📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 নাহাওয়াмদ যুদ্ধ

📄 নাহাওয়াмদ যুদ্ধ


নাহাওয়ান্দ যুদ্ধ BATTLE OF NAHAVAND
তারিখ: ২০ হিজরি / ৬৪১ খ্রি.
স্থান: ইরানের নাহাওয়ান্দ শহর
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম পারস্যের সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: নুমান ইবনুল মুকরিন বনাম ফিরজান
সেনাসংখ্যা: ৩০ হাজার বনাম ১ লক্ষ ৫০ হাজার
ক্ষয়ক্ষতি: সেনাপতি নুমানসহ বহু শহিদ বনাম ১ লক্ষ নিহত

পারস্যের সাথে চূড়ান্ত ফায়সালাকারী এ যুদ্ধটি ২০ হিজরিতে সংঘটিত হয়। এ জয়ের মাধ্যমেই ইরানে ৪১৬ বছরের সাসানি সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে।

যুদ্ধের প্রাককথা
কাদিসিয়ার পরাজয়ের পর পারস্য সম্রাট ইয়াজদাজারদ পুনরায় দেড় লক্ষ সৈন্য সংগ্রহ করে নাহাওয়ান্দে জমায়েত করে। খলিফা উমর (রা.) সাহাবীদের পরামর্শে নুমান ইবনুল মুকরিনকে সেনাপতি নিযুক্ত করে পাঠান। পারস্য বাহিনী মুসলমানদের জন্য পথে লোহার পেরেক ছিটিয়ে রেখেছিল, কিন্তু মুসলিম গোয়েন্দারা তা ধরে ফেলেন।

হযরত মুগিরা: মুসলিম বাহিনীর দূত
যুদ্ধের আগে হযরত মুগিরা ইবনু শুবা পারস্য শিবিরে দূত হিসেবে যান। পারস্য সেনাপতি পিন্দার দাম্ভিকতা দেখালে মুগিরা বীরত্বের সাথে তার জবাব দেন এবং ইসলাম ও কুফরের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন।

যুদ্ধের ময়দানে
যুদ্ধ শুরু হলে পারস্য বাহিনী কেল্লার ভেতর থেকে বের হতে চাচ্ছিল না। তখন এক কৌশলে মুসলমানদের পলায়নের ভান করে তাদের সমতলে টেনে আনা হয়। সুলতান নুমান সূর্য হেলে যাওয়ার পর আল্লাহর নামে চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন। যুদ্ধে সেনাপতি নুমান ইবনু মুকরিন মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন।

বিজয়
পরাজিত পারস্য বাহিনী রাতের অন্ধকারে সরু উপত্যকায় পালাতে গিয়ে গণহারে প্রাণ হারায়। এ যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ পারসিক সেনা নিহত হয়। সেনাপতি নুমানের শাহাদাতের পর হযরত হুযাইফা দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নাহাওয়ান্দ শহর বিজয় করেন। বিজয়ের সুসংবাদ শুনে খলিফা উমর আনন্দিত হন।

টিকাঃ
[১] সুরা আম্বিয়া: আয়াত-১০৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px