📄 দ্বিতীয় : অনিচ্ছাকৃত ও বাধ্যগত অবস্থায় চুক্তি ভঙ্গের কারণ
ক. চুক্তিবদ্ধ জিনিস বিনষ্ট হওয়া: এ কথায় সকল ফকীহ একমত যে, কিছু চুক্তি নিঃসৃশের কারণ হচ্ছে চুক্তিবদ্ধ জিনিস বিনষ্ট হওয়া। কারণ তখন চুক্তি বাকি রাখা আর সম্ভব হয় না। সুতরাং ভাড়া করা জন্তু মারা গেলে কিংবা বসবাসের উদ্দেশ্যে ভাড়া করা বাড়ি ভেঙে পড়লে ইজারা বাতিল হয়ে যায়। তেমনিভাবে যখন ধার করা বস্তু বা গচ্ছিত বস্তু বিনষ্ট হয় বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলধন ধ্বংস হয়ে যায় তখন একই বিধান। তবে পণ্য কব্জা করার পূর্বে যদি তা বিনষ্ট হয়ে যায়, তখন ফকীহ সমাজ পণ্য বিনষ্ট হওয়ার দরুন বেচাকেনা বাতিল হওয়ার বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন।
খ. চুক্তি সম্পাদনকারী একজনের বা উভয়ের মৃত্যু: চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের কিংবা একজনের মৃত্যু আবশ্যকীয় চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে হানাফীগণের মতে ইজারা-এর ব্যতিক্রম। তারা বলেন, ভাড়াদাতা বা ভাড়াগ্রহীতার মৃত্যু হলে ইজারা বাতিল হয়ে যায়। অন্য সকল ফকীহের মতে, একপক্ষের মৃত্যুতে ইজারাচুক্তি বাতিল হয় না। যে সকল চুক্তি আবশ্যকীয় নয়; যেমন ওকালত, ধারপ্রদান, ওদীয়ত ইত্যাদি—এসব চুক্তি চুক্তি সম্পাদনকারী কোনো একজন বা উভয়ের মৃত্যুতে বাতিল হয়ে যায়।
গ. চুক্তিবদ্ধ জিনিস ছিনতাই হওয়া: কতক চুক্তির ক্ষেত্র ছিনতাই বা লুট হওয়ার দ্বারা চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। ইজারা-চুক্তি সম্পর্কে শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: ভাড়াকৃত জিনিসটি ছিনতাই হয়ে গেলে ভাড়াগ্রহীতা ইজারা রহিত করতে পারবে। হানাফীগণ বলেন, ভাড়াগ্রহীতার হাত থেকে যদি ভাড়াকৃত বস্তুটি ছিনতাই হয়ে যায়, তাহলে ভাড়ার পুরো সময়ে বস্তুটি ছিনতাইকৃত থাকলে সমুদয় ভাড়া বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
২১০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৫২; আল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৩২; গাযালী, আল ওজীয, খ. ১, পৃ. ১৩৬; হাশিয়াতুল কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৮৪; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৭৩; দারদীর, আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪৯
২১১. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৬; সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮৭।
২১২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ ২৩৮
২১৩. হাশিয়া কালয়ুবী, খ. ২, পৃ. ২১০
২১৪. আশ শারহুস সগীর, খ. ৩, পৃ. ১৯৬
২১৫. ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৬৯
২১৬. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৬১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২২২
২১৭. বুলগাতুস সালিক, খ. ৪, পৃ. ৫০; আল-ইকনা, খ. ২, পৃ. ৭২; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৬৭।
২১৮. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৪৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৩০; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২২৫
২১৯. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১৮; ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৫৩-৪৫৫
২২০. আয যায়লাঈ, খ. ৫, পৃ. ১০৮; ইবনে আবেদীন, খ. ৫, পৃ. ৮
২২১. দারদীর কৃত আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪৯
ক. চুক্তিবদ্ধ জিনিস বিনষ্ট হওয়া: এ কথায় সকল ফকীহ একমত যে, কিছু চুক্তি নিঃসৃশের কারণ হচ্ছে চুক্তিবদ্ধ জিনিস বিনষ্ট হওয়া। কারণ তখন চুক্তি বাকি রাখা আর সম্ভব হয় না। সুতরাং ভাড়া করা জন্তু মারা গেলে কিংবা বসবাসের উদ্দেশ্যে ভাড়া করা বাড়ি ভেঙে পড়লে ইজারা বাতিল হয়ে যায়। তেমনিভাবে যখন ধার করা বস্তু বা গচ্ছিত বস্তু বিনষ্ট হয় বা অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলধন ধ্বংস হয়ে যায় তখন একই বিধান। তবে পণ্য কব্জা করার পূর্বে যদি তা বিনষ্ট হয়ে যায়, তখন ফকীহ সমাজ পণ্য বিনষ্ট হওয়ার দরুন বেচাকেনা বাতিল হওয়ার বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন।
খ. চুক্তি সম্পাদনকারী একজনের বা উভয়ের মৃত্যু: চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের কিংবা একজনের মৃত্যু আবশ্যকীয় চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে হানাফীগণের মতে ইজারা-এর ব্যতিক্রম। তারা বলেন, ভাড়াদাতা বা ভাড়াগ্রহীতার মৃত্যু হলে ইজারা বাতিল হয়ে যায়। অন্য সকল ফকীহের মতে, একপক্ষের মৃত্যুতে ইজারাচুক্তি বাতিল হয় না। যে সকল চুক্তি আবশ্যকীয় নয়; যেমন ওকালত, ধারপ্রদান, ওদীয়ত ইত্যাদি—এসব চুক্তি চুক্তি সম্পাদনকারী কোনো একজন বা উভয়ের মৃত্যুতে বাতিল হয়ে যায়।
