📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 ইয়ারমুকের যুদ্ধ

📄 ইয়ারমুকের যুদ্ধ


ইয়ারমুকের যুদ্ধ BATTLE OF YARMOUK
তারিখ: ১৫ হিজরি / ৬৩৬ খ্রি.
স্থান: জর্ডানের উত্তরে, ইয়ারমুক নদীর অববাহিকায়
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ বনাম মাহান
সেনাসংখ্যা: ৩৬ হাজার বনাম ২ লক্ষ ৫০ হাজার
ক্ষয়ক্ষতি: ৪ হাজার শহিদ বনাম ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষ নিহত

এটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ যা জাযিরাতুল আরবের বাইরে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে।

পূর্বকথা
খলিফা উমর সেনাপ্রধান হিসেবে আবু উবাইদাকে নিযুক্ত করলেও যুদ্ধের ময়দানে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের নেতৃত্ব বজায় থাকে। বাইজান্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস উসমানীয়দের থামাতে দুই লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাঁর রণকৌশলে সকল মুসলিম বাহিনীকে ইয়ারমুকে একত্র করেন।

যুদ্ধের ময়দান ও মুসলিম বাহিনী
খালিদ তাঁর বাহিনীকে ৩৬টি ব্যাটেলিয়নে বিভক্ত করেন। অশ্বারোহী এবং পদাতিকদের সমন্বয়ে এক সুসংহত প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। অন্যদিকে বাইজান্টাইন বাহিনী তাদের বিশাল সংখ্যা নিয়ে দাম্ভিক ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মাহান খালিদকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে খালিদ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।

যুদ্ধের ঘটনাবলি
ছয় দিন ধরে অবিরাম যুদ্ধ চলে। প্রথম চারদিন উভয় পক্ষই তীব্র লড়াই করে। বাইজান্টাইনদের তিরন্দাজ বাহিনী মুসলমানদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ সময় ইকরামা ইবনু আবি জাহল তাঁর সাথীদের নিয়ে মরণপণ লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেন।

ষষ্ঠ দিনে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আক্রমণাত্মক রণকৌশল গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বিশেষ অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে বাইজান্টাইন অশ্বারোহীদের মূল পদাতিক বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর তিন দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে বাইজান্টাইনদের প্রতিরক্ষা ভেঙে ফেলেন।

বিজয়
পরাজিত বাইজান্টাইন বাহিনী পালাতে গিয়ে নদীর গভীর খালে পড়ে প্রাণ হারায়। মাহানসহ বাইজান্টাইনদের অধিকাংশ সৈন্য নিহত হয়। এ যুদ্ধের ফলে সিরিয়া ও শামের ওপর বাইজান্টাইন আধিপত্য চিরতরে শেষ হয়ে যায়। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের বিচক্ষণ নেতৃত্বে ৩৬ হাজার মুসলিম সেনা ২ লক্ষাধিক শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করে এক অভাবনীয় বিজয় ছিনিয়ে আনে।

টিকাঃ
[১] কভ্যুলরি বা অশ্বারোহী বাহিনী।
[১] যুদ্ধক্ষেত্রটি বর্তমানে গোলান মালভূমির দক্ষিণপূর্বে সিরিয়ার হাওরান অঞ্চলে অবস্থিত।
[১] ক্যভুলরি রিজার্ভ বা তুলাইয়া মুতাহারিক্কাহ।

📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 নাহাওয়াмদ যুদ্ধ

📄 নাহাওয়াмদ যুদ্ধ


নাহাওয়ান্দ যুদ্ধ BATTLE OF NAHAVAND
তারিখ: ২০ হিজরি / ৬৪১ খ্রি.
স্থান: ইরানের নাহাওয়ান্দ শহর
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম পারস্যের সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: নুমান ইবনুল মুকরিন বনাম ফিরজান
সেনাসংখ্যা: ৩০ হাজার বনাম ১ লক্ষ ৫০ হাজার
ক্ষয়ক্ষতি: সেনাপতি নুমানসহ বহু শহিদ বনাম ১ লক্ষ নিহত

পারস্যের সাথে চূড়ান্ত ফায়সালাকারী এ যুদ্ধটি ২০ হিজরিতে সংঘটিত হয়। এ জয়ের মাধ্যমেই ইরানে ৪১৬ বছরের সাসানি সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে।

যুদ্ধের প্রাককথা
কাদিসিয়ার পরাজয়ের পর পারস্য সম্রাট ইয়াজদাজারদ পুনরায় দেড় লক্ষ সৈন্য সংগ্রহ করে নাহাওয়ান্দে জমায়েত করে। খলিফা উমর (রা.) সাহাবীদের পরামর্শে নুমান ইবনুল মুকরিনকে সেনাপতি নিযুক্ত করে পাঠান। পারস্য বাহিনী মুসলমানদের জন্য পথে লোহার পেরেক ছিটিয়ে রেখেছিল, কিন্তু মুসলিম গোয়েন্দারা তা ধরে ফেলেন।

হযরত মুগিরা: মুসলিম বাহিনীর দূত
যুদ্ধের আগে হযরত মুগিরা ইবনু শুবা পারস্য শিবিরে দূত হিসেবে যান। পারস্য সেনাপতি পিন্দার দাম্ভিকতা দেখালে মুগিরা বীরত্বের সাথে তার জবাব দেন এবং ইসলাম ও কুফরের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন।

যুদ্ধের ময়দানে
যুদ্ধ শুরু হলে পারস্য বাহিনী কেল্লার ভেতর থেকে বের হতে চাচ্ছিল না। তখন এক কৌশলে মুসলমানদের পলায়নের ভান করে তাদের সমতলে টেনে আনা হয়। সুলতান নুমান সূর্য হেলে যাওয়ার পর আল্লাহর নামে চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন। যুদ্ধে সেনাপতি নুমান ইবনু মুকরিন মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন।

বিজয়
পরাজিত পারস্য বাহিনী রাতের অন্ধকারে সরু উপত্যকায় পালাতে গিয়ে গণহারে প্রাণ হারায়। এ যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ পারসিক সেনা নিহত হয়। সেনাপতি নুমানের শাহাদাতের পর হযরত হুযাইফা দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নাহাওয়ান্দ শহর বিজয় করেন। বিজয়ের সুসংবাদ শুনে খলিফা উমর আনন্দিত হন।

টিকাঃ
[১] সুরা আম্বিয়া: আয়াত-১০৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px