📄 ঋণদাতার ওপর কাফীলের হকসমূহ
(حُقُوقُ الْكَفِيلِ قَبْلَ الدَّائِنِ): মূল ব্যক্তি অর্থাৎ ঋণগ্রহীতার অনুরোধে যদি জিম্মাদার জিম্মাদারি নেয়, আর ঋণ পরিশোধের পূর্বে ঋণগ্রহীতা মারা যায়, তাহলে ঋণদাতাকে কাফীলের বলার অধিকার আছে, ঋণদাতা যেন ঋণগ্রহীতার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ নিয়ে নেয়। মালেকীদের মতে, ঋণদাতা কাফীলকে ঋণ পরিশোধের জন্য তাগাদা করলে তার অধিকার আছে তাগাদা রদ করার যদি ঋণগ্রহীতা উপস্থিত ও সচ্ছল থাকে। কাফীলের অধিকার আছে ঋণ পরিশোধের সময় হওয়ার পর ঋণদাতাকে ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে ঋণ আদায়ের জন্য তাগাদা দেওয়ার।
টিকাঃ
১০৭. আল ফাতাওয়া 'আল হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ২৫৪; ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৩১২; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭৫
📄 ২. বস্তুসত্তার কাফালাত
২. বস্তুসত্তার কাফালাত (كَفَالَةُ الْعَيْن): হানাফী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে, কাফীল যদি নিজ থেকে দায়বদ্ধ পণ্য বা বস্তুর কাফালাত গ্রহণ করে, তাহলে তা অক্ষত থাকলে বস্তুটি ফিরিয়ে দিতে সে দায়বদ্ধ থাকবে। যদি বস্তুটি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে অনুরূপ বস্তু বা মূল্য ফিরিয়ে দেওয়ার দায় নেবে। মালেকীদের মতে যদি কাফীল কোনো বস্তুর দায় নেয় এই শর্তে যে, অবহেলা বা অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বস্তুটি নষ্ট হলে তার অনুরূপ বা মূল্য দেবে, তাহলে কাফীলের জন্য এই দায় পূর্ণ করা আবশ্যক হবে। শাফেয়ীদের মতে দায়বদ্ধ বস্তুর কাফালাত গ্রহণ বৈধ, কাফীলের জন্য বস্তুটি অক্ষত থাকলে সোপর্দ করা আবশ্যক।
টিকাঃ
১০৮. আদ দুসুকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪; আল হাত্তাব, খ. ৫, পৃ. ৯৮; আল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৮
১০৯. ক্বালয়ূবী ও 'উমায়রা, খ. ২, পৃ. ৩২৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪১
১১০. টীকাসহ ইবনু 'আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৯৭; বাদায়ে 'উস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৪; ফাতহুল ক্বাদীর, খ. ৬, পৃ. ২৮৫
📄 ক. ব্যক্তির কাফালাত
ক. ব্যক্তির কাফালাত (কফালত আন-নাফস): হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে ব্যক্তির কাফালাতের বিধান হলো, কাফালাতকৃত ব্যক্তি এবং সন্ধানকারীর মাঝে প্রতিবন্ধকহীন উপস্থিতির দায়িত্ব নিতে হবে এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে সন্ধানকারী ঐ ব্যক্তিকে বিচারকের মজলিসে উপস্থিত করতে পারবে। মালেকীদের মতে, সত্তার দায় গ্রহণকারী কাফীলের জন্য আবশ্যক সে যার দায় নিয়েছে তাকে ঋণ পরিশোধের সময় হলে এমন জায়গায় সোপর্দ করা, যেখান থেকে ঋণদাতা তাকে বিচারকের সামনে এনে তার পাওনা পুরোপুরি উসুল করতে পারে। শাফেয়ীদের মতে সত্তার দায় নেওয়া কাফীল ঋণগ্রহীতাকে উপস্থিত করে ঋণদাতার হাতে তাকে বুঝিয়ে দেবে চুক্তিতে যে স্থানের উল্লেখ করা হয়েছে সে নির্ধারিত স্থানে। হাম্বলীদের মতে, ব্যক্তির কাফালাতে যদি কোনো স্থানের উল্লেখ না করা হয় তাহলে কাফালাত চুক্তির স্থানটিই সোপর্দ করার জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১১১. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৫; আল মাওয়াক্কু, খ. ৫, পৃ. ১০৫-১০৬
১১২. টীকাসহ আল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৫৮; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ২৫৩; আশ শারকাবী 'আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ১১৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৩১
১১৩. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬ পৃ. ১১; আয যায়লা'আী ও আশ শালবী, খ. ৪, পৃ. ১৫৬
📄 খ. মাকফুল আনহু (মূল ঋণগ্রহীতা)-র সাথে কাফীলের সম্পর্ক
ঋণগ্রহীতার অনুরোধে কাফালাত হলে কাফীল তাকে কাফালাত থেকে মুক্ত করার জন্য বলতে পারে। একইভাবে কাফীল শোধকৃত ঋণের অংশ ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে আদায় করতে পারবে। এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: