📄 দ্বিতীয় : খিয়ার মুক্ত থাকা : (الخلو غن الخيار)
হানাফী, মালেকী এবং শাফেয়ী মাযহাবের সম্মিলিত ফকীহগণ মনে করেন, খিয়ার (চুক্তি চূড়ান্ত করা বা ভঙ্গ করার স্বাধীনতা)-এর শর্তসহকারে সরফ-চুক্তি শুদ্ধ হবে না। সুতরাং যদি খিয়ারের শর্ত করে চুক্তিকারী উভয় পক্ষ অথবা যে কোনো একপক্ষ, তাহলে সরফ-চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, উক্ত চুক্তির মধ্যে হস্তগতকরণ হলো চুক্তি শুদ্ধ হওয়ার শর্ত অথবা শুদ্ধ অবস্থায় বহাল থাকার শর্ত। খিয়ার-এর শর্ত বিধানগতভাবে চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় অন্তরায় সৃষ্টি করে। ইবনুল হুমাম রহ. বলেন, মুদ্রাবিনিময় চুক্তির মধ্যে খিয়ারের শর্ত করা শুদ্ধ নয়। কারণ তা মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া বা মালিকানা পূর্ণতা লাভ করায় অন্তরায় সৃষ্টি করে। তবে হানাফী ফকীহগণ বলেন, যদি বৈঠকের মধ্যে খিয়ার রহিত করা হয় তাহলে চুক্তিটি পুনরায় বৈধতায় ফিরে আসবে। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: পারস্পরিক খিয়ার-এর শর্ত করার দরুন সরফ-চুক্তি বাতিল হবে না। অন্য সকল বাতিলযোগ্য শর্তের ন্যায় খিয়ারও বিক্রি বাতিল করবে না। অতএব চুক্তি শুদ্ধ হবে এবং মজলিস থেকে পৃথক হওয়ার দ্বারা চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
📄 তৃতীয় : মেয়াদের শর্ত না থাকা (الْخُلُوُّ عَنِ اشْتِرَاطِ الأَجَلِ)
সামগ্রিক ভাবে ফকীহগণ একমত পোষণ করেছেন, চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের বা এক পক্ষের মুদ্রাবিনিময় চুক্তিতে মেয়াদ শর্ত করা বৈধ নয়। সুতরাং তারা যদি উভয়ে বা এক পক্ষ মেয়াদ শর্ত করে তাহলে সরফ-চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে উভয় বিনিময় হস্তগত হওয়া আবশ্যক। আর মেয়াদ নির্ধারণ শরীয়তের পক্ষ থেকে চুক্তির মাধ্যমে আবশ্যকীয় হস্তগত করণকে ব্যাহত করবে। তবে হানাফী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, যদি মেয়াদের শর্ত করা হয়, অতঃপর মেয়াদের সুবিধাভোগী ব্যক্তি মজলিস বর্জন করার পূর্বেই মেয়াদের শর্ত বাতিল করে দেয় এবং স্বীয় দেনা নগদ প্রদান করে, অতঃপর পরস্পর হস্তগত করার পর তারা মজলিস থেকে উঠে, তাহলে তাদের মতে পুনরায় চুক্তি বৈধতা পাবে।
📄 চতুর্থ : সমতা ও বরাবর হওয়া (التَّمَاثُل)
এ শর্তটি বিশেষ এক প্রকার মুদ্রাবিনিময় চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট। তা হলো, দুইটি মুদ্রার একটিকে তার সমশ্রেণীর বিনিময়ে বিক্রি করা। সুতরাং যদি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি করা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে গুণগত মান এবং আকার-আকৃতিতে উভয় স্বর্ণের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও পরিমাণের দিক থেকে সমান সমান হওয়া আবশ্যক। এটি ফকীহগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কোনো একটি অতিরিক্ত হওয়া বৈধ নয়—এ অতিরিক্ত অংশটুকু এই শ্রেণী থেকে হোক কিংবা অন্য শ্রেণী থেকে হোক বা তৃতীয় কোনো কিছু হোক। হানাফী ফকীহগণ বাড়িয়ে বলেন, এক্ষেত্রে সংখ্যা মোটে ধর্তব্য নয়। আর শর্ত হলো জ্ঞান ও বিবেচনার দিক থেকে বরাবর হওয়া। শুধু বাস্তবে বরাবর হলে চলবে না। এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো রাসূল সা.-এর বাণী: 'তোমরা সমান সমান ব্যতীত স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করো না, এবং তোমরা সমান সমান ব্যতীত রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি করো না... এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের কোনোটি নগদের বিনিময়ে বাকি বিক্রি করো না।'
📄 সরফ-চুক্তির প্রকারসমূহ (أَنْوَاعُ الصَّرْفِ)
ফকীহগণ সরফ বা মুদ্রাবিনিময় অধ্যায়ে যে সকল উদাহরণ ও অবস্থা আলোচনা করেছেন, তার আলোকে সরফ-চুক্তিকে কয়েকটি প্রকারে ভাগ করা হয়েছে। নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।