📄 দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
মালেকী ফকীহগণের প্রণিধানযোগ্য মত এবং তা হাম্বলী ফকীহগণের একটি বর্ণনা, এবং এটি হানাফী ফকীহ ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর উক্তি, তা হচ্ছে—খুচরা মুদ্রাসমূহের কোনোটিকে অপরটির বিনিময়ে কম-বেশি করে এবং বাকিতে বিক্রি করা বৈধ নয় এবং স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে তা বিক্রি করা বৈধ হবে না। মুদাওয়ানা নামক গ্রন্থে আছে : 'মালেক রহ. বলেন, দুই খুচরা মুদ্রার বিনিময়ে এক খুচরা মুদ্রা বিক্রি বৈধ হবে না। সোনা ও রূপার বদলে খুচরা মুদ্রা বিক্রি, এমনিভাবে দিনারের বিপরীতে খুচরা মুদ্রা বাকি বিক্রি সহীহ হবে না।'
হানাফী ফকীহগণ ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর প্রমাণ উত্থাপন করেছেন যে, খুচরা মুদ্রা হলো মূল্য; অতএব সমশ্রেণীর বিনিময়ে কম-বেশি করে তা বিক্রি করা বৈধ হবে না যেমন দিনার এবং দিরহামে বৈধ হয় না। ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন : অধিক প্রকাশ্য মত হলো এটি নিষিদ্ধ হওয়া। কারণ সাধারণত সচল মুদ্রাকে মূল্যরূপে সাব্যস্ত করা হয়।
টিকাঃ
১৩৪. আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, খ. ৩, পৃ. ৩৯৫; ফাতহুল কাদীর মায়াল হিদায়া, খ. ৬, পৃ. ১৬২-১৬৩; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৫২; আল ফুরু, খ. ৪, পৃ. ১৪৮-১৫১
১৩৫. আল মুদাওয়ানা, খ. ৩, পৃ. ৩৯৫
১৩৬. প্রাগুক্ত।
১৩৭. ইরশাদুস সালিক মায়া শরহিহি আসহালিল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ২৩৩
১৩৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৮৫
১৩৯. মাজমুয়া ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, খ. ২৯, পৃ. ৪৬৮
১৪০. কাগজের মুদ্রা (ব্যাংক নোট) সম্পর্কে সরফ অধ্যায়ে আলোচনা: এটি স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিধানধারী।
📄 মুদ্রাব্যবসার বিনিময়ের মধ্যে দোষ-ত্রুটি প্রকাশ
পূর্বে বলা হয়েছে, মুদ্রাব্যবসার মধ্যে خِيَارُ الشَّرْطِ (অর্থাৎ চুক্তি চূড়ান্ত বা বাতিল করার স্বাধীনতা প্রদানের শর্ত) গ্রহণযোগ্য নয়। পক্ষান্তরে خِيَارُ الْعَيْبِ (অর্থাৎ ত্রুটির কারণে চুক্তি বাতিল করার স্বাধীনতা) সাব্যস্ত হতে পারে। কারণ, পণ্য স্বভাবত ত্রুটিমুক্ত হওয়াই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
হানাফী ফকীহগণ বলেন: যদি মুদ্রাব্যবসার বিনিময় নগদ হয় তাহলে ত্রুটির কারণে তা ফেরত প্রদান করার দ্বারা চুক্তি ভেঙ্গে যাবে। মজলিসে ফেরত প্রদান করা হোক কিম্বা মজলিস ত্যাগ করার পর ফেরত প্রদান করা হোক। আর যদি মুদ্রাব্যবসার বিনিময় বাকি হয় অর্থাৎ হস্তগতকৃত দিরহামকে জাল বা অচল পায়, অতঃপর তা মজলিসের মধ্যে ফেরত প্রদান করে, তাহলে ফেরত প্রদান করার দ্বারা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
মালেকী ফকীহগণ বলেন: যদি দিরহাম বা দিনারের মধ্যে ঘাটতি বা খাদ জাতীয় কোনো রূপ ত্রুটি পায় অথবা রৌপ্য বা স্বর্ণ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পায়, আর এটি যদি মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে প্রকাশিত হয়, তা হলে তাতে সম্মত হওয়া তার জন্য বৈধ হবে এবং সরফ চুক্তি শুদ্ধ হবে।
শাফেয়ী ফকীহগণ বলেন: যদি নগদে সরফ চুক্তি এই শর্তে সম্পাদিত হয় যে, তা রৌপ্য বা স্বর্ণ, আর প্রকাশিত হলো যে, তার একটি বা উভয়টি তামা, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, যদি দুই বিনিময়ের কোনো একটির পুরোটার মধ্যে অন্য শ্রেণীর অন্তর্ভুক্তিতে সামান্য ত্রুটিও প্রকাশ পায়; যেমন দিরহামের মধ্যে তামা, স্বর্ণের মধ্যে আলমাস তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৪১. কাসানী রচিত বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২১৯
১৪২. ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ২৩৬
১৪৩. দারদীর রচিত আশ শরহুস সগীর, খ. ৩, পৃ. ৫৮-৫৯; জাওয়াহিবুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৩
১৪৪. আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৭৬; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৯
১৪৫. প্রাগুক্ত।
১৪৬. কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৬৭-২৬৮
১৪৭. আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৮
১৪৮. প্রাগুক্ত।
১৪৯. ইবনে কুদামা রচিত, খ. ৪, পৃ. ৫১
📄 সরফ-চুক্তির মধ্যে নির্দিষ্ট করার দ্বারা মুদ্রা নির্দিষ্ট হওয়া
মালেকী, শাফেয়ী, একমত অনুযায়ী হাম্বলীসহ অধিকাংশ ফকীহের মাযহাব হলো, দিরহাম এবং দিনার নির্দিষ্ট করার দ্বারা নির্দিষ্ট হবে। এর অর্থ হচ্ছে, তারা উভয়পক্ষ যা নির্ধারণ করেছে তাতে চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা সাব্যস্ত হবে। এবং এ ক্ষেত্রে তা বিনিময় রূপে নির্দিষ্ট হয়ে যাবে।
হানাফী ফকীহগণ, অনুরূপভাবে এক বর্ণনা মতে হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, মুদ্রা যখন মূল্য হয়, তা নির্দিষ্ট করার দ্বারা নির্দিষ্ট হয় না। অর্থাৎ মুদ্রাবিনিময় চুক্তির মধ্যে উভয় বিনিময় নির্দিষ্ট করার দ্বারা নির্দিষ্ট হয় না। সুতরাং যদি উভয় পক্ষ একটি দিনারের বিনিময়ে কয়েকটি দিরহাম ক্রয়-বিক্রয় করে, তাহলে তারা উভয় পক্ষ চুক্তির মধ্যে যা ইঙ্গিত করেছে তা তারা উভয় পক্ষ নিজের কাছে রেখে দিয়ে পৃথক হওয়ার পূর্বে তার বিকল্প পরিশোধ করা বৈধ হবে। কারণ, ইমাম ফাররা থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে তার আলোকে, মূল্যের শাব্দিক অর্থ হলো দায়িত্বে থাকা ঋণ। অতএব তা ইঙ্গিতের দ্বারা নির্দিষ্ট করার সম্ভাবনা নেই।
টিকাঃ
১৫০. আশ শরহুস সগীর, খ. ৩, পৃ. ২৫৮; জাওয়াহিবুল ইকলীল, খ. ৫, পৃ. ১৩৫; হাত্তাব রচিত মাওয়াহিকুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ২৭৮; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৬৬; ইবনে কুদামা রচিত আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫০; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৭০
১৫১. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ২৪৪; আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ১২; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৬৮; ইবনে কুদামা রচিত আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫০