📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম ক্রেতা কর্তৃক পণ্যে কোনো কিছু সংযোজনের বিধান

📄 প্রথম ক্রেতা কর্তৃক পণ্যে কোনো কিছু সংযোজনের বিধান


হানাফীগণ বলেন: প্রথম ক্রেতা মূলধনের সাথে ধোপা, রঙমিস্ত্রি, দর্জি, এজেন্ট/দালাল ইত্যাদির পারিশ্রমিক এবং ঘর ভাড়া, গবাদি পশুর খাদ্য বাবত খরচ প্রভৃতি সংযোজন করতে পারবে। কেননা ব্যবসায়ীদের প্রথা হলো তারা যাবতীয় খরচ মূল পণ্যের মূল্যভুক্ত মনে করে তাতে যুক্ত করে। তবে রাখাল, ডাক্তার, অপরাধের মুক্তিপণ ইত্যাদি খাতে যে অর্থ-কড়ি সে ব্যয় করেছে এগুলো মূলধনের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে না।

মালেকীগণ এ পদ্ধতির সাথে একমত পোষণ করেছেন। তারা বলেন, বিক্রেতা ক্রেতার ওপর সেসব বস্তুর মুনাফা হিসাব করবে, যেসব বস্তুর মূলসত্তা পণ্যের সাথে বিদ্যমান। শাফেয়ীগণও এরকম মত পোষণ করেছেন যে, পরিমাপকারী, দালাল, ধোপা, রংরেজ ইত্যাদির মজুরী এবং রঙের মূল্য মূল্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। বিক্রেতা বিক্রয়ের সময় বলবে, 'আমার এত টাকা পড়েছে'। হাম্বলীদের বর্ণনা হলো, প্রথম ক্রেতা পণ্যে যদি কোনো কাজ করে যেমন- কাপড় পরিষ্কার করল বা কাপড় কেটে জামা বানাল, তাহলে তা বর্ণনা করবে। ক্রেতার জন্য একথা বলা বৈধ নয় যে, এত টাকায় বস্তুটি সংগৃহীত হয়েছে।

টিকাঃ
৩০. ইমাম আহমাদ র. সংকলন করেছেন, খ. ১, পৃ. ৩৭৯
৩১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩; ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৪৯৮
৩২. আশ শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ২১৭; মাওয়াহিবুল জালীল লিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
৩৩. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৮; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৫
৩৪. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বিক্রীত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়া বা কমে যাওয়া

📄 বিক্রীত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়া বা কমে যাওয়া


হানাফীগণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যদি পণ্যে কোনো দোষ সৃষ্টি হয় বিক্রেতার হাতে বা ক্রেতার হাতে, তারপর সে পণ্যটিকে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে চায়, তাহলে দেখতে হবে দোষটি কিভাবে সৃষ্টি হলো। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারা সৃষ্টি হয় তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও সাহেবাইনের নিকট পূর্ণ মূল্য ধরে তা বিক্রি করতে পারবে। আর যদি পণ্যেরই কোনো কাজ দ্বারা বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ দ্বারা দোষ সৃষ্টি হয় তাহলে তার দোষ বর্ণনা না করে মুরাবাহা পদ্ধতিতে তা বিক্রি করতে পারবে না।

মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন: মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের সময় বিক্রেতার ওপর পণ্যের সে সকল দোষ বর্ণনা করা অপরিহার্য যা পণ্যের সত্তায় অথবা তার বৈশিষ্ট্যে অপছন্দ মনে করা হয়। শাফেয়ীগণ বলেন: বিক্রীতপণ্য বিক্রেতার কাছে থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এমন কোনো দোষ যা পণ্যের মূল্যকে হ্রাস করে দেয় বিক্রেতার তা বর্ণনায় সত্য কথা বলা আবশ্যক। হাম্বলীগণ বলেন: পণ্যে যদি কোনো ত্রুটির কারণে পরিবর্তন হয়, তাহলে বিক্রেতা অবস্থার সঠিক সংবাদ দেবে।

টিকাঃ
৩৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩
৩৬. আদ দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৪
৩৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৯
৩৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২০১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 একাধিক ক্রয়-বিক্রয়

📄 একাধিক ক্রয়-বিক্রয়


কেউ যদি কোনো কাপড় দশ টাকায় ক্রয় করে তারপর পনের টাকায় কাপড়টি বিক্রি করার পর পুনরায় দশ টাকায় কাপড়টি ক্রয় করে, তাহলে দ্বিতীয়বার মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের সময় সে একথাই বলবে, সে তা দশ টাকা দিয়েই ক্রয় করেছে। এটি মালেকী, শাফেয়ী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হাম্বলীদের এবং সাহেবাইনের অভিমত। ইমাম আবু হানিফা ও হাম্বলী মতাবলম্বী কাজী ইয়ায বলেন: কাপড়টিকে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে পারবে না। তবে বিষয়টি বর্ণনা করলে বিক্রি করতে পারবে।

টিকাঃ
৩৯. ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৫০১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০৫; মাওয়াহিবুল জালীল লিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৯৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুরাবাহার মধ্যে অবিশ্বাস ও খিয়ানত প্রকাশিত হওয়া

📄 মুরাবাহার মধ্যে অবিশ্বাস ও খিয়ানত প্রকাশিত হওয়া


যদি মুরাবাহা চুক্তির মধ্যে অবিশ্বাস ও খিয়ানত প্রকাশিত হয় বিক্রেতার স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বা কোনো দলিলের মাধ্যমে, তাহলে সে খিয়ানত হয়তো মূল্যের আকৃতিতে হবে বা মূল্যের পরিমাণে হবে। যদি মূল্যের গুণাবলিতে প্রকাশিত হয় যেমন, ক্রেতা কোনো বস্তু বাকীতে ক্রয় করল কিন্তু সে যে বাকীতে ক্রয় করেছে তা বর্ণনা করেনি, তাহলে হানাফীদের নিকট তার ইখতিয়ার থাকবে।

যদি মুরাবাহা চুক্তিতে মূল্যের পরিমাণের ক্ষেত্রে খিয়ানত প্রকাশিত হয়, যেমন বিক্রেতা বলল দশ দিরহামে ক্রয় করেছি কিন্তু আসলে নয় দিরহামে ক্রয় করেছে, তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, দ্বিতীয় ক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। আর ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: ক্রেতার কোনো ইখতিয়ার থাকবে না। তবে খিয়ানত পরিমাণ মূল্য কমিয়ে দেওয়া হবে। মালেকী ফকীহগণ বলেন, বিক্রেতা যদি সঠিক মূল্য থেকে বাড়িয়ে বলে, তাহলে ক্রেতাকে উক্ত পণ্য রাখা ও প্রত্যাখান করার ইখতিয়ার দেয়া হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, বাড়ানো মূল্য এবং তার লাভ হ্রাস করা হবে; ক্রেতার কোনো ইচ্ছাধিকার থাকবে না। হাম্বলীগণ বলেন, মূল্য সম্পর্কে বাস্তবের বিপরীত সংবাদ দেওয়ার দরুন বিক্রয় চুক্তি ফাসেদ হবে না, ক্রেতাকে শুধু মূল্য দিয়ে পণ্যগ্রহণ করা বা প্রত্যাখান করার ইখতিয়ার দেয়া হবে।

টিকাঃ
৪০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ৩২০৬; ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৫০৭
৪১. আল-মাবসূত, খ. ১৩, পৃ. ৮৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ৩২০৬; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৫৬
৪২. আশ শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ২২২
৪৩. মুগনিল মুহাতাজ, খ.২, পৃ. ৭৯
৪৪. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৯৮ ও ২০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00