📄 সুন্নাহ
সুন্নাহে বর্ণিত হয়েছে: 'আরিয়া তথা উপকার লাভের জন্য ধার নেওয়া বস্তু ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যে দায়িত্ব নেবে সে ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ থাকবে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে। খাত্তাবী ও অন্য হাদীস ব্যাখ্যাকারগণ বলেন, যাঈম অর্থ কাফীল আর যা'আমাহ অর্থ কাফালাত। আবু কাতাদা রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একজন মৃত ব্যক্তিকে আনা হলো, যেন নবীজী তার জানাযার নামায পড়ান। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাই তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও। (আমি পড়ব না।) যেহেতু তার দায়িত্বে ঋণ আছে। আবু কাতাদা রা. বললেন, আমি তার ঋণের দায়িত্ব নিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আদায় করার দায়িত্ব? তিনি বললেন, আদায় করার দায়িত্ব। তখন নবীজী তার জানাযা পড়ালেন।
📄 কাফালাতের রুকন বা মূল অংশ ও শর্তসমূহ
কাফালাতের রুকন হলো নির্দিষ্ট সীগা বা শব্দ, কাফীল, মাকফুল লাহু, মাকফুল আনহু ও মাকফুল বিহী (الصِّیغَةُ ، وَالْكَفِیلُ ، وَالْمَكْفُولُ لَهُ ، وَالْمَكْفُولُ عَنْهُ ، وَالْمَكْفُولُ بِهِ)। ফকীহগণ এই পাঁচটি রুকনের জন্য বিভিন্ন শর্ত ও বিধান বর্ণনা করেছেন।
📄 প্রথম রুকন : কাফালাতের শব্দ
মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ, বিশুদ্ধতম মতানুসারে শাফেয়ীগণ ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর মতে কাফালাত পূর্ণ হয় শুধু কাফীলের প্রস্তাব দ্বারাই। মাকফুল লাহু (যার দায় নেওয়া হচ্ছে) তার সে প্রস্তাব গ্রহণের ওপর তা পূর্ণ হওয়া নির্ভরশীল থাকে না। এর কারণ, কাফালাত হলো ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়া মাত্র; যেখানে কোনো বিনিময় নেই। বরং তা একটি স্বেচ্ছাদান কার্যক্রম, যা কাফীলের একক বক্তব্য দ্বারাই হতে পারে। শাফেয়ীদের দ্বিতীয় মতানুসারে মাকফুল লাহুর সে প্রস্তাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং তা গ্রহণ করা শর্ত। ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মদ রহ.-এর মতে কাফালাতের বিষয়টি সংঘটিত হয় কাফীলের তরফ থেকে দেওয়া প্রস্তাব এবং মাকফুল লাহুর তরফ থেকে প্রস্তাব গ্রহণ দ্বারা। কাফীলের প্রস্তাব এমন প্রতিটি শব্দ দ্বারা হতে পারে, যা দায়িত্বে নেওয়া, আবশ্যক করে নেওয়া ও দায়বদ্ধতা বোঝায়। কাফালাত কখনো হয়ে থাকে নগদ বা শর্তযুক্ত অথবা ভবিষ্যৎ সময়ের সাথে যুক্ত।
📄 ক. নগদ কাফালাত
এমন কাফালাত যার শব্দ কোনো শর্ত বা মেয়াদের সাথে যুক্ত নয়। সুতরাং কাফালাত তানজীয (নগদ) হলে শুধুমাত্র কাফালাতের শব্দ কাফালাতের সকল শর্ত পূরণের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করার দরুন তার বিধানগুলো বাস্তবায়িত হয়। যদি একজন আরেকজনকে বলে, অমুক তোমার কাছে যে ঋণ পাবে আমি সে ঋণের ব্যাপারে কাফীল হলাম, আর ঋণদাতা ব্যক্তি তার কাফালাত গ্রহণ করে তাহলে তৎক্ষণাৎ কাফীলকে ঋণ পরিশোধের জন্য তলব করা হবে এবং তাকে ঋণ পরিশোধ করতে বলা হবে, যদি ঋণ হয়ে থাকে তাৎক্ষণিক বা বর্তমানে পরিশোধযোগ্য। হাম্বলীগণ মনে করেন, কাফালাত যখন শর্তমুক্ত শব্দে হয় তা তৎক্ষণাৎ সংঘটিত হয়ে যায়।