📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইহুদিসমাজ

📄 ইহুদিসমাজ


তৎকালে পুরো পৃথিবীতে ইহুদিদের স্বতন্ত্র কোনো রাষ্ট্র ছিল না। আরব উপদ্বীপের মদিনা ও খায়বার অঞ্চলে কিছু ইহুদি বসবাস করত। এর বাইরে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ইহুদির অস্তিত্ব ছিল।
নিষ্ঠুরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা ছিল ইহুদিদের প্রধান চরিত্র-বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি তারা ছিল চরম পর্যায়ের হিংস্র। ইহুদিরাই নাজরানের খ্রিস্টানদেরকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল।
ধর্মজ্ঞানে পারদর্শী ইহুদি বুদ্ধিজীবীরা ধনবান ব্যক্তিদের মনস্তুষ্টির জন্য ধর্মীয় বিধানে যথেচ্ছ সংযোজন-বিয়োজন করত। তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় ইহুদিধর্ম তখন ধর্মগুরুদের স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে পরিণত হয়েছিল। আচরণগত অবক্ষয়ের কারণে পৃথিবীবাসীর কাছে ইহুদিরা পরিণত হয়েছিল নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত এক জাতিতে।
(ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوْ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ )
আর তাদের (ইহুদিদের) ওপর লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্বের ছাপ মেরে দেওয়া হলো এবং তারা আল্লাহর গজব নিয়ে ফিরল। [সুরা বাকারা: ৬১]
সমকালীন বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ও প্রতাপশালী সাম্রাজ্যগুলোর অবস্থা যখন এই, তখন ছোট ছোট রাজ্য ও জনপদগুলোর পরিস্থিতি যে কতটা নিম্নগামী ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। ধরণিজুড়ে কোথাও ছিল না সত্য ও বিশ্বাসের আলো, পৃথিবী নিমজ্জিত ছিল অন্যায় ও অবিশ্বাসের অন্ধকারে। অবক্ষয়ের চরম প্রান্তে উপনীত সেই কালের নামই হয়ে গিয়েছিল 'আল-আইয়ামুল জাহিলিয়া' বা মূর্খতা ও অন্ধকারের যুগ।
মানবতা যেন সহ্যের শেষ সীমায় উপনীত হয়ে দয়াময় আল্লাহর কুদরতি করুণার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছিল। সকলের প্রত্যাশা ছিল নিকষ কালো আঁধার চিরে নতুন সূর্যোদয়ের, মানবতার ভাগ্যাকাশে নতুন এক ভাগ্যতারা উদয়ের।
পৃথিবীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত ও শাশ্বত রীতি হলো—প্রতিটি আঁধার রাতের শেষেই আসে সুহাসিনী ভোর। রাত যত গভীর হয়, ভোরের আগমনধ্বনি তত নিকটবর্তী হয়। আর তাই মূর্খতার তমশাচ্ছন্ন ধরণিতেই নিকষ আঁধার ভেদ করে সত্যের আলো ছড়াতে উদয় হয়েছিল ন্যায় ও কল্যাণের মহাসূর্যের; পুণ্যের পথ দেখাতে আগমন ঘটেছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের।
তার পরিচয়?! তিনি ইমামুল মুরসালিন, নবী-রাসুলগণের ইমাম; রহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রহমত; সাইয়িদুল কাওনাইন, উভয় জাহানের নেতা; শাফিউল মুযনিবিন, কিয়ামত-দিবসে পাপী-তাপীদের জন্য সুপারিশকারী; বাদরুদ-দুজা, আঁধার রাতের শশী; শামসুদ-দুহা, পূর্বাহ্নের দিবাকর। তিনি...!

ইসলামপূর্ব যুগে ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করত। তাদের কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য ছিল না। ইহুদিরা নিজেদেরকে আল্লাহর নির্বাচিত জাতি মনে করত এবং তাওরাতকে তাদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে অনুসরণ করত। ইহুদি সমাজে ধর্মীয় নেতারা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। তারা সমাজের সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করত এবং সাধারণ মানুষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত। ইসলামপূর্ব যুগে ইহুদিরা আরবেও বসবাস করত। মদিনায় তাদের বেশ কয়েকটি গোত্র ছিল, যেমন: বনূ কায়নুকা, বনূ নাযির ও বনূ কুরায়যা। তারা আরবের অন্যান্য গোত্রের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করত এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখত। তবে তারা নিজেদেরকে আরবের অন্যান্য গোত্রের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করত এবং তাদের সঙ্গে বিবাহ-সম্পর্ক স্থাপন করত না। ইসলামপূর্ব যুগে ইহুদিরা মদিনার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00