📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ষষ্ঠ শর্ত : পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা

📄 ষষ্ঠ শর্ত : পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা


সালাম শুদ্ধ হওয়ার জন্য সালামের পণ্য পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত হবে কি না তা নিয়ে ফকীহগণ মতভেদ করে চার ধরনের মত ব্যক্ত করেছেন:
ক. হানাফী ফকীহগণ বলেন: যদি সালামের পণ্যের কোনো রূপ ব্যয়ভার না থাকে তাহলে পরিশোধ করার স্থান বর্ণনা করা শর্ত নয়। তবে বহন খরচ থাকলে আবু হানিফা রহ. এর মতে স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতে চুক্তির স্থানটিই হস্তান্তরের স্থান হবে।
খ. মালেকী ফকীহগণ বলেন, পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, তবে নির্দিষ্ট হওয়া উত্তম।
গ. শাফেয়ী ফকীহগণের মতে, যদি চুক্তির স্থানটি পণ্য হস্তান্তরের যোগ্য না হয় অথবা পণ্য বহনে ব্যয়-ভার প্রয়োজন হয় তাহলে স্থান বর্ণনা করা শর্ত। অন্যথায় চুক্তির স্থানটিই নির্দিষ্ট হবে।
ঘ. হাম্বলী ফকীহগণের মাযহাব হলো পরিশোধ করার স্থান আলোচনা করার প্রয়োজন নেই, তবে চুক্তির স্থানে পরিশোধ করা অসম্ভব হলে স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সালাম চুক্তি থেকে সৃষ্ট এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ

📄 সালাম চুক্তি থেকে সৃষ্ট এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ


সালাম চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর কিছু আইনি ও শরয়ী বিধান সৃষ্টি হয়, যেমন মালিকানা স্থানান্তর এবং পণ্যে এখতিয়ার প্রয়োগ। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. উভয় বিনিময়ের মালিকানা স্থানান্তর

📄 ক. উভয় বিনিময়ের মালিকানা স্থানান্তর


যদি সালামের বিক্রেতা মূলধন হস্তগত করে তাহলে সে তাতে শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত সবধরনের লেনদেন করতে পারবে। কারণ সে এটির মালিক হয়েছে। যদিও সালামের পণ্যটি চুক্তির চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতার পাওনায় পরিণত হয়েছে, তবে উক্ত পণ্যে তার মালিকানা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি অপ্রতিষ্ঠিত থেকে যায় কারণ পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. হস্তগত করার পূর্বে সালামের পণ্যে এখতিয়ার প্রয়োগ

📄 খ. হস্তগত করার পূর্বে সালামের পণ্যে এখতিয়ার প্রয়োগ


সালামের ঋণটি সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহ সম্প্রদায়ের মাযহাব হলো, সালামের পণ্য যার দায়িত্বে পাওনা আছে তার (অর্থাৎ ক্রেতার) বা অন্যের জন্য তা বিক্রি করা বা কোনো বস্তুর সাথে বিনিময় করা শুদ্ধ হবে না। হানাফী ফকীহগণ বলেন, হস্তগত করার পূর্বে সালামের পণ্যে কোনো প্রকার বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়। তবে শর্তাবলিসহ হাওয়ালা, কাফালা এবং বন্ধক রাখা বৈধ হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, সালামের পণ্য বিক্রি বা বদল বিনিময় করা বৈধ নয়। হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, হস্তগত করার পূর্বে সালামের পণ্য বিক্রি বা বিনিময় শুদ্ধ হবে না। ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়িম রহ. এর মতে সমমূল্যে বা কম মূল্যে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির নিকট তা বিক্রি করা জায়েয। মালেকী ফকীহগণ খাবার ছাড়া অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু শর্তসাপেক্ষে হস্তগত করার পূর্বে বিক্রির বৈধতা প্রদান করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00