📄 হিত্তিনের যুদ্ধ
হিত্তিনের যুদ্ধ BATTLE OF HITTIN
তারিখ: ৫৮৩ হিজরি / ১১৮৭ খ্রি.
স্থান: হিত্তিন, টাইবেরিয়া
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: আইয়ুবি সাম্রাজ্য বনাম বাইতুল মাকদিস সাম্রাজ্য (খ্রিস্টান)
সেনাপ্রধান: সালাহুদ্দিন আইয়ুবি বনাম গাই অব লুসিগনান
সেনাসংখ্যা: ১২ হাজার বনাম ৫০ হাজার (মতান্তরে ৬৩ হাজার)
ক্ষয়ক্ষতি: জানা যায়নি বনাম ৩০ হাজার নিহত, সমপরিমাণ বন্দি
৫৮৩ হিজরির ২৪শে রবিউল আউয়াল রোজ শনিবার, নাজারেথ এবং টাইবেরিয়ার মধ্যবর্তী হিত্তিন নামক স্থানে ক্রুসেডার জেরুজালেম রাজ্য ও আইয়ুবীয়দের মধ্যে সংঘটিত হয় এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবির অধীন মুসলিম সেনাবাহিনী ব্যাপক সংখ্যক ক্রুসেডার সেনাকে পরাস্ত করে গুরুত্ববহ এক বিজয় ছিনিয়ে নেয়। এ জয় মুসলমানদের জন্য বাইতুল মাকদিস বিজয়ের পথ সুগম করে। ঐতিহাসিকদের মতে, হিত্তিনের বিজয়ের পর বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারে সালাহুদ্দিনের সামনে আর কোনো বাধা অবশিষ্ট ছিল না।
আঁধার রাতের হাসনাহেনা
৫৩২ হিজরির এক অন্ধকার রাতে সুলতান সালাহুদ্দিনের জন্ম হয়। তাঁর পিতা নাজমুদ্দিন আইয়ুব এবং চাচা আসাদুদ্দিন শেরকোহ তখন তিকরিত দুর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অজানার পথে যাত্রা করেছিলেন। সালাহুদ্দিনের জন্মলগ্নে তাঁর পিতা তাঁকে কুলক্ষুণে ভেবেছিলেন, কিন্তু এক পাদরি তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এই সন্তানই একদিন পৃথিবীর অন্ধকার দূর করবে। পরবর্তীতে তাঁরা ইমাদুদ্দিন জেনকির কাছে আশ্রয় পান। জেনকি রাজবংশের অধীনেই সালাহুদ্দিনের শৈশব কাটে এবং তিনি সমরবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
সালাহুদ্দিনের আত্মপ্রকাশ
সালাহুদ্দিন তাঁর চাচা শেরকোহের সাথে মিশরের অভিযানে অংশ নেন এবং পরে মিশরের উজির নিযুক্ত হন। ১১৭৪ হিজরিতে সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদের মৃত্যুর পর মুসলিম ঐক্য যখন হুমকির মুখে, তখন সালাহুদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একে একে হিমস, হামা এবং ১১৮৩ সালে আলেপ্পো জয় করে মুসলিম শক্তিকে সুসংহত করেন। বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন তাঁকে সবসময় তাড়া করত।
হিত্তিনের পথ সুগম করল যে যুদ্ধ
