📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 গ. সময়ের সাথে যুক্ত কাফালাত

📄 গ. সময়ের সাথে যুক্ত কাফালাত


অধিকাংশ ফকীহের মতে ভবিষ্যৎ কোনো মেয়াদের সাথে সম্পদের কাফালাতকে যুক্ত করা বৈধ। যেমন কাফীল বলল, আমি এই সম্পদ বা এই ঋণের বিষয়ে তোমার যামীন আগামী মাসের শুরু থেকে। এ অবস্থায় আগামী মাসের শুরু থেকেই এই কাফীল দায়ী হবে। হানাফীগণ কাফালাতকে সময়ের সাথে যুক্ত করা এবং মাকফুল বিহী (দায় নেওয়া) ঋণের মেয়াদী হওয়ার মাঝে পার্থক্য করেন। সময়ের সাথে যুক্ত কাফালাত হলো এমন কাফালাত, যা এমন ঋণের সাথে সম্পর্কিত যা এখনো অস্তিত্বে আসেনি। মালেকী ফকীহদের মতে জ্ঞাত ভবিষ্যৎ মেয়াদের সাথে যুক্ত কাফালাত বৈধ। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, অজ্ঞাত মেয়াদে যদি কেউ কাফীল হয় তাহলে কাফালাত বৈধ হবে না। শাফেয়ীদের বিশুদ্ধতম মতানুসারে নগদের 'যামান' চুক্তি জ্ঞাত নির্দিষ্ট মেয়াদের সাথে যুক্ত হলে বৈধ হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 ঘ. সময়ের সাথে আবদ্ধ কাফালাত

📄 ঘ. সময়ের সাথে আবদ্ধ কাফালাত


কাফালাতকে 'তাওকীত' বা সময়াবদ্ধ করার অর্থ, নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়ের জন্য কাফীল ঋণের কাফালাত গ্রহণ করবে। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে কাফালাতও শেষ হয়ে যাবে। অধিকাংশ হানাফী আলেমদের মতে, যদি কাফীল বলে এ সময় থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত আমি অমুকের কাফীল; তাহলে মাস শেষ হওয়ার মাধ্যমে কাফালাত চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। মালেকী ফকীহদের মতে, দুই অবস্থার এক অবস্থায় কাফালাতকে সময়াবদ্ধ করা বৈধ হবে; যদি ঋণগ্রহীতা সচ্ছল থাকে অথবা সে মেয়াদের মধ্যে সচ্ছল হবে না এমনটি নিশ্চিত থাকে। শাফেয়ীদের বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী কাফালাতকে সময়াবদ্ধ করা জায়েয নেই। হাম্বলী ফকীহদের এ বিষয়ে দু'টি মত রয়েছে; একটি সহীহ বলে এবং অন্যটি সহীহ নয় বলে গণ্য করে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 কাফালাতকে শর্তযুক্ত করা

📄 কাফালাতকে শর্তযুক্ত করা


কাফীল কাফালাতকে শর্তযুক্ত করলে কখনো কখনো কাফালাত ও শর্ত দুটোই সহীহ হবে। হানাফীদের মতে যদি কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার নির্দেশে এক হাজার দিরহামের কাফালাত গ্রহণ করে এই শর্তে যে, মাকফুল আনহু (ঋণগ্রহীতা) তাকে এই গোলাম বন্ধক হিসেবে দেবে, তাহলে কাফালাত বৈধ হবে কিন্তু গোলাম দেওয়ার শর্তটি কাফীল ও ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, বিশুদ্ধতম মত হলো যদি কেউ কাফালাতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে সোপর্দ না করতে পারলে তার ঋণ পূরণের দায়ভার নেয়, তাহলে কাফালাত বাতিল হয়ে যাবে। হাম্বলীগণ বলেন, যদি কেউ বলে আমি অমুককে উপস্থিত করার কাফীল হলাম এই শর্তে যে প্রথম কাফীল কাফালাত থেকে মুক্ত হবে, তাহলে এই কাফালাত বৈধ হবে না।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 খ. সত্তার কাফালাত গ্রহণ

📄 খ. সত্তার কাফালাত গ্রহণ


খ. সত্তার কাফালাত গ্রহণ (كَفَالَةُ الْعَيْنِ): বস্তুসত্তার কাফালাত বা দায় নেওয়ার অর্থ হচ্ছে, কাফীল মূল বস্তুটি অক্ষত থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার দায় নেবে। আর তা অক্ষত না থাকলে তার অনুরূপ বস্তু বা তার মূল্য ফিরিয়ে দেওয়ার দায় নেবে। মূল ঋণগ্রহীতার দায়িত্বে বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার হক সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার ভিত্তিতে বস্তুর কাফালাত গ্রহণের বিধান নিয়ে ফকীহগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কাফালাতকৃত বস্তুটি হয়ে থাকে কখনো দায়বদ্ধ। সে বস্তুর দায়বদ্ধতা নিজ থেকে হতে পারে, হতে পারে অন্য কিছুর মাধ্যমে। আর কখনো কাফালাতের বস্তুটি তার গ্রহণকারীর হাতে আমানত হিসেবে থাকে। এভাবে কাফালাতকৃত বস্তুর মোট তিনটি অবস্থা হয়, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية