📄 বিক্রীত বস্তু হতে সৃষ্ট বর্ধিত বস্তুর বিধান
বিক্রীত পণ্যে যদি আলাদা কোনো বস্তুর পরিবৃদ্ধি ঘটে, যেমন বাঁদীর সন্তান, গাভীর দুধ, গাছের ফল ইত্যাদি। হানাফীদের নিকট পণ্যের মালিক উক্ত পণ্য তার অবস্থা বর্ণনা ব্যতীত মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে পারবে না; যেহেতু পণ্য থেকে সৃষ্ট বাড়তি বস্তুও তাদের নিকট পণ্য বলে বিবেচ্য। আর যদি বিক্রীত পণ্য হতে উদ্ভূত বস্তু আসমানী দুর্যোগের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বর্ণনা ব্যতীতই তা মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে পারবে।
মালেকীগণ বলেন: মুরাবাহা পদ্ধতিতে যে বিক্রয় করছে সে চতুষ্পদ জন্তুর বাচ্চা প্রসব-এর বিষয়টি ক্রেতাকে অবহিত করবে। এমনিভাবে বিক্রীত জন্তুর পশম যদি কর্তন করা হয় তাও বর্ণনা করবে। পক্ষান্তরে বিক্রেতা যদি বকরির দুধ দোহন করে তাহলে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তার এ বিষয়টি বর্ণনা করা অপরিহার্য নয়।
শাফেয়ীগণ বলেন, বিক্রেতার মালিকানায় থাকাকালে মূল বস্তু (পণ্য) থেকে যদি কোনো সন্তান, দুধ, ফল-মূল ইত্যাদি সৃষ্টি হয়; তাহলে তা মূল্য হ্রাস করবে না। কারণ, বর্ধিত বস্তুটি চুক্তিতে শামিল নয়। হাম্বলীগণ শাফেয়ীদের সাথে বর্ধিত বস্তুর বিধানের ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেছেন।
টিকাঃ
২৬. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩-২২৪
২৭. আততাজ ওয়াল-ইকলীল লিল মাওয়াক হাত্তাব-এর টীকা সহ, খ. ৪, পৃ. ৪৯৩
২৮. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬
২৯. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০১
📄 প্রথম ক্রেতা কর্তৃক পণ্যে কোনো কিছু সংযোজনের বিধান
হানাফীগণ বলেন: প্রথম ক্রেতা মূলধনের সাথে ধোপা, রঙমিস্ত্রি, দর্জি, এজেন্ট/দালাল ইত্যাদির পারিশ্রমিক এবং ঘর ভাড়া, গবাদি পশুর খাদ্য বাবত খরচ প্রভৃতি সংযোজন করতে পারবে। কেননা ব্যবসায়ীদের প্রথা হলো তারা যাবতীয় খরচ মূল পণ্যের মূল্যভুক্ত মনে করে তাতে যুক্ত করে। তবে রাখাল, ডাক্তার, অপরাধের মুক্তিপণ ইত্যাদি খাতে যে অর্থ-কড়ি সে ব্যয় করেছে এগুলো মূলধনের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে না।
মালেকীগণ এ পদ্ধতির সাথে একমত পোষণ করেছেন। তারা বলেন, বিক্রেতা ক্রেতার ওপর সেসব বস্তুর মুনাফা হিসাব করবে, যেসব বস্তুর মূলসত্তা পণ্যের সাথে বিদ্যমান। শাফেয়ীগণও এরকম মত পোষণ করেছেন যে, পরিমাপকারী, দালাল, ধোপা, রংরেজ ইত্যাদির মজুরী এবং রঙের মূল্য মূল্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। বিক্রেতা বিক্রয়ের সময় বলবে, 'আমার এত টাকা পড়েছে'। হাম্বলীদের বর্ণনা হলো, প্রথম ক্রেতা পণ্যে যদি কোনো কাজ করে যেমন- কাপড় পরিষ্কার করল বা কাপড় কেটে জামা বানাল, তাহলে তা বর্ণনা করবে। ক্রেতার জন্য একথা বলা বৈধ নয় যে, এত টাকায় বস্তুটি সংগৃহীত হয়েছে।
টিকাঃ
৩০. ইমাম আহমাদ র. সংকলন করেছেন, খ. ১, পৃ. ৩৭৯
৩১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩; ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৪৯৮
৩২. আশ শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ২১৭; মাওয়াহিবুল জালীল লিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
৩৩. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৮; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৫
৩৪. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০১
📄 বিক্রীত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়া বা কমে যাওয়া
হানাফীগণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যদি পণ্যে কোনো দোষ সৃষ্টি হয় বিক্রেতার হাতে বা ক্রেতার হাতে, তারপর সে পণ্যটিকে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে চায়, তাহলে দেখতে হবে দোষটি কিভাবে সৃষ্টি হলো। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারা সৃষ্টি হয় তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও সাহেবাইনের নিকট পূর্ণ মূল্য ধরে তা বিক্রি করতে পারবে। আর যদি পণ্যেরই কোনো কাজ দ্বারা বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ দ্বারা দোষ সৃষ্টি হয় তাহলে তার দোষ বর্ণনা না করে মুরাবাহা পদ্ধতিতে তা বিক্রি করতে পারবে না।
মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন: মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের সময় বিক্রেতার ওপর পণ্যের সে সকল দোষ বর্ণনা করা অপরিহার্য যা পণ্যের সত্তায় অথবা তার বৈশিষ্ট্যে অপছন্দ মনে করা হয়। শাফেয়ীগণ বলেন: বিক্রীতপণ্য বিক্রেতার কাছে থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এমন কোনো দোষ যা পণ্যের মূল্যকে হ্রাস করে দেয় বিক্রেতার তা বর্ণনায় সত্য কথা বলা আবশ্যক। হাম্বলীগণ বলেন: পণ্যে যদি কোনো ত্রুটির কারণে পরিবর্তন হয়, তাহলে বিক্রেতা অবস্থার সঠিক সংবাদ দেবে।
টিকাঃ
৩৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩
৩৬. আদ দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৪
৩৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৯
৩৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২০১
📄 একাধিক ক্রয়-বিক্রয়
কেউ যদি কোনো কাপড় দশ টাকায় ক্রয় করে তারপর পনের টাকায় কাপড়টি বিক্রি করার পর পুনরায় দশ টাকায় কাপড়টি ক্রয় করে, তাহলে দ্বিতীয়বার মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের সময় সে একথাই বলবে, সে তা দশ টাকা দিয়েই ক্রয় করেছে। এটি মালেকী, শাফেয়ী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হাম্বলীদের এবং সাহেবাইনের অভিমত। ইমাম আবু হানিফা ও হাম্বলী মতাবলম্বী কাজী ইয়ায বলেন: কাপড়টিকে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করতে পারবে না। তবে বিষয়টি বর্ণনা করলে বিক্রি করতে পারবে।
টিকাঃ
৩৯. ফাতহুল কাদীর, খ. ৬, পৃ. ৫০১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০৫; মাওয়াহিবুল জালীল লিল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৯৩