১১৭৯ সালে মারজায়ুনের যুদ্ধে সালাহুদ্দিন ক্রুসেড সম্রাট চতুর্থ বল্ডউইনকে পরাজিত করেন। এ বিজয় মুসলমানদের মনোবল বৃদ্ধি করে। পরে সালাহুদ্দিন ক্রুসেডারদের সাথে চার বছরের শান্তিচুক্তি করেন। কিন্তু কির্কের শাসক রেনল্ড এই চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের একটি বাণিজ্য কাফেলা লুট করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করে। এই ঘটনা সালাহুদ্দিনকে হিত্তিনের যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
যুদ্ধের সূচনা
১১৮৭ সালে সুলতান তাঁর ১২ হাজার সুসংগঠিত সেনাসহ অগ্রসর হন। অন্যদিকে প্রায় ৫০ হাজার ক্রুসেডার সেনা জমায়েত হয়। সুলতান কৌশলে টাইবেরিয়া অবরোধ করে ক্রুসেডারদেরকে খোলা ময়দানে আসার সুযোগ করে দেন। ৩ জুলাই ক্রুসেডাররা পানিশূন্য মরু পথ দিয়ে হিত্তিনের দিকে যাত্রা করে। সুলতান আগেভাগেই পানির উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন।
যুদ্ধ
৪ জুলাই ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ। হিত্তিনের উপত্যকায় মুসলমানরা ক্রুসেডারদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। তৃষ্ণার্ত খ্রিস্টান সেনারা যখন পানির জন্য মরিয়া, তখন সুলতান তাদের ওপর তীব্র আক্রমণ চালান। মুসলমানদের তাকবিরধ্বনিতে আকাশ প্রকম্পিত হয়। সুলতান তাঁর বাহিনীকে উৎসাহিত করেন। একপর্যায়ে খ্রিস্টানদের ‘ট্রু ক্রস’ মুসলমানদের হস্তগত হয়, যা দেখে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। যুদ্ধে ৩০ হাজার খ্রিস্টান সেনা নিহত হয় এবং রাজা গাই অব লুসিগনান ও রেনল্ডসহ প্রধান নেতৃবৃন্দ বন্দি হন।
যুদ্ধের পর
বন্দিদের সুলতানের সামনে আনা হলে তিনি রাজা গাইকে বরফমিশ্রিত পানি পান করান, কিন্তু বিশ্বাসঘাতক রেনল্ডকে নিজ হাতে হত্যা করেন। সুলতান বলেন, 'আমি তোকে হত্যা করার শপথ করেছি যখন তুই মক্কা-মদিনা আক্রমণের দুঃসাহস করেছিলি।' এই বিজয়ের ফলে ক্রুসেডারদের পতন ত্বরান্বিত হয় এবং সালাহুদ্দিনের সামনে জেরুজালেম বিজয়ের পথ খুলে যায়।
টিকাঃ
১. নাজমুদ্দিন আইয়ুব ও তাঁর পরিবার ১১৩৯ সালে মসুলে চলে আসলে ইমাদউদ্দিন জেনকি তাঁদের পূর্ব-অবদান স্বীকার করে আইয়ুবকে বালবিক দুর্গের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন।
১. যে সব যোদ্ধা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করে তাদের বাহিনীকে কভ্যুলরি বলে।
১. ঐতিহাসিক এ যুদ্ধক্ষেত্রটি বর্তমানে গোলান মালভূমির দক্ষিণপূর্বে সিরিয়ার হাওরান অঞ্চলে অবস্থিত।
হিত্তিনের যুদ্ধ BATTLE OF HITTIN
তারিখ: ৫৮৩ হিজরি / ১১৮৭ খ্রি.
