📄 হস্তগত করার ক্ষমতা লাভ ও প্রতিনিধিত্ব (الْوَكَالَةُ بِالْقَبْضِ)
অধিকাংশ ফকীহের মাযহাব হলো, সরফ বা মুদ্রাবিনিময়ে মুদ্রা হস্তগত করায় প্রতিনিধিত্ব শুদ্ধ হবে। সুতরাং যদি মুদ্রাবিনিময়কারী উভয় পক্ষ হস্তগত করার জন্য কোনো দুজনকে ক্ষমতা প্রদান করে অথবা মুদ্রাবিনিময়কারী দুই পক্ষের এক পক্ষ কাউকে ক্ষমতা প্রদান করে, অতঃপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদ্বয় পরস্পর হস্তগত করে—ক্ষমতা প্রদানকারী দুইপক্ষ মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে—তাহলে চুক্তি বৈধ হবে এবং হস্তগতকরণ শুদ্ধ হবে। কারণ, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির হস্তগতকরণ ক্ষমতা প্রদানকারী ব্যক্তি কর্তৃক হস্তগত করার সমতুল্য। সরফ বা মুদ্রাবিনিময় চুক্তিকে ব্যাহতকারী মজলিস ত্যাগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য হলো উভয় চুক্তিকারী মজলিস ত্যাগ করা। ক্ষমতাপ্রাপ্ত পক্ষদ্বয়ের মজলিস ত্যাগ বিবেচ্য বিষয় নয়। মালেকী ফকীহগণের দ্বিতীয় মত অনুযায়ী, যদি হস্তগত করার জন্য অন্যকে ক্ষমতা প্রদান করে তাহলে মুদ্রাবিনিময় চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে যদিও সে ক্ষমতা প্রদানকারী ব্যক্তির উপস্থিতিতে হস্তগত করে। কারণ এতে বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে।
📄 দুই বিনিময়ের কিছু অংশ হস্তগতকরণ (قَبْضُ بَعْضِ الْعِوَضَيْنِ)
যদি কিছু মূল্য হস্তগত করে আর কিছু হস্তগত না করে চুক্তি সম্পাদনকারী দুইপক্ষ মজলিস ত্যাগ করে যায়, তাহলে যে অংশ হস্তগত হয়নি সে অংশে সর্বসম্মতভাবে মুদ্রা বিনিময়চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আর যে অংশ হস্তগত হয়েছে সে অংশের ক্ষেত্রে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহ সম্প্রদায়ের মত এবং মালেকী ফকীহগণের একটি উক্তি ও হাম্বলী ফকীহগণের একটি অভিমত হলো, যে অংশ হস্তগত হয়েছে সে অংশে চুক্তি শুদ্ধ হওয়া আর যে অংশ হস্তগত হয়নি সে অংশে চুক্তি বাতিল হওয়া। পক্ষান্তরে মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণের অপর অভিমত হলো, পুরো অংশের মধ্যে চুক্তি বাতিল হওয়া। হানাফী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, যদি রৌপ্যের পাত্র বিক্রি করে কিছু মূল্য হস্তগত করে এবং চুক্তিকারী উভয়পক্ষ মজলিস থেকে চলে যায়, তাহলে যে অংশ হস্তগত করেছে সে অংশে চুক্তি শুদ্ধ হবে এবং পাত্রটি উভয়ের যৌথ মালিকানায় থাকবে। মালেকী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে যদি মুদ্রাবিনিময় চুক্তি সম্পাদিত হয় এই শর্তে যে, তার কিছু অংশ বাকি থাকবে তাহলে চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে। শাফেয়ী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, কেউ যদি দশ দিরহাম রৌপ্যের বিনিময়ে এক দিনার ক্রয় করে এবং দশ দিরহাম থেকে পাঁচ দিরহাম বিক্রেতাকে হস্তগত করতে দেওয়া হয়, তবে যে অংশের বিনিময় প্রদান করা হয়েছে সে অংশে চুক্তি বাতিল হবে না।
📄 দ্বিতীয় : খিয়ার মুক্ত থাকা : (الخلو غن الخيار)
হানাফী, মালেকী এবং শাফেয়ী মাযহাবের সম্মিলিত ফকীহগণ মনে করেন, খিয়ার (চুক্তি চূড়ান্ত করা বা ভঙ্গ করার স্বাধীনতা)-এর শর্তসহকারে সরফ-চুক্তি শুদ্ধ হবে না। সুতরাং যদি খিয়ারের শর্ত করে চুক্তিকারী উভয় পক্ষ অথবা যে কোনো একপক্ষ, তাহলে সরফ-চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, উক্ত চুক্তির মধ্যে হস্তগতকরণ হলো চুক্তি শুদ্ধ হওয়ার শর্ত অথবা শুদ্ধ অবস্থায় বহাল থাকার শর্ত। খিয়ার-এর শর্ত বিধানগতভাবে চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় অন্তরায় সৃষ্টি করে। ইবনুল হুমাম রহ. বলেন, মুদ্রাবিনিময় চুক্তির মধ্যে খিয়ারের শর্ত করা শুদ্ধ নয়। কারণ তা মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া বা মালিকানা পূর্ণতা লাভ করায় অন্তরায় সৃষ্টি করে। তবে হানাফী ফকীহগণ বলেন, যদি বৈঠকের মধ্যে খিয়ার রহিত করা হয় তাহলে চুক্তিটি পুনরায় বৈধতায় ফিরে আসবে। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: পারস্পরিক খিয়ার-এর শর্ত করার দরুন সরফ-চুক্তি বাতিল হবে না। অন্য সকল বাতিলযোগ্য শর্তের ন্যায় খিয়ারও বিক্রি বাতিল করবে না। অতএব চুক্তি শুদ্ধ হবে এবং মজলিস থেকে পৃথক হওয়ার দ্বারা চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
📄 তৃতীয় : মেয়াদের শর্ত না থাকা (الْخُلُوُّ عَنِ اشْتِرَاطِ الأَجَلِ)
সামগ্রিক ভাবে ফকীহগণ একমত পোষণ করেছেন, চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের বা এক পক্ষের মুদ্রাবিনিময় চুক্তিতে মেয়াদ শর্ত করা বৈধ নয়। সুতরাং তারা যদি উভয়ে বা এক পক্ষ মেয়াদ শর্ত করে তাহলে সরফ-চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে উভয় বিনিময় হস্তগত হওয়া আবশ্যক। আর মেয়াদ নির্ধারণ শরীয়তের পক্ষ থেকে চুক্তির মাধ্যমে আবশ্যকীয় হস্তগত করণকে ব্যাহত করবে। তবে হানাফী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, যদি মেয়াদের শর্ত করা হয়, অতঃপর মেয়াদের সুবিধাভোগী ব্যক্তি মজলিস বর্জন করার পূর্বেই মেয়াদের শর্ত বাতিল করে দেয় এবং স্বীয় দেনা নগদ প্রদান করে, অতঃপর পরস্পর হস্তগত করার পর তারা মজলিস থেকে উঠে, তাহলে তাদের মতে পুনরায় চুক্তি বৈধতা পাবে।