📄 খ. অন্য কিছুর মাধ্যমে দায়বদ্ধ বস্তু
খ. অন্য কিছুর মাধ্যমে দায়বদ্ধ বস্তু (الْعَيْنُ الْمَصْمُونَةُ بِغَيْرِهَا): এটা হলো এমন বস্তু যা অক্ষত থাকলে বর্তমান ভোক্তা মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। তবে বস্তুটি নষ্ট হলে তার অনুরূপ বস্তু বা মূল্য দেওয়া আবশ্যক নয়। বরং এ অবস্থায় তার ওপর অন্য একটি দায় চলে আসে। এর উদাহরণ হলো বিক্রেতার হাতে থাকা পণ্য। এ পণ্য মূল্য দ্বারা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত। এখন পণ্যটি নষ্ট হলে ক্রেতার মূল্য পরিশোধ করা লাগবে না, যেহেতু পণ্যটি বিক্রেতা তাকে দেয়নি। হানাফী ও হাম্বলী ফকীহদের মতে, এ শ্রেণীভুক্ত বস্তুগুলো অক্ষত থাকলে অর্পণের দায়গ্রহণ বৈধ। যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কাফালাতের দায় বাতিল হয়ে যায়। কেননা এ জাতীয় বস্তু যখন নষ্ট হয় তখন তা বর্তমান ভোক্তার হাতে উপযুক্ত দায়ে আবদ্ধ বস্তুর বিপরীতে নষ্ট হয়।
টিকাঃ
৭৯. আল হাত্তাব, খ. ৫, পৃ. ৯৮; আল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৮; আদ দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪
📄 গ. আমানত
গ. আমানত (الأمانة): যে সকল বস্তু ভোক্তার হাতে আমানত হিসেবে থাকে, সেসব হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে দু'ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগ: যা তার বর্তমান ভোক্তার হস্তান্তর করা আবশ্যক। যেমন ধার হিসেবে নেওয়া বস্তু যে ধার নিয়েছে তার হাতে এবং ভাড়া নেওয়া বস্তু ভাড়াটের হাতে থাকা অবস্থায় তা মূল মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় তারা দায়বদ্ধ। এ শ্রেণীভুক্ত বস্তু হস্তান্তরের দায় নেওয়া বৈধ। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা তার ভোক্তার মূল মালিকের কাছে পৌঁছানো আবশ্যক নয়। যেমন আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ ও মুদারাবার সম্পদ। এ শ্রেণীভুক্ত বস্তু মালিকের হাতে অর্পণের কাফালাত গ্রহণ বৈধ নয়। মালেকীদের মতে আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ, ধারকৃত বস্তু ও মুদারাবার সম্পদের দায় নেওয়া বৈধ নয়। তবে যদি এগুলোর কোনোটি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে বর্তমান ভোক্তা তার মূল বস্তু ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। শাফেয়ীদের মতে, বস্তু যদি বর্তমান ভোক্তার কাছে দায়বদ্ধ না থাকে যেমন অভিভাবক, প্রতিনিধি বা ব্যবসার শরীকের হাতে সম্পদ বা ঋণ, তাহলে এ বস্তুর দায়গ্রহণ বৈধ হবে না। হাম্বলীদের মতে, আমানতসমূহ যেমন আমানতরূপে গচ্ছিত সম্পদ, ভাড়া নেওয়া বস্তু ইত্যাদির দায় নেওয়া সহীহ নয়, যদি বিনা ক্ষতিতে এগুলোর দায় নেয়।
টিকাঃ
৮২. আল হাত্তাব, খ. ৫, পৃ. ৯৮; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২৮; আদ দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪
৮৩. ক্বালয়ূবী ও 'উমায়রা, খ. ২, পৃ. ৩২৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪১৪
৮৪. আল মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৭৬
৮৫. আশ শারক্বাবী 'আলাত তাহরীর, খ. ২ পৃ. ১১৯
📄 দ্বিতীয় : ব্যক্তির কাফালাত
দ্বিতীয়: ব্যক্তির কাফালাত (كَفَالَةُ النَّفْسِ): এটি হলো এমন কাফালাতকৃত ব্যক্তিকে মাকফুল লাহুর কাছে বা ফয়সালার মজলিসে বা এ জাতীয় কোথাও উপস্থিত করার দায়িত্ব নেওয়া। এ অবস্থায় মাকফুল বিহী আর মাকফুল আনহু অভিন্ন হয়ে যায়। ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ, এর দায় সম্পর্কে ফকীহদের বক্তব্য কিছুটা মতভেদপূর্ণ।
টিকাঃ
৮৬. ইবনু 'আবিদীন, খ. ৫ পৃ. ৩০৩, বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬ পৃ. ৬, ফাতহুল কাদীর, খ. ৬ পৃ. ২৮৫
৮৭. আদ দুসূকী ওয়াদ দারদীর, খ. ৩, পৃ. ৩৩৪; আল মাওয়াক্কু, খ. ৫, পৃ. ১০৫; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৯১
৮৮. কাশশাফুল ক্বিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৬২; আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫
৮৯. আল মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৯৫-৯৬
📄 ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান
ক. ব্যক্তির কাফীল হওয়ার বিধান (حُكْمُ الْكَفَالَة بالنفس): হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী আলেমদের মতে ব্যক্তি উপস্থিতির কাফালাত গ্রহণ বৈধ। শুরাইহ, সাওরী, লাইছ বিন সা'দ ও অন্যদেরও এই সিদ্ধান্ত। এ মতের দলিল হলো আয়াতে কারীমা: "তিনি (ইউসুফ আ.-এর বাবা) বললেন, আমি তাকে কখনোই তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো যে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই..."। হামযা বিন আমর আসলামী রা. বর্ণনা করেন, ওমর রা. অপরাধীকে উপস্থিত করার কাফালাত অনুমোদন করেছিলেন। শাফেয়ীদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ব্যক্তিসত্তার কাফালাত নেওয়া একপ্রকার বৈধ। যেহেতু মানুষের এ ধরনের কাফালাত গ্রহণের প্রয়োজন আছে। তবে অন্য মত অনুযায়ী এ কাফালাত বৈধ নয়, কারণ স্বাধীন ব্যক্তি অন্যের অধীন হতে পারে না।
টিকাঃ
৯০. সূরা ইউসুফ, আয়াত ৬৬
৯১. ত্বাহাবী এ হাদীসটি শরহু মা'আনিল আছার-এ উদ্ধৃত করেছেন, খ. ৩, পৃ. ১৪৭
৯২. ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ৪৭০
৯৩. প্রাগুক্ত।
৯৪. ইবনে হাজার রহ. ইবনুল মুনীরের সূত্রে বলেন, ইমাম বুখারী রহ. ঋণ পরিশোধের দায়ে ব্যক্তির কাফালাত গ্রহণ বিধিসম্মত হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।
৯৫. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৩; ক্বালয়ূবীর টীকা, খ. ২, পৃ. ৩২৭