গ. চুক্তিবদ্ধ জিনিস ছিনতাই হওয়া: কতক চুক্তির ক্ষেত্র ছিনতাই বা লুট হওয়ার দ্বারা চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। ইজারা-চুক্তি সম্পর্কে শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: ভাড়াকৃত জিনিসটি ছিনতাই হয়ে গেলে ভাড়াগ্রহীতা ইজারা রহিত করতে পারবে। হানাফীগণ বলেন, ভাড়াগ্রহীতার হাত থেকে যদি ভাড়াকৃত বস্তুটি ছিনতাই হয়ে যায়, তাহলে ভাড়ার পুরো সময়ে বস্তুটি ছিনতাইকৃত থাকলে সমুদয় ভাড়া বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
২১০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৫২; আল হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ৪৩২; গাযালী, আল ওজীয, খ. ১, পৃ. ১৩৬; হাশিয়াতুল কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৮৪; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৭৩; দারদীর, আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪৯
২১১. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৬; সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮৭।
২১২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ ২৩৮
২১৩. হাশিয়া কালয়ুবী, খ. ২, পৃ. ২১০
২১৪. আশ শারহুস সগীর, খ. ৩, পৃ. ১৯৬
২১৫. ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৬৯
২১৬. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৬১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২২২
২১৭. বুলগাতুস সালিক, খ. ৪, পৃ. ৫০; আল-ইকনা, খ. ২, পৃ. ৭২; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৬৭।
২১৮. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ১৪৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৩০; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ২২৫
২১৯. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১৮; ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৫৩-৪৫৫
২২০. আয যায়লাঈ, খ. ৫, পৃ. ১০৮; ইবনে আবেদীন, খ. ৫, পৃ. ৮
২২১. দারদীর কৃত আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪৯
📄 চুক্তি রহিত বা সমাপ্তির আরো একটি কারণ
চুক্তি বাতিল হওয়া কিংবা সমাপ্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে ফকীহগণ আরো একটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন; তা হচ্ছে চুক্তিবদ্ধ জিনিসের কোনো দাবিদার বের হয়ে আসা। মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, দলিল- প্রমাণ কিংবা ক্রেতার স্বীকারোক্তি দ্বারা যদি পণ্যের কোনো দাবিদার প্রকাশিত হয়, তাহলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। হানাফীগণ বলেন, দাবিদার বের হওয়ার দরুন চুক্তি বাতিল হওয়া আবশ্যিক হয়ে যায় না। বরং চুক্তিটি দাবিদারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সে অনুমতি দিলে চুক্তি বহাল থাকবে; আর অনুমতি না দিলে বাতিল হয়ে যাবে। তখন ক্রেতা বিক্রেতা থেকে মূল্য উসুল করে নিবে। বিষয়টি ইস্তিহকাক শিরোনামে সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে।
টিকাঃ
২২২. বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ৩২৫; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৫০; ইবনে রজব- এর আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৩১৩; ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫৯৮
২২৩. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৯১
চুক্তি বাতিল হওয়া কিংবা সমাপ্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে ফকীহগণ আরো একটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন; তা হচ্ছে চুক্তিবদ্ধ জিনিসের কোনো দাবিদার বের হয়ে আসা। মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, দলিল- প্রমাণ কিংবা ক্রেতার স্বীকারোক্তি দ্বারা যদি পণ্যের কোনো দাবিদার প্রকাশিত হয়, তাহলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। হানাফীগণ বলেন, দাবিদার বের হওয়ার দরুন চুক্তি বাতিল হওয়া আবশ্যিক হয়ে যায় না। বরং চুক্তিটি দাবিদারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সে অনুমতি দিলে চুক্তি বহাল থাকবে; আর অনুমতি না দিলে বাতিল হয়ে যাবে। তখন ক্রেতা বিক্রেতা থেকে মূল্য উসুল করে নিবে। বিষয়টি ইস্তিহকাক শিরোনামে সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে।
টিকাঃ
২২২. বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ৩২৫; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৫০; ইবনে রজব- এর আল-কাওয়ায়েদ, পৃ. ৩১৩; ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৫৯৮
২২৩. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৯১