স্থান: হিত্তিন, টাইবেরিয়া
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: আইয়ুবি সাম্রাজ্য বনাম বাইতুল মাকদিস সাম্রাজ্য (খ্রিস্টান)
সেনাপ্রধান: সালাহুদ্দিন আইয়ুবি বনাম গাই অব লুসিগনান
সেনাসংখ্যা: ১২ হাজার বনাম ৫০ হাজার (মতান্তরে ৬৩ হাজার)
ক্ষয়ক্ষতি: জানা যায়নি বনাম ৩০ হাজার নিহত, সমপরিমাণ বন্দি
৫৮৩ হিজরির ২৪শে রবিউল আউয়াল রোজ শনিবার, নাজারেথ এবং টাইবেরিয়ার মধ্যবর্তী হিত্তিন নামক স্থানে ক্রুসেডার জেরুজালেম রাজ্য ও আইয়ুবীয়দের মধ্যে সংঘটিত হয় এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবির অধীন মুসলিম সেনাবাহিনী ব্যাপক সংখ্যক ক্রুসেডার সেনাকে পরাস্ত করে গুরুত্ববহ এক বিজয় ছিনিয়ে নেয়। এ জয় মুসলমানদের জন্য বাইতুল মাকদিস বিজয়ের পথ সুগম করে। ঐতিহাসিকদের মতে, হিত্তিনের বিজয়ের পর বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারে সালাহুদ্দিনের সামনে আর কোনো বাধা অবশিষ্ট ছিল না।
আঁধার রাতের হাসনাহেনা
৫৩২ হিজরির এক অন্ধকার রাতে সুলতান সালাহুদ্দিনের জন্ম হয়। তাঁর পিতা নাজমুদ্দিন আইয়ুব এবং চাচা আসাদুদ্দিন শেরকোহ তখন তিকরিত দুর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অজানার পথে যাত্রা করেছিলেন। সালাহুদ্দিনের জন্মলগ্নে তাঁর পিতা তাঁকে কুলক্ষুণে ভেবেছিলেন, কিন্তু এক পাদরি তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এই সন্তানই একদিন পৃথিবীর অন্ধকার দূর করবে। পরবর্তীতে তাঁরা ইমাদুদ্দিন জেনকির কাছে আশ্রয় পান। জেনকি রাজবংশের অধীনেই সালাহুদ্দিনের শৈশব কাটে এবং তিনি সমরবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
সালাহুদ্দিনের আত্মপ্রকাশ
সালাহুদ্দিন তাঁর চাচা শেরকোহের সাথে মিশরের অভিযানে অংশ নেন এবং পরে মিশরের উজির নিযুক্ত হন। ১১৭৪ হিজরিতে সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদের মৃত্যুর পর মুসলিম ঐক্য যখন হুমকির মুখে, তখন সালাহুদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একে একে হিমস, হামা এবং ১১৮৩ সালে আলেপ্পো জয় করে মুসলিম শক্তিকে সুসংহত করেন। বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন তাঁকে সবসময় তাড়া করত।
হিত্তিনের পথ সুগম করল যে যুদ্ধ
১১৭৯ সালে মারজায়ুনের যুদ্ধে সালাহুদ্দিন ক্রুসেড সম্রাট চতুর্থ বল্ডউইনকে পরাজিত করেন। এ বিজয় মুসলমানদের মনোবল বৃদ্ধি করে। পরে সালাহুদ্দিন ক্রুসেডারদের সাথে চার বছরের শান্তিচুক্তি করেন। কিন্তু কির্কের শাসক রেনল্ড এই চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের একটি বাণিজ্য কাফেলা লুট করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করে। এই ঘটনা সালাহুদ্দিনকে হিত্তিনের যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
যুদ্ধের সূচনা
১১৮৭ সালে সুলতান তাঁর ১২ হাজার সুসংগঠিত সেনাসহ অগ্রসর হন। অন্যদিকে প্রায় ৫০ হাজার ক্রুসেডার সেনা জমায়েত হয়। সুলতান কৌশলে টাইবেরিয়া অবরোধ করে ক্রুসেডারদেরকে খোলা ময়দানে আসার সুযোগ করে দেন। ৩ জুলাই ক্রুসেডাররা পানিশূন্য মরু পথ দিয়ে হিত্তিনের দিকে যাত্রা করে। সুলতান আগেভাগেই পানির উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন।
যুদ্ধ
