📄 সত্তার দায় নেওয়া
ক. সত্তার দায় নেওয়া (ضَمَانُ الْوَجْه): এ দায়ের অর্থ হলো, দায়গৃহীত ব্যক্তিকে প্রয়োজনের সময়ে সশরীরে উপস্থিত করার আবশ্যকীয় দায়। মালেকী ফকীহদের মতে শুধু ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ দায় নেওয়া বৈধ। কেননা এই কাফালাতের দাবি হলো, ঋণদাতার কাছে ঋণগ্রহীতাকে উপস্থিত করা, যেন ঋণদাতা দেনাদার থেকে তার পাওনা উসুল করে নিতে পারে। এ বিধানের আলোকে হদ, কিসাস বা তা'যীর সাব্যস্ত ব্যক্তির জন্য এই দায় নেওয়া বৈধ নয়। স্ত্রীর এই প্রকার দায় নেওয়া বিষয় স্বামীর রদ করার এখতিয়ার আছে।
টিকাঃ
৯৭. আদ দারদীর ও টীকাসহ আদ দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৪৪; আল মাওয়াত্ত্ব, খ. ৫, পৃ. ১০৫
৯৮. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৪
📄 খোঁজ করার দায়গ্রহণ
(الضَّمَانُ بالطَّلَب) খোঁজ করার দায়গ্রহণ: এটি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে খোঁজা ও হারিয়ে গেলে তার অনুসন্ধান করে তার অবস্থান জানানোর দায়; তাকে উপস্থিত করার দায় নয়। এ কারণে যাকে সম্পদ সংশ্লিষ্ট কারণে অথবা কিসাস হদ বা তাযীরের মতো মানুষের সাথে জড়িত দৈহিক শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে খোঁজা হচ্ছে এমন সাব্যস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ প্রকার দায় গ্রহণ করা বৈধ। যেমন কাফীল বলল, আমি তাকে খোঁজার দায় নিলাম বা আমি শুধু তার সত্তার দায় নিলাম।
টিকাঃ
৯৯. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৬; আল মাওয়াত্ত্ব, খ. ৫, পৃ. ১০৫
📄 কাফালাতের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া
কাফালাতের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া (آثَارُ الْكَفَالَة): প্রথম: মাকফুল লাহু (মূল ঋণদাতার) সাথে কাফীলের সম্পর্ক। সম্পদ বা ব্যক্তির কাফালাত নেওয়ার ক্ষেত্রে তা ভিন্ন ভিন্ন হয়। সম্পদের কাফালাতকৃত বিষয় কখনো হয় ঋণ, কখনো হয় নগদ বস্তু।
📄 ঋণ তলবের অধিকার
ঋণ তলবের অধিকার (حَقُّ الْمُطَالَبَةِ): হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে, ঋণদাতা (মাকফুল লাহু) ঋণ পরিশোধের সময় হওয়ার পর কাফীলকে ঋণ পরিশোধ করতে বলতে পারে। এ ক্ষেত্রে মূল ঋণগ্রহীতাকে বলা অসম্ভব ভেবে কাফীলকে বলায় সীমিত না থেকে সময় হওয়ার পর মূল ঋণগ্রহীতাকেও ঋণ পরিশোধের জন্য তার বলার অধিকার আছে। মালেকীদের এক বর্ণনামতে উপরিউক্ত বিধানই প্রযোজ্য। তাদের অপর মত অনুযায়ী, ঋণদাতা মাকফুল লাহুর অধিকার নেই ঋণের দায় নেওয়া কাফীলকে সে ঋণ পরিশোধ করতে বলবে যদি মূল ঋণগ্রহীতা উপস্থিত থাকে এবং সে সচ্ছল হয়।
টিকাঃ
১০৩. ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ২৩৮-২৩৯; আদ দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩৪৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৩১; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫
১০৪. আল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ৩৩; আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৩৭; মিনাহুল জলীল, খ. ৩, পৃ. ২৫৯