📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 গ. আমানত

📄 গ. আমানত


গ. আমানত (الأمانة): যে সকল বস্তু ভোক্তার হাতে আমানত হিসেবে থাকে, সেসব হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে দু'ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগ: যা তার বর্তমান ভোক্তার হস্তান্তর করা আবশ্যক। যেমন ধার হিসেবে নেওয়া বস্তু যে ধার নিয়েছে তার হাতে এবং ভাড়া নেওয়া বস্তু ভাড়াটের হাতে থাকা অবস্থায় তা মূল মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় তারা দায়বদ্ধ। এ শ্রেণীভুক্ত বস্তু হস্তান্তরের দায় নেওয়া বৈধ। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা তার ভোক্তার মূল মালিকের কাছে পৌঁছানো আবশ্যক নয়। যেমন আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ ও মুদারাবার সম্পদ। এ শ্রেণীভুক্ত বস্তু মালিকের হাতে অর্পণের কাফালাত গ্রহণ বৈধ নয়। মালেকীদের মতে আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ, ধারকৃত বস্তু ও মুদারাবার সম্পদের দায় নেওয়া বৈধ নয়। তবে যদি এগুলোর কোনোটি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে বর্তমান ভোক্তা তার মূল বস্তু ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। শাফেয়ীদের মতে, বস্তু যদি বর্তমান ভোক্তার কাছে দায়বদ্ধ না থাকে যেমন অভিভাবক, প্রতিনিধি বা ব্যবসার শরীকের হাতে সম্পদ বা ঋণ, তাহলে এ বস্তুর দায়গ্রহণ বৈধ হবে না। হাম্বলীদের মতে, আমানতসমূহ যেমন আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ, ভাড়া নেওয়া বস্তু ইত্যাদির দায় নেওয়া সহীহ নয়, যদি বিনা ক্ষতিতে এগুলোর দায় নেয়।

টিকাঃ
৮২. আল হাত্তাব, খ. ৫, পৃ. ৯৮; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২৮; আদ দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪
৮৩. ক্বালয়ূবী ও 'উমায়রা, খ. ২, পৃ. ৩২৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪১৪
৮৪. আল মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৭৬
৮৫. আশ শারক্বাবী 'আলাত তাহরীর, খ. ২ পৃ. ১১৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তির কাফালাত

📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তির কাফালাত


দ্বিতীয়: ব্যক্তির কাফালাত (كَفَالَةُ النَّفْسِ): এটি হলো এমন কাফালাতকৃত ব্যক্তিকে মাকফুল লাহুর কাছে বা ফয়সালার মজলিসে বা এ জাতীয় কোথাও উপস্থিত করার দায়িত্ব নেওয়া। এ অবস্থায় মাকফুল বিহী আর মাকফুল আনহু অভিন্ন হয়ে যায়। ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ, এর দায় সম্পর্কে ফকীহদের বক্তব্য কিছুটা মতভেদপূর্ণ।

টিকাঃ
৮৬. ইবনু 'আবিদীন, খ. ৫ পৃ. ৩০৩, বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬ পৃ. ৬, ফাতহুল কাদীর, খ. ৬ পৃ. ২৮৫
৮৭. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪; আল মাওয়াক্কু, খ. ৫, পৃ. ১০৫; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৯১
৮৮. কাশশাফুল ক্বিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৬২; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫
৮৯. আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫-৯৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান

📄 ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান


ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান (حُكْمُ الْكَفَالَة بالنفس): হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী আলেমদের মতে ব্যক্তি উপস্থিতির কাফালাত গ্রহণ বৈধ। শুরাইহ, সাওরী, লাইছ বিন সা'দ ও অন্যদেরও এই সিদ্ধান্ত। এ মতের দলিল হলো আয়াতে কারীমা: "তিনি (ইউসুফ আ.-এর বাবা) বললেন, আমি তাকে কখনোই তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো যে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই..."। হামযা বিন আমর আসলামী রা. বর্ণনা করেন, ওমর রা. অপরাধীকে উপস্থিত করার কাফালাত অনুমোদন করেছিলেন। শাফেয়ীদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ব্যক্তিসত্তার কাফালাত নেওয়া একপ্রকার বৈধ। যেহেতু মানুষের এ ধরনের কাফালাত গ্রহণের প্রয়োজন আছে। তবে অন্য মত অনুযায়ী এ কাফালাত বৈধ নয়, কারণ স্বাধীন ব্যক্তি অন্যের অধীন হতে পারে না।

টিকাঃ
৯০. সূরা ইউসুফ, আয়াত ৬৬
৯১. ত্বাহাবী এ হাদীসটি শরহু মা'আনিল আছার-এ উদ্ধৃত করেছেন, খ. ৩, পৃ. ১৪৭
৯২. ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ৪৭০
৯৩. প্রাগুক্ত।
৯৪. ইবনে হাজার রহ. ইবনুল মুনীরের সূত্রে বলেন, ইমাম বুখারী রহ. ঋণ পরিশোধের দায়ে ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ বিধিসম্মত হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।
৯৫. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৩; ক্বালয়ূবীর টীকা, খ. ২, পৃ. ৩২৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 খ. ব্যক্তিসত্তার কাফালাতে দায়

📄 খ. ব্যক্তিসত্তার কাফালাতে দায়


খ. ব্যক্তিসত্তার কাফালাতে দায় (مَضْمُونُ الْكَفَالَة بالنفس): দেনাদারের উপকারের প্রতি লক্ষ্য করে ব্যক্তিসত্তার কাফালাত গ্রহণ বৈধ হওয়ার বিষয়ে ফকীহদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। হানাফী ফকীহদের মতে দেনাদারকে উপস্থিত করার দায়গ্রহণ বৈধ। তবে হানাফীদের মতে যার ওপর যিনা বা মদপানের হদ, এ জাতীয় নিছক আল্লাহর হক হিসাবে শাস্তির পরোয়ানা আছে, তাকে সশরীরে উপস্থিতির কাফালাত নেওয়া বৈধ নয়। যেহেতু এ জাতীয় হদ সন্দেহের ভিত্তিতে রহিত হয়ে যায়। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে বান্দার হক মিশ্রিত হদের অভিযোগ রয়েছে, যেমন কোনো সতীর প্রতি যিনার অপবাদ দেওয়ার হদ অথবা যার কিসাস আবশ্যক, তাকে সশরীরে উপস্থিতির কাফালাত গ্রহণ সকল হানাফী ফকীহের ঐকমত্যে বৈধ, যদি কাফালাতকৃত ব্যক্তির তাতে মনোতুষ্টি থাকে।

টিকাঃ
৯৬. ইবনু 'আবিদীন খ. ৫, পৃ. ২৯৭-২৯৮; বাদায়ে'উস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৮; ফাতহুল ক্বাদীর খ. ৬, পৃ. ২৮৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px