📄 কাফালাতের রুকন বা মূল অংশ ও শর্তসমূহ
কাফালাতের রুকন হলো নির্দিষ্ট সীগা বা শব্দ, কাফীল, মাকফুল লাহু, মাকফুল আনহু ও মাকফুল বিহী (الصِّیغَةُ ، وَالْكَفِیلُ ، وَالْمَكْفُولُ لَهُ ، وَالْمَكْفُولُ عَنْهُ ، وَالْمَكْفُولُ بِهِ)। ফকীহগণ এই পাঁচটি রুকনের জন্য বিভিন্ন শর্ত ও বিধান বর্ণনা করেছেন।
📄 প্রথম রুকন : কাফালাতের শব্দ
মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ, বিশুদ্ধতম মতানুসারে শাফেয়ীগণ ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর মতে কাফালাত পূর্ণ হয় শুধু কাফীলের প্রস্তাব দ্বারাই। মাকফুল লাহু (যার দায় নেওয়া হচ্ছে) তার সে প্রস্তাব গ্রহণের ওপর তা পূর্ণ হওয়া নির্ভরশীল থাকে না। এর কারণ, কাফালাত হলো ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়া মাত্র; যেখানে কোনো বিনিময় নেই। বরং তা একটি স্বেচ্ছাদান কার্যক্রম, যা কাফীলের একক বক্তব্য দ্বারাই হতে পারে। শাফেয়ীদের দ্বিতীয় মতানুসারে মাকফুল লাহুর সে প্রস্তাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং তা গ্রহণ করা শর্ত। ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মদ রহ.-এর মতে কাফালাতের বিষয়টি সংঘটিত হয় কাফীলের তরফ থেকে দেওয়া প্রস্তাব এবং মাকফুল লাহুর তরফ থেকে প্রস্তাব গ্রহণ দ্বারা। কাফীলের প্রস্তাব এমন প্রতিটি শব্দ দ্বারা হতে পারে, যা দায়িত্বে নেওয়া, আবশ্যক করে নেওয়া ও দায়বদ্ধতা বোঝায়। কাফালাত কখনো হয়ে থাকে নগদ বা শর্তযুক্ত অথবা ভবিষ্যৎ সময়ের সাথে যুক্ত।
📄 ক. নগদ কাফালাত
এমন কাফালাত যার শব্দ কোনো শর্ত বা মেয়াদের সাথে যুক্ত নয়। সুতরাং কাফালাত তানজীয (নগদ) হলে শুধুমাত্র কাফালাতের শব্দ কাফালাতের সকল শর্ত পূরণের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করার দরুন তার বিধানগুলো বাস্তবায়িত হয়। যদি একজন আরেকজনকে বলে, অমুক তোমার কাছে যে ঋণ পাবে আমি সে ঋণের ব্যাপারে কাফীল হলাম, আর ঋণদাতা ব্যক্তি তার কাফালাত গ্রহণ করে তাহলে তৎক্ষণাৎ কাফীলকে ঋণ পরিশোধের জন্য তলব করা হবে এবং তাকে ঋণ পরিশোধ করতে বলা হবে, যদি ঋণ হয়ে থাকে তাৎক্ষণিক বা বর্তমানে পরিশোধযোগ্য। হাম্বলীগণ মনে করেন, কাফালাত যখন শর্তমুক্ত শব্দে হয় তা তৎক্ষণাৎ সংঘটিত হয়ে যায়।
📄 খ. শর্তযুক্ত কাফালাত
এটি এমন কাফালাত, যার অস্তিত্ব অন্য কিছু উপস্থিত হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত থাকে। যেমন কেউ ক্রেতাকে বলল, যদি বিক্রীত পণ্যের কোনো হকদার বের হয় তাহলে আমি তোমার জন্য মূল্যের কাফীল হলাম। তো এক্ষেত্রে যে বিষয়ের সাথে কাফালাতকে শর্তযুক্ত করা হয়েছে, যদি দেখা যায়, তা শর্তযুক্ত করার সময়েই বিরাজ করছে তাহলে তা নগদ কাফালাত হয়ে যাবে। হানাফীগণ চুক্তির উপযোগী শর্তের ভিত্তিতে শর্তযুক্ত কাফালাতকে বৈধ বলেন। উপযোগী শর্ত হলো: ১. এমন শর্ত যা প্রাপ্য আবশ্যকীয় হওয়ার কারণ হয়। ২. এমন শর্ত যা ঋণ পূরণ সম্ভাব্য হওয়ার কারণ হয়। ৩. এমন শর্ত যা ঋণ পূর্ণ না হওয়ার কারণ হয়। শাফেয়ীদের বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী কাফালাত ও যামানকে শর্তযুক্ত করা বৈধ নয়। হাম্বলীদের এ বিষয়ে দু'টি মত বর্ণিত হয়েছে; একটি বৈধতা দেয় এবং অন্যটি বাতিল গণ্য করে।