদিয়া (বিনতে আবু যুআয়ব আবদুল্লাহ বিন হারিস)-কে নির্বাচন করেন।
টিকাঃ
৮. ঐতিহাসিকগণ মোটামুটি এ বিষয়ে একমত যে, নবীজি হস্তিবছরের রবিউল আউয়াল মাসে সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ণয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। যেমন: ২, ৮, ৯, ১০, ১২ রবিউল আউয়াল। প্রসিদ্ধতম মত হলো ১২ রবিউল আউয়াল। তবে প্রকৃতপক্ষে এসব মতের কোনোটিই শাস্ত্রগত দিক থেকে সুপ্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য-ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, সীরাত বিশ্বকোষ, ৪/২০৬-২১০ ও মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ উশান, মা শাআ' ওয়া লাম ইয়াছবুত ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যা, পৃষ্ঠা: ৫-৯।
বলাবাহুল্য, সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখের অবগতির সঙ্গে না কোনো দ্বীনি বিধান জড়িত আছে; আর না নবীজি, সাহাবায়ে কেরাম এবং আসলাফ ও পূর্বসূরিগণ এ বিষয়ে বিশেষ কোনো গুরুত্ব দিয়েছেন।
📄 বক্ষবিদারণের ঘটনা
বনু সাদ গোত্রে দুধমাতা হালিমার কাছে অবস্থানকালে নবী-জীবনের এই অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় হালিমা সাদিয়া নবীজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। এ সময় নবীজির বয়স ছিল পাঁচ বছর।
📄 মাতৃবিয়োগ ও পিতামহের দায়িত্বগ্রহণ
মাতৃক্রোড়ে ফিরে আসার পর নবীজি মায়ের তত্ত্বাবধানেই অবস্থান করেন। এক বছর পর আমিনা স্বামীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে নবীজিকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসরিবে (মদিনায়) গমন করেন। ইয়াসরিব থেকে মক্কায় ফেরার পথে মক্কা ও হুদায়বিয়ার মধ্যবর্তী আবওয়া নামক স্থানে নবীজির মাতা আমিনা ইন্তেকাল করেন। এ সফরে নবীজির সঙ্গে আমিনার পরিচারিকা উম্মে আয়মানও ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর দাদা আবদুল মুত্তালিব নবীজির প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।