📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 নাভারিনোর যুদ্ধ

📄 নাভারিনোর যুদ্ধ


২৯শে রবিউল আউয়াল, ১২৪৩ হিজরি মোতাবেক ২০শে অক্টোবর ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত নাভারিনোর যুদ্ধটি নিকট ইতিহাসের অন্যতম বৈপ্লবিক নৌ যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এ যুদ্ধে একপাশে ছিল উসমানি সাম্রাজ্য, মিশর, তিউনিসিয়া এবং আলজেরিয়া; অপরপাশে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া।

গ্রিসের বিদ্রোহ
সুদীর্ঘকাল ধরে গ্রিস ছিল উসমানি সাম্রাজ্যের একটি অনুগত অঙ্গরাজ্য। ১৮১৪ সালের দিকে গ্রিসের জনগণের মধ্যে উসমানীয়দের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনা জেগে ওঠে। গির্জাকেন্দ্রিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো তাদেরকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাতে থাকে। রাশিয়া এই সুযোগে গ্রিকদের উস্কানি দিতে শুরু করে এবং উসমানি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

মিশরের নৌবহর ও যুদ্ধ
সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ গ্রিসের বিদ্রোহ দমনের জন্য মিশরের সুলতান মুহাম্মদ আলি পাশার সাহায্য চান। মুহাম্মদ আলি পাশা তার ছেলে ইবরাহিম পাশাকে এক বিশাল নৌবহর দিয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে পাঠান। ইবরাহিম পাশা নাভারিনো জয় করে এথেন্সের দিকে অগ্রসর হন। এই সময় ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো গ্রিসের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং উসমানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

১৮২৭ সালের ২০শে অক্টোবর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার নৌবাহিনী নাভারিনো বন্দরে প্রবেশ করে। তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে উসমানীয় জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়। চোখের সামনে উসমানীয়দের শক্তিশালী নৌবহর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এটি ছিল মুসলিম বাহিনীর জন্য এক অভাবনীয় এবং আকস্মিক বিপর্যয়।

ফলাফল
নাভারিনোর যুদ্ধের এই পরাজয় উসমানি সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা করে। গ্রিস স্বাধীন হয়ে যায় এবং উসমানীয় নৌ শক্তি প্রচণ্ডভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ১৮৩০ সালে ফ্রান্স আলজেরিয়া দখল করে নেয়। উসমানি সাম্রাজ্য তার পূর্বের গৌরব হারিয়ে ক্রমেই পতনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px