📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 ট্রিলসের যুদ্ধ

📄 ট্রিলসের যুদ্ধ


বালাত আশ-শুহাদা যুদ্ধ বা বাওয়াতিহ যুদ্ধ নামে পরিচিত এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয় মুসলমান এবং ইউরোপিয়ানদের মধ্যে। ১১৪ হিজরি (৭৩২ খ্রি.) সনে সংঘটিত এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাপ্রধান ছিলেন হযরত আবদুর রহমান আল-গাফেকি এবং ইউরোপীয় বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল চার্লস মার্টেল (Charles Martel)। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর পরাজয় ঘটে এবং সেনাপতি গাফেকি শহিদ হন।

৭৩০ খ্রিস্টাব্দে আবদুর রহমান আল-গাফেকি আন্দালুসের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তিনি ফরাসিদের অপতৎপরতা রুখতে এবং পূর্বের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করেন। একের পর এক শহর জয় করে তিনি টুর শহরের কাছাকাছি পৌঁছান। পলায়নরত ডিউক ওদোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে চার্লস মার্টেল এক বিশাল ইউরোপীয় বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের গতিরোধ করতে এগিয়ে আসে।

১১৪ হিজরির শাবান মাসে বাওয়াতিহ ও টুর নগরীর মাঝামাঝি এক সমতল ভূমিতে (যা আরবিতে বিলাত নামে পরিচিত) যুদ্ধ শুরু হয়। টানা দশ দিন লড়াই চলে। যুদ্ধের দশম দিনে যখন মুসলমানরা বিজয়ের সন্নিকটে, তখন খ্রিস্টানরা কৌশলে মুসলমানদের গনিমতের মাল রাখা শিবিরের ওপর আক্রমণ করে। গনিমত রক্ষার তাড়নায় মুসলিম বাহিনীর একাংশ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সেনাপতি আবদুর রহমান আল-গাফেকি সেনাদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করার সময় তিরের আঘাতে শহিদ হন। সেনাপতির মৃত্যুতে মুসলমানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং রাতের আঁধারে ময়দান ত্যাগ করে পিছু হটে।

পরাজয়ের কারণ ও ফলাফল
১. ইস্তাম্বুল বা দামেশক থেকে বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব।
২. গনিমতের সম্পদের প্রতি অতি মোহ, যা মুসলিম বাহিনীর শৃঙ্খলায় ফাটল ধরায়। কুরআনের আয়াত ও হাদিসে এ ধরনের পার্থিব প্রবঞ্চনার ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

টুরসের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ইউরোপের অভ্যন্তরে মুসলমানদের সামরিক অগ্রযাত্রা থমকে যায়। ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরা একে খ্রিস্টধর্মের রক্ষা হিসেবে দেখলেও অনেক নিরপেক্ষ গবেষক মনে করেন, এ পরাজয় ইউরোপকে ইসলামি সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা থেকে বঞ্চিত করেছে।

টিকাঃ
[১] সুরা ফাতির: আয়াত-০৫
[১] বুখারি: হাদিস নং-৬০৬১, মুসলিম: হাদিস নং-২৯৬১— রাসূল (সা.) বলেছেন: 'আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্য নয়, বরং দুনিয়ার প্রাচুর্য ও তা নিয়ে প্রতিযোগিতার আশঙ্কা করি।'
[২] সুরা ফাতির: আয়াত-৪৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px