📄 আজনাদাইন যুদ্ধ
আজনাদাইন যুদ্ধ BATTLE OF AJNADAYN
তারিখ: ১৩তম হিজরি / ৬৩৪ খ্রি.
স্থান: আজনাদাইন, রামাল্লা, ফিলিস্তিন
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ বনাম কুবুকলার
সেনাসংখ্যা: ৪০ হাজার বনাম ৯০ হাজার
ক্ষয়ক্ষতি: ৪৫০ জন শহিদ বনাম কয়েক হাজার নিহত
ফিলিস্তিনের রামাল্লার অদূরে ১৩ হিজরি (৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ) সালে বাইজান্টাইন বাহিনীর সাথে মুসলমানদের সংঘটিত আরেকটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের নাম 'আজনাদাইন'। রোমান বাইজেন্টাইনের সাথে খেলাফতে রাশেদার সেনাদের ইয়ারমুকের যুদ্ধের দুই বছর আগে এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়।
মরুভূমির তপ্ত বালু মাড়িয়ে গেলেন যিনি
সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তখন ইরাকে। খলিফা আবু বকর সিদ্দিকের নির্দেশ পেয়ে তিনি অর্ধেক বাহিনী নিয়ে শামে যাত্রা করেন। সেখানে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ-এর বাহিনীর সাথে মিলিত হওয়ার নির্দেশনা ছিল। ১৩ হিজরির সফর মাসে নয় হাজার সেনা নিয়ে খালিদ যাত্রা শুরু করেন এবং মাত্র আঠারো দিনে 'সামাওয়া মরুভূমি' পাড়ি দিয়ে দামেশকের ফটকের সামনে হাজির হন। এরপর সম্মিলিত বাহিনী বসরা নগরীর দিকে রওনা হয় এবং ১৩ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বসরা নগরী মুসলমানদের করতলগত হয়।
আজনাদাইনের প্রস্তুতি
বসরা নগরীর পতনের পর বাইজান্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস ভীত হয়ে পড়েন এবং বিশাল সেনা সমাগমের চিন্তা করেন। সম্মিলিত খ্রিস্টান বাহিনী আজনাদাইন এলাকায় সমবেত হয়। মুসলমানদের সুসংহত সেনাদল প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধাদের নিয়ে আজনাদাইনের নিকটবর্তী স্থানে সংগঠিত হয়। শামের ভূমিতে রোমানদের সাথে এটাই ছিল মুসলমানদের প্রথম কোনো বৃহৎ যুদ্ধ মোকাবেলা।
সেনাপতি খালিদ তাঁর বাহিনীকে বিন্যস্ত করলেন। ডান অংশের নেতৃত্বে রাখলেন সাহাবি মুয়ায ইবনু জাবালকে, বামপাশের দায়িত্ব দিলেন সাঈদ ইবনু আমেককে। কেন্দ্রীয় পদাতিক সেনাদের সেনানায়ক করলেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহকে। অশ্বারোহীদের সেনাপতি করলেন সাঈদ ইবনু যাইদকে। অন্যদিকে রোমান সেনারাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।
যুদ্ধের বারুদ
১৩ হিজরির ২৭শে জুমাদাল উলা মোতাবেক ৩০শে জুলাই ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ। ফজরের সালাতের পর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাঁর বাহিনীকে সামনে অগ্রসর হবার নির্দেশ দিলেন। তিনি সেনাদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহ দিলেন। রোমানরা তাদের সেনাসংখ্যা নিয়ে অহংকারে মত্ত ছিল। তারা প্রথমে মুসলমানদের ডান এবং বাম অংশে আক্রমণ করে বসল। কিন্তু মুসলিম সেনারা অনড় দাঁড়িয়ে থেকে তাদের প্রতিহত করলেন।
খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ অশ্বারোহীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: 'আল্লাহর নামে অস্ত্র হাতে তুলে নাও, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করুন!' সেনাপতির নির্দেশে তারা অস্ত্র তুলে নিতেই শত্রুদের পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠল। মুসলমানদের আক্রমণে শত্রুদের শক্তিবৃহ্য ভেঙে খানখান হয়ে গেল। রোমান সেনাপতি কুবুকলার পরাজয় দেখে ভয়ে নিজের মাথা কাপড়ে ঢেকে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই রোমানরা পরাজয় বরণ করল।
বীরত্ব ও আত্মত্যাগ
এ যুদ্ধে মুসলিম সেনারা ঘোরতর বিপদের মোকাবেলা করেছে এবং বীরত্বের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্য হতে প্রায় ৪৫০ যোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। অন্যদিকে রোমানদের নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধের পর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বিজয়ের সুসংবাদ পাঠিয়ে চিঠি লেখেন। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এই চিঠি পড়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।
📄 সেতুর যুদ্ধ
সেতুর যুদ্ধ BATTLE OF THE BRIDGE
তারিখ: ১৩তম হিজরি / ৬৩৪ খ্রি.
স্থান: কুস আন-নাতেফ, ইরাক
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর পরাজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম পারস্যের সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: আবু উবাইদ আস-সাকাফি বনাম বাহমান জাযুয়া
সেনাসংখ্যা: ৮ হাজার বনাম ৭০ হাজার সেনা ও ১০টি রণহস্তি
ক্ষয়ক্ষতি: ৪ হাজার শহিদ বনাম ৫ হাজার নিহত
পরাজয়ের সেই তিক্ত দাস্তানের অন্যতম প্রসিদ্ধ যুদ্ধ ত্রয়োদশ হিজরির শাবান মাসের ২৩ তারিখ ঘটে যাওয়া—ব্যাটল অফ দ্য ব্রিজ বা সেতুর যুদ্ধ।
যুদ্ধের আভাস
ইরাকে পারস্যশক্তির নব উত্থান ঠেকাতে খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুসলমানদেরকে জিহাদের জন্য আহ্বান করলেন। তিনি আবু উবাইদ আস-সাকাফিকে সেনাপতি নিযুক্ত করে ইরাকের পথে পাঠিয়ে দিলেন। আবু উবাইদ ইরাকে প্রবেশ করেই নামারাক, সাকাতিয়া এবং বাকসিয়াসার মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
পারস্য শিবিরের পরিবেশ
পারস্য সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি রুস্তম মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করলেন। তিনি পারস্যের দক্ষ সেনাপতি বাহমান জাদুইয়াকে এই বিশাল বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব দিলেন। প্রথমবারের মতো তারা পারস্যের সাঁজোয়া অস্ত্র হিসেবে 'হাতির বহর' মাঠে নামানোর চিন্তা করল। উসমানীয়দের অবস্থান ছিল ফোরাতের পশ্চিম পাশে এবং পারস্য বাহিনীর অবস্থান ছিল নদীর পূর্ব পাশে। উভয় পাড়ের মাঝখানে ছিল একটি সেতু। পারস্য সেনাপতি বাহমান মুসলিম বাহিনীকে সেতু পার হয়ে ওপারে আসার জন্য আহ্বান জানালেন।
আবু উবাইদ মানলেন না উমরের নসিহত
খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু উবাইদকে নসিহত করেছিলেন যেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাসূলের সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন। কিন্তু আবু উবাইদ সাহাবীদের পরামর্শ না শুনে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা না করে উত্তেজিত হয়ে নদী পার হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন। মুসলিম বাহিনী এমন একটি সংকীর্ণ জায়গায় গিয়ে জড়ো হলো যেখানে যুদ্ধের কোনো বিকল্প ছিল না।
যুদ্ধের ক্ষণ
যুদ্ধ শুরু হলো। পারসিকরা হস্তি বাহিনী এগিয়ে দিলে মুসলমানদের ঘোড়াগুলো হাতি দেখে ভয় পেয়ে পালাতে শুরু করল। আবু উবাইদ নির্দেশ দিলেন ঘোড়া থেকে নেমে পায়ে হেঁটে হাতিদের মোকাবেলা করতে। এতে মুসলমানরা প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে গেল। আবু উবাইদ নিজে সাহসী মুজাহিদ ছিলেন এবং তিনি সাদা হাতিটির সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে তার নিচে পিষ্ট হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। একে একে আরও সাতজন সেনাপতি শাহাদাত বরণ করার পর নেতৃত্ব আসে মুসান্না ইবনু হারিসার হাতে।
সেনাপতি আবু উবাইদের শাহাদাত
আবু উবাইদের মৃত্যুর পর মুসলিম বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক মুসলিম সেতু পার হয়ে ওপারে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ আস-সাকাফি আবেগবশত সেতুটি কেটে দিলে মুসলমানরা বিপদে পড়ে যায়।
সঙ্কুলিত সেতু সারাপার
সেনাপতি মুসান্না ইবনু হারিসা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সাহসী এক কৌশল নিলেন। তিনি কিছু সেনাকে দ্রুত সেতুটি মেরামত করার আদেশ দিলেন এবং নিজে সাহসী সেনাদের নিয়ে শত্রুদের ঠেকিয়ে রাখলেন। একে একে মুসলিম সেনারা নদী পার হয়ে ফিরে যেতে লাগল এবং সর্বশেষ মুসান্না নিজে পার হয়ে সেতুটি কেটে দিলেন।
যুদ্ধের সমাপ্তি
শেষপর্যন্ত দুই হাজার মুসলিম সেনা প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের মোট শহীদের সংখ্যা ছিল চার হাজার। ১৩ হিজরির ২৩শে রমাদান এই যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। পরাজয়ের খবর মদিনায় পৌঁছলে খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যথিত হন এবং সেনাদের সান্ত্বনা দেন।
ছোট উল্লাইস এবং ফিরে আসা মনোবল
সেতুর যুদ্ধের পরদিন মুসান্না ইবনু হারিসা তাঁর স্বল্প সেনা নিয়ে উল্লাইসের দিকে অগ্রসর হন এবং একদল পারস্য সেনাকে অতর্কিত আক্রমণ করে পরাজিত করেন। এ ঘটনা মুসলমানদের মনোবল পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
📄 বুওয়াইবের যুদ্ধ
বুওয়াইবের যুদ্ধ BATTLE OF BUWAIB
তারিখ: ১৩তম হিজরি / ৬৩৫ খ্রি.
স্থান: আল-বুয়াইব, ইরাক
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম পারস্যের সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: মুসান্না ইবনু হারিসা আশ-শাইবানি বনাম মেহরান আল-হামদানি
সেনাসংখ্যা: ১২ হাজার বনাম পদাতিক, অশ্বারোহী এবং হস্তিবাহিনী মিলিয়ে মোট দেড় লাখের মতো
ক্ষয়ক্ষতি: ৪ হাজার শহিদ বনাম নিহত এক লাখেরও বেশি
বুওয়াইবের যুদ্ধ মুসলমানদের ইতিহাসে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। এটি ১৫ হিজরিতে ইয়ারমুকের যুদ্ধের পূর্বে সংঘটিত হয়ে পারস্য বিজয়ের পথ খুলে দেয়।
যুদ্ধপূর্ব রাজনৈতিক এবং সামরিক পরিস্থিতি
জিসর বা সেতুর যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজিত করার পর পারস্য বাহিনীর উৎসাহ তখন তুঙ্গে। পারস্য সেনাপতি রুস্তম মুসলমানদের শক্তিকে নির্মূল করার জন্য এক বিশাল সেনাসংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। বিপরীতে জিসরের পরাজয় মুসলমানদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। কিন্তু সেনাপতি মুসান্না ইবনু হারিসার কিছু ছোট ছোট সাফল্য মুসলমানদের মধ্যে আশার আলো জ্বেলে দেয়।
বাহিনীর সদস্য পূরণ
খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নতুন করে সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং মুসান্না ইবনু হারিসার সাহায্যার্থে পাঠিয়ে দেন। এই বাহিনীতে সাহাবী জারির ইবনু আবদুল্লাহ আল-বাজালিও ছিলেন। অন্যদিকে রুস্তম প্রায় দেড় লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করেন যার প্রধান সেনাপতি ছিলেন মেহরান ইবনু বাজান।
যুদ্ধের সূচনা
সেনাপতি মুসান্না ইবনু হারিসা যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে বুওয়াইবকে বেছে নিলেন এবং ফোরাতের পশ্চিম পাড়ে তাঁবু স্থাপন করলেন। পারস্য বাহিনী নদী পার হয়ে এলে তারা মুসান্নার পাতা ফাঁদে আটকে যায়। যুদ্ধ শুরু হলে দুই পক্ষই বীরত্বের সাথে লড়াই করে। মুসান্না মুজাহিদদের উৎসাহিত করতে থাকেন। একপর্যায়ে জারির ইবনু আবদুল্লাহ পারস্য সেনাপতি মেহরানকে হত্যা করতে সক্ষম হন। এতে পারস্য সেনাদের মনোবল ভেঙে যায় এবং তারা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। মুসলিম বাহিনী তাদের ওপর চরম হামলা চালায় এবং বিজয় ছিনিয়ে আনে।
যুদ্ধের পরকথা
পরাজিত পারস্য বাহিনীর ওপর মুসলমানরা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। এ যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ পারসিক সেনা নিহত হয়, আর মুসলমানদের মধ্য হতে শাহাদাত বরণ করেন মাত্র চার জন। এই বিজয় ইরাকের মাটিতে মুসলমানদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
📄 কাদিসিয়ার যুদ্ধ
কাদিসিয়ার যুদ্ধ BATTLE OF AL-QADISIYYAH
তারিখ: ১৫তম হিজরি / ৬৩৫ খ্রি.
স্থান: কাদেসিয়া, ইরাক
ফলাফল: মুসলিম বাহিনীর বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: খিলাফতে রাশিদা বনাম পারস্যের সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস বনাম রুস্তম ফররুখজাদ
সেনাসংখ্যা: ৩৬ হাজার বনাম ১ লক্ষ ২০ হাজার সেনা, ৭০টি রণহস্তি
ক্ষয়ক্ষতি: ৬ হাজার শহিদ বনাম ৬০ হাজার নিহত
১৫ হিজরি মোতাবেক ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দ সনে ইরাকের কাদিসিয়াতে এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। সাহাবি হযরত সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।
কেন যুদ্ধের পথে পা বাড়ানো
পারস্য সম্রাট ইয়াজদাজারদ মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক বিশাল বাহিনী গঠন করছিলেন। খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাসকে সেনাপতি নিযুক্ত করে ৩৬ হাজার সেনাসহ ইরাকে পাঠান। সেনাদলে বহু বিশিষ্ট সাহাবি এবং বদরি সাহাবিরা ছিলেন। ওদিকে রুস্তমের নেতৃত্বে পারস্য বাহিনী সত্তরটি হাতি নিয়ে কাদিসিয়াতে এসে পৌঁছল।
পত্র বিনিময়
যুদ্ধের পূর্বে খলিফা উমর ও সেনাপতি সাদের মাঝে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্র বিনিময় হয়। খলিফা তাকে সর্বদা তাকওয়া এবং নববী আদর্শ অনুসরণ করার নসিহত করেন। সেনাপতি সাদ প্রথমে পারস্য বাহিনীর প্রতি ইসলামের দাওয়াত দেন।
রুস্তমের সাথে কথোপকথন
সেনাপতি সাদ একদল সাহাবিকে রুস্তমের কাছে পাঠান। সাহাবি হযরত রিবয়ি ইবনু হিরাশ রুস্তমের জমকালো তাঁবুতে সাদাসিধে পোশাকে প্রবেশ করে ইসলামের দাওয়াত দেন। তিনি বলেন: 'আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন যেন আমরা মানুষকে মানুষের গোলামি থেকে আল্লাহর গোলামির দিকে বের করে নিয়ে আসি।' রুস্তম এই সাহাবীদের ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা দেখে বেশ প্রভাবিত হয়।
কিতাল
যুদ্ধ শুরু হলো। প্রথম দিনে পারস্যের হাতিগুলো মুসলমানদের বিপদে ফেলে দেয়। কিন্তু সাহাবিদের বীরত্বে সেই আক্রমণ প্রতিহত করা হয়। দ্বিতীয় দিনে (আগওয়াস) শাম থেকে আসা নতুন মুসলিম সেনারা যোগ দিলে মোড় ঘুরে যায়। তৃতীয় দিনে (আমওয়াস) মুসলমানরা কৌশল খাটিয়ে বড় হাতিগুলোকে অন্ধ এবং আহত করে দেয়, ফলে হাতিগুলো ময়দান ছেড়ে পালায়।
বিজয়
যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এক প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয় যা পারস্য বাহিনীকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। হিলাল ইবনু উলফা পারস্য সেনাপতি রুস্তমকে খুঁজে বের করেন এবং তাকে হত্যা করেন। রুস্তমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পারস্য সেনাদল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের ফলে পারস্যের দাপট চূর্ণ হয়ে যায় এবং মুসলমানদের জন্য পুরো পারস্য বিজয়ের দ্বার খুলে যায়। এ যুদ্ধে মুসলমানদের প্রায় আড়াই হাজার সেনা শহিদ হন এবং পারসিকদের বহু হাজার সেনা নিহত হয়।
টিকাঃ
[১] সুরা আম্বিয়া: আয়াত-১০৫