📄 মুরাবাহার মধ্যে অবিশ্বাস ও খিয়ানত প্রকাশিত হওয়া
যদি মুরাবাহা চুক্তির মধ্যে অবিশ্বাস ও খিয়ানত প্রকাশিত হয় বিক্রেতার স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বা কোনো দলিলের মাধ্যমে, তাহলে সে খিয়ানত হয়তো মূল্যের আকৃতিতে হবে বা মূল্যের পরিমাণে হবে। যদি মূল্যের গুণাবলিতে প্রকাশিত হয় যেমন, ক্রেতা কোনো বস্তু বাকীতে ক্রয় করল কিন্তু সে যে বাকীতে ক্রয় করেছে তা বর্ণনা করেনি, তাহলে হানাফীদের নিকট তার ইখতিয়ার থাকবে।
যদি মুরাবাহা চুক্তিতে মূল্যের পরিমাণের ক্ষেত্রে খিয়ানত প্রকাশিত হয়, যেমন বিক্রেতা বলল দশ দিরহামে ক্রয় করেছি কিন্তু আসলে নয় দিরহামে ক্রয় করেছে, তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, দ্বিতীয় ক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। আর ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: ক্রেতার কোনো ইখতিয়ার থাকবে না। তবে খিয়ানত পরিমাণ মূল্য কমিয়ে দেওয়া হবে। মালেকী ফকীহগণ বলেন, বিক্রেতা যদি সঠিক মূল্য থেকে বাড়িয়ে বলে, তাহলে ক্রেতাকে উক্ত পণ্য রাখা ও প্রত্যাখান করার ইখতিয়ার দেয়া হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, বাড়ানো মূল্য এবং তার লাভ হ্রাস করা হবে; ক্রেতার কোনো ইচ্ছাধিকার থাকবে না। হাম্বলীগণ বলেন, মূল্য সম্পর্কে বাস্তবের বিপরীত সংবাদ দেওয়ার দরুন বিক্রয় চুক্তি ফাসেদ হবে না, ক্রেতাকে শুধু মূল্য দিয়ে পণ্যগ্রহণ করা বা প্রত্যাখান করার ইখতিয়ার দেয়া হবে।
টিকাঃ
৪০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ৩২০৬; ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৫০৭
৪১. আল-মাবসূত, খ. ১৩, পৃ. ৮৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ৩২০৬; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৫৬
৪২. আশ শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ২২২
৪৩. মুগনিল মুহাতাজ, খ.২, পৃ. ৭৯
৪৪. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৯৮ ও ২০৬
📄 ক্রয়ের আদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয়
শাফেয়ীগণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি অপর ব্যক্তিকে কোনো দ্রব্য দেখায় এবং বলে, তুমি এ দ্রব্যটি ক্রয় করো আমি তোমাকে এত টাকা লাভ দেব। তারপর দ্বিতীয় লোকটি তা কিনে নিল, তাহলে এ ক্রয়টি বৈধ। আর যে ব্যক্তি তাকে বলল, আমি তোমাকে লাভ দেব, তার ইখতিয়ার আছে, ইচ্ছা করলে নতুন বিক্রয় সংঘটিত করতে পারবে। যদি কেউ অপর কাউকে বলে, তুমি অমুক বস্তুটি ক্রয় করো, আমি তোমার নিকট থেকে সেটি নগদ বা বাকিতে ক্রয় করব, তাহলে প্রথম বিক্রয়টি বৈধ এবং দ্বিতীয় বিক্রয় কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার ইখতিয়ার থাকবে। মালেকিদের মতে এটি মাকরূহ বিক্রয়ের পর্যায়ভুক্ত।
টিকাঃ
৪৫. আল-উম্ম, খ. ৩, পৃ. ৩৩; অঙ্কিত মুদ্রণ বুলাক থেকে ১৩২১ হিঃ
৪৬. মাওহাহিবুল জালীল লিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪০৪; আল-বায়ান ওয়াত তাহসীল লি ইবনে রুশদ আল-জাদ, খ. ৭, পৃ. ৮৬-৮৯