৪ জুলাই ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ। হিত্তিনের উপত্যকায় মুসলমানরা ক্রুসেডারদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। তৃষ্ণার্ত খ্রিস্টান সেনারা যখন পানির জন্য মরিয়া, তখন সুলতান তাদের ওপর তীব্র আক্রমণ চালান। মুসলমানদের তাকবিরধ্বনিতে আকাশ প্রকম্পিত হয়। সুলতান তাঁর বাহিনীকে উৎসাহিত করেন। একপর্যায়ে খ্রিস্টানদের ‘ট্রু ক্রস’ মুসলমানদের হস্তগত হয়, যা দেখে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। যুদ্ধে ৩০ হাজার খ্রিস্টান সেনা নিহত হয় এবং রাজা গাই অব লুসিগনান ও রেনল্ডসহ প্রধান নেতৃবৃন্দ বন্দি হন।
যুদ্ধের পর
বন্দিদের সুলতানের সামনে আনা হলে তিনি রাজা গাইকে বরফমিশ্রিত পানি পান করান, কিন্তু বিশ্বাসঘাতক রেনল্ডকে নিজ হাতে হত্যা করেন। সুলতান বলেন, 'আমি তোকে হত্যা করার শপথ করেছি যখন তুই মক্কা-মদিনা আক্রমণের দুঃসাহস করেছিলি।' এই বিজয়ের ফলে ক্রুসেডারদের পতন ত্বরান্বিত হয় এবং সালাহুদ্দিনের সামনে জেরুজালেম বিজয়ের পথ খুলে যায়।
টিকাঃ
১. নাজমুদ্দিন আইয়ুব ও তাঁর পরিবার ১১৩৯ সালে মসুলে চলে আসলে ইমাদউদ্দিন জেনকি তাঁদের পূর্ব-অবদান স্বীকার করে আইয়ুবকে বালবিক দুর্গের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন।
১. যে সব যোদ্ধা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করে তাদের বাহিনীকে কভ্যুলরি বলে।
১. ঐতিহাসিক এ যুদ্ধক্ষেত্রটি বর্তমানে গোলান মালভূমির দক্ষিণপূর্বে সিরিয়ার হাওরান অঞ্চলে অবস্থিত।
📄 বাইতুল মাকদিস বিজয়
হিত্তিনের প্রান্তরে ক্রুসেড বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পর সুলতান সালাহুদ্দিনের হাত থেকে বাইতুল মাকদিস রক্ষা করার সাধ্য ক্রুসেডারদের ছিল না। হিত্তিনের পর থেকেই বাইতুল মাকদিস সুলতানের আগমনের অপেক্ষা করছিল। সুলতান বাইতুল মাকদিসে প্রবেশের আগে একে একে এক্রে, আসকেলান, গাজা ও উপকূলীয় শহরগুলো দখল করে নেন যাতে বাইজেন্টাইনরা সমুদ্রপথে সাহায্য না পাঠাতে পারে।
স্বপ্নের সাথে দেখা
১৫ই রজব, ৫৮৩ হিজরি মোতাবেক ১১৮৭ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর সুলতান সালাহুদ্দিন কুদস শহরের ফটকের সামনে এসে উপস্থিত হন। সুলতান চেয়েছিলেন রক্তপাতহীন বিজয়। তিনি শহরবাসীর কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠালেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বাধ্য হয়ে সুলতান অবরোধ শুরু করেন। ২০শে রজব তিনি উত্তর দিকের প্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
তীব্র গোলাবর্ষণের ফলে খ্রিস্টানরা যখন বুঝতে পারল পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা সুলতানের কাছে সন্ধির আবেদন করে। সুলতান তাদের প্রাণভিক্ষা দেন এবং শর্ত দেন যে তারা মুক্তিপণ দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারবে। অবশেষে ২৭শে রজব ৫৮৩ হিজরি, মিরাজের পবিত্র রাতে সুলতান বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করেন।
মহানুভব সেনাপতি তিনি
সুলতান যখন শহরে প্রবেশ করেন, চারদিকে 'আল্লাহু আকবার' রব পড়ে যায়। ৯১ বছর পর বাইতুল মাকদিসের মিনারে পুনরায় আজান ধ্বনিত হয়। সুলতান মাসজিদুল আকসা ও কুব্বাতুস সাখরার সংস্কার করেন এবং গোলাপ জল দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করেন।
সুলতান তাঁর মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে হাজার হাজার নিঃস্ব খ্রিস্টান বন্দিকে মুক্তিপণ ছাড়াই মুক্ত করে দেন। তাঁর ভাই আল-মালিকুল আদিল এক হাজার বন্দিকে তাঁর নিজের নামে মুক্ত করার অনুমতি চাইলে সুলতান তা মঞ্জুর করেন। খ্রিস্টান রানি সিবিলা ও অন্যান্য সম্ভ্রান্ত নারীদের সসম্মানে বিদায় করা হয়। সুলতান নির্দেশ দেন খ্রিস্টানদের উপাসনালয় গির্জাগুলো যেন না ভাঙা হয়। সুলতানের এই দয়ার্দ্র আচরণ দেখে ইউরোপিয়ানরা বিস্মিত হয়।
নগর তদারকির সময় সুলতান প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ শোনেন এবং ন্যায় বিচার করেন। তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় ভ্রমণের অনুমতি বহাল রাখেন। এভাবেই সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি এক ঐতিহাসিক ও মানবিক বিজয়ের ইতিহাস রচনা করেন।
টিকাঃ
টিকা পাওয়া যায়নি।
হিত্তিনের প্রান্তরে ক্রুসেড বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পর সুলতান সালাহুদ্দিনের হাত থেকে বাইতুল মাকদিস রক্ষা করার সাধ্য ক্রুসেডারদের ছিল না। হিত্তিনের পর থেকেই বাইতুল মাকদিস সুলতানের আগমনের অপেক্ষা করছিল। সুলতান বাইতুল মাকদিসে প্রবেশের আগে একে একে এক্রে, আসকেলান, গাজা ও উপকূলীয় শহরগুলো দখল করে নেন যাতে বাইজেন্টাইনরা সমুদ্রপথে সাহায্য না পাঠাতে পারে।
স্বপ্নের সাথে দেখা
১৫ই রজব, ৫৮৩ হিজরি মোতাবেক ১১৮৭ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর সুলতান সালাহুদ্দিন কুদস শহরের ফটকের সামনে এসে উপস্থিত হন। সুলতান চেয়েছিলেন রক্তপাতহীন বিজয়। তিনি শহরবাসীর কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠালেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বাধ্য হয়ে সুলতান অবরোধ শুরু করেন। ২০শে রজব তিনি উত্তর দিকের প্রাচীর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
তীব্র গোলাবর্ষণের ফলে খ্রিস্টানরা যখন বুঝতে পারল পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা সুলতানের কাছে সন্ধির আবেদন করে। সুলতান তাদের প্রাণভিক্ষা দেন এবং শর্ত দেন যে তারা মুক্তিপণ দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারবে। অবশেষে ২৭শে রজব ৫৮৩ হিজরি, মিরাজের পবিত্র রাতে সুলতান বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করেন।
মহানুভব সেনাপতি তিনি
সুলতান যখন শহরে প্রবেশ করেন, চারদিকে 'আল্লাহু আকবার' রব পড়ে যায়। ৯১ বছর পর বাইতুল মাকদিসের মিনারে পুনরায় আজান ধ্বনিত হয়। সুলতান মাসজিদুল আকসা ও কুব্বাতুস সাখরার সংস্কার করেন এবং গোলাপ জল দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করেন।
সুলতান তাঁর মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে হাজার হাজার নিঃস্ব খ্রিস্টান বন্দিকে মুক্তিপণ ছাড়াই মুক্ত করে দেন। তাঁর ভাই আল-মালিকুল আদিল এক হাজার বন্দিকে তাঁর নিজের নামে মুক্ত করার অনুমতি চাইলে সুলতান তা মঞ্জুর করেন। খ্রিস্টান রানি সিবিলা ও অন্যান্য সম্ভ্রান্ত নারীদের সসম্মানে বিদায় করা হয়। সুলতান নির্দেশ দেন খ্রিস্টানদের উপাসনালয় গির্জাগুলো যেন না ভাঙা হয়। সুলতানের এই দয়ার্দ্র আচরণ দেখে ইউরোপিয়ানরা বিস্মিত হয়।
নগর তদারকির সময় সুলতান প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ শোনেন এবং ন্যায় বিচার করেন। তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় ভ্রমণের অনুমতি বহাল রাখেন। এভাবেই সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি এক ঐতিহাসিক ও মানবিক বিজয়ের ইতিহাস রচনা করেন।
টিকাঃ
টিকা পাওয়া যায়নি।