📄 চতুর্থ শর্ত : মেয়াদ জ্ঞাত থাকা
ফকীহগণ একমত, সালামের পণ্য পরিশোধ করার মেয়াদ জ্ঞাত থাকা সালাম শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত। কারণ রাসূল সা. নির্দিষ্ট মেয়াদের কথা হাদীসে উল্লেখ করেছেন। ফকীহগণ বলেছেন, যদি মেয়াদ অজ্ঞাত থাকে তাহলে সালাম অশুদ্ধ থাকবে; অজ্ঞতা বেশি হোক কিংবা সামান্য। চাঁদের হিসাবে বা সৌর মাসের হিসাবে অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ের মাধ্যমে মেয়াদ জানা থাকতে হবে।
📄 ষষ্ঠ শর্ত : পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা
সালাম শুদ্ধ হওয়ার জন্য সালামের পণ্য পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত হবে কি না তা নিয়ে ফকীহগণ মতভেদ করে চার ধরনের মত ব্যক্ত করেছেন:
ক. হানাফী ফকীহগণ বলেন: যদি সালামের পণ্যের কোনো রূপ ব্যয়ভার না থাকে তাহলে পরিশোধ করার স্থান বর্ণনা করা শর্ত নয়। তবে বহন খরচ থাকলে আবু হানিফা রহ. এর মতে স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতে চুক্তির স্থানটিই হস্তান্তরের স্থান হবে।
খ. মালেকী ফকীহগণ বলেন, পরিশোধ করার স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, তবে নির্দিষ্ট হওয়া উত্তম।
গ. শাফেয়ী ফকীহগণের মতে, যদি চুক্তির স্থানটি পণ্য হস্তান্তরের যোগ্য না হয় অথবা পণ্য বহনে ব্যয়-ভার প্রয়োজন হয় তাহলে স্থান বর্ণনা করা শর্ত। অন্যথায় চুক্তির স্থানটিই নির্দিষ্ট হবে।
ঘ. হাম্বলী ফকীহগণের মাযহাব হলো পরিশোধ করার স্থান আলোচনা করার প্রয়োজন নেই, তবে চুক্তির স্থানে পরিশোধ করা অসম্ভব হলে স্থান নির্দিষ্ট করা শর্ত।
📄 সালাম চুক্তি থেকে সৃষ্ট এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ
সালাম চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর কিছু আইনি ও শরয়ী বিধান সৃষ্টি হয়, যেমন মালিকানা স্থানান্তর এবং পণ্যে এখতিয়ার প্রয়োগ। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
📄 ক. উভয় বিনিময়ের মালিকানা স্থানান্তর
যদি সালামের বিক্রেতা মূলধন হস্তগত করে তাহলে সে তাতে শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত সবধরনের লেনদেন করতে পারবে। কারণ সে এটির মালিক হয়েছে। যদিও সালামের পণ্যটি চুক্তির চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতার পাওনায় পরিণত হয়েছে, তবে উক্ত পণ্যে তার মালিকানা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি অপ্রতিষ্ঠিত থেকে যায় কারণ পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।