📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 হুনাইনের যুদ্ধ

📄 হুনাইনের যুদ্ধ


হুনাইনের যুদ্ধ BATTLE OF HUNAYN
তারিখ: ৮ম হিজরি / ৬৩০ খ্রি.
স্থান: তায়েফসংলগ্ন হুনাইন উপত্যকা
ফলাফল: মুসলমানদের বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: মুসলমান বনাম হাওয়যিন এবং সাকিফ গোত্র
সেনাপ্রধান: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনাম মালিক ইবনু আওফ
সেনাসংখ্যা: ২০০০০ বনাম (জানা যায় নি)
ক্ষয়ক্ষতি: মুসলমানদের অনেকেই শাহাদাতবরণ করেন বনাম ৭০ জন নিহত

মক্কা ও তায়েফের মাঝামাঝি হুনাইন নামক স্থানে ৮ম হিজরির শাওয়াল মাসে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। মক্কা বিজয়ের পর হাওয়াযেন ও সাকিফ গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে একজোট হয়।

যুদ্ধ শুরু হলো
শত্রুপক্ষ হুনাইন উপত্যকার গোপন ঘাঁটিগুলো থেকে অতর্কিত তির বৃষ্টি শুরু করলে মুসলমানরা শুরুতে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অটল থেকে ডাক দিলেন— 'আমি মিথ্যাবাদী নবী নই, আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।' সাহাবারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ করলে মুশরিকরা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়। তারা প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তিকে বন্দি করেন।

তায়েফ অবরোধ
পলায়নপর সেনারা তায়েফের দুর্গে আশ্রয় নিলে রাসূল তায়েফ অবরোধ করেন। ২৩ দিন পর তিনি অবরোধ তুলে নিয়ে জিররানা নামক স্থানে অবস্থান নেন এবং হুনাইনে প্রাপ্ত গনিমত বণ্টন করেন। এ সময় আনসার সাহাবিদের কিছু মান-অভিমান সৃষ্টি হলে রাসূল তাঁদের প্রতি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও দরদভরা বক্তব্য দেন, যাতে তাঁদের মন জয় হয়ে যায়।

শিক্ষা ও উপদেশ
হুনাইনের যুদ্ধ মুসলমানদের শিখিয়েছে যে বিজয় সংখ্যাধিক্যে নয় বরং আল্লাহর সাহায্যে আসে। আল্লাহ তায়ালা সুরা তাওবায় এ যুদ্ধ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।

টিকাঃ
[১] বুখারি: ২৭০৯, মুসলিম: ১৭৭৬
[১] এর কারণ ছিল অনেকটা এমন যে, এরা মক্কা বিজয়ের পর সদ্য ইসলামে এসেছে। ... ফলে তারা তাদের চিরাচরিত লুটের স্বভাব তখনো কাটাতে পারেনি।
[১] সুরা তাওবা: ২৫-২৭

📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 মুততার যুদ্ধ

📄 মুততার যুদ্ধ


মুতার যুদ্ধ BATTLE OF MU'TAH
তারিখ: ৮ম হিজরি / ৬২৯ খ্রি.
স্থান: জর্ডানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মুতা প্রান্তরে
ফলাফল: রোমানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে মুসলমানদের ময়দান ত্যাগ
পক্ষ-বিপক্ষ: মুসলমান বনাম রোমান বাহিনী (সহযোগী হিসেবে থাকে আরবের খ্রিস্টানরা)
সেনাপ্রধান: যাইদ ইবনু হারিসা, জাফর ইবনু আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ বনাম হেরাক্লিয়াস
সেনাসংখ্যা: ৩ হাজার বনাম ২ লক্ষ
ক্ষয়ক্ষতি: ১৩ জন শহিদ বনাম নিহতের সংখ্যা হাজার হাজার

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দূত হারিস ইবনু উমাইরের হত্যাকে কেন্দ্র করে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। এটি ছিল ইসলামে দূত হত্যার প্রথম ঘটনা।

যুদ্ধের বিবরণ
রাসূল ৩০০০ সেনার একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং নির্দেশ দেন যদি যাইদ শহিদ হয় তবে জাফর, আর জাফর শহিদ হলে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা নেতৃত্ব দেবেন। রোমান সম্রাট হেরাক্লিয়াস ২ লক্ষ সেনার এক বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। মুতার ময়দানে একে একে তিন সেনাপতিই বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণ করেন। এরপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের পরিকল্পনা
খালিদ তাঁর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রাতে সেনাবিন্যাস বদলে দেন এবং ধুলো উড়িয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে রোমানরা মনে করে মুসলমানদের বড় সৈন্য সাহায্য এসেছে। এরপর তিনি সুকৌশলে রোমানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে বাহিনীকে ফিরিয়ে আনেন। যদিও এটি একটি অসম যুদ্ধ ছিল, কিন্তু খালিদের রণকৌশলে মুসলমানরা বিজয়ী হয়ে ফিরে আসে।

টিকাঃ
[১] বুখারি: ৪০১৩, নাসায়ি: ৮২৪৯, মুসনাদে আহমাদ: ২২৬০৪
[২] মুসলিম: ১৭৩১
[১] সিরাতে ইবনু হিশাম: ২/৩৮২, সিরাতে ইবনু কাসির: ৩/৪৭৯

📘 ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ নববী যুগ থেকে বর্তমান 📄 তাবুকের যুদ্ধ

📄 তাবুকের যুদ্ধ


তাবুকের যুদ্ধ BATTLE OF TABUK
তারিখ: ৯তম হিজরি / ৬৩০ খ্রি.
স্থান: তাবুক প্রান্তর
ফলাফল: মুসলমানদের বিজয়
পক্ষ-বিপক্ষ: মুসলমান বনাম বাইজেন্টাইন এবং সাসানি সাম্রাজ্য
সেনাপ্রধান: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনাম হেরাক্লিয়াস
সেনাসংখ্যা: ৩০,০০০ বনাম ৪০,০০০

রোমানরা মুসলমানদের অগ্রযাত্রা রুখতে ৪০ হাজার সৈন্য সমাবেশ শুরু করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্ভিক্ষের সেই চরম সময়েও তাবুক অভিযানের ডাক দেন।

পরিস্থিতির নাযুকতা
তীব্র গরম ও অভাবের কারণে এটি ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। সাহাবারা তাঁদের সর্বস্ব দিয়ে দান করেন। হযরত আবু বকর তাঁর ঘরের সব সম্পদ নিয়ে আসেন। ৩০ হাজার মুজাহিদ নিয়ে রাসূল তাবুকের দিকে যাত্রা করেন। পথে পানির সংকট দেখা দিলে রাসূলের দোয়ায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তাবুকে পৌঁছে দেখা যায় রোমান সেনারা ভয়ে পালিয়ে গেছে।

ফলাফল
বিনা যুদ্ধে এই বিজয়ের ফলে আরবে মুসলমানদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ফিরে আসার পর মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। তিনজন সাহাবি ওজর ছাড়াই অংশ না নেওয়ায় তাঁদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হয় এবং পরে তাঁদের তাওবা কবুল হয়। এটি ছিল রাসূলের জীবদ্দশার সর্বশেষ যুদ্ধ।

টিকাঃ
[১] এরা নাবেত ইবনে ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর।
[১] জানাযা নামায সহীহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাযা নামায আদায়ের বিধান নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় অসংখ্য সাহাবি মদিনার বাইরে দূর-দূরান্তে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়ার কোনো ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px