📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তির কাফালাত
দ্বিতীয়: ব্যক্তির কাফালাত (كَفَالَةُ النَّفْسِ): এটি হলো এমন কাফালাতকৃত ব্যক্তিকে মাকফুল লাহুর কাছে বা ফয়সালার মজলিসে বা এ জাতীয় কোথাও উপস্থিত করার দায়িত্ব নেওয়া। এ অবস্থায় মাকফুল বিহী আর মাকফুল আনহু অভিন্ন হয়ে যায়। ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ, এর দায় সম্পর্কে ফকীহদের বক্তব্য কিছুটা মতভেদপূর্ণ।
টিকাঃ
৮৬. ইবনু 'আবিদীন, খ. ৫ পৃ. ৩০৩, বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬ পৃ. ৬, ফাতহুল কাদীর, খ. ৬ পৃ. ২৮৫
৮৭. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪; আল মাওয়াক্কু, খ. ৫, পৃ. ১০৫; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৯১
৮৮. কাশশাফুল ক্বিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৬২; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫
৮৯. আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫-৯৬
📄 ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান
ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান (حُكْمُ الْكَفَالَة بالنفس): হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী আলেমদের মতে ব্যক্তি উপস্থিতির কাফালাত গ্রহণ বৈধ। শুরাইহ, সাওরী, লাইছ বিন সা'দ ও অন্যদেরও এই সিদ্ধান্ত। এ মতের দলিল হলো আয়াতে কারীমা: "তিনি (ইউসুফ আ.-এর বাবা) বললেন, আমি তাকে কখনোই তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো যে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই..."। হামযা বিন আমর আসলামী রা. বর্ণনা করেন, ওমর রা. অপরাধীকে উপস্থিত করার কাফালাত অনুমোদন করেছিলেন। শাফেয়ীদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ব্যক্তিসত্তার কাফালাত নেওয়া একপ্রকার বৈধ। যেহেতু মানুষের এ ধরনের কাফালাত গ্রহণের প্রয়োজন আছে। তবে অন্য মত অনুযায়ী এ কাফালাত বৈধ নয়, কারণ স্বাধীন ব্যক্তি অন্যের অধীন হতে পারে না।
টিকাঃ
৯০. সূরা ইউসুফ, আয়াত ৬৬
৯১. ত্বাহাবী এ হাদীসটি শরহু মা'আনিল আছার-এ উদ্ধৃত করেছেন, খ. ৩, পৃ. ১৪৭
৯২. ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ৪৭০
৯৩. প্রাগুক্ত।
৯৪. ইবনে হাজার রহ. ইবনুল মুনীরের সূত্রে বলেন, ইমাম বুখারী রহ. ঋণ পরিশোধের দায়ে ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ বিধিসম্মত হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।
৯৫. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৩; ক্বালয়ূবীর টীকা, খ. ২, পৃ. ৩২৭
📄 খ. ব্যক্তিসত্তার কাফালাতে দায়
খ. ব্যক্তিসত্তার কাফালাতে দায় (مَضْمُونُ الْكَفَالَة بالنفس): দেনাদারের উপকারের প্রতি লক্ষ্য করে ব্যক্তিসত্তার কাফালাত গ্রহণ বৈধ হওয়ার বিষয়ে ফকীহদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। হানাফী ফকীহদের মতে দেনাদারকে উপস্থিত করার দায়গ্রহণ বৈধ। তবে হানাফীদের মতে যার ওপর যিনা বা মদপানের হদ, এ জাতীয় নিছক আল্লাহর হক হিসাবে শাস্তির পরোয়ানা আছে, তাকে সশরীরে উপস্থিতির কাফালাত নেওয়া বৈধ নয়। যেহেতু এ জাতীয় হদ সন্দেহের ভিত্তিতে রহিত হয়ে যায়। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে বান্দার হক মিশ্রিত হদের অভিযোগ রয়েছে, যেমন কোনো সতীর প্রতি যিনার অপবাদ দেওয়ার হদ অথবা যার কিসাস আবশ্যক, তাকে সশরীরে উপস্থিতির কাফালাত গ্রহণ সকল হানাফী ফকীহের ঐকমত্যে বৈধ, যদি কাফালাতকৃত ব্যক্তির তাতে মনোতুষ্টি থাকে।
টিকাঃ
৯৬. ইবনু 'আবিদীন খ. ৫, পৃ. ২৯৭-২৯৮; বাদায়ে'উস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮; ফাতহুল ক্বাদীর খ. ৬, পৃ. ২৮৫
📄 সত্তার দায় নেওয়া
ক. সত্তার দায় নেওয়া (ضَمَانُ الْوَجْه): এ দায়ের অর্থ হলো, দায়গৃহীত ব্যক্তিকে প্রয়োজনের সময়ে সশরীরে উপস্থিত করার আবশ্যকীয় দায়। মালেকী ফকীহদের মতে শুধু ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ দায় নেওয়া বৈধ। কেননা এই কাফালাতের দাবি হলো, ঋণদাতার কাছে ঋণগ্রহীতাকে উপস্থিত করা, যেন ঋণদাতা দেনাদার থেকে তার পাওনা উসুল করে নিতে পারে। এ বিধানের আলোকে হদ, কিসাস বা তা'যীর সাব্যস্ত ব্যক্তির জন্য এই দায় নেওয়া বৈধ নয়। স্ত্রীর এই প্রকার দায় নেওয়া বিষয় স্বামীর রদ করার এখতিয়ার আছে।
টিকাঃ
৯৭. আদ দারদীর ও টীকাসহ আদ দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৪৪; আল মাওয়াত্ত্ব, খ. ৫, পৃ. ১০৫
৯৮